রতনতনু ঘাটী

এ শহরে ভূত আছে যদি করি ঘোষণা
ভয় পেলে নাকি কেউ? সরে-সরে বোসো না!
জানলাটা আঁটা থাক, দরজাটা ভেজানো,
কোন ভূত কোথা থাকে বলো দেখি কে জানো?
ভ্রমণ-বিলাসী ভূত থাকে ট্রাম ডিপোতে
শুনসান মাঝরাতে চোখ বুজে ঝিমোতে।
যদি কেউ দেখে ফ্যালো, একদম হেসো না,
বিপরীত দিকে হেঁটো, ভয় পেয়ে কেসো না!
খেলোয়াড় ভূত থাকে গ্যালারির ফোকরে
খেলা শেষে মাঠ ছেড়ে উড়ে যায় ভোঁ করে।
যে ছুড়েছে মাঠে ইট তার ঘাড় মটকে
চটপট চলে যায় ইডেনেতে সটকে।
তখন বোকার মতো বাঁকাপথ ধোরো না
সোজা-পথে চলে এসো, প্রতিবাদ কোরো না!

কেরানি ভূতেরা থাকে তারতলা গ্যারাজে
ভাবছ কীভাবে ঢোকে? চারদিক ঘেরা যে!
দমকা বাতাসে মিশে ঢুকে যায় ভেতরে
কারও নাম কুঁচুটি, কারও নাম হেঁতোড়ে।
কক্ষনো ভেংচো না, তা হলেই বুঝবে,
বাড়ি ফিরে সারারাত দরজাটা খুঁজবে।
সঙ্গীতপ্রেমী ভূত মন দেয় পাঠেতে
রবীন্দ্রসদনের সামনের মাঠেতে।
গান গায় মাঝরাতে পূর্ণিমা তিথিতে
কক্ষনো হাসে না তো, আটকায় নীতিতে।
সেই গান শোনো যদি ভুলে যেও তখুনি
না হলে স্বপ্নে খাবে ভূতেদের বকুনি।
বই-চোর ভূত আসে বইমেলা বসলে
সাঁড়িভাঙা অঙ্কটা একবারে কষলে
একখানা গল্পের বই দেবে পড়তে
দুটো বই চাও যদি পারবে না নড়তে।
এইসব ভূত থাকে বাবুঘাটে ঘুমিয়ে
ভুল করে কোনোদিন খুঁচিও না তুমি হে।
হাওড়া ব্রিজের নীচে কিছু ভূত থাকত
মাছখেকো ভূতেদের নদী থেকে ডাকত।
তারপর একদিন হেঁটে-হেঁটে বেড়িয়ে
ডায়মণ্ডহারবার চলে গেল পেরিয়ে।
মানুষের উৎপাতে কত ডেরা খুঁজেছে
সুন্দরবনে থাকা ঢের ভাল বুঝেছে।
নামী-দামি ভূতগুলো রাশভারী তাই তো
সুখে নিশি-ভ্রমণের ব্যবস্থা চাই তো!
মানুষকে ভয় পায় পাছে ধরা পড়বে
রাতের পাতাল রেলে তাই গিয়ে চড়বে।
টিকিট তো কাটবে না, দেবে না তো কিচ্ছু
বিখ্যাত ভূতগুলো এরকম বিচ্ছু!

কত রকমের ভূত আছে তা কি মানতে
এই ছড়া পড়বার আগে কেউ জানতে?
ভূত হাঁটে রাস্তায়, ভূত চড়ে গাড়িতে
এ-শহরে ভূত আছে প্রত্যেক বাড়িতে।
কোথা থাকে তারা সব? বলো ভয় পাবে না?
তা হলে তো সেকথাটা মোটে বলা যাবে না!
তবু ভয় পাও যদি নিও না তো ঝুঁকিও
ছুটে গিয়ে চটপট মা’র কোলে লুকিও।
যারা খুব ছোটো ভূত লম্বায় বহরে
বাথরুমে থাকে তারা কলকাতা শহরে।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন