ত্রয়োবিংশ অধ্যায়

পল্লবী সেনগুপ্ত

অন্ধকার ঘরের মধ্যে মাথার রগটা টিপে ধরে বসেছিল অরূপ। আলো জ্বালাতেই ইচ্ছে করছে না কোনভাবে। কেনই বা করবে? নিজের জীবনে নিজের ব্যবসার কাজ ছাড়া আর কোন কিছুকেই যে গুরুত্ব দেয়নি অরূপ দাস, সেটা কে না জানে! কিন্তু তবুও এটা ওর সাথেই হতে হল?

যে বিজনেস পার্টনারের সাথে মিলে এতদিন ধরে কাজ করেছে, এত টাকার লাভ করেছে অরূপ তার থেকেই এমন বড় বিশ্বাসঘাতকতা! এখনও যেন মেনে নিতে পারছে না অরূপ গোটা ব্যাপারটা। সম্পর্কটা তো আর একদিনের নয়। অনেকগুলো বছরের সম্পর্ক। রনেন কে তো ইদানীং নিজের ভাইয়ের মত চোখ বুজেই প্রায় বিশ্বাস করত। তার পরেও পারল এটা করতে ও? তবে কি ওকে বেশি বিশ্বাস করারই পরিণাম হল? আবার প্রমাণিত হল কাউকে বিশ্বাস করাটাই জীবনে সব থেকে বড় ভুল।

তবে হ্যাঁ অরূপ দাসও কোন কাঁচা খেলোয়াড় নয়। পায়ের নিচের জমি একেবারে নড়বড়ে হবার মত করে কাজ সে কোনদিনই করে নি। তাই আজ এতকিছু লোকসান, ব্যবসার ধ্বস সামলানোর পরেও অরূপ দাস একেবারে শেষ হয়নি। এখনও পায়ের নিচে জমি শক্তই আছে তার। আবার নতুন করে শুরু করবে অরূপ। হেরে যাবে না সে কোন মতেই। নতুন উদ্যমে আবার নতুন ব্যবসা নিয়ে উঠে পড়ে লাগতে হবে। কিন্তু আবার যদি কোন বিপর্যয় আসে? কথাটা মাথায় আসতেই নিজেকে নিজেকেই ধমকাল অরূপ। এসব কি দুর্বল ভাবনা চিন্তা! এমন দুর্বল মনের মানুষ তো সে নয়। একটা বিশ্বাসঘাতকতা বা বিপর্যয় কি তবে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেল নাকি অরূপ দাসের আত্মবিশ্বাস আর মনোবল?

না হতে পারে না এটা কিছুতেই। অরূপ দাস কখনোই বোকার মত হেরে গিয়ে পরাজিত নায়কের মত ঘরে মুখ লুকিয়ে থাকতে পারে না। আবার মাথা তুলে উঠে দাঁড়াবেই সে। নতুন উদ্যমে, নতুন ব্যবসা আর নতুন অধ্যাবসায় নিয়ে আবার সাফল্যের লক্ষ্যে দৌড়াবে অরূপ দাস। আবার ও জিতবেই, ফিরিয়ে আনবেই হারিয়ে যাওয়া সাফল্য।

হঠাৎ অন্ধকার ঘরের মাঝেই কিভাবে যেন অরূপের কানে বেজে উঠল চার বছর আগে একজনের বলে যাওয়া একটা কথা—''এভাবে ছুটে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত লাগে না? ইচ্ছে করে না থিতু হতে? একটুও সাধ হয় না পরিবারের সুখ পেতে''?

কথাটা মনে আসতেই মুহূর্ত আগের ভাবনা চিন্তা গুলো কেমন যেন স্তব্ধ হয়ে গেল অরূপের। কেন যেন চার বছর আগের সেই কথাটা আজ ক্রমাগত অনুরনিত হয়ে চলেছে।

-''না না না না আমি কিচ্ছু চাই না, শুধু নিজের লক্ষ্য নিয়ে স্থিরভাবে এগোতে চাই।''আচমকাই কেমন যেন চীৎকার করে উঠল অরূপ অন্ধকার ঘরের মধ্যেই। খানিক চেঁচিয়ে বেশ ক্লান্ত হয়ে গেল । কিন্তু ওর চিৎকারের হিংস্র শব্দগুলো পাক খেয়ে চলেছে তখনও সেই নিকষ কালো ঘরটাতেই।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%