রতনতনু ঘাটী

আমাদের ছোটো মনসাপোতার খালে
খুব সরু সেই বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে
বানিয়ে দিয়েছে পঞ্চায়েতের লোক
কংক্রিট ব্রিজ একদম একঠেঙে।
এখন জ্বলছে বিজলিবাতির আলো
শিউলিতলি বা রঙ্গনডাঙা গ্রামেও,
বাবুইপাখিরা জোনাকি ধরে না আর
গ্রামে এলে তুমি এইবার দেখে যেও।
একহাঁটু কাদা, ইশকুল যেতে রোজ
বই-খাতা নিয়ে আছাড় খেয়েছি কত,
এখন এখানে মোরাম রাস্তা সব
ভ্যান-রিকশার ঠুং ঠাং অবিরত।
টেক্কা দিয়েই বিল্টু ও বেলাদের
বাড়িতে এসেছে নতুন টেলিভিশন,
হারমোনিয়ামে সান্ধ্যকিদের ছেলে
রামপ্রসাদীও গায় না আর এখন।
সকালে এখানে রোজ মাছ ফেরি হয়
খালে লাফায় না খ্যাপলা জালের মাছ,
ভূতে-ভরা সেই নিম গাছটিও নেই।
বনসৃজনের প্রচুর বাবলা গাছ।


তুমি লিখেছিলে শহরে কখনো গেলে
চিলতে আকাশ নিয়ে যাই আমি যেন,
টেলিফোন আর ইলেকট্রিকের তারে
আকাশ এমন ছোটো হয়ে গেল কেন?
এখন এখানে গ্রাম বলে কিছু নেই
এই খবরটা সবাইকে বলে দিও,
গ্রাম ছেড়ে যারা শহরে গিয়েছে চলে
শহর তো নয়, গ্রামই যাদের প্রিয়।
তুমি মা ও বোন এবার পুজোয় যদি
গ্রামে আসো তবে, কিচ্ছু চাই না জেনো,
শহরেই নাকি সবকিছু পাওয়া যায়
আমার জন্যে গ্রামের গল্প এনো।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন