অষ্টত্রিংশ অধ্যায়

পল্লবী সেনগুপ্ত

নিজের ঘরে বসেই গ্লাসে সোনালী পানীয় সাজিয়ে তা গলায় ঢালছে অরূপদাস। কিন্তু চিরকালীন সঙ্গী অ্যালকোহলও আজ আর যন্ত্রণামুক্তি দিতে পারছে না ওকে। কি করেই বা পারবে? আজকের যন্ত্রণা আর ব্যর্থতা যে সব কিছুর ওপরে চলে গেছে। অরূপ দাস এবার শেষ। না, আর বোধ হয় সত্যি কিছু করার নেই।

কনস্ট্রোকসানের ব্যবসায় প্রথমে বীভৎস লোকসান বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতায়, তারপরেও আবার ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল অরূপ। নতুন করে শুরু করেছিল শেয়ারের ব্যবসা। কিন্তু সে ব্যবসায় সাংঘাতিক লোকসান খেয়ে পুরো ধ্বসে গেছে আজ। না আর উঠে দাঁড়ানোর জোর অরূপ দাসের শিরদাঁড়ায় নেই। মেরুদণ্ডটাই ভেঙ্গে গেছে এবার। বাজারে বিস্তর ধার দেনা। কিভাবে সব শোধ হবে তাও এই মুহূর্তে কিচ্ছু ঢুকছে না মাথায়।

গলা ফাটিয়ে চীৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে আজ। কিন্তু কি লাভ তাতে? চোখের জল মুছিয়ে দুটো সান্ত্বনা দেবার মত একটা হাতও যে নেই আর আজ ওর জীবনে। নিজের প্রতিই নিজের ধিক্কার জাগছে আজ। অরূপ দাস একদিন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, সবাইকে প্রমাণ করে দেখাতে চেয়েছিল নিজের যোগ্যতা, কাজ পাগল বোহেমিয়ান জীবন কাটিয়েছে চিরকাল, সম্পর্ক বন্ধন এই শব্দগুলোকে ঘৃণা করেছে সেই কোন যুগ থেকে।

সেই অরূপ দাস আজ শেষ। দু দিন পর সবাই হাসবে ওকে দেখে। হয়তো দলা পাকিয়ে ও পড়ে থাকবে একটা বাতিল আবর্জনার মত। কেউ থাকবে না ওর পাশে। ওর যে কেউ নেই। এই গোটা পৃথিবীতে ভালবাসা শব্দটা যে ওর জন্য শুধুই একটা চার অক্ষরের ভাঁওতা।

একজনের একটা কথা আজ মনে পড়ছে বারবার। বহু বছর আগে সে একবার বলেছিল

-''এভাবে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত লাগে না? কখনও কাউকে ভালবাসতে ইচ্ছে করে না, বাঁধা পড়তে ইচ্ছে করে না''?

না সেদিন এই ইচ্ছাগুলো ছিল না ওর। তাই ওই মেয়েটার কথাগুলো হাস্যকর লেগেছিল। কিন্তু আজ যেন বড় বেশি উপলব্ধি করছে ও কথাগুলোর সত্যিকারের গভীরতা।

বুকের মাঝে অদ্ভুত চাপ লাগছে একটা। মাথাটাও অসহ্য যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে। ঘাড় পীঠ দিয়ে যেন বেয়ে চলেছে কোন বিষাক্ত সাপের কিলবিল সর্পিল গতি।

না আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না অরূপ। ধপ করে চেয়ার থেকে পড়ে গেল ও। জোর শব্দটা পেয়েই পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এল ওর ছায়াসঙ্গী বিজু।

-''দাদা দাদা একি! কি হয়েছে তোমার''? দৌড়ে গেল বিজু। মেঝতে পড়ে ছটফট করছে অরূপ দাস। মুখ থেকে বের হচ্ছে একরাশ সাদা গ্যাঁজলা।

-'' তিস্তা'' কোনরকমে ছিঁড়ে ছিঁড়ে নামটা উচ্চারন করেই নিথর হয়ে গেল অরূপ দাসের দেহটা।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%