রতনতনু ঘাটী
মা বললেন, ‘‘কী খুঁজছিস তুই টেবিলখানা ঢুঁড়ে?’’
‘‘ছবির বইটা কোত্থাও নেই, কোথায় গেল উড়ে?
তা হলে ঠিক বোন ছিঁড়েছে বই, দেখতে গিয়ে ছবি—’’
মা বকলেন, ‘‘হুঁশ থাকে না কিছু, কখন বড়ো হবি?’’
আমি ভাবছি তবে—
আজ তা হলে আঁকার ক্লাসে ছবি কেমন করে হবে?
সেদিন হঠাৎ অঙ্ক-বইটা হারিয়ে গেল স্কুলে
মিস বললেন, ‘‘সারা ক্লাসটাই দাঁড়িয়ে থাকো টুলে।’’
আমার সঙ্গে বই-চোর ভূত করছে মজা বুঝি
তবুও কেবল এতোল বেতোল ব্যাগটা শুধু খুঁজি।
যদি কোথাও থাকে—
নাই যদি পাই ভূতের কথাই বলব গিয়ে মাকে।


বাড়িতে ফিরেই মাকে বললাম, ‘‘মজার কথা জানো,
বই-চোর ভূত নামের একটা ভূত আছে কি মানো?’’
মা ও বাবা যেই হাসলেন শুনে হাসল দিদি খুব
মনে হল অতল দিঘির জলে এক্ষুনি দিই ডুব।
এতে হাসির কী যে—
বইগুলো তো হচ্ছে চুরি ঠিক বুঝতে পারি নিজে।
সেদিন দেখি বইয়ের টেবিল গোছানো হয়ে আছে
অঙ্ক-বইটা ঘুমিয়ে একা ছবির বইয়ের কাছে।
মাকে বললাম, ‘‘এক্ষুনি এই পড়ার ঘরে এসো,
বই-চোর ভূত আছে কিনা দেখে তখন তুমি হেসো।’’
মা বললেন, ‘‘কই,
এই টেবিলেই খাতার মধ্যে লুকিয়ে ছিল বই।’’
কিন্তু আমার সন্দেহ হয় এরম কার কাজ
বইয়ের মেলায় গিয়ে আমার ইচ্ছে হল আজ
সবাই যে-যার বই কিনে নিক মেলাটা হোক ফাঁকা
আমি একা সমস্ত বই নিয়ে ভরতি করি ঝাঁকা।
কত রকম বই—
দোষ কী হয় বই-চোর ভূত তখন যদি হই?

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন