রতনতনু ঘাটী
একটি মেয়ে তুলছিল ফুল
একটি ছেলে যেই
ডাকল তাকে, ‘‘এই মেয়েটা—’’
‘‘আমার কি নাম নেই?’’
বলেই তখন দুলিয়ে বেণী
ফুল তুলতে থাকে,
‘‘হয় না কি রাগ তোমায় যদি
‘এই ছেলেটা’ ডাকে?’’
রংপেনসিল এক হাতে তার
ছবি আঁকার খাতা,
‘‘আমি তোমার নাম জানি তাই?
কেমন মেয়ে, যা-তা!
নাম জানলে ‘এই মেয়েটা’
বলতে যাব কেন?’’
‘‘দেখেই বুঝি দাদার মতোই
অঙ্ক কষো যেন,
সবই জানো, একটি মেয়ের
নাম জানো না, বোকা!’’
দখিন হাওয়ায় দুলতে থাকে
পারুল থোকা-থোকা!

‘‘দাদা ডাকে, ‘ছুটিরপড়া বস,
নামতা পড়ো দেখি?’
পিসি বলেন, ‘হাঙ্গামি ধর,
বই ছিঁড়ছ, এ কী!’
দাদু বলেন, ‘পাগলিনি ঘোষ
হামু দিচ্ছি গোনো!’
ঠাম্মা বলেন, ‘মুখরা সেন,
গল্প বলি শোনো!’
‘‘মা আমাকে ডাকেন জোরে জোরে,
‘ঝামেলি দাশ মেয়ে!’
বাবা বলেন, ‘ছুটির বাঁশি,
দাও তো ছড়া গেয়ে!’
যে নাম তোমার লাগবে ভাল
সে-নাম ধরে ডেকো
এই যে এত নাম বললাম,
কিন্তু মনে রেখো—
একটি নামই পছন্দ খুব
পাচ্ছে না তো হাসি?
বাবার ডাকা নামটা আমার
শুধু ‘ছুটির বাঁশি’।
আমার হাতে সময় তো নেই
যাচ্ছি তবে বাড়ি—
‘এই মেয়েটা’ বললে এবার
আড়ি করব, আড়ি।’’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন