রতনতনু ঘাটী

সারা হস্টেল ঘুমিয়ে এখন তাড়া নেই পড়বার,
রাত জেগে আমি তোমাকে লিখছি, বাবা তুমি পোড়োআর
মাকেও পড়িয়ো আমার এ-চিঠি, বোন যদি চায় তবে—
পড়তে পারে না বলে তাই তাকে পড়েই শোনাতে হবে।
এখানে এখন ইশকুল আর পড়াশোনা নিয়ে থাকি
এত বড়ো-বড়ো অঙ্ক করব কখনো ভাবতে নাকি!
বাংলা ভূগোল ইতিহাস পড়ি সব ধরে রাখি মনে,
এখানে আষাঢ়ে ছুটি পড়েছিল আম-কাঁঠালের বনে।
তখন আমার পরীক্ষা কাছে, তখন তাড়াও ছিল,
দেখা হয়নি তো ছুটির গন্ধে মেঘেরা কি এসেছিল?
আষাঢ়-শ্রাবণ কী বৃষ্টি হল, কদম ফুটল কত,
মাঠময় জল, ফুটবল খেলা হয়নি মনের মতো।
কেবল পড়েছি সারা দিন-রাত, লিখেছিও কত-কত,
এবারেও আমি প্রথম হয়েছি সেই সেবারের মতো।
আমরা সবাই আনন্দে আছি মানো আর নাই মানো,
এখানে এখন মন খারাপের কিচ্ছুটি নেই জানো।
পড়তে-পড়তে ভাদ্রও যাবে, আশ্বিন এসে যেই,
বলবে, ‘‘তোতন, পুজোর ছুটি যে, বাড়ি যাবে মনে নেই?’’
তখন আমাকে নিতে চলে এসো, বাড়ি যাব, মাকেবোলো—
‘এ-চিঠির নীচে আর একটা চিঠি লুকিয়ে রয়েছে, খোলো।’’
ভাবছ তুমি তো তোতন হয়েছে কী দুষ্টু দিন-দিন!
না না, চিঠি নয়, আমার লেখা সেকবিতার দু’ লাইন—
একটি সেছেলে হস্টেলে থাকে, মন পড়ে থাকে দূরে,
হলদি নদীর উধাও তীরের ঢেউ-ভাঙা রোদ্দুরে!

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন