রতনতনু ঘাটী
বাঘের কথা ক’জন জানে? বাঘ দ্যাখে তো সবাই
বেশ কিছুটা আমি জানি, কিছুটা জানে ভবাই।
বাঘ মানে তো, হুঁহুঁব্বাবা, বলব কেন আগে?
আমার ভয়ে বাঘ-সিংহ ল্যাজ গুটিয়ে ভাগে।
সৌদরবনের কলস দ্বীপে গাছের মাথায় ঘর
আমার নাম শ্রীযুক্তবাবু জীমূতবাহন কর।
আমি হলুম বাঘশিকারি জগৎজোড়া নাম
তোমরা আমার নাম শোনোনি? এই তো পরিণাম
বাঘ শিকারের! পায়ে হেঁটে বাঘ মেরেছি কত
মুখোমুখি বাঘ মেরেছি একশো- দু’শো শত।
বাঘ মারতেন জিম করবেট সবাই এটা জানে
নিজের ঢাক পিটিয়ে বলার নেই তো কোনও মানে।

আমিও কিন্তু বাঘই মারতাম হাজারিবাগ, দুধওয়ায়
বান্ধবগড়, পালামৌ আর কানহা-কাজিরাঙায়
সিংহ? হ্যাঁ হ্যাঁ, তা-ও মেরেছি ডজন দুয়েক গির-এ
লেপার্ড এবং হায়েনা মেরে বই লিখেছি ফিরে।
বাঘ মারতাম খালি হাতে, বাঘ ধরতাম ফাঁদে
কেমন ভাষায় বকলে বাঘ হাপুসনয়ন কাঁদে
এসব নিয়ে গবেষণার বই লিখেছি কবে।
সেই বইটাই এই রাজ্যে স্কুলপাঠ্য হবে।
আগবাড়িয়ে বলতে তো নেই, একটাই তো শর্ত
সেই বইটির নামটি হল ‘ব্যাঘ্রভাষাতত্ত্ব’।
ম্যানইটারকে মেরে করবেট নাম কিনেছেন ভারী
বাঘের নাকে ঘুসি মারতে একাই আমি পারি।


নাম শুনেছ বাঘশিকারি অ্যাণ্ডারসন লোকটার?
আমায় দেখে শিকারে তার মাথায় এল ঝোঁকটা।
ঘুসি মেরে বন্দিপুরের যে বাঘ হল খোনা
সেই বাঘটাই এসে বলত, ‘‘সেলাম জাঁহাপনা!’’
এসব কথা শুনলে সবাই গল্প বলেই ভাববে
আমার কথা লেখা আছে নোবেলজয়ীর কাব্যে।
আর যে লোকটা বাঘশিকারি, নামটা যেন কী বেশ!
যাক সেকথা, গড়ব চাঁদে ব্যাঘ্রউপনিবেশ।
শিকার করে হরেক ট্রোফি জিতে এনেছি ঘরে
চক্ষু হবে ছানাবড়া লিস্টি শোনার পরে।
লর্ড কার্জন ডেকে বললেন, ‘‘জীমূতবাহন, শোনো
‘বাঘবিশারদ’ তকমা দেওয়ার লোক পাইনি কোনো।
এই উপাধি তোমায় দিলাম, ফিরিও না ভাই লক্ষ্মী!’’
আমায় তখন স্যালুট দিচ্ছে সাতশো হাজার রক্ষী।
ফিরিয়ে দেব কার্জনকে? গায়ে কাঁটা দেয় বটে!
দেশবিদেশের কাগজ লিখল, ‘ক্বচিৎ এসব ঘটে!’
একলা ক’টা বাঘ মেরেছি হিসেব কষল সরকার।
ভাবল, আমায় থামাতে এক আইন করা দরকার।
সেই থেকে তো ব্যাঘ্র মারায় নিষেধ হল জারি
বাঘ না মেরে হাত গুটিয়ে থাকতে কি আর পারি?
আইন মেনে বাঘ মারি না, হাত নিশপিশ করে
বাঘশিকারের পোকারা সব মাথায় নড়েচড়ে।
হারনেওয়ালা জীমূতবাহন? বাঘ হ্যায় মেরে অপনে-
বাঘ মারছি প্রতিদিনই ভোরবেলাকার স্বপ্নে!

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন