আটবার এভারেস্টের মাথায় পা: লাখপা শেরপা

অগ্নিকুমার আচার্য

এক বার, দু-বার নয়। পরপর আট বার। এক মহিলা আরোহণ করলেন এভারেস্টের চূড়োয়। তাও, যে-সেমহিলা নন! তিন সন্তানের জননী!

সত্যি, বড়োই আশ্চর্যজনক ঘটনা! একবার এভারেস্ট বিজয় করাই কত কষ্টসাধ্য! কত অভিযাত্রী বিফল হয়ে ফিরে এসেছেন। কেউ কেউ আবার তুষার ঝড়ে প্রাণখানিও রেখে এসেছেন হিমালয়ে।

কিন্তু, আট বার এভারেস্ট বিজয়! কে ইনি?

তাঁর নাম— লাখপা শেরপা। বিবাহিতা। আবার তিন সন্তানের মা! তরুণী-যুবতী নন। বয়েস এখন ৪৪।

এই বয়সে এভারেস্টের সু-উচ্চ চূড়ায় আরোহণ? ভাবা যায় না। কিন্তু এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন নেপালের মহিলা লাখপা।

রেকর্ডের পর রেকর্ড! এর আগে ৭ বার এভারেস্ট জয় করে রেকর্ড গড়েছিলেন লাখপা। এবার অষ্টমবার এভারেস্টের চূড়ায় উঠে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙলেন।

২০১৮-র এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে অষ্টমবারের পর্বতারোহণের যাত্রা শুরু। পরের মাসের এক রবিবারে সকাল ৬.৩৫ মিনিট নাগাদ তিনি পৌঁছেছেন সামিট পয়েন্টে।

লাখপা শেরপা

লাখপার আগের সাতবারের সাফল্যের ইতিহাসও বড়োই চমকপ্রদ।

বিবাহিতা পর্বতারোহীর প্রথম মেয়ের জন্মের আট মাসের মাথায় তিনি প্রথমবার এভারেস্ট বিজয় করেন। তখন তিনি কিন্তু ছিলেন সন্তানসম্ভবা। দু-মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই শরীর নিয়েই এভারেস্টের পথে যাত্রা! এ-রকম দুঃসাহস ক-জনে দেখাতে পারে? সত্যি, তুলনাহীন।

লাখপা নেপালি। নেপালি মহিলারা যে কত সাহসী, কত কষ্টসহিষ্ণু তা বিশ্বের মহিলাদের কাছে তুলে ধরতে লাখপা বারবার এভারেস্টের সুউচ্চ শৃঙ্গে সাফল্যের সঙ্গে আরোহণ করেন।

সবচেয়ে আশ্চর্য, লাখপার কোনো ট্রেনিং ছিল না। আজকাল পর্বতারোহীদের জন্য ট্রেনিং স্কুল রয়েছে। যে স্কুলে পর্বতারোহণের জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল শেখানো হয়। কিন্তু লাখপা, একে তিন সন্তানের মা, বয়সও অনেক বেশি, তদুপরি ওর কোনো ট্রেনিং নেই। এই তিনটি বিষয়ে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লাখপা অনায়াসে আট বার এভারেস্ট জয় করে দেখালেন, অধ্যবসায় উদ্যম ও সাহস থাকলে অসাধ্যও সাধন করা যায়।

লাখপা জানান, তাঁর মনের জোরে কোনো ঘাটতি ছিল না। এখনও তাঁর যথেষ্ট মনের জোর। লাখপার ইচ্ছে, তিনি দশবার এভারেস্ট জয় করবেন, তারপর বিশ্রাম।

বিশ্বের তামাম পর্বতারোহীদের কাছে লাখপা এক উজ্জ্বল প্রেরণা। মেয়েরাও যে তেনজিং নোরগের ও এডমণ্ড হিলারিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন, তার প্রমাণ রাখলেন লাখপা।

লাখপার দুরন্ত সাফল্য দেখে, মেয়েরা সগর্বে বলবে— আমরাও পারি। আমরাও পুরুষদের থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।

সকল অধ্যায়
১.
দুঃসাহসী নাদিয়ার বিস্ময়কর লড়াই
২.
অদম্য দিব্যাঙ্গ অরুণিমা
৩.
ক্ষুধার্তের সেবক
৪.
শিক্ষার প্রেরণা তুরতুকের রহিমা
৫.
জঙ্গিদের যম এক মেয়ে: সুহাই আজিজ
৬.
প্রতিবন্ধীদের মরমী বন্ধু
৭.
অর্জুন-এর মানবিক মুখ
৮.
পুষ্পাকুমারীর দুঃসাহস
৯.
ছোট্ট ক্রাশনার বিস্ময়কর সৃষ্টি
১০.
সাপ সংরক্ষণের এক আশ্চর্য কাহিনি
১১.
ক্ষুধার্তের ত্রাতা: ভিশভ মেহতা
১২.
সততার জয়: বিশাল উপাধ্যায়
১৩.
অর্পণের ক্যান্সার জয়
১৪.
ভূতের বিরুদ্ধে অভিযান: রামা নায়ডু
১৫.
প্রযুক্তিবিদ: ব্যাকবেঞ্চার প্রমিত
১৬.
মেধাবী স্পন্দনের দুরারোগ্য ব্যাধি জয়
১৭.
আলিশার সার্থক নামকরণ উৎসব
১৮.
দিনমজুরের এক আশ্চর্য কাহিনি: দিলীপ সাহানি
১৯.
দলিত মনোজকুমারের অসাধারণ কৃতিত্ব
২০.
শিশু পক্ষীবিজ্ঞানী জোসুয়া বসকো
২১.
দিব্যাঙ্গ রোহিতের অসাধারণ সাফল্য
২২.
বাড়ির আয়ার ভুজিয়া ব্যবসায়ী হওয়ার লড়াই
২৩.
ছাত্র চন্দ্রপ্রসাদ-এর নাসা পুরস্কার
২৪.
বাইক-অ্যাম্বুল্যান্স দাদা
২৫.
ঠিকে-ঝি আফসানের উচ্চশিক্ষালাভ
২৬.
শান্তির দূত মালালা-র লড়াই
২৭.
আইপিএস মঞ্জিতার স্বপ্ন পূরণ
২৮.
খুদে মহাকাশবিজ্ঞানী রিফাৎ
২৯.
তিন কিশোরের নতুন ঠান্ডা পানীয় আবিষ্কার
৩০.
তরুণী মাইলসের লিভারদান
৩১.
তিন বছরের তিরন্দাজ সঞ্জনা
৩২.
শিশু ব্ল্যাক বেল্ট ফ্লোরা
৩৩.
সাহসিনী ছাত্রী সুস্মিতা
৩৪.
অবিস্মরণীয় ঈশ্বর
৩৫.
দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত তুহিনের সংগ্রাম
৩৬.
বিস্ময় বালক নির্ভয়
৩৭.
ক্ষুদে বিজ্ঞানী দিগন্তিকা-র আবিষ্কার
৩৮.
সায়নীর বিশ্ববিজয়
৩৯.
আটবার এভারেস্টের মাথায় পা: লাখপা শেরপা
৪০.
৯৭ বছরে এমএ পাশ
৪১.
পণের বিরুদ্ধে চুমকির লড়াই
৪২.
ছোট্ট মেয়ের স্বচ্ছতা অভিযান
৪৩.
সবুজ যোদ্ধা যোগানাথন
৪৪.
অভিজিৎ-এর ভয়ংকর মারণ রোগ জয়
৪৫.
পথশিশুদের ত্রাতা প্যাট্রিক
৪৬.
সর্ব কনিষ্ঠ রোবট বিজ্ঞানী
৪৭.
নাচের ছন্দে দিব্যাঙ্গ গেইজেল
৪৮.
ভিক্ষুক জালালউদ্দিনের ফ্রি স্কুল গড়ার লড়াই
৪৯.
দৃষ্টিহীন প্রাঞ্জল-এর অসাধারণ সাফল্য
৫০.
অরণ্যের ঈশ্বর: স্বপন দেববর্মা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%