রতনতনু ঘাটী
সেই যে লোকটা, নামটা ভুলো, ঠিক বলেছেন, বেঁটে
অণ্ডালেরই পরের স্টেশন, সেখান থেকে হেঁটে
কী যেন সেই গ্রামের নামটা, সেই গ্রামে তো থাকেন
তেলের বোতল জুতোর কালি বইয়ের তাকে রাখেন।
মুখেভাতের ছিন্ন জামা তুলে রাখেন ফ্রিজে
জলের কুঁজোয় চশমা রেখে খুঁজতে থাকেন নিজে।
জুতোর বাক্সে গানের খাতা, ছাতার ভিতর জাঁতি
বুকপকেটে জমিয়ে রাখেন দু’-তিন জোড়া হাতি।
সেবার তিনি ওলিম্পিকে প্রথম হলেন দৌড়ে।
মেডেলখানা সোনার বলে রাখতে গেলেন গৌড়ে।
সেইখানে তাঁর পিসি থাকেন, গিয়ে দেখলেন, না না,
পিসি তো নয়, মাসতুতো ভাই, এখন তাঁরা ঘানায়।
সেই বছরই হঠাৎ করে থিসিস লিখে লোকটি
নোবেল পাওয়ার চেষ্টা করে খারাপ হল চোখটি।


এর মধ্যেই খবর এল নোবেলে সান্ত্বনা
পুরস্কারটা পেয়েই গেছেন, কেউ তা মানত না।
মেডেল এল কুরিয়ারেই সোনার জলে রং করা
সত্যি মেডেল নিয়ে কি আর যায় কখনো ঢঙ করা!
রবীন্দ্রনাথ নিয়েছিলেন, কী হয়েছে জানেন
এমন ভুল তো ভুলোবাবুর হবে না তা মানেন।
ভুলোবাবুর ভুলের খবর শেষ হবে না বললে,
‘‘এই যে বিল্টু, সব না শুনে কোথায় তুমি চললে?
দেখলে তাঁকে জানিয়ে দিও জীবন রেখে বাজি
কষ্ট ভুলে আমরা সবাই বেঁচে থাকতে রাজি!’’
সেদিন ভোরে জগিং সেরে ফেরার পথে তাঁকে
দেখেছিলাম বটগাছটার পেরিয়ে যাওয়া বাঁকে।
চাঁদ তখনো ডুবে যায়নি জোছনা লেগে পাতায়
লক্ষ তারা ভিড় করেছে ভুলোবাবুর মাথায়।
এই অপরূপ ছবির সঙ্গে পথ চলতে-চলতে...
তাঁকে নিয়েই এই ছড়াটা ভুলেই গেছি বলতে!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন