স্বপ্ন-বলা কম্পিটিশন

রতনতনু ঘাটী

‘‘স্বপ্ন-বলা কম্পিটিশন ‘খেয়ালখুশি’ ক্লাবে

নাম দিয়েছি আমি মা গো, কত লোক যে যাবে!’’

‘‘ক্লাস সেভেনের পরে তো আর পড়তে পেলি না রে,

গরিব ঘরের ছেলে কি আর ওসব বলতে পারে?’’

‘‘পারব মা গো, পারব ঠিকই, বোনও সঙ্গে যাক

অবাক করা স্বপ্ন বলে লাগিয়ে দেব তাক!’’

উপচে-পড়া ভিড়ের মধ্যে সন্ধ্যাতারা বোনের

হাতটা ধরে নয়নমাল্য দাঁড়িয়ে পড়ল কোণে।

সতেরোজন সাতশো রকম স্বপ্ন বলার শেষে

ঘোষক বলল, ‘‘নয়নমাল্য স্বপ্ন বলবে এসে।’’

নাম ডাকতেই মঞ্চে নয়ন, ভিড়ে ভিড়াক্কার

বীরপুরুষের মতো বলল, ‘‘জানাই নমস্কার’’!

‘‘স্বপ্নে সেদিন সকালবেলা যাদবপুরের মোড়ে

ভাবছি আমি চমকে দেব একটা কিছু করে।

হঠাৎ দেখি দু’ হাতে ব্যাগ বাজার-ফেরত বিগ বি

হেসে বললেন, ‘আমার কাছে অভিনয়টা শিখবি?’

অভিনয় আর অমিতাভ! আনন্দে বানভাসি!

আমি বললাম, ‘ব্যাগ দু’টো দিন, পৌঁছে দিয়ে আসি!’

‘না না, আমি একাই পারব!’ ঘাম মুছলেন হাতে,

‘জুহু স্কিমে আমার বাড়ি আসবি ‘প্রতীক্ষা’তে!’

গিয়েই দেখি মুড়ি খাচ্ছেন। হেসে বললেন, ‘পাজি!

নতুন ছবির কন্ট্রাক্টে সই করে দে আজই।’

‘‘স্বপ্নে দেখি বিকেলবেলা কে কিনছেন পার্ল?

গড়িয়াহাটে হিন্দি ছবির ইনিই তো ড্রিম গার্ল!

আমি বললাম, ‘শুনুন আন্টি, বোনটা আছে ঘরে

সপ্তাহে তো একটা দিনই যাবেন সময় করে,

নাচ শেখাবেন?’ হেমা তখন খুব একচোট হেসে,

‘ঠিকানা দাও কালই আমি জানিয়ে যাব এসে।’

বলেই দেখি চুড়ি কিনলেন, ব্যাগও গোটা আট!

‘বাড়ি আমার তেরোর-বারো নোনাপুকুরের মাঠ।’

‘‘স্বপ্নে তখন ভোর হচ্ছে, এবার আঁধার কাটে

ব্লগবাস্টার দাঁড়িয়ে একা পাড়ার ক্রিকেট মাঠে,

নিমের ডালে দাঁত মাজছেন। সামনে সচিন, এ কী!

‘স্কোয়ার ড্রাইভ শিখিয়ে দেব ব্যাট আন তো দেখি!’

বলেই তিনি চাঁদ ধরতে শূন্যে দিলেন পাড়ি

আমি ছুটলাম ব্যাট আনতে নিখিল পালের বাড়ি।

ফিরে এলাম, সঙ্গে নিখিল, মস্ত পাকা পেঁপে

দিয়ে বলল, ‘নিতেই হবে! যাবেন প্লেনে চেপে।

আমরা খেলি তুখোড় ক্রিকেট সকাল থেকে সন্ধে

দেখুন কাকু, ম-ম করছে পাকা পেঁপের গন্ধে!’

হঠাৎ দেখি পুটুস করে সুয্যি উঠল যেই

পেঁপেসুদ্ধ ব্লগবাস্টার কোত্থাও তো নেই।’

‘‘স্বপ্নে আমি বান্দ্রা ওয়েস্ট, গিয়েছি ‘মন্নত’-এ

চেষ্টা করলে কী যে না হয়, কী-ই যে পারে হতে।

বাটু আমায় শিখিয়ে ছিল, গিয়ে বললাম, ‘পিংকান!’

হঠাৎ দেখি বারান্দাতে দাঁড়িয়ে আছেন কিং খান।

হাত নাড়লেন, মুখে হাসি, গেট খুলল রক্ষী

আমার কান্ড দেখে কোথাও ডাকল কোকিল পক্ষী।

বসিয়ে রেখে নিজের হাতে চা করলেন তিনি।

আমি বললাম, ‘আমার চায়ে একটু বেশি চিনি।’

দু’ কাপ চা আর বিস্কুটও দিয়ে বললেন, ‘বলো!’

শাহরুখ খান সামনে আমার! দু’ চোখে জল এল,

‘এই এবারও আই পি এল-এ টিম দিয়েছেন, তাই

ইডেনে কাল কে কে আর-এর খেলায় নেওয়া চাই!’

ঘাড় নাড়লেন, ছুট্টে এলাম, কোত্থাও আর থামি?

চার আর ছ’য়ে মাঠ কাঁপালাম, ম্যান অফ দ্য ম্যাচআমি।

হাজার স্বপ্ন ভিড় করেছে তখন চোখের পাতায়

শাহরুখ খান সোনার মুকুট পরিয়ে দিলেন মাথায়।’

‘‘স্বপ্নে সেবার আমরা হাজির বীরেন রায় রোডে

ভেলু একাই চেঁচিয়ে বলল, ‘ওটাই-ওটি-ওডে।’

এর মানে কী? ভেলু বলল, ‘মহারাজদা রাজি,

‘ব্লাইণ্ড ক্রিকেট ক্লাব’-এর কোচ হবেন তিনি আজই।’

দাদাগিরির শুটিং, তবু গাড়ি থেকেই নেমে

যেই দাঁড়ালেন, আমি তখন উঠছি ভীষণ ঘেমে।

ইতস্তত করছি দেখে দাদা বললেন, ‘জানি!

একটা দিন খাইয়ে দিস মাটন বিরিয়ানি!’

এ স্বপ্নটা সারাজীবন কেমন করে ভুলি?

আমার পিঠে হাত রেখেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি!’’

ঘোষক বলল, ‘‘স্বপ্ন দেখার নেই তো তিথি-মাস!

স্বপ্ন-বলায় ফার্স্ট হয়েছে নয়নমাল্য দাস!’’

সকল অধ্যায়
১.
ছেলেবেলা
২.
পাসওয়ার্ডের বাড়ি
৩.
কিচ্ছুটি বলব না
৪.
হস্টেলের চিঠি
৫.
টিকিটামা
৬.
ইতি ছোটো বোন তুলি
৭.
হুঁহুঁব্বাবা
৮.
স্বপ্ন-বলা কম্পিটিশন
৯.
জন্মভূমি
১০.
আকাশ-চোর
১১.
তাদের জন্যে
১২.
আধখানা ছেলেবেলা
১৩.
পাপানের প্রশ্ন
১৪.
বীরপুরুষ রবীন্দ্রনাথ
১৫.
চাঁদ-চোর
১৬.
নদীর ছবি
১৭.
গল্প-খেলার সময় তো নেই
১৮.
বাঘবিশারদ
১৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২০.
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
২১.
ভুলো মনের গল্প
২২.
এবং কিন্তু যদি
২৩.
পৃথিবীকে ভালবেসে
২৪.
বাংলা ভাষা
২৫.
আকাশকুসুম
২৬.
চাঁদ ভেসে যায়
২৭.
বনের গল্প
২৮.
ঘোড়ার ডিম
২৯.
আমাদের নতুন বাড়ি
৩০.
বই-চোর ভূত
৩১.
টিয়াটারা-টের
৩২.
খেলোয়াড় ছেলে
৩৩.
চুপকথা
৩৪.
অবাক ভোজন
৩৫.
পুষ্পক-প্রাইমারি
৩৬.
চাই মহাকাশযান
৩৭.
অঙ্ক-পাখি
৩৮.
লালটুলি নীলটুলি
৩৯.
ভাইফোঁটা
৪০.
ইচ্ছেপুরের গল্প
৪১.
বেশ আছি
৪২.
সাক্ষাৎকার
৪৩.
বিল্টু যাবে বিশ্বকাপে
৪৪.
রূপকথা
৪৫.
নতুন ভারতবর্ষ
৪৬.
মেলানকলি
৪৭.
ছুটির বাঁশি
৪৮.
প্রকৃতিপাঠ
৪৯.
মিথ্যে রাজার দেশে
৫০.
গ্রামের গল্প
৫১.
জল্পনা-কল্পনা
৫২.
ভূতুড়ে কলকাতা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%