নাচের ছন্দে দিব্যাঙ্গ গেইজেল

অগ্নিকুমার আচার্য

জন্ম থেকেই মেয়েটি প্রতিবন্ধী। দেহের গঠন অদ্ভুত। অস্বাভাবিক। শিরদাঁড়া বঁাকা। ঘাড় ছোটো।

জন্মের পর থেকেই নিত্যসঙ্গী শ্বাসকষ্ট! বাবা-মার মন খুব খারাপ! এই মেয়ে কি বঁাচবে? পারবে দশজন সুস্থ মানুষের মতো বেড়ে উঠতে?

ডাক্তারদের কাছে ছোটেন বাবা-মা।

নিউইয়র্কে কত উন্নত চিকিৎসা! কত বড়ো বড়ো সব ডাক্তার!

মেয়েটির বাড়িও যে নিউইয়র্কে। বাবা-মা নিউইয়র্কের বাসিন্দা। মেয়ে প্রতিবন্ধী হলেও নাম তো রাখতেই হয়!

নাম রাখা হল তার— তিফফানি গেইজেল।

ডাক্তারবাবুরা অনেক পরীক্ষানিরীক্ষা করলেন। ওষুধপত্তরও দিলেন। কিন্তু বাবা-মাকে খুব একটা আশার আলো দেখাতে পারলেন না।

তিফফানি গেইজেল

কিন্তু আজকাল তো অনেক দিব্যাঙ্গ ছেলে-মেয়েরা দিব্যি দৌড়ঝাঁপ করছে। খেলাধুলো করছে। লেখাপড়া তো করছেই। এরকম দিব্যাঙ্গের সংখ্যা তো কম নয় সারা বিশ্বে! গেইজেলও কি পারবে না?

সারা শরীরে ব্যথা, ঘাড়, শরীর নড়াচড়া করাও খুবই কষ্টকর। কিন্তু ছোটোবেলা থেকেই গেইজেলের নাচের দিকে বড়ো ঝোঁক। সেনাচ খুব ভালোবাসে। সেনাচতে চায়। কিন্তু চাইলে কী হবে, গেইজেলের শরীর যে বাদ সাধে। তবুও গেইজেল পিছু হটতে রাজি নয়। তার স্বপ্ন— সেনৃত্যশিল্পী হবে। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গেইজেল।

গেইজেলের জেদ দেখে বাবা-মা তাকে তিন বছর বয়সেই নাচের স্কুলে ভরতি করিয়ে দেন। গেইজেল নাচ শিখতে শুরু করে। কিন্তু শরীরে যে বেশ কষ্ট হয়। অসুবিধা হয় শরীর বঁাকাতে। তার শারীরিক গঠন যে নাচের জন্য উপযুক্ত নয়।

কিন্তু থামতে চায় না গেইজেল। বাবা-মাও মেয়েকে উৎসাহ দিতে থাকেন। তুমি পারবে গেইজেল, তুমি পারবে!

গেইজেল মনে জোর পায়। আমল দেয় না শারীরিক কষ্টকে। চালাতে থাকে নৃত্যশিক্ষা।

তিন দশক ধরে বিরামহীন নাচ। সপ্তাহে ষোলো ঘণ্টা নাচের তালিম। শরীর আর বাধা দেয় না। নৃত্য শিক্ষিকারা খুশি। দারুণ নাচছে গেইজেল।

এবার পেশাদার শিল্পীর তালিকায় নাম উঠল গেইজেলের। মঞ্চে, টেলিভিশনে, ব্যালে, ট্যাপ, জ্যাজ, মালসা প্রভৃতি পাশ্চাত্য নাচের একজন বিখ্যাত পেশাদার শিল্পী হয়ে ওঠেন গেইজেল। এমনকী, ভারতের বলিউডের গানের সঙ্গেও অসাধারণ নৃত্য প্রদর্শন করেন গেইজেল।

আজ গেইজেল একজন জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে একজন সুদক্ষ নৃত্যশিল্পীও যে হওয়া যায়— তা-ই করে দেখালেন তিফফানি গেইজেল।

দিব্যাঙ্গজনের কাছে গেইজেল তাই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গেইজেল এখন পরিকল্পনা করছেন, নাচের একটা ভালো স্টুডিয়ো খুলবেন।

মনের জোর, আর অধ্যবসায়— এই দুই মানসিক শক্তি থাকলে মানুষ অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে।

সকল অধ্যায়
১.
দুঃসাহসী নাদিয়ার বিস্ময়কর লড়াই
২.
অদম্য দিব্যাঙ্গ অরুণিমা
৩.
ক্ষুধার্তের সেবক
৪.
শিক্ষার প্রেরণা তুরতুকের রহিমা
৫.
জঙ্গিদের যম এক মেয়ে: সুহাই আজিজ
৬.
প্রতিবন্ধীদের মরমী বন্ধু
৭.
অর্জুন-এর মানবিক মুখ
৮.
পুষ্পাকুমারীর দুঃসাহস
৯.
ছোট্ট ক্রাশনার বিস্ময়কর সৃষ্টি
১০.
সাপ সংরক্ষণের এক আশ্চর্য কাহিনি
১১.
ক্ষুধার্তের ত্রাতা: ভিশভ মেহতা
১২.
সততার জয়: বিশাল উপাধ্যায়
১৩.
অর্পণের ক্যান্সার জয়
১৪.
ভূতের বিরুদ্ধে অভিযান: রামা নায়ডু
১৫.
প্রযুক্তিবিদ: ব্যাকবেঞ্চার প্রমিত
১৬.
মেধাবী স্পন্দনের দুরারোগ্য ব্যাধি জয়
১৭.
আলিশার সার্থক নামকরণ উৎসব
১৮.
দিনমজুরের এক আশ্চর্য কাহিনি: দিলীপ সাহানি
১৯.
দলিত মনোজকুমারের অসাধারণ কৃতিত্ব
২০.
শিশু পক্ষীবিজ্ঞানী জোসুয়া বসকো
২১.
দিব্যাঙ্গ রোহিতের অসাধারণ সাফল্য
২২.
বাড়ির আয়ার ভুজিয়া ব্যবসায়ী হওয়ার লড়াই
২৩.
ছাত্র চন্দ্রপ্রসাদ-এর নাসা পুরস্কার
২৪.
বাইক-অ্যাম্বুল্যান্স দাদা
২৫.
ঠিকে-ঝি আফসানের উচ্চশিক্ষালাভ
২৬.
শান্তির দূত মালালা-র লড়াই
২৭.
আইপিএস মঞ্জিতার স্বপ্ন পূরণ
২৮.
খুদে মহাকাশবিজ্ঞানী রিফাৎ
২৯.
তিন কিশোরের নতুন ঠান্ডা পানীয় আবিষ্কার
৩০.
তরুণী মাইলসের লিভারদান
৩১.
তিন বছরের তিরন্দাজ সঞ্জনা
৩২.
শিশু ব্ল্যাক বেল্ট ফ্লোরা
৩৩.
সাহসিনী ছাত্রী সুস্মিতা
৩৪.
অবিস্মরণীয় ঈশ্বর
৩৫.
দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত তুহিনের সংগ্রাম
৩৬.
বিস্ময় বালক নির্ভয়
৩৭.
ক্ষুদে বিজ্ঞানী দিগন্তিকা-র আবিষ্কার
৩৮.
সায়নীর বিশ্ববিজয়
৩৯.
আটবার এভারেস্টের মাথায় পা: লাখপা শেরপা
৪০.
৯৭ বছরে এমএ পাশ
৪১.
পণের বিরুদ্ধে চুমকির লড়াই
৪২.
ছোট্ট মেয়ের স্বচ্ছতা অভিযান
৪৩.
সবুজ যোদ্ধা যোগানাথন
৪৪.
অভিজিৎ-এর ভয়ংকর মারণ রোগ জয়
৪৫.
পথশিশুদের ত্রাতা প্যাট্রিক
৪৬.
সর্ব কনিষ্ঠ রোবট বিজ্ঞানী
৪৭.
নাচের ছন্দে দিব্যাঙ্গ গেইজেল
৪৮.
ভিক্ষুক জালালউদ্দিনের ফ্রি স্কুল গড়ার লড়াই
৪৯.
দৃষ্টিহীন প্রাঞ্জল-এর অসাধারণ সাফল্য
৫০.
অরণ্যের ঈশ্বর: স্বপন দেববর্মা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%