পল্লবী সেনগুপ্ত
দেখতে দেখতে হুহু করে কোথা দিয়ে যে সময়টা কেটে যায় সত্যি যেন বোঝাই যায় না। অবশেষে সব ঝড় ঝঞ্জা পেরিয়ে ঊর্মির কোলে আজ ওর সন্তান। গতকালই হয়েছে সিজারিয়ান ডেলিভারি। ঊর্মি খুব খুশি। আকাশও আনন্দে ভাসছে। উৎসবের আমেজে দুই পরিবারই।
খুশি মাখা মুহূর্তের মাঝেই হুট করে একবার বাইরে বেরিয়ে এল আকাশ। আবার ডায়াল করল নয়নের নম্বর। আজকের দিনে কি এই মানুষটাকে ভুলে থাকা যায়! মাঝে কিছুদিন আকাশ ব্যস্ত ছিল ঊর্মির প্রেগন্যনসি নিয়ে, তাই আর যোগাযোগ করতে পারেনি ছেলেটার সাথে। কিন্তু কাল থেকে ওকে যোগাযোগের চেষ্টা করছে অনবরত। কিন্তু বারবার বলছে এই নম্বরের কোন অস্তিত্ব নেই। তবে কি নম্বর বদলে ফেলল ছেলেটা? শেষ কৃতজ্ঞতাটুকুও কি আকাশ জানাতে পারবে না নয়নকে?
ফ্রেন্ড এন্ড ফ্রেন্ড সংস্থার নম্বরটা যোগাড় করে এবার সেখানেই ফোন করল আকাশ।
-''আমি কি আপনাদের এজেন্ট নয়ন বিশ্বাসের কন্টাক্ট নম্বরটা পেতে পারি''। বলল আকাশ।
-''সরি স্যার আমাদের এখানে এই নামে কেউ নেই।আগে একজন ছিলেন। তিনি মাস ছয়েক আগেই কাজ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তার বর্তমান কোন কন্টাক্ট নম্বর নেই আমাদের কাছে''। কেটে গেল লাইন। সত্যি এবার হতাশ লাগছে আকাশের। সত্যি এভাবে হারিয়ে গেল নয়ন? আর কি কোনদিন দেখা হবে ওর সাথে? কে জানে হয়তো হবে, কিংবা হয়তো হবে না। নয়ন এমনভাবে হারিয়ে গেল যেন ও কখনো ছিলই না। ওদের মত ছেলেদের তো নিশ্চয়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইলও থাকে না।
ঊর্মির মেঘও তো ঠিক এইভাবেই হারিয়ে গেছিল তাই না? হঠাৎ করে একদিন। আর ঠিক সেই মানুষটার মত দেখতে নয়নও একইভাবে হারিয়ে গেল? কিন্তু কেন? সত্যি কোন যোগসূত্র নেই তো এর মধ্যে?
নিজের ভাবনায় এবার নিজেকেই ধমকাল আকাশ। এসব কি ভাবছে ও? ঊর্মির সেই সময় মানসিক সমস্যা হচ্ছিল আর নয়ন এর যা পেশা তার জন্যই হয়তো কোনভাবে নিঃশব্দে সরে যেতে ও বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে আর কিই বা যোগ থাকতে পারে!
-''আকাশদা তোমায় ডাকছেন ডাক্তারবাবু নার্সিং হোমের ভেতর। তাড়াতাড়ি চল''। খুড়তুতো ভাইয়ের ডাকে ভাবনার ঘোরটা ছিঁড়ল ওর।
-''হ্যাঁরে চল''। নার্সিং হোমের অন্দরের দিকে ফের পা চালাল আকাশ। ধুর! এখন ওর কত দায়িত্ব, কত কাজ। নতুন বাবা হয়েছে বলে কথা। এখন কি আর অর্থহীন ভাবনা নিয়ে মাথা ঘামানো ওকে মানায় !
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।