রতনতনু ঘাটী

পুকাই একা ঘুড়ি বানায়, তিন-চারটে লাটাই
দুপুরবেলা ডাকলে আমি কায়দা করে কাটাই।
তাকে বলি, ‘‘এখন না রে, মা রাগবেন ভারী!’’
হাসতে-হাসতে বলে সেঠিক, ‘‘গাছেও চড়তে পারি!
ডুবে-ডুবে গুগুলি কুড়োই পদ্মদিঘির তলে
ঝুমকো জবায় সন্ধেবেলা জোনাক পোকা জ্বলে।
তারই দুটো ধরে এনে ঘরের কোনায় রাখি...’’
আমি বলি, ‘‘রাখ তো ওসব, সময় আছে নাকি?
ঊনত্রিশটা অঙ্ক বাকি, এগারোখানা ম্যাপ,
আঁকতে যদি পারিস তবে, দ্যাখ না, এঁকেই দ্যাখ!’’
‘‘তা পারি না ঠিকই কথা,’’ হেসে বলল পুকাই,
‘‘মেঘের কোলে চাঁদ উঠলে তার আড়ালে লুকাই!’’
আমি বললাম, ‘‘এ কী রে তোর, ঘরবাড়ি নেই কোনো?
নাম বলেছিস, পদবি কী, বলিসনি এক্ষনো।’’
সেবলল, ‘‘উঁহু, শোন না, অন্য কথায় আসি
নারিকেলের পাতা দিয়ে বানিয়ে দেব বাঁশি।
মাথায়...হ্যাঁ হ্যাঁ, বেঁধে দেব হলদে পাখির পালক!’’
আমি বললাম, ‘‘বড়ো হোসনি, এক্কেবারে বালক!
কেরিয়ারের মানে বুঝিস? বড়ো হওয়ার মানে?
সাত-আটজন দিদিমণি, পাড়ার সবাই জানে।


ওসব তুই বুঝিস না রে, বুঝবি না কিচ্ছুটি!
কিন্তু বুঝিস চাঁদের সঙ্গে মেঘের লুটোপুটি।
বাতাস যখন দোলায় জোরে গাছে পাখির বাসা
ভুলিস না তুই নতুন পাখির খাবার রেখে আসা।
মা-হারা সেই বিড়ালছানার বিছনা রাখিস পেতে
নিজের ভাগের খাবার এনে পাগলিকে দিস খেতে।
ভুলোর দুটো বাচ্চাকে তুই রোজই দেখিস মেপে
বাড়ল কত, লোককে বলিস সে-গল্প সংক্ষেপে।
একটা গাছে ফুল ফুটলে মৌমাছিদের কানে
ফিসফিসিয়ে শুনিয়ে আসিস ফুল ফোটানোর মানে।
বলিস যখন ভূতপুকুরের যখের ধনের কথা
সব ছোটোদের চোখে তখন সত্যি নীরবতা।
‘‘এসব কথা ফ্যালনা নয় রে, দামও তো কম নয়
বইয়ের পড়ার ফাঁকে এসব জানতে ইচ্ছে হয়।
ছুটির পড়া শেষের পরে যদি সময় বাঁচে
প্রকৃতিপাঠ নিতে আমি আসব তোরই কাছে।’’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন