পল্লবী সেনগুপ্ত
মায়ের ছবির থেকে শুকনো মালাটা খুলে নিল ছেলেটা। খড়খড়ে হয়ে যাওয়া যাওয়া বাসী গাঁদা ফুলের মালাটা দলা করে সরিয়ে দিল একপাশে। একদৃষ্টে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল ছবিটার দিকে। ছবির মানুষটা পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে ওপারে চলে গেছে তা প্রায় বেশ অনেকদিন হল। দু বছরের কাছাকাছি সময়। মায়ের শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণ ক্যান্সার। তার চিকিৎসার জন্যই প্রয়োজন ছিল চটজলদি অনেক অনেক টাকা। কিন্তু কম লেখা পড়া জানা, অতি সাধারণ ছেলেটার কাছে সেদিন কোন উপায় জানা ছিল না অতো টাকা একসাথে যোগাড় করার জন্য। তাই বাধ্য হয়েই সেদিন দু পয়সার চাকরীকে বিদায় জানিয়ে ওকে পা বাড়াতে হয়েছিল যৌনকর্মী হবার নিষিদ্ধ পেশার পথে। অনেক টাকা রোজগার করেছিল ছেলেটা নিজের শরীর আর স্বপ্নকে আহুতি দেবার বিনিময়ে। মায়ের চিকিৎসার কোন গাফিলতি করেনি। মাকে কিছুতেই হারাবে না, এই ভাবনায় ছিল বদ্ধ পরিকর। তবুও শেষ রক্ষা আর হল কই? সেই তো ওকে ফাঁকি দিয়ে, ওকে পুরোপুরি একা করে দিয়ে চলেই গেল মা।
ধীর পায়ে আস্তে আস্তে এসে ছেলেটা দাঁড়াল দেওয়াল জোড়া আয়নাটার সামনে। নিজেকেই দেখছে কেমন ঘোলাটে চোখে যেন। আসলে নিজের পরিচয় নিয়ে নিজেরই আজকাল অহরহ প্রশ্ন জাগে মনে। কে ও? হিন্দু নাকি মুসলিম? হিন্দু বাবার ঔরসে আর মুসলিম মায়ের জঠরে জন্ম নিয়েছিল ও। প্রতিপালিত হয়েছিল মুসলিম দরিদ্র পরিবারেই। তাহলে ওর জাত কি হতে পারে? হিন্দু নাকি মুসলিম?
ছোটবেলা থেকেই একটা কথা নিজের সমন্ধে লোকমুখে শুনে এসেছে বারবার। 'বেজন্মা'।
—''বেজন্মা মানে কি? কেন আমায় সবাই বেজন্মা বলে ডাকে''? কতবার প্রশ্নটা মাকে করেছিল ও। কখনো উত্তর পায়নি। এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিবারই হয় মাকে কাঁদতে দেখছে আর নাহয় খুব রেগে যেতে দেখেছে। কিন্তু উত্তরটা আর পাওয়া হয়নি।তবে একটু বড় হতে না হতেই সমাজ ওকে বুঝিয়ে দিয়েছিল উত্তরটা। ওর জন্মদাতা সেই পুরুষকে বিশ্বাস করে নিজের সবটুকু দিয়ে আপন করে নিতে চেয়েছিল ওর মা। কিন্তু সে বিশ্বাসঘাতক গরীব বিধর্মী মেয়েটাকে প্রবঞ্চনা করতে দু বার ভাবেনি। বিয়ে তো দূর, আর কোনদিন খোঁজই নেয়নি ওর মায়ের। আর ওর গরীব মাটাও সাহস করে লড়াইতে নামতে পারেনি সেই তথাকথিত অভিজাত ঠগটার বিরুদ্ধে। সেইজন্যই ও জন্ম থেকেই বেজন্মা।
আয়নায় নিজের প্রতিবম্বের সাথে চোখে চোখ মেলাতে পারছে না ছেলেটা। কেমন যেন ডুবে যাচ্ছে পরিচয়হীনতার অন্ধকারে। কে ও আসলে? আজিজ? নয়ন? নাকি মেঘ? কোন পরিচয়টা আসল।
ছোটবেলা থেকেই মনের মধ্যে কেমন যেন একটা ভয় কাজ করত ওর। কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হবার ভয়, জীবনসংগ্রামের টিকে থাকার ভয়। সব কিছু থেকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছা করত ওর। সেইজন্যই তো শিউলিকে মন প্রাণ ঢেলে ভালবাসা সত্ত্বেও ওকে নিয়ে পালিয়ে যেতে পারেনি। মৃত্যুর জন্য ছেড়ে দিয়েছিল ওকে। ভেবেওছিল ওকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করবে, কিন্তু সেই ভয়টা ফিরে এসেছিল আবার।
ভেতর থেকে কে যেন সেদিন বলে উঠেছিল
—''না আজিজ তুই পারবি না। তুই যে বেজন্মা। বিশ্বাসঘাতকতা যে তোর রক্তে। তুই কাউকে ভালবাসতে পারবি না। কোথাও যাস না তুই। কি করে নিবি তুই শিউলির মত একটা হিন্দু মেয়ের দায়িত্ব? গ্রামের মাথারা জানলে পিটিয়েই মেরে ফেলবে তোকে। তুই না মুসলিম। তাহলে এত শখ হয় কি করে তোর''?
না সেদিন যায়নি আজিজ শিউলিকে কথা দিয়েও। বুঝতে পেরেছিল হয়তো শিউলি হারিয়ে যাবে এর পর ওর জীবন থেকে চিরতরে। তবুও নীরব নিথর দর্শক হয়ে সেদিন বসেছিল ও।
হয়েওছিল তাই। ওর বেইমানি মানতে পারে নি শিউলি। গায়ে আগুন দিয়ে পুড়ে মরতে চেয়েছিল ও। কিন্তু মরতেও পারেনি অভাগা মেয়েটা। পোড়া শরীরের যন্ত্রণায় ছটফট করেছিল শুধু মৃত্যুশয্যায়। তখনও আজিজ দূর থেকেই দেখছে ওকে। কিছুতেই সামনে যেতে পারে নি। কি এক অব্যক্ত ব্রীড়া যেন ওকে অব্রুদ্ধ করেছিল বারবার। হয়তো দায়িত্ব, কর্তব্য, ভালবাসা, বন্ধন এই শব্দগুলোর প্রতি তৈরি হওয়া ভয়ই ছিল ওর পালিয়ে বেড়াবার মূল কারন। তারপর সত্যি পুরোপুরি হারিয়ে গেছিল শিউলি। হাসপাতাল থেকে গায়েব হয়ে গেছিল। সবাই বলেছিল ও নাকি নার্সের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করে পালিয়েছে। খুব কষ্ট হয়েছিল সেই সময়ে। কিন্তু তবুও ভেঙ্গে পড়েনি ও।
শিউলির সাথে করা প্রতারণার অপরাধ বোধের ঘা নিয়েই দিন কাটছিল ওর। সেই সময়ে জুটেছিল প্রতিবেশী চাচার সুবাদে কলকাতার বইপাড়াতে ছোট এক দোকানে ম্যানেজার এর কাজ। সেখানেই আলাপ হয়েছিল পানপাতা মুখ আর অনাবিল সারল্যমাখা মুখের সেই মেয়েটার সাথে।মেয়েটা বারবার বলেছিল ওর সাথে নাকি বড় মিল তার স্বপ্নে দেখা রাজপুত্রের। কেন যেন প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে দেখে বড্ড মায়া জেগেছিল ওর মনে। মেয়েটার চোখ দুটোর সাথে শিউলির চোখের বড় মিল ছিল। হয়তো শিউলির চোখের মতই ওই দু চখেও ওর জন্য ভালবাসা সাজান ছিল বলেই খুঁজে পেত ও মিলটা।
ঊর্মি ছিল তার নাম। ঊর্মিলা। প্রথমবার নামটা শুনেই কেমন যেন একটা স্নিগ্ধ বাতাস ছুঁয়ে দিয়েছিল ওকে। মনে হয়েছিল বোধ হয় দ্বিতীয়বার হারিয়ে গেল আবার নিজের মন। কিন্তু ভালবাসা শব্দটাতেই তো ওর ভয়। তাই আপ্রাণ চেষ্টা করত ও নিজেকে ঊর্মির থেকে দূরে দূরে রাখার। কিন্তু ঊর্মির লাগামছাড়া সমুদ্রের মত ভালবাসা মাঝেই মাঝেই আবেগে ভাসিয়ে দিত ওকে। ও জানত ঊর্মির থেকে হারিয়ে যাওয়াই ওর ভবিষ্যৎ তবুও বারবার দেখতে ইচ্ছে হত মেয়েটাকে। নিজের নামটা মেঘ বলে ও পরিচয় দিয়েছিল সেই পানপাতা মুখ এর কাছে। কেন যে মেঘ নামটাই বলতে ইচ্ছা করেছিল সেটা আজ আর স্পষ্ট মনে পড়ে না ওর। হয়তো ঊর্মির সাথে বৃষ্টি দিনে দেখা হয়েছিল বলেই, হয়তো ঊর্মির গা থেকে প্রতিবার একটা মন কেমন করা ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ ভেসে আসত বলেই ওর ইচ্ছা হয়েছিল নিজের নাম মেঘ বলতে মেয়েটার কাছে। কিংবা হয়তো নিজের পরিচয় থেকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করেছিল বলেই ও মিথ্যা বলেছিল সেদিন। আসলে পালিয়ে যাওয়াটা যে ওর মজ্জাগত। তাই ঊর্মির চোখে ভালবাসার রঙিন স্বপ্ন এঁকে দিয়েও ওকে সম্পূর্ণ একা করে দিয়ে আবার হারিয়ে গেছিল ও। তাছাড়া আর কোন উপায়ও তো অবশ্য ওর ছিল না। ঊর্মি যদি জানতে পারত কোনদিন ওর অন্ধকারময় আসল পরিচয় তাহলে ওর চোখে যে ভালবাসার বদলে ঘৃণা নেমে আসত ওর স্বপ্নের মিথ্যা নায়কের জন্য। আর সেটা কি করেই বা সহ্য করত আজিজ ওরফে মেঘ? আর তাছাড়া মায়ের মারণ অসুখও তো ধেয়ে এসেছিল ঠিক সেই সময়তেই। আজিজ বা মেঘ নয়, তাই সেদিন ওকে তাই বাধ্য হয়েই বেছে নিতে হয়েছিল নয়ন বিশ্বাসের জীবন। অসহ্য দম বন্ধ করা মৃত্যুসম জীবন।
কিন্তু সেখানেও হঠাৎ দমকা ঝড়ের মত আছড়ে পড়েছিল একজন মানুষ। তিস্তা। মৃত্যুরমত দিনগুলোতে তিস্তাই এনে দিয়েছিল ওকে এক মুঠো খোলা হাওয়া। সম্মান দিয়েছিল ওকে তিস্তা, ওর সমস্ত অন্ধকারকে উপেক্ষা করে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছিল। ভালবেসে আপন করে নিতে চেয়েছিল। আসলে ভুল তিস্তার নয়। আসলে ঐ বেজন্মা যৌনকর্মীটাই হয়তো কোনদিন ওকে বোঝাতে পারেনি আসলে সে বিশ্বাসের বা ভালবাসার যোগ্য নয়। সে শুধু স্বপ্ন ভাঙতে জানে, পালিয়ে যেতে জানে। এসকেপিস্ট। আজিজ, মেঘ বা নয়ন আসলে একজন আদ্যন্ত এসকেপিস্ট। তাই তিস্তার থেকেও আবার পালিয়েছে নয়ন।
কিন্তু তিস্তা খুঁজে পেয়েছে আবার বেঁচে থাকার মানে। নতুন ছন্দে আবার সে সাজাতে চলেছে পুরান সংসার। ও আজ ঘেন্না করে নয়নকে। কিন্তু ও জানে না আসলে যৌনকর্মী ঐ ছেলেটা ওকে ছেড়ে আসার পর থেকে প্রতিদিন ওর মঙ্গল কামনায় আল্লাহ আর ভগবান সবার কাছে প্রার্থনা করেছে। না, ওর প্রার্থনার একেবারেই কোন জোর নেই ও জানে, কিন্তু আজ তিস্তা ভাল আছে তাই ও যে আলাদা করে ধন্যবাদ দিয়েছে বারবার নিজের ঈশ্বরকে।
ঊর্মির জীবনটা বড় এলোমেলো হয়ে গেছিল, অবশ্য সেটা হয়তো ও জানতই পারত না যদি না কাকতালীয় ভাবে দেখা হত আকাশের সাথে। কিন্তু যৌনকর্মী নয়ন আর তার বিকৃত কামতাড়িত ব্যবহার ওকে এক ধাক্কায় নামিয়ে দিয়েছে স্বপ্নের দেশ ছেড়ে বাস্তবের মাটিতে। মেঘ নামক সেই স্বত্বাটাকেই আজ পুরোপুরি মুছে অস্বীকার করতে চায় ও।
আকাশ ঊর্মির স্বামী এটা জানার পর, ওদের সব কথা শোনার পর পায়ের নিচটা কেমন যেন দুলে উঠেছিল ওর। কিন্তু তবুও নিজের নিখুঁত অভিনয় দিয়ে ও ঢেকে রেখেছিল নিজের বুকের ভেতরের উথাল পাথালটা। কারণ সবটা শোনামাত্রই ও স্থির করে ফেলেছিল সারাজীবন পালিয়ে বেড়ালেও আর পালাবে না ও। ঊর্মির জীবনের ঝড়টা থামাতেই হবে ওকে।এখন অনেক স্থিতিশীল ঊর্মির জীবন। মা হতে চলেছে ও। ব্যস! শুধু এইটুকুই তো চেয়েছিল ঊর্মির মেঘ। ও আজ মেঘকে ভুলে যেতে চাইলেও ওর মেঘের বুকে চিরকাল ঊর্মি বেঁচে থাকবে এক সুখস্মৃতি হয়ে। শুধু তাই নয়, একটা অজানা বন্ধন ওদের ঘিরে রাখবে সারাজীবন যেটা কোনদিন জানবে না ঊর্মি বা আকাশ। ওদের জীবনের আড়ালেই লুকিয়ে থাকবে ওদেরই অজানা একটা দিক।
আর শিউলি! সে কি সত্যি শিউলি ছিল? তিস্তার বাড়ির সেই চোখ দুটো, জানলার খড়খড়ির ফাঁক থেকে যে চোখ ওকে তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে জরিপ করছিল সে চোখ যে আর কারোর হতেই পারে না। আর সেই পুলির স্বাদ! শিউলির হাতের স্বাদ তার আজিজ চিনবে না এও কি সম্ভব ! বুকের ভেতরটা কেমন যেন ওলট পালট হয়ে যায় তিস্তার খড়খড়ির আড়ালের সেই চোখ দুটো মনে পড়লেই।
দেওয়াল ঘড়ির দিকে একবার তাকাল আজিজ, এখন বিকাল চারটে দশ। তার মানে এখন তিস্তা বাড়িতে নেই। অফিসেই আছে, আর ও তো বলেইছিল ঐ বাড়িতে সায়না বলে মেয়েটা একাই থাকে? তবে কি এখন একবার মুখোমুখি হওয়া সম্ভব তার?
মোবাইল খুঁজে তিস্তার বাড়ির ল্যান্ডফোনের নম্বর বের করে নিল আজিজ। তারপর ডায়াল করল ঝটপট। অন্য কেউ যদি ধরে? এখন কি তিস্তার স্বামীও ওখানেই থাকেন? সব প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে তিরিশ সেকেন্ডের মাথাতেই ফোনটা ধরল কেউ।
—''হ্যালো'' ওপারে গম্ভীর মেয়েলি স্বর। হৃৎপিণ্ডটা ছলাত করে উঠল আজিজের। না আর কোন ভুল হচ্ছে না ওর। এই গলা আর কারোর হতেই পারে না।
—''হ্যালো কে বলছেন''? অধৈর্য হচ্ছে স্বরটা?
—'' শিউলি শিউলি'' আর কোন কথা খুঁজে পাচ্ছে না আজিজ। কত বছর পর আবার এই স্বর শুনছে ও।
দু মিনিট নীরব ও প্রান্ত।
—''শিউলি বিশ্বাস কর কোনদিন আবার তোকে দেখতে পাব সত্যি ভাবিনি। আমার তোকে অনেক কিছু বলার আছে শিউলি। আগামীকাল একটা জরুরী কাজ আছে আমার। সেটা সেরে চিরদিনের মত বিদায় নেব এই শহর, এই মুলুক ছেড়ে। তার আগে নিজের দু একটা কথা না বলে নিলে যে শান্তি পাব না মরেও আমি''।
-''কোন ভুল হচ্ছে আপনার। এখানে শিউলি নামের কেউ থাকে না। আমি শায়না বলছি। আমার মনে হয় রঙ নাম্বার''। তীক্ষ্ন স্বরে কথাগুলো বলেই সে রেখে দিল ফোনটা।
খাটের ওপর ধপ করে বসে পড়ল আজিজ। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পরছে জল। না, সত্যি তো ওর কোন অধিকার নেই কারোর সামনে গিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলার। ও যে অপরাধী। ও যে সকলের কাছেই ঘৃণার যোগ্য।
******
ফোনটা রেখেই মেঝেতে বসে হাউহাউ কাঁদছে শিউলি। এটা কি করল ও? যার নাম হৃদয়য়ের সব খানে লিখে রেখে বাঁচত ও একদিন, তাকে এত দিন পর কাছে পাবার সুযোগ পেয়েও তাকে দূরে ঠেলে দিল এভাবে! তাকে কোনদিন আবার দেখতে পাবে এটাই তো ভাবেনি শিউলি।
কিন্তু আজ সেই মানুষটাকে দেখার সত্যি আর এক ফোঁটা ইচ্ছেও যে হচ্ছে না ওর। আজিজ আর যাই হোক সে প্রেমিক হতে পারে না। ভালবাসা তো নিজেই শক্তির উৎস, সেই শক্তিকে পায়ে দলে যে পালিয়ে যায়, বেইমানি করে আর প্রেমিকা মৃত্যুপথযাত্রী জেনেও যে শুধু নিজের পিঠ বাঁচানোর কথা ভেবে একটিবারও সামনে আসে না সে আর যাইহোক প্রেমিক হতে পারে না। না, ওই মানুষটাকে আর চোখের সামনে দেখতে চায় না শিউলি। ও আজও বদলায় নি সেটা বেশ জানে ও। সেইজন্যই তো তিস্তাদিদির জীবন থেকে এভাবে পুরোপুরি গায়েব হয়ে গেল, যেমন হয়েছিল একদিন শিউলির জীবন থেকে। ভাল থাকুক সে, কিন্তু শিউলি একাই বাঁচবে। নিজের কলজের জোরে বাঁচবে শিউলি, পোড়া চামড়া আর শরীর ওর মনোবল ভাঙতে পারবে না। তাই? ছেলেটার আজ আর কোন জায়গা সত্যি নেই শিউলির জীবনে। নিজের আবেগের কাছে হেরে গিয়ে আর ঠকতে রাজি নয় ও। কিছু প্রশ্ন না হয় না মেলাই থাকুক।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।