ত্রিংশ অধ্যায়

পল্লবী সেনগুপ্ত

বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছিল ঊর্মি। অসহ্য একটা ব্যথা আছন্ন করে রেখেছে ওকে। ব্যাথাটা শরীরের থেকেও অনেকবেশি মনের। এখনও ও ভাবতেই পারছে না যে আকাশ আসলে শ্রুতি রায়ের দলের লোক। ওকে এতদিন যা যা বলেছে, যা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার মানে সবটুকু মিথ্যা ছিল তার!

কিন্তু ঊর্মি এত দুর্ভাগা যে এসব কিছু প্রতারণা সহ্য করেও এই পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকতে হবে ওকে। মৃত্যুও ফিরিয়ে দিল ওকে। মরতেও পারল না ও। টানা দশদিন পর গতকাল নার্সিংহোম থেকে বাড়ি ফিরেছে। শরীরটা খুব দুর্বল, মনটা আরও বেশি।

আস্তে আস্তে বিছানায় উঠে বসল ঊর্মি। ঘড়ির দিকে তাকাল। দুপুর তিনটে। কেমন যেন অখণ্ড নিস্তব্ধতা মুড়ে রেখেছে চারিদিক। ঘড়ির টিকটিক শব্দটাও যেন কানে লাগছে বড় বেশি। নিশ্চল প্রতিমার মত খাটের ওপর বসে রয়েছে ঊর্মি। হঠাৎ যেন একটু বেশিই সজাগ হল ওর শ্রবণেন্দ্রিয়। দুপুরের অখণ্ড নিস্তব্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে অন্য একটা শব্দ হঠাৎ যেন ভেসে আসছে কানে। একটা কান্নার শব্দ। চাপা কান্না। পাশের ঘর থেকেই আসছে শব্দটা। কে কাঁদছে? ঘরে? শ্রুতি রায় নাকি? কিন্তু কেন? এত বছরে কোনদিন ঐ মহিলাকে তো কাঁদতে দেখে নি ঊর্মি।

নিঃশব্দে খাট থেকে নেমে পড়ল ও। পা টিপে টিপে গিয়ে দাঁড়াল ও ঘরের দরজার আড়ালে। ঘরের দেওয়ালে টাঙান শ্রী কৃষ্ণের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কান্না ভেজা চাপা স্বরে কি যেন বলছে মহিলা। ঊর্মি নিজেকে যথাসম্ভব আড়ালে রেখে কান খাড়া করল এবার। কি বলছে শ্রুতি রায় শুনতেই হবে ওকে।

—''ভগবান আমি যে আর আমার সন্তানের এই কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। তুমি আমাকে তুলে নাও ঈশ্বর। আমি যদি কোন অপরাধ করে থাকি কখনো তাহলে তার সাজা আমাকে দাও, কিন্তু এভাবে আমার মেয়েটাকে কষ্ট দিও না তুমি। আর কেউ জানুক বা না জানুক, ও বুঝুক বা না বুঝুক তুমি তো জান প্রভু আমি ওর মা। দশমাস দশদিন ওকে আমি গর্ভে ধারণ করেছিলাম। আমার শরীরের অস্থি মজ্জা দিয়ে তৈরি হয়েছে ওর শরীর। সেই মেয়ের এত যন্ত্রণা কি করে নীরব দর্শকের মত মেনে নেব আমি? ভালবাসা না পাওয়ার কষ্টে যে তিল তিল করে পুড়ছে ও প্রতিদিন। এতটাই দগ্ধ হয়েছে ওর মন যে আজ বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াটা ওর কাছে বেশি ভাল মনেহচ্ছে। ভালবাসা না পাওয়ার যে আগুনে আমি সারাজীবন ধরে ছাই হয়েছি, সেই একই আগুনে তুমি ওকে পুড়িয়ে দিও না প্রভু। ও যে এত কষ্ট সহ্য করতে পারবে না।''

ঠক ঠক করে পা কাঁপছে ঊর্মির। মাথার মধ্যে কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে, গলার কাছটা শুকিয়ে আসছে ভীষণ রকম। এসব কি শুনছে আজ ও? এসব কি বলছে এই মহিলা? শ্রুতি কি করে ওর মা হতে পারে! ওর জন্ম হয়েছে শ্রুতির গর্ভ থেকে! এসবের মানে কি? ওর মা মনোরমা রায়। ছোটবেলা থেকেই ও জানে আঁখিশ্রুতি আসলে ওর মা মনোরমার দুঃসম্পর্কের বোন। পিতৃ মাতৃহীন শ্রুতি ঠাঁই পেয়েছিল মনোরমার বাবা মায়ের কাছে। ওখানেই বড় হয়েছিল সে। মনোরমা ওকে নিজের বোনের মত ভালবাসত। তাই বিয়ের পরেও বিদেশে সঙ্গে করে নিয়ে গেছিল ওকে। কিন্তু মনোরমার সকল বিশ্বাস ভেঙ্গে দিয়ে কালক্রমে তারই স্বামীকে হাত করে তাকে বিয়ে করেছিল এই মহিলা এমন কিছু জানা নিয়েই তো ছোট থেকে বড় হয়েছে ঊর্মি। তাহলে আজ এসব কি শুনছে ও? শ্রুতি ওর মা? শ্রুতি রায় জীবনে নিজের ভালবাসা কে জীবনে পায়নি এসবের মানে কি?

মাথাটা কেমন ঘুরছে ঊর্মির। কাঁপতে থাকা দুর্বল শরীরটার ধাক্কা লেগে আচমকাই পড়ে গেল দরজার বাইরে রাখা পিতলের ফুলদানিটা। ঝনঝন শব্দটা হল বেশ জোরেই।

—''কে? কে ওখানে''? অমনি শোনা গেল শ্রুতি রায়ের গলা।

এবার আর নিজেকে লুকাবার কোন চেষ্টা করল না ঊর্মি। বাইরে বেরিয়ে এসেছে শ্রুতি।

—''কি ব্যাপার ঊর্মি? তুই এখানে? এভাবে দরজার বাইরে কেন দাঁড়িয়ে তুই মা? ভিতরে আয়'' ঊর্মির পিঠে আলতো হাত রাখল শ্রুতি। এক ঝটকায় সেই হাত সরিয়ে দিল ঊর্মি। শ্রুতি রায়ের চোখে চোখ রেখে বলল

—''কি বলছিলে তুমি এতক্ষণ? বল কি বলছিলে? সব শুনে নিয়েছি আমি। আমি মনোরমা রায়ের মেয়ে। সেটা সবাই জানে। তাহলে তুমি এগুলো কি বলছিলে? বল ''অদ্ভুত এক অসহায় হিংস্রতা ঝরে পড়ছে ঊর্মির দু চোখ বেয়ে।

—''শান্ত হ। শান্ত হ মা। হ্যাঁ তুই মনোরমা রায়েরই মেয়ে। কিন্তু আমিও''। কথাটা শেষ করতে পারল না আঁখিশ্রুতি। তার আগেই কান্নায় বুজে এল তার গলা। এবার আস্তে করে উঠে গেল সে। দেরাজ খুলে বের করল এক অসমাপ্ত উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি। মেয়ের হাতে দিল সেটা।

—''ঊর্মি মা, এটা পড়িস। তাহলের হয়তো তোর সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবি। এটা আমার এক না শেষ হওয়া উপন্যাসের খসড়া। এখানে নিজের জীবনের হাহাকার গুলোই গল্পের মত করে মেলে ধরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। পারিনি শেষ করতে। তুই পারলে পড়িস। উপন্যাসের আঁখি আসলে তোর এই ঘৃণার পাত্রী। অনি দাদা তোর বাবা আর মিষ্টিদিদি তোর মা। একবর্ণও অসত্য নয় এটুকু বিশ্বাস রাখতে পারিস''। নিজের কথাটুকু শেষ করেই দড়াম করের ঘরের দরজাটা বন্ধ করে দিল শ্রুতি রায়। ঊর্মি হাতে পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে দাঁড়িয়ে তখনও স্থবির প্রতিমার মত। ওর চেনা পৃথিবীটা যে এলোমেলো হয়ে গেল এক নিমেষে।

*******

কাল সারারাত পড়ে পাণ্ডুলিপিটা শেষ করেছে ঊর্মি। এক লহমায় বদলে গেছে ওর সব জানা। শ্রুতি রায় ছিল ওর সারগেট মাদার! আর বাবা কোনদিন নিজের স্ত্রীয়ের জায়গা দেয় নি ওকে। ও শুধুই বাবার ভাল বন্ধু! উফফ এসব কি হয়ে গেল হঠাৎ? ও যে নিজের মনের সব ধারণাকে ধ্রব সত্যি মনে করে কারোকে আপন করতে পারে নি, কারোর আপন হতে পারেনি। হঠাৎ যেন নিজেকে ভীষণ ছোট মনে হচ্ছে। সত্যি বড় হীন ও। নিজের সাথে নিজের নজর মেলাতে সমস্যা হচ্ছে আজ। তাই তো সকালে জলখাবারও খায়নি আজ ও।

—''ঊর্মি'' কখন যেন দরজার বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে শ্রুতি রায়।

—''এস''। অস্ফুটে বলল ঊর্মি।

—''কি ব্যাপার তোমার? জলখাবার কেন খাওনি তুমি''? শ্রুতির হাতে ধূমায়িত স্যুপ এর বাটি।

—''আমার খেতে ইচ্ছে করছে না। ভাল লাগছে না কিছু আমার। আমি বিশ্বাস করি না আমার নতুন জানাকে। এই উপন্যাস সত্যি হতে পারে না। কিছুতেই না''। হিংস্র ভাবে চেঁচাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল ঊর্মি।

—''আমি জানি। আমি বুঝতে পারছি তোর এটা মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তুই যে মিষ্টিদিদিকে বড় ভালবাসতিস। সেইজন্যই এতদিন খুব সচেতন ভাবে সাবধানে তোর থেকে আড়াল করে রেখেছিলাম সত্যিটা। কাউকে বলতে দিই নি। কাউকে জানতেও দিই নি আসলে তোর জন্ম আমার গর্ভে। এই সব কিছু যে বিদেশেই হয়েছিল। তাই আমাদের এখানকার আত্মীয় পরিজন কেউ আসল কথা জানেই না। তবে তুই চাইলে তোকে সব কাগজপত্র দেখাতে পারি। ওসব কাগুজে প্রমাণ যে আজও রয়ে গেছে।

দিদি মরে গেল। তারপর এদেশে চলে এলাম। সকলের উদ্যগে বিয়ে হল আমার আর তোর বাবার যাতে আমি তোর মা হয়ে উঠতে পারি রে। কিন্তু না তো তোর আপন হতে পেরেছি, না তোর বাবার। তুই আমায় চিরকাল প্রত্যাখান করে এসেছিস, আর তোর বাবাও বিয়ের রাতেই বলে দিয়েছিল মনোরমাই আজীবন তার স্ত্রী হয়ে থাকবে তার মনে, আর আমি পাব শুধুই তার বন্ধুত্ব আর কর্তব্য।

তোদের কারোর কাছে কোনদিন জোর করে অধিকার চাইতে আসিনি আমি। কারণ আমি বিশ্বাস করি অধিকার জোর খাটিয়ে পাওয়া যায় না। ভালবাসাহীন নিঃসঙ্গ একটা জীবন নিয়ে আজীবন দগ্ধ হয়েছি আমি। কিন্তু তোকেও যে আমি সেই একই জ্বালায় পুড়তে দেখতে পারব না''।

ঊর্মি দেখল শ্রুতির চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে জলের ফেঁটা। চোখ দুটোও বাঙ্ময় মাতৃত্বের ভাষায়। কবে এত মমতাময়ী হল এই মানুষটা? নাকি এ এমনই ছিল শুধু ঊর্মি বুঝতে পারে নি আর একাকীত্বের যন্ত্রণায় পুড়ে ছারখার হয়েছে বারবার।

—''আমি বুঝতে পারিনি তুমি সত্যি কাছে পেতে চাও আমাকে। আমি জানতাম না যে তুমি আমার মা''। শ্রুতির হাতে হাত রাখল জীবনে প্রথমবার ঊর্মি।

—''আমাদের নিজের জানা আর বোঝাটা সব সময় ঠিক হয় না রে। যেমন এই মেঘ। আমি জানি না মেঘ সত্যি আছে কিনা, কিন্তু এটা বেশ জানি যদি সে থেকেও থাকে তাহলে সে কোনদিন ভালবাসে নি। ভালবাসা যে বন্ধনময় রে মা। ভালবাসা বাঁধতে শেখায়, গড়তে শেখায়। এভাবে হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে না ভালবাসা। অথচ আকাশকে দেখ। নিজের জীবনের ধ্যান জ্ঞান বানিয়েছে তোকে সুস্থ করার ব্রতকে। তুই বিগত কিছুদিনে ওকে অনেকটা দূরে সরিয়ে দিয়েছিস। অবশ্য সেটা তোর সিদ্ধন্ত। পারলে ওকে একটা সরি বলিস। তোর সামনে না গেলেও রোজ তোর খবর নিতে নার্সিং হোমে আসত ও। আর তোকে দেখতে পেত না বলে শুকনো মুখে চলে যেত। পারলে ভেবে দেখিস''।

ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল শ্রুতি। ঊর্মি বসে আছে নিশ্চুপ। ছোট মায়ের শেষ কথাগুলো বাজছে কানে।

'ভালবাসা বড় বন্ধনময়। ভালবাসা এইভাবে হাওয়ায় মিলিয়ে যায় না' ''সত্যি কি মেঘ ওকে কোনদিন ভালইবাসে নি? নিশ্চয় না। এইজন্যই নিশ্চয় পারল এভাবে ছেড়ে যেতে।

মাথার রগ টিপে বসে রইল খানিকক্ষণ। তারপর কি মনে হতে নিজের মোবাইলে একটা নম্বর ডায়াল করল দ্রুত হাতে। ওপাশে রিং হচ্ছে।

—''হ্যালো'' ফোন ধরেছে ওর পরিচিত পুরুষ কণ্ঠ।

—''আমায় বিয়ে করবি আকাশ''?

চমকে উঠেছে আকাশ। এসব কি বলছে মেয়েটা হঠাৎ?

—''ঊর্মি বিয়ে খুব পবিত্র বন্ধন রে। সেটা নিয়ে প্লিজ ইয়ার্কি মারিস না''। গম্ভীর স্বর আকাশের।

—''আমি একটুও মজা করছি না। খুব সিরিয়াস। আমি জানি না মেঘ ছিল বা আছে কিনা। তবে এটা আমি বুঝতে পেরেছি আমি কোনদিন মেঘের ভালবাসা পাইনি। তাই আমিও একটু ভালবাসা চাই রে। নিশ্চিন্ত নির্ভার হতে চাই তোর হাত ধরে। ভুলতে চাই মেঘ নামের ঐ ইউটপিয়ান ছায়াকে। সাথে থাকবি না আমার''?

ও প্রান্ত চুপ।

—''হ্যালো কিছু তো বল। ''মিনিট খানেকের মধ্যেই আবার বলল ঊর্মি।

না আকাশ উত্তর দিতে পারছে না। মুহূর্তের মাঝে সব ভাষা হারিয়ে ফেলেছে যেন। এটা কি শুনছে ও? ঊর্মি ফোন করে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে ওকে এটা কি সত্যি নাকি নিছকই কোন স্বপ্ন দেখছে ও? না, সত্যি যেন কিছুই আর মাথায় ঢুকছে না আকাশের।

সকল অধ্যায়
১.
প্রথম অধ্যায়
২.
দ্বিতীয় অধ্যায়
৩.
তৃতীয় অধ্যায়
৪.
চতুর্থ অধ্যায়
৫.
পঞ্চম অধ্যায়
৬.
ষষ্ঠ অধ্যায়
৭.
সপ্তম অধ্যায়
৮.
অষ্টম অধ্যায়
৯.
নবম অধ্যায়
১০.
দশম অধ্যায়
১১.
একাদশ অধ্যায়
১২.
দ্বাদশ অধ্যায়
১৩.
ত্রয়োদশ অধ্যায়
১৪.
চতুর্দশ অধ্যায়
১৫.
পঞ্চদশ অধ্যায়
১৬.
ষোড়শ অধ্যায়
১৭.
সপ্তদশ অধ্যায়
১৮.
অষ্টাদশ অধ্যায়
১৯.
ঊনবিংশ অধ্যায়
২০.
বিংশ অধ্যায়
২১.
একবিংশ অধ্যায়
২২.
দ্বাবিংশ অধ্যায়
২৩.
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়
২৪.
চতুর্বিংশ অধ্যায়
২৫.
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
২৬.
ষড়বিংশ অধ্যায়
২৭.
সপ্তবিংশ অধ্যায়
২৮.
অষ্টাবিংশ অধ্যায়
২৯.
ঊনত্রিংশ অধ্যায়
৩০.
ত্রিংশ অধ্যায়
৩১.
একত্রিংশ অধ্যায়
৩২.
দ্বাত্রিংশ অধ্যায়
৩৩.
ত্রয়োত্রিংশ অধ্যায়
৩৪.
চতুর্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৫.
পঞ্চত্রিংশ অধ্যায়
৩৬.
ষট্ত্রিংশ অধ্যায়
৩৭.
সপ্তত্রিংশ অধ্যায়
৩৮.
অষ্টত্রিংশ অধ্যায়
৩৯.
ঊনচল্লিশ অধ্যায়
৪০.
চল্লিশ অধ্যায়
৪১.
একচল্লিশ অধ্যায়
৪২.
দ্বিচল্লিশ অধ্যায়
৪৩.
ত্রিচল্লিশ অধ্যায়
৪৪.
চতুর্চল্লিশ অধ্যায়
৪৫.
পঞ্চচল্লিশ অধ্যায়
৪৬.
ষট্চল্লিশ অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%