পল্লবী সেনগুপ্ত
লাল সিগন্যালে আটকে পড়া গাড়িটার এসির ঠাণ্ডা মোড়ান তাপমাত্রাটা একদম ভাল লাগছিল না তিস্তার। বাইরে একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। সোঁদা গন্ধ মাখা একটা বাতাস এখনো ছুঁয়ে যাচ্ছে পিচ ঢাকা শহরের সাদা কালো কোণাগুলো। এই মোড়ের সিগন্যালটা বড্ড লম্বা হয়।
-''ড্রাইভার, এসি টা বন্ধ করে দাও তো''। এসি বন্ধের নির্দেশ কার্যকর হতেই গাড়ির জানালার কাঁচ নামাল তিস্তা। পলকেই এক মুঠো ভেজা বাতাস ছুঁয়ে দিল ওকে। ভাল লাগছে, অনেকদিন পর বেশ ভাল লাগছে বাইরের ধুলো মাখা হাওয়ার পরশ।
বাইরের ঘোলাটে আকাশটুকুই প্রাণ ভরে দেখছিল তিস্তা, হঠাৎ কেমন যেন থমকে গেল চোখের দৃষ্টি। পাশের গাড়িতেই কে বসে রয়েছে ওটা? রুগ্ন ভেঙ্গে পড়া শরীর, শুকনো মুখ, চোখে একরাশ বিনিদ্র ক্লান্তির ছাপ। নাঃ, এই মানুষটার সাথে তো কোনভাবেই মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না চার বছর আগের অরূপ দাসের।
কি হল হঠাৎ লোকটার? সাফল্যের পিছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে পড়ল নাকি? লোকটার ভাবলেশ নেই। দু চোখ বুজে এলিয়ে পড়ে রয়েছে গাড়ির সিটে।
সিগন্যাল সবুজ হতেই ঝপ করে এগিয়ে গেল তিস্তার গাড়িটা। পিছনে পড়ে রইল অরূপ এর গাড়ি। অনেকটা এগিয়ে গেছে তিস্তা। হ্যাঁ সেটাই তো ও চেয়েছিল। যে অরূপ একদিন তিস্তাকে ফুলশয্যার রাতেই ছুঁড়ে ফেলেছিল তাকে পিছনে ফেলে অনেকটা বেশি এগিয়ে যেতেই তো একদিন চেয়েছিল তিস্তা। ভাগ্যর সহায়তায় ওর সেই চাওয়া বিফলেও যায়নি। কিন্তু তাও কি যেন একটা হুল সর্বদাই খচখচ করে বুকের মাঝে। প্রায়ই মনে হয় অরূপ খবর পেল তো তিস্তার সফল হবার?
অরূপ কে? ওর জানা না জানায় কি আসে যায়? কিচ্ছু না। তবুও কিছু না আসা যাওয়া ব্যাপার গুলোও কেন যে এত ভাবায় সেটা আজও বোঝেনি তিস্তা। হয়তো সফল হলেও নিঃসঙ্গতার কালো অন্ধকার আজও ওকে ছেড়ে যায়নি বলেই এই অর্থহীন ভাবনার দাপাদাপি গুলো এখনও মুছতে পারেনি ও।
সফলতা এসে ধরা দিলেও আজও কোন মনের মানুষ নেই তিস্তার। কিন্তু ওরও যে বড্ড ইচ্ছা করে কেউ ওকে ভালবাসুক, ওর স্বপ্ন সুখ দুঃখের সাথী হয়ে বাঁচুক ওর পাশাপাশি।
ভাবনাটা আবার মাথায় আসতেই কেমন যেন হঠাৎ চোখটা ঝাপসা হয়ে এল ওর। জল ধোয়া চোখের সামনে নিজের অজান্তেই কখন যেন ভেসে উঠল একটা ছবি আর কেঁপে উঠল ওর হৃদয়।
কার ছবি হঠাৎ দেখছ আজ ও? নয়ন! ছি ছি। এ কি করে সম্ভব! নয়ন তো শুধুই একজন পেশাদার ভাড়া করা পুরুষ। কিন্তু তবুও আজকাল কেন নয়নকে বারবার দেখতে ইচ্ছে করে ওর? কেন শুনতে ইচ্ছে করে ওর কথা? কেন ওকে দেখলেই মনে হয় এই মানুষটার শরীর নয়, মনটা ছুঁতে পারলে বেশ হত।
নিজের আবেগকে লাগাম পরাবার কড়া চেষ্টা করল তিস্তা। কিন্তু পারছে না। কিছুতেই হচ্ছে না। লাগামছাড়া জেদি ঘোড়ার মত সব নিষেধ ভেঙ্গে শুধু নয়নের দিকেই যেন ছুটে চলেছে তিস্তার বেপরোয়া জেদি মনটা।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।