অগ্নিকুমার আচার্য
ব্ল্যাক বেল্ট? ওটা কী?
‘ব্ল্যাক বেল্ট’ হল ক্যারাটেতে অসাধারণ দক্ষতার বিরল সম্মান।
আর, এই বিরল সম্মান পেল কিনা এক সাত বছরের শিশু! হ্যাঁ, ফ্লোরা দাস। বয়স মাত্র সাত। এই বয়সে ফ্লোরা বিশ্বখ্যাত ক্যারাটে খেলোয়াড়।
এ যেন এক রূপকথা! ক্যারাটে তো আর জলভাত নয়। নানা কায়দা। নানা কৌশল। তবে না বিপক্ষকে কুপোকাত করা।
বর্তমানে প্রতিটি মেয়ের ক্যারাটে শেখা জরুরি। কেননা, দিনকাল বদলে গেছে। সমাজ কলুষিত হচ্ছে। পথে-ঘাটে, স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা মেয়েরা নিরাপদ নয়। ইভটিজিং, কু-প্রস্তাব, যৌন নিগ্রহ করার জন্য বদমাশ ছেলেরা মুখিয়ে থাকে। পথে-ঘাটে মেয়েদের উত্যক্ত করে। তাই জরুরি হয়ে পড়েছে মেয়েদের ক্যারাটে শেখাটা।

ফ্লোরা দাস
ফ্লোরার দিদি আদৃতা। বয়স ১৪। সেও ইতিমধ্যেই দক্ষ ক্যারাটে খেলোয়াড়। দিদির দেখাদেখি ছোটোবোন ফ্লোরাও হাত-পা চালায়। কিন্তু ফ্লোরা যেন ক্যারাটের গ্র্যাণ্ডমাস্টার হয়ে জন্মেছে।
বারাসতের হৃদয়পুরের মেয়ে ফ্লোরা। মা পল্লী দাস, বাবা পুলক দাস। দুজনেই মেয়েদের উৎসাহ দেন। দু-বোন দ্বিগুণ উৎসাহে ক্যারাটের মারপ্যাঁচ শিখতে শুরু করে। কিন্তু বাচ্চা মেয়ে ফ্লোরা যে ভেলকি দেখাতে শুরু করেছে!
২০১৮-র মে। সাত বয়সি ফ্লোরা চলে যায় নেপালে। ওখানে আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগিতার আসর বসেছে। সাতটি দেশের অসংখ্য প্রতিযোগী। কিন্তু সবাইকে টপকে ফ্লোরা জিতে নিল স্বর্ণপদক।
তাজ্জব কান্ড। ফ্লোরার লড়াই-এর অসাধারণ দক্ষতা দেখে সত্যি তাজ্জব বনে গেলেন পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, বাংলাদেশের গ্র্যাণ্ডমাস্টাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত বিশ্ববিখ্যাত গ্র্যাণ্ডমাস্টার সনি পিল্লে বলেন— সাবাস! ওর ভবিষ্যত উজ্জ্বল। সারা বিশ্বে ফ্লোরার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে। বাংলা তথা ভারতের ক্যারাটের আঙিনায় ও বিপ্লব এনে দেবে।
ফ্লোরার প্রশিক্ষক সুভাষ মিত্রও উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, এত কম বয়সে যে ফ্লোরা এমন পারদর্শিতা দেখাবে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।
কলকাতার আইসিসিআর হলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে সফল ক্যারাটে ক্রীড়াবিদদের দেওয়া হবে ক্যারাটের বিরল সম্মান— ‘ব্ল্যাক বেল্ট’।
অন্যদের সঙ্গে ফ্লোরাও পেল এই সম্মান। সবার নজর ফ্লোরার দিকে। যে মেয়ে এখনও ঠিকভাবে কথাই গুছিয়ে বলতে পারে না, সেকিনা জিতে নিল ব্ল্যাক বেল্ট? সাদা ধবধবে পোশাকে জ্বলজ্বল করছে কালো বেল্ট। হাততালিতে ফেটে পড়ল সারা হল।
মা পল্লী দাস জানালেন, মাত্র আড়াই বছর বয়সেই ফ্লোরাকে ভরতি করিয়ে দিই চাঁপাডালি যুবক সঙ্ঘ ক্লাবের ক্যারাটে ক্লাসে। এগারো বছরের দিদি আদৃতাও সেখানে ক্যারাটে শেখে। মাত্র পাঁচ বছরেই দক্ষতার শিখরে পৌঁছে গেছে দু-বোন। তবে, ফ্লোরার প্রতিভা বিস্ময়কর!
কিন্তু মা বলেন, বড্ড মুশকিল হয়েছে ফ্লোরাকে নিয়ে। সারাক্ষণই ও শ্যাডো করছে। হাত-পা চালাচ্ছে। যাকে সামনে পায়— দিদি, বাবা-মা যেই হোক। এ তো দেখছি এক নতুন উপদ্রব! বাধ্য হয়ে মা পল্লী দেবী করলেন কী, বিছানার ওপর দুটো বালিশ ঝুলিয়ে দিলেন। ‘নে, এবার ইচ্ছেমতো ডিসুম, ডুসুম চালা।’ ফ্লোরাও মজা পেয়ে গেল। বালিশের ওপরই চলল তার কারিকুরি।
সাঁতরাগাছি ‘আর্ট অব লাইফ’-এর সম্পাদিকা মৌসুমী মজুমদার বলেন, মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে ফ্লোরা সারাদেশের রোল মডেল হয়ে উঠছে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন