রতনতনু ঘাটী
আমাকে কেউ বলেন যখন, ‘‘গল্প শুনবে নাকি?’’
তাঁকেই বলি, সময় তো নেই, অনেক কাজ যে বাকি!’’
হাসতে হাসতে বলেন তিনি, ‘‘এমন কী কাজ করো?
এইটুকু এক পুঁচকে মেয়ে, এই পুতুলটা ধরো!’’
তখন বলি, ‘‘আমার এখন পুতুল দেখলে হাতে
সবাই ভীষণ বকা দেবেন, পারবেই না থামাতে।
দিদার কোলে বসতে বারণ, গল্প শোনাও মানা,
কোন পুতুলের কী নাম ছিল বলতেই পারব না।
বছর দুয়েক মেলায় যাইনি, যাইনি মামার বাড়ি,
খেলাঘরের সঙ্গে আমার তিন বছরের আড়ি।


বন্ধু ছিল মিঠিন তাতাই কাঁকন দোয়েল হেনা,
সবাই এখন ভুলেই গেছে চিনতেও পারবে না।
দাদার সঙ্গে মিষ্টি আড়ি ছুটির দুপুরগুলো
একটাও নেই, ফোটে না আর ভাবের বকুলফুলও।
আমার শুধুই পড়ার কথা সকাল বিকেল যত
হেলাফেলার সময় এখন নেই যে আমার অত।
বাবার কোলে বসতে গেলেই, বলেন, ‘আদর পরে,
যোগের অঙ্কে তোমার মতো কেউ কি বিয়োগ করে?’
মায়ের সঙ্গে লুকোচুরির সময় বলেন, ‘না, না,
যেসব বানান ভুল করেছ, সবই তোমার জানা।
সেসব এখন পনেরোবার লেখার বেলায় ফাঁকি?
বিজ্ঞান তো ধরাই হয়নি সমস্তটাই বাকি।’

দাদাও বলে, ‘মাথায় তোমার মারব একটা চাঁটি,
শিখলে না তো কোনটা দোআঁশ, কোনটা এঁটেল মাটি।’
দু’ চোখ টিপে ধরলে দাদুর, বলেন, ‘মনে আছে
ডোডোপাখির দেশটা কোথায়, কোন নদীটার কাছে?’
চার বিষয়ে আন্টি আছেন তাঁরাও পড়ান এসে,
পড়তে পড়তে দু’ চোখ জুড়ে ঘুম এসে যায় শেষে।
ঘুমোই যখন সবাই ভাবে ঘুমিয়েছি চোখ বুজে,
কেউ জানে না, স্বপ্নে খেলার সঙ্গী বেড়াই খুঁজে।
আমার মতো ছোট্ট যারাই বলছি তাদের শোনো
এই কথাটাই বড়োদেরকে বলবে না কক্ষনো!
গল্প-খেলার সময় বলতে স্বপ্নটুকুই হাতে,
আমরা এবার বসব স্কুলের ভরতি-পরীক্ষাতে।’’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন