অগ্নিকুমার আচার্য
হ্যাঁ, খুদে বিজ্ঞানীই বটে। খুদে বিজ্ঞানী আবার কী আবিষ্কার করবে! হ্যাঁ, করে দেখিয়ে দিয়েছে। তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে।
এও সম্ভব?
নিশ্চয়ই সম্ভব। সেকাহিনিই বলছি। কে এই খুদে বিজ্ঞানী? নাম তার দিগন্তিকা। মাত্র ক্লাশ নাইনে পড়ে। বাড়ি ওর পশ্চিমবঙ্গের মেমারির সুলতানপুরে।
আরও ছোটোবেলা থেকেই বিজ্ঞানের মডেল বানাবার শখ।
একবার সেগেছিল সুন্দরবন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে।
সেখানে সেশুনল মউলদের দুঃখের কাহিনি।
মউল! ওরা আবার কারা?

দিগন্তিকা বসু
সুন্দরবনের জঙ্গলে যারা মধু সংগ্রহ করতে যায়, তাদের বলে মউল। সুন্দরবনের জঙ্গলে প্রচুর মৌচাক হয় গাছে গাছে। সেই মৌচাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করে মউলরা।
তা, ওদের আবার দুঃখের কাহিনি কী?
দুঃখ। খুব দুঃখ। মধুর লোভে কত কত পুরষ প্রাণ বিসর্জন দেয়। কেন? বাঘের কামড়ে। যে-সেবাঘ নয়! রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সাংঘাতিক হিংস্র বাঘ। প্রচুর মৌচাক যেমন, বাঘও তেমন প্রচুর সুন্দরবনে।
দিগন্তিকা শুনল মউলদের দুঃখের কথাগুলি।
এই বাঘেরা ভারি বজ্জাত। নি:শব্দে, চুপিচুপি এসে মউলদের ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, পেছন দিক থেকে। ঘুণাক্ষরেও টের পায় না মউলরা। পেছনটা তো আর দেখা যায় না। সহজেই বাঘমামা ঘাড়ে এসে পড়ে। আর চোখের পলকে শিকার নিয়ে বনের গভীরে উধাও। বাঘের টিকিটিও আর কেউ দেখতে পায় না। বেঘোরে প্রাণ যায় মউলদের।
দিগন্তিকার চোখ ছলছল করে। আহা-হা, ওদের কি বঁাচাবার কোনো পথ নেই? প্রশ্ন জাগে দিগন্তিকার মনে।
পেছনের দিকটা যদি মানুষ দেখতে পেত, তাহলে তো পালাতে পারত?
বাড়ি ফেরে দিগন্তিকা। কী করে বঁাচানো যায় মউলদের। কীভাবে পেছন দিকটা দেখতে পাবে?
দিনরাত ভাবনায় ডুবে যায় দিগন্তিকা।
অবশেষে সাফল্যের দুয়ার খুলে গেল দিগন্তিকার সামনে। আবিষ্কার করে ফেলল এক বিশেষ চশমা। যে চশমা চোখে দিলে পেছন দিকটাও চোখে ভেসে ওঠে।
আশ্চর্য আবিষ্কার! অভাবনীয় সাফল্য খুদে বিজ্ঞানীর। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই লোকে লোকারণ্য দিগন্তিকার বাড়ি। সবাই দেখতে চায় এই খুদে বিজ্ঞানীকে। অভিনন্দন জানাতে চায়। কে-না আছেন এই তালিকায়।
মেমারির আর এস বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের স্কুলের ছাত্রীর এই বিস্ময়কর কান্ডে গর্বিত। নানা বিজ্ঞান মঞ্চ, বিড়লা তারামন্ডল কতৃপক্ষ, রাজ্য সরকার সকলেই পুরস্কৃত করেছেন দিগন্তিকাকে।
কীভাবে দিগন্তিকা ঘটাল এই অঘটন!
অন্য কিছু নয়, আলোকের প্রতিফলন সূত্রের ওপর নির্ভর করে তার এই আবিষ্কার।
শুধু কি চশমা!
দিগন্তিকা একই সঙ্গে বানিয়ে ফেলেছে নতুন ধরনের জুতো। পেছনে মৃত্যুদূত বাঘকে দেখতে পেলেই তরতরিয়ে উঁচু গাছে যে চড়ে বসতে হবে, নইলে তো সেই হিংস্র মামার পেটেই যেতে হবে!
এবার থেকে মউলিরা দিগন্তিকার আবিষ্কৃত চশমা চোখে লাগিয়ে, পায়ে দিগন্তিকার বানানো বিশেষ জুতো পরে মধু সংগ্রহ করতে যাবে সুন্দরবনে।
পাখিরালয়ের বিধবাপাড়ার বিধবাদের সংখ্যা আর বাড়বে না দিগন্তিকার দৌলতে।
এরই মধ্যে, দিগন্তিকার এই আবিষ্কারের বস্তুগুলি দেখানো হচ্ছে স্কুলে স্কুলে। ছাত্র-ছাত্রীরা উদবুদ্ধ হবে।
ধন্য দিগন্তিকা!
ধন্য তোমার সাধনা!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন