বিস্ময় বালক নির্ভয়

অগ্নিকুমার আচার্য

সেএক অবাক কান্ড!

এক অত্যাশ্চর্য প্রতিভা।

মাত্র পনেরো বছর বয়সেই ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক! কে এমন প্রতিভাধর?

নাম তার নির্ভয় টক্কর। গুজরাটের জামনগরের ছাত্র।

শৈশব থেকেই নির্ভয় আর পাঁচটা ছেলের মতো ছিল না।

ঘরে কম্পিউটার ছিল। নির্ভয় যখন দু-আড়াই বছরের তখন থেকেই কম্পিউটার তার সঙ্গী। দিনরাত কম্পিউটার চালনা। দেখতে দেখতে, সেতিন বছর বয়সেই কম্পিউটারে পাকা।

নির্ভয় টক্কর

বাবা দভল টক্করও একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বুঝতে পারলেন ছেলের ভেতর বিরল প্রতিভা লুকিয়ে আছে। তিনি নানা ধরনের অজানা জগতের বই এনে দেন ছেলেকে। শুধু পাঠ্য বই নয়। হরেক রকমের জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই।

নির্ভয়ের এসব বইয়ে খুব উৎসাহ।

কিন্তু হলে কী হবে! লোয়ার কেজির ছাত্র নির্ভয়কে যে মাস্টারমশাইরা ‘ব্যাড বয়’ বলেন। পড়াশুনোয় সেনাকি মোটেই ছাত্র হিসেবে ভালো নয়।

অবশ্য ক্লাস সেভেন পর্যন্ত নির্ভয় সাধারণ মানের ছাত্রই ছিল।

কিন্তু তারপর থেকেই কোনো যাদু মন্ত্র বলে স্কুলের পড়াশুনোয় চমক দেখাতে লাগল।

ক্লাস এইট থেকে টেন। তিন বছরের কোর্স, ছ-মাসে শেষ।

আরও বিস্ময়। পরের তিন মাসে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিও উত্তীর্ণ। কীভাবে?

গুজরাটে তো এত কম বয়সে মাধ্যমিক দ্বাদশ পরীক্ষায় বসার অনুমতি মেলে না। তাই বাধ্য হয়ে সেআন্তর্জাতিক পরীক্ষা কেন্দ্রের দ্বারস্থ হল। কেমব্রিজ আন্তর্জাতিক পরীক্ষা সংস্থা থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ছাড়পত্র পেল।

এবার আর ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভরতির বাধা রইল না। শুধু তাকে এন্ট্রান্স পরীক্ষাগুলি উতরোতে হবে।

কোনো অসুবিধে হল না নির্ভয়-এর।

সেযথারীতি দুটো জয়েন্ট পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে পাশ করল। অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন আর অ্যাডমিশন কমিটি ফর প্রফেশনাল কোর্স। দুটোতেই ছাড়পত্র মিলল।

নির্ভয় ভরতি হল এসএএল কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এ।

এখানেও আরেক চমক!

পাঁচ বছরের ডিগ্রি কোর্স মাত্র দেড়বছরেই শেষ! সাফল্যের সঙ্গে বিএ পাশ।

দেশের সবচেয়ে কমবয়সি ইঞ্জিনিয়ার হলেন নির্ভয়। তখন তার বয়েস মাত্র পনেরো। অর্থাৎ যে বয়সে অন্যেরা নাইন-টেন-এ পড়ে।

কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. রূপেশ ভাসানি জানালেন, নির্ভয়ের জন্য বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিশেষ সিলেবাসের মাধ্যমে আলাদা ন-ঘণ্টা ক্লাশের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। পৃথকভাবে চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলি নিতে হয়েছিল। ওর সঙ্গে আমরা আর তাল মিলিয়ে চলতে পারছিলাম না। এত দ্রুততার সঙ্গে সেসব পাঠ আয়ত্ত করে ফেলত।

বাবা দভল টক্কর ছেলের পেছনে সময় দিতে চাকরিই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, একসময় আমার ছেলেকে স্যাররা ‘খারাপ ছাত্র’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। বাবা মনে করেন, কোনো ছাত্রই খারাপ হয় না। প্রত্যেকের ভেতরে যে প্রতিভা আছে, সেটাকে বের করে আনাই শিক্ষার কাজ।

বাবা, ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে দারুণ খুশি। মা ডাক্তার। তিনি তো খুশি হবেনই।

নির্ভয় তামাম ছাত্র-ছাত্রীর কাছে এক উজ্জ্বল প্রেরণা।

সকল অধ্যায়
১.
দুঃসাহসী নাদিয়ার বিস্ময়কর লড়াই
২.
অদম্য দিব্যাঙ্গ অরুণিমা
৩.
ক্ষুধার্তের সেবক
৪.
শিক্ষার প্রেরণা তুরতুকের রহিমা
৫.
জঙ্গিদের যম এক মেয়ে: সুহাই আজিজ
৬.
প্রতিবন্ধীদের মরমী বন্ধু
৭.
অর্জুন-এর মানবিক মুখ
৮.
পুষ্পাকুমারীর দুঃসাহস
৯.
ছোট্ট ক্রাশনার বিস্ময়কর সৃষ্টি
১০.
সাপ সংরক্ষণের এক আশ্চর্য কাহিনি
১১.
ক্ষুধার্তের ত্রাতা: ভিশভ মেহতা
১২.
সততার জয়: বিশাল উপাধ্যায়
১৩.
অর্পণের ক্যান্সার জয়
১৪.
ভূতের বিরুদ্ধে অভিযান: রামা নায়ডু
১৫.
প্রযুক্তিবিদ: ব্যাকবেঞ্চার প্রমিত
১৬.
মেধাবী স্পন্দনের দুরারোগ্য ব্যাধি জয়
১৭.
আলিশার সার্থক নামকরণ উৎসব
১৮.
দিনমজুরের এক আশ্চর্য কাহিনি: দিলীপ সাহানি
১৯.
দলিত মনোজকুমারের অসাধারণ কৃতিত্ব
২০.
শিশু পক্ষীবিজ্ঞানী জোসুয়া বসকো
২১.
দিব্যাঙ্গ রোহিতের অসাধারণ সাফল্য
২২.
বাড়ির আয়ার ভুজিয়া ব্যবসায়ী হওয়ার লড়াই
২৩.
ছাত্র চন্দ্রপ্রসাদ-এর নাসা পুরস্কার
২৪.
বাইক-অ্যাম্বুল্যান্স দাদা
২৫.
ঠিকে-ঝি আফসানের উচ্চশিক্ষালাভ
২৬.
শান্তির দূত মালালা-র লড়াই
২৭.
আইপিএস মঞ্জিতার স্বপ্ন পূরণ
২৮.
খুদে মহাকাশবিজ্ঞানী রিফাৎ
২৯.
তিন কিশোরের নতুন ঠান্ডা পানীয় আবিষ্কার
৩০.
তরুণী মাইলসের লিভারদান
৩১.
তিন বছরের তিরন্দাজ সঞ্জনা
৩২.
শিশু ব্ল্যাক বেল্ট ফ্লোরা
৩৩.
সাহসিনী ছাত্রী সুস্মিতা
৩৪.
অবিস্মরণীয় ঈশ্বর
৩৫.
দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত তুহিনের সংগ্রাম
৩৬.
বিস্ময় বালক নির্ভয়
৩৭.
ক্ষুদে বিজ্ঞানী দিগন্তিকা-র আবিষ্কার
৩৮.
সায়নীর বিশ্ববিজয়
৩৯.
আটবার এভারেস্টের মাথায় পা: লাখপা শেরপা
৪০.
৯৭ বছরে এমএ পাশ
৪১.
পণের বিরুদ্ধে চুমকির লড়াই
৪২.
ছোট্ট মেয়ের স্বচ্ছতা অভিযান
৪৩.
সবুজ যোদ্ধা যোগানাথন
৪৪.
অভিজিৎ-এর ভয়ংকর মারণ রোগ জয়
৪৫.
পথশিশুদের ত্রাতা প্যাট্রিক
৪৬.
সর্ব কনিষ্ঠ রোবট বিজ্ঞানী
৪৭.
নাচের ছন্দে দিব্যাঙ্গ গেইজেল
৪৮.
ভিক্ষুক জালালউদ্দিনের ফ্রি স্কুল গড়ার লড়াই
৪৯.
দৃষ্টিহীন প্রাঞ্জল-এর অসাধারণ সাফল্য
৫০.
অরণ্যের ঈশ্বর: স্বপন দেববর্মা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%