পল্লবী সেনগুপ্ত
ষ্টেশনে ঝুম দিয়ে বসে রয়েছে আজিজ। মনের ভেতরটায় কি ভীষণ একটা অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। বিগত কয়েকদিনে ভীষণ টেনশনে ছিল। সব কিছু শেষ অবধি ভালোয় ভালোয় মিটবে তো?
যাক সব উৎরে গেছে ভালভাবেই। খুব সন্তর্পণে সকলের নজর বাঁচিয়ে সেটা নিজে চোখে দেখেও এসেছে আজিজ। ও ইচ্ছে করেই আবার হারিয়ে গেছে আকাশ আর ঊর্মির জীবন থেকে। বহু বছর আগে একদিন ঊর্মি ওর হাতটা নিজের মাথায় রেখে বলেছিল
-''কথা দাও কোনদিন একা করে দিয়ে চলে যাবে না''। সেদিন কোন উত্তর দেয়নি ও। শুধু ঠোঁট দিয়ে ওর কপালে এঁকে দিয়েছিল একটা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সেই মিথ্যা অঙ্গীকারকেই আজ সত্যি করে দিয়েছে আজিজ।
আকাশকে যে ফারটিলিটি ক্লিনিকে নিয়ে গেছিল ও, সব ব্যবস্থা সেখানেই করে রেখেছিল। সেখানে স্পারম দেবার কাজ আগে কয়েকবার অর্থের বিনিময়ে করে থাকলেও এটা ছিল ওর শেষ ডোনেশান। ওর বিশেষ অনুরোধেই হয়েছে সবটা। ঊর্মির শরীরে কৃত্রিম উপায়ে যে বীর্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সেটা আর কারোর নয়, সেটা আজিজেরই শরীরের অংশ। ওর সন্তানের মা হয়েছে ঊর্মি।ঊর্মির মেঘ ঊর্মির কাছে সারাজীবন থাকবে ওর সন্তানের মধ্যে দিয়েই , শুধু ওরা কেউ সেটা জানবে না।
ঊর্মিকে আজ লুকিয়ে এক ঝলক দেখে এসেছে ও। কি খুশি ছিল মেয়েটা। হ্যাঁ এটাই তো শুধু চেয়েছিল ও। ঊর্মির কোলে নিজের সন্তানকে দেখে ভাল লাগায় ভেসে যেতে ইচ্ছে করছিল ওর। কিন্তু নিজেকে সংযমের শেকল পরিয়ে আবার পালিয়ে এসেছে ও। ও যে শুধু পালিয়ে বেড়াতেই জানে।
আজ তাই সব কিছু ছেড়ে চলে যাচ্ছে আজিজ / মেঘ / নয়ন। ছেড়ে দিচ্ছে পুরনো শহর, রাজ্য, ঠিকানা, পরিচয় সব কিছু। নতুন ঠিকানা খোঁজার পালা এবার। ভাল থাক শিউলি, তিস্তা আর ঊর্মিরা। নতুন জীবনে হয়তো আবার দেখা হবে নতুন অনেক মানুষের সাথে, হয়তো তৈরি হবে নতুন অনেক সম্পর্ক, সৃষ্টি হবে আরও অনেক নতুন গল্প। তারপর সে সব ছেড়ে আবার হয়তো একদিন পালিয়ে যাবে ও আরও অচেনা কোন ঠিকানায়। কিংবা হয়তো অচেনা জীবনের কোন বাঁকেই কোনদিন দেখা মিলবে কোন চেনা মানুষের। আগামীর কথা কেই বা জানে! আমরা তো শুধু জানি আসন্ন সময়ের অপেক্ষা।
ভোঁ করে সাইরেন বাজিয়ে ট্রেন এসে হাজির। উঠে পড়ল আজিজ। মিশে গেল হাজারো মানুষের ভিড়ে। পিছনে পড়ে রইল কত কিছু। অনেক সম্পর্ক, স্মৃতি আর অসংখ্য সাদা কালো মুহূর্তরা।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।