রতনতনু ঘাটী

সূর্য একা উঠছিল ঠিক দুষ্টু ছেলের ঢঙে
আমরা সেবার বনের পথে সুদূর কালিম্পং-এ।
পাহাড় ফেলে ঝরনা পেলাম ঝরনা ফেলে যদি
এ-পথটাকে আগলে দাঁড়ায় ছোট্ট একটা নদী?
ভাবতে ভাবতে রোদ উঠল, বনের সবুজ তাতে,
তাকিয়ে দেখি, আমরা সবাই ভাসছি কল্পনাতে।
কেউ ভাবছি দেখব এবার মস্ত একটা বাঘ,
দেখব দূরে পাঁচটা ডাকাত মুক্তো করছে ভাগ।
হঠাৎ দেখি, নামছে আঁধার, উপায় নেই তো কোনো,
ছুটব কিনা ভাবছি যখন ডাকল ছোট্ট বোনও,
‘‘এই দাদা চল, ওই তো দূরেই, লাভা ফরেস্ট ওই!’’
তখনও চারপাশে আমার কল্পনা থইথই।
সেসব ফেলে আমি বললাম, ‘‘কিচ্ছুই হয়নি তো।’’
বাবা বলল, ‘‘বাঘের ভয়েই তোতন আমার ভীত!’’
বলেছি যেই, ‘‘বাঘই তো নেই, ভয়ই পাইনি মোটে!’’
তখন রঙিন ফুল ফুটছে পাতার সবুজ ঠোঁটে।
হাঁটতে-হাঁটতে গভীর বনে ঢোকার মুখে এসে
মা বলল, ‘‘কাজ কী গিয়ে আর?’’ বাবাও উঠল হেসে,
বলল, ‘‘আহা, ভয়ের কিছুই নেই তো সবাই জানে!’’
‘‘বন তো বনই, আলাদা নাকি গভীর বনের মানে?’’
বলেই সটান হাঁটতে থাকে ফেরার পথে মা যে,
বাবাও বলল ফেরার কথা, ‘‘এখন পাঁচটা বাজে!’’
বোনের দেখি মুখটা ছোট, ‘‘ভয় পেয়েছিস নাকি?’’
বোন বলল, ‘‘বাঘটাঘ নেই, বনটা শুধুই ফাঁকি!’’


একটু পরেই রাত নামল, ভয়েই সবাই জড়,
বাবা বলল, ‘‘তোতনকুমার, আটের নামতা পড়ো।
মুনুমা আমার বানান বলো, ‘ব্যাঘ্রমশাই’, ‘বাড়ি’।’’
মা দেখি চুপ ভীষণ, এবার ফেরার পথের গাড়ি।
আমরা যখন ফিরছি দূরে বাংলো কালিম্পং-এ
বনের মাথায় চাঁদ উঠেছে ডেলো পাহাড়ের টঙে।
সব্বাই চুপ, বোনটা ঘুমোয়, বুনো ফুল তার হাতে,
একাই আমি বাঘ মারছি শুধুই কল্পনাতে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন