রতনতনু ঘাটী
দ্বীপ গোনবার কাজ থেকে তুমি ছুটি পেয়ে বাড়ি এলে
কত গল্প যে জমে আছে বাবা, বলব তোমাকে পেলে!
সব ক’টা আজ শুনতেই হবে, চুপ করে বসে শোনো
প্রথম একটা গল্প বলব শোনোনি তো কক্ষনো।
ইশকুল থেকে এক্সকারশনে এবার গেলাম দূরে
হলদি নদীর ঢেউগুলো সব উধাও সমুদ্দুরে।
হলদিয়া থেকে মীন দ্বীপে গেছি, প্রশ্ন কোরো না আগে
ওখানে দেখি কী জ্যোৎস্নারা সব রাত জাগে, দিনও জাগে।
পূর্ণিমা চাঁদ আকাশে তখন, ক্রিকেট খেলছি খুব
হঠাৎ একটা আকাশ-ভেলা যে জ্যোৎস্নায় দিল ডুব
সত্যি গো বাবা, সবাই অবাক। অর্ক বলল, ‘‘আরে,
এটা মনে হয় ভিনগ্রহীদের! নৌকো চালাতে পারে?’’

বীথিন বলল, ‘‘সবাই যে বলে ভিনগ্রহে প্রাণ নেই?
এসব কী তবে? প্রশ্ন আমার বিজ্ঞনীদেরকেই।’’
অরুণাংশুদা ক্যাপ্টেন, ডেকে বলল তখন, ‘‘আরে,
কী কী আছে আর কী কী সব নেই, আকাশের পারাবারে
আর্যভট্ট, বরাহমিহির জানতেন এঁরাও কি?
‘পড়াশোনা কর, পড়াশোনা কর’ তাই তো তোদের বকি!
ওই তো দ্যাখ না অরণ্যদেবের মতো যে লোকটা ওই
বলছে কীসব, সঙ্গে ছ’জন, এক্ষুনি জানবই।’’
দুই কানে দেখি কীসব লাগাল, বাইনোকুলার চোখে
বলছে ওদের সমস্যা খুব ভিনগ্রহীদের লোকে।
ওদের ওখানে সব কিছু আছে, মানবিকতাই নেই
ভালোবাসাটাসা বোঝে না তো ওরা, চায় না তো কাউকেই।
পৃথিবীবাসীর কাছ থেকে এই মানবিক গুণগুলো
কেড়ে নিতে ওরা পাড়ি জমিয়েছে, কী হবে বল না ভুলো?’’
‘ভুলো’ মানে সেই আমারই বন্ধু ভুলোমন দেবনীল
মনে নেই বাবা, তোমাকে শোনাত কবিতার মতো মিল?

চেঁচিয়ে বলল, ‘‘কী হবে তা হলে? লড়াই করব কবে?’’
অরুণাংশুদা বলল তখন, ‘‘প্রস্তুতি নিতে হবে।
দ্য ভিঞ্চির আঁকা ‘মোনালিসা’ ছবি নিয়ে যাবে ব্যাগে ভরে।’’
বীথিন বলল, ‘‘ও মা তাই নাকি? কী যে হবে এর পরে!’’
‘‘অন্য খবর রয়েছে রে তোরা শুনলে কাঁপবি ভয়ে
বোতাম টিপলে একজনই নাকি হয়ে যাবে শ’য়ে শ’য়ে।
রবিঠাকুরের পান্ডুলিপির সব ক’টা পাতা নেবে
পৃথিবীতে আর কী-ই বা থাকবে একবার দ্যাখ ভেবে।’’
একথা বলেই অরুণাংশুদা চুপ করে গেল যেই
আমাদের দেখি হাত-পা ঠাণ্ডা, কারও মুখে কথা নেই।
‘‘আরও কী কী নেবে অরুণাংশুদা, বলো না গো ঠিক বলো!’’
আমাদের কথা শোনার পরই চোখ দু’টো ছলছল।
বলল, ‘‘জানিস, হিংসুক ওরা কী কী নেবে এর পর?
নিল আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদে রেখে আসা মানুষের স্বাক্ষর।
চুরি করে নেবে মায়ের আদর বাবার স্নেহ ও প্রীতি
ভাইবোনেদের দুষ্টমিভরা মায়ামমতার স্মৃতি।


অ্যাটম বোমার ফর্মুলা নেবে যতই পাহারা থাক...’’
এই কথা শুনে চোখ বড়ো বড়ো টুবলু তো হতবাক,
‘‘তারপর ওরা ধ্বংস করবে আমাদের পৃথিবীকে?
এ হতে দেব না। লড়াই করার ডাক দেব চারদিকে।’’
হঠাৎ দেখি কী, অরুণাংশুদা ঘেমেনেয়ে একাকার
দূরসংযোগ যন্ত্রটা কানে, চেঁচিয়ে বলল, ‘‘আর,
এই শুনলাম, ধর না আমাকে! পড়ে যাব আমি ওরে!
বিশ্বশান্তি চুক্তিটা ওরা নিয়ে যাবে ব্যাগে ভরে!
রাষ্ট্রপুঞ্জ থাকবে না আর, সন্ত্রাসে হিংসায়
পৃথিবীসুদ্ধ মানুষ মরবে, এ কি আর ভাবা যায়?’’
লড়াই করার প্রস্তুতি সারা, চেঁচিয়ে উঠেছি ফের,
‘‘এ হতে দেব না, কক্ষনো নয়, পৃথিবীটা আমাদের।’’
হঠাৎ দেখি কী আকাশভেলাটা কখন হয়েছে হাওয়া
থেমে গেল বাবা, ভিনগ্রহীদের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া!
বাবা বললেন, ‘‘খুব বাঁচা গেছে, লড়াই হয়নি শেষে।
এরকম এক মনোবল থাক পৃথিবীকে ভালবেসে।’’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন