অগ্নিকুমার আচার্য
জিরো থেকে হিরোই বটে।
কনস্টেবল থেকে আইপিএস অফিসার।
কে এই অসাধ্যসাধন করল! কীভাবে?
গল্পটা শোনাই যাক।
নাম তার মনোজকুমার। মনোজকুমার রাওয়াত।
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর শহর। খানিকটা দূরে শ্যামপুরা গ্রাম।
বাবা প্রাইমারি টিচার। দলিত শ্রেণির বলে মনোজরা সমাজে খুব একটা কল্কে পায় না। তাই মনোজের জেদ-সমাজে কেউকেটা হওয়ার।
গ্রামের ছেলে। বয়েস মাত্র উনিশ। ২০০৮ সাল। পরীক্ষা দিয়ে জুটে গেল কনস্টেবলের চাকরি। গরিব পরিবার। পরিবারের লোকসংখ্যাও কম নয়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে মনোজকুমার দ্বিতীয়।
বাবাকে সাহায্য করতে হবে। কনস্টেবলের চাকরিই সই। ইচ্ছে না থাকলেও জয়েন করে। ক-টা টাকা তো ঘরে আসবে। কিন্তু আসল ইচ্ছেটা মনোজের মন থেকে মরে যায়নি।

মনোজকুমার রাওয়াত
পাঁচ বছর পরের কথা। মনোজের ছোটো ভাইও পেয়ে গেল কনস্টেবলের চাকরি। পরিবারের দারিদ্র্য প্রায় ঘুচে গেল।
ব্যস। আর যায় কোথা! দুম করে চাকরিটা ছেড়ে দিল মনোজ? কী সব্বোনেশে কান্ড! সরকারি চাকরি এ ভাবে কেউ ছাড়ে। ছেলেটা পাগল নাকি? পড়শিরা বিস্মিত। পরিবারের লোকজনও অখুশি। মনোজের হলটা কী?
মনোজ অটল স্থির। কোনো অপ্রিয় মন্তব্যই গায়ে মাখে না। তার স্বপ্ন বড়ো অফিসার হবে। শুরু করে পড়াশুনো। দিনরাত। বিরামহীন, অবশ্য পরীক্ষা দিয়ে এরই মধ্যে কেরানি, সহকারি কমাণ্ডান্টের চাকরি ঝুলিতে এসেছিল তার। কিন্তু সেঝুলি ঝেড়ে ফেলে দিয়েছে। লক্ষ্য তার আইপিএস অফিসার হওয়া।
একদিনের কনস্টেবল আইপিএস-এর স্বপ্ন দেখে। আকাশকুসুম নয় তো! কিন্তু দমবার পাত্র নয় মনোজকুমার।
পড়া আর পড়া। বইয়ের জগতের বাইরে আর কিছু নেই মনোজের। পাখির চোখ তার ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা। বামন হয়ে আকাশের চাঁদ ধরা নয় তো?
না। ২০১৭ সাল।
সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসল মনোজকুমার। প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, পরে মৌখিক। ইউপিএসসি-র পরীক্ষা। চাট্টিখানি কথা নয়। লক্ষ লক্ষ মেধাবী পরীক্ষার্থী সারাদেশের।
বেরোল ফল। সসম্মানে উত্তীর্ণ মনোজকুমার। মেধা তালিকায় ৮২৫ নম্বরে। অর্থাৎ আইপিএস।
একদিনের বড়ো সাহেবদের সেলাম ঠোকা কনস্টেবল। আজ সেলাম পাবে, অধস্তন কনস্টেবল থেকে অধস্তন পুলিশ অফিসারদের থেকেও।
গাঁয়ের লোক ভেঙে পড়ে দলিত মনোজকুমারকে দেখতে। এ যে জলে ভাসে শিলা! ছেলেটার জেদ আছে বটে! করে দেখাল!
মনোজকুমার বলে, ‘ছোটোবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বড়ো অফিসার হব। তাই কনস্টেবলের চাকরিটা পেয়েও অবহেলায় ছেড়ে দিয়েছি। আজ যদি আমার স্বপ্ন না থাকত, তাহলে কনস্টেবল হয়েই স্যালুট আর লাঠি সম্বল করে জীবনটা কাটিয়ে দিতে হত!’
মনোজের চোখেমুখে প্রশান্তি-উজ্জ্বলতা। আজ সেসত্যিই জিরো থেকে হিরো।
চেষ্টা আর উদ্যম। স্বপ্ন, আর বড়ো হবার আশা। সঙ্গে পরিশ্রম। এগুলোই হল জীবনে সফল হওয়ার চাবিকাঠি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন