ঊনত্রিংশ অধ্যায়

পল্লবী সেনগুপ্ত

লাল সিগন্যালে আটকে পড়া গাড়িটার এসির ঠাণ্ডা মোড়ান তাপমাত্রাটা একদম ভাল লাগছিল না তিস্তার। বাইরে একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। সোঁদা গন্ধ মাখা একটা বাতাস এখনো ছুঁয়ে যাচ্ছে পিচ ঢাকা শহরের সাদা কালো কোণাগুলো। এই মোড়ের সিগন্যালটা বড্ড লম্বা হয়।

-''ড্রাইভার, এসি টা বন্ধ করে দাও তো''। এসি বন্ধের নির্দেশ কার্যকর হতেই গাড়ির জানালার কাঁচ নামাল তিস্তা। পলকেই এক মুঠো ভেজা বাতাস ছুঁয়ে দিল ওকে। ভাল লাগছে, অনেকদিন পর বেশ ভাল লাগছে বাইরের ধুলো মাখা হাওয়ার পরশ।

বাইরের ঘোলাটে আকাশটুকুই প্রাণ ভরে দেখছিল তিস্তা, হঠাৎ কেমন যেন থমকে গেল চোখের দৃষ্টি। পাশের গাড়িতেই কে বসে রয়েছে ওটা? রুগ্ন ভেঙ্গে পড়া শরীর, শুকনো মুখ, চোখে একরাশ বিনিদ্র ক্লান্তির ছাপ। নাঃ, এই মানুষটার সাথে তো কোনভাবেই মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না চার বছর আগের অরূপ দাসের।

কি হল হঠাৎ লোকটার? সাফল্যের পিছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে পড়ল নাকি? লোকটার ভাবলেশ নেই। দু চোখ বুজে এলিয়ে পড়ে রয়েছে গাড়ির সিটে।

সিগন্যাল সবুজ হতেই ঝপ করে এগিয়ে গেল তিস্তার গাড়িটা। পিছনে পড়ে রইল অরূপ এর গাড়ি। অনেকটা এগিয়ে গেছে তিস্তা। হ্যাঁ সেটাই তো ও চেয়েছিল। যে অরূপ একদিন তিস্তাকে ফুলশয্যার রাতেই ছুঁড়ে ফেলেছিল তাকে পিছনে ফেলে অনেকটা বেশি এগিয়ে যেতেই তো একদিন চেয়েছিল তিস্তা। ভাগ্যর সহায়তায় ওর সেই চাওয়া বিফলেও যায়নি। কিন্তু তাও কি যেন একটা হুল সর্বদাই খচখচ করে বুকের মাঝে। প্রায়ই মনে হয় অরূপ খবর পেল তো তিস্তার সফল হবার?

অরূপ কে? ওর জানা না জানায় কি আসে যায়? কিচ্ছু না। তবুও কিছু না আসা যাওয়া ব্যাপার গুলোও কেন যে এত ভাবায় সেটা আজও বোঝেনি তিস্তা। হয়তো সফল হলেও নিঃসঙ্গতার কালো অন্ধকার আজও ওকে ছেড়ে যায়নি বলেই এই অর্থহীন ভাবনার দাপাদাপি গুলো এখনও মুছতে পারেনি ও।

সফলতা এসে ধরা দিলেও আজও কোন মনের মানুষ নেই তিস্তার। কিন্তু ওরও যে বড্ড ইচ্ছা করে কেউ ওকে ভালবাসুক, ওর স্বপ্ন সুখ দুঃখের সাথী হয়ে বাঁচুক ওর পাশাপাশি।

ভাবনাটা আবার মাথায় আসতেই কেমন যেন হঠাৎ চোখটা ঝাপসা হয়ে এল ওর। জল ধোয়া চোখের সামনে নিজের অজান্তেই কখন যেন ভেসে উঠল একটা ছবি আর কেঁপে উঠল ওর হৃদয়।

কার ছবি হঠাৎ দেখছ আজ ও? নয়ন! ছি ছি। এ কি করে সম্ভব! নয়ন তো শুধুই একজন পেশাদার ভাড়া করা পুরুষ। কিন্তু তবুও আজকাল কেন নয়নকে বারবার দেখতে ইচ্ছে করে ওর? কেন শুনতে ইচ্ছে করে ওর কথা? কেন ওকে দেখলেই মনে হয় এই মানুষটার শরীর নয়, মনটা ছুঁতে পারলে বেশ হত।

নিজের আবেগকে লাগাম পরাবার কড়া চেষ্টা করল তিস্তা। কিন্তু পারছে না। কিছুতেই হচ্ছে না। লাগামছাড়া জেদি ঘোড়ার মত সব নিষেধ ভেঙ্গে শুধু নয়নের দিকেই যেন ছুটে চলেছে তিস্তার বেপরোয়া জেদি মনটা।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%