রতনতনু ঘাটী

খুব ভোরে উঠে ছুটি ঘুমচোখে
ফিরে সাঁতারের ক্লাসে
বাবা বাজারের ব্যাগ হাতে দেখি
ছুটে যায় আর আসে।
সাঁতার ফেরত বই নিয়ে আমি
বসে যাই একমনে
মা তখন একা একশোজনের
কাজ করে একজনে।
তাড়াহুড়ো করে দু’ মুঠো খেয়েই
ছুটে-ছুটে যাই স্কুলে
বাবা-মা অফিসে, আমরা তখন
এ-ওকে গিয়েছি ভুলে।
স্কুল থেকে ফিরে গানের রেওয়াজ
নয়তো আঁকার ক্লাস
সময় মেলে না কোনটা কখন
করে উঠি হাঁসফাঁস।

বাড়ি ফিরে দেখি অঙ্কের-স্যার
বসে রয়েছেন যেই
মা-বাবার কাছে কথা বলবার
একটু সময় নেই।
রাতে ঘুমোবার সময় মা বলে,
‘‘খোকা, বড়ো হতে থাকো—’’
আমি মাকে বলি, ‘‘বড়ো হব খুব,
আমার কথাটা রাখো।
আম কুড়নোর ঘুড়ি ওড়ানোর
রঙিন দুপুরগুলো...
মেঘলা দিনের গোটা রামধনু
আকাশ-বালিশে শুলো...
তোমাদের সেই ছেলেবেলা, যার
গল্প করেছ কত
সেই ছেলেবেলা ফিরিয়ে দাও না
একটা দিনের মতো।’’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন