রতনতনু ঘাটী
ইশকুলে আজ রেজাল্ট দেবে ব্যস্ত গোটা বাড়ি
খঁচার পোষা ময়নাটাও করেনি আজ আড়ি।
কুট্টিপিসি রান্নাঘরে, বকুলমাসি ছাদে,
গৃহস্থালির সমস্ত কাজ জরুরি সংবাদে।
অফিস থেকে বাবার ফোনে জড়িয়ে আছে ভয়
মা দাঁড়িয়ে রঙিন ছাতায় দু’ পাশে সংশয়।
স্কুলের গেটে স্বপ্নেরা চুপ উথালপাথাল ঢেউ
গাছ-ভর্তি বকুলেরা দেখেছে কেউ-কেউ।
এমন সময় ঢং ঢং ঢং ছড়িয়ে পড়ে ছুটি
রেজাল্ট হাতে বিদ্যেবানরা, উধাও খুনশুটি।
দূরের থেকে চেঁচায় পাপান, ‘‘আমি সেকেণ্ড ক্লাসে।’’


সব মায়েদের বাঁকা চোখরা তাকাল চারপাশে।
মা বললেন, ‘‘ঢের হয়েছে, মুখ দেখানো ভার!
ফার্স্ট কে হল, নামটা শুনি? অঙ্কে কত তার?’’
পাপান বলল, ‘‘দেবল গুপ্ত। অঙ্কে সেএকশোই।
আমি পেলাম নব্বই, তার বেশি পেলাম কই?’’
‘‘সারাটাদিন খেলিস শুধু,’’ মা বললেন রেগে,
‘‘সব স্বপ্নই আঁধার হল চাঁদে গ্রহণ লেগে।
চল বাড়িতে, দেখাচ্ছি আজ খেলার কী যে মানে,
দেবল হল চাঁদের টুকরো সব্বাই তা জানে!’’
তখন পাপান ভয়ের চোখে তাকাল মা’র দিকে,
‘‘ও যে ভীষণ মিথ্যে বলে ক্লাসের আন্টিকে?’’
‘‘বলুক, তাতে দোষ কিছু নেই, ফার্স্ট হয়েছে ক্লাসে!’’
মায়ের কথায় পাপান সোনার দু’ চোখ ঝেঁপে আসে।
‘‘সেকেণ্ড হওয়া না মিথ্যে বলা কোনটা ভাল বলো?’’
বলতে-বলতে পাপানসোনার দু’ চোখ ছলছল।
‘‘মুখের উপর উত্তর দিস,’’ মা বললেন, ‘‘এ কী!
খুব শিখেছিস কথা, আজকে বাবা আসুক দেখি।’’
মায়ের কাছে জবাব পায়নি দু’ চোখ ভেসে নদী
ছোট্ট পাপান মঞ্চে উঠে প্রশ্ন করে যদি!
বলুন সবাই, মঞ্চে পাপান মুখখানা যে কালো—
‘‘সেকেণ্ড হওয়া না মিথ্যে বলা, কোনটা বেশি ভাল?’’

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন