অগ্নিকুমার আচার্য
এক অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কাশ্মীরের এক ছোট্ট মেয়ে। বয়েস মাত্র পাঁচ। কী সেদৃষ্টান্ত? সেঘটনাই বলছি।
কাশ্মীরে রয়েছে ডাল লেক। যা ভূস্বর্গের অন্যতম আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে। সারা বিশ্বের পর্যটকরা ডাল লেকের নীল জলে ‘শিকারা’ বা ছোটো নৌকা করে ভ্রমণের মজা উপভোগ করেন।
এই ডাল লেকের অন্যতম আকর্ষণ হল ‘হাউস বোট’। লেকে ভাসমান বড়ো বড়ো নৌকা, যার মধ্যে থাকা-খাওয়ার যাবতীয় চমৎকার ব্যবস্থা। তাই পর্যটকরা হোটেলে না থেকে হাউস বোটেই থাকতে বেশি পছন্দ করেন। বহু কাশ্মীরি এই হাউস বোট ভাড়া দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন।

ডাল লেক পরিষ্কারে একরত্তি মেয়ে
এই হাউস বোটের সঙ্গে থাকে ‘শিকারা’ অর্থাৎ ছোটো নৌকা। পর্যটকরা শিকারা চড়ে ডাল লেকের জলে ঘুরে বেড়ান। এর মজাই আলাদা।
কিন্তু একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে ডাল লেকের জলে। অমন স্ফটিকের মতো টলটলে লেকের জলে জমতে থাকে আবর্জনার স্তূপ। পর্যটকরা খাবার ঠোঙা, প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল ইত্যাদি নানা বর্জ্য পদার্থ লেকের জলে ছুড়ে ফেলেন। হাউস বোট থেকেও আবর্জনা ছুড়ে ফেলা হয় লেকের জলে। এভাবে ক্রমশ ডাল লেক ঢেকে যায় আবর্জনায়। শিকারা চালাতে প্রচন্ড অসুবিধা হয়।
ডাল লেকের এই দুরবস্থা দেখে পাঁচ বছরের একরত্তি মেয়ের মনে ক্ষোভ জন্মায়। ছি: ছি:, এত আবর্জনা জমেছে ডাল লেকের নির্মল জলে! মেয়েটির সহ্য হয় না। সে-ও থাকে হাউস বোটে। পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে। তার বাবাও হাউস বোটের মালিক।
ছোট্ট মেয়েটি করল কী, তাদের শিকারায় চড়ে ডাল লেকের ওপর ভাসমান আবর্জনা সাফাই করতে লেগে গেল। তার এক হাতে বৈঠা, অন্য হাতে আবর্জনা সরানোর বঁাশের আঁকশি বা ছাঁকনি। তারপর শিকারা চালাতে চালাতে সাফ করতে লাগল জমা আবর্জনা। মেয়ের এই অবাক করা কান্ড দেখে তার বাবা, দাদা-দিদিরাও আর চুপ করে বসে থাকতে পারলেন না। তারাও এসে ওই ছোট্ট মেয়েটির পাশে দাঁড়াল। চলল, সাফাই অভিযান।
জম্মু-কাশ্মীর সরকারের পরিবেশ দপ্তর মাঝে মাঝে ডাল লেক সাফাই অভিযানে নামে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার যে-কে সেই। পর্যটকদের ভিড় তো লেগেই আছে। আর বর্জ্য পদার্থেও ভরে ওঠে লেকের জল। হাজার হাজার পর্যটকের কোনো হেলদোল নেই। লেকের জলের সৌন্দর্য রক্ষায় পর্যটকদের যেন কোনো দায় নেই।
তাই, ছোট্ট একরত্তি কাশ্মীরি মেয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সদিচ্ছা থাকলে মানুষ যেকোনো ভালো কাজই করতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। নজরে আসে দেশের প্রধানমন্ত্রীরও। তিনি ছোট্ট মেয়ের সাফাই অভিযানের দৃশ্য দেখে দারুণ খুশি। এক টুইট বার্তায় তিনি মেয়েটিকে প্রচুর ধন্যবাদ জানালেন।
মেয়েটির বাবা বললেন, ‘হ্যাঁ, আমার এই একরত্তি মেয়ের ছোটোবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতার দিকে সজাগ দৃষ্টি। কোনো নোংরা আবর্জনা তার অসহ্য। সঙ্গে সঙ্গেই সেপরিষ্কার করতে লেগে যায়।
কাশ্মীরের এই ছোট্ট মেয়ে যেন দেশের ছোটো-বড়ো সবাইকে ডেকে বলছে, সকলে আমার মতো হও। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘরবাড়ি চাই, পরিবেশ হোক ঝকঝকে তকতকে। দূষণ কমবে। স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
আসুন! আমরা সবাই এই পাঁচ বছরের মেয়ের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ওকে সম্মান জানাই। সকলে স্বচ্ছ ভারত গড়ে তুলি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন