রতনতনু ঘাটী

যে ছেলেটি শুধু ঘুড়িই ওড়ায়, লাটাই পায় না খুঁজে
উড্ডীন দু’টো চোখে সেযে তালপাতার চশমা গুঁজে
নারকোল-পাতা হাতঘড়ি দেখে সময়কে বলে, ‘‘আছি!’’
বিকেলবেলার সূর্যটা মেঘে খেলছিল কানামাছি।
ঘুড়ির মাথায় কাগজ ভোমরা, একটানা বাজে ভোঁ-ভোঁ
সুতোয় দু’ কান পেতে শোনে, ভাবে আকাশটা ছোঁব।
কদমগাছের ডাল ভেঙে কাল পুঁতেছিল খালপাড়ে
আজ সেউপড়ে দেখছে কতটা নতুন শেকড় বাড়ে!
পদ্মদিঘিতে সাঁতরে তুলেছে পাঁচ-ছ’টা লাল-সাদা
কপালের পাশে পদ্মরেণুতে লেগে আছে তার কাদা।
ওকে দেখলেই খোলা জানালায় ছিটিকিনি দাও তুলে
মানায় না ওকে জামা-জুতো পরা বাবুসোনাদের স্কুলে!
এসব কথাই বাবা বলেছেন, মাও বলেছেন তাই!
রংহীন তবু রঙে-রঙে মাখা ওর ছেলেবেলাটাই।
নামতা শেখেনি, ছড়াও জানে না, ইংরেজি সেতো দূর...
হারানো টায়রা খুঁজে দেয় একা বোসেদের কুঙ্কুর।
সকালে উঠেই কেয়াপাতা ছিঁড়ে নৌকো ভাসায় ও যে
আকাশপারের মন্দাকিনী ঢেউ দিতে ওকে খোঁজে।
ইচ্ছে করেই ভুল ট্রেনে চেপে চলে যায় চাইবাসা
তালগাছে উঠে একা পেড়ে আনে বাবুইপাখির বাসা।
একটা পেয়ারা পায় যদি গাছে, ভাগ করে পাঁচজনে
গাছের ছায়ায় কাচপোকা খোঁজে বাতাবিলেবুর বনে।
ফড়িং ধরে সেসারাটা দুপুর নাওয়াখাওয়া যায় ভুলে
জজসাহেবের মেয়ের ফ্রকের চোরকাঁটা দেয় তুলে।

সকাল-দুপুর টই-টই-টই, সন্ধেবেলায় চোখে
ঘুমপরিরা যে বিছানাই পাতে তিনটে-চারটে লোকে।
সামনে টিভির একশো চ্যানেল দেখছ কখন থেকে
সেই যে ছেলেটি ঘুমোয় তখন চাঁদের আবির মেখে।
তার কাছে নেই স্কুলে ভরতি যে, প্রথম হওয়াও ক্লাসে
রূপকথারাও আকাশ থেকে তো রোজই খেলতে আসে।
যে যাই বলুক, জোছনায় ভরা তারই মনের খাতা
রূপকথা হয় মেদিনীপুরও, রূপকথা কলকাতা!

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন