অগ্নিকুমার আচার্য
নাম তার ক্রাশনা। পৃথিবীর কনিষ্ঠতম নাট্যকার দশ বছরের ক্রাশনা রাওয়াত। বাড়ি আমাদের দেশের রাজস্থানে। বয়স মাত্র দশ। এই বয়সেই পুরো নাটক লিখে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সারা বিশ্বকে। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম তুলে নিয়েছে ক্রাশনা পৃথিবীর কনিষ্ঠতম নাট্যকার হিসেবে।
এ-ও কি সম্ভব! মাত্র দশ বছরে নাট্যকার! কী করে সম্ভব! একরত্তি বয়সে দক্ষ নাট্যকার!
হ্যাঁ, অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে রাজস্থানের ছোট্ট মেয়ে ক্রাশনা। কী অবাক করা কান্ড তাই না?
আসলে, যে বয়সে ছেলেমেয়েরা ছুটোছুটি, খেলাধুলো করতে ভালোবাসে, ক্রাশনা কিন্তু সময় পেলেই বই পড়তে লেগে যায় নানারকম কল্পকাহিনি, গল্পের বই। কেমন করে ছোট্ট এই মেয়েটির মনে বই পড়ার এই নেশা জন্মাল— তা জানালেন ওর মা শ্রেয়া দেবী।
শ্রেয়া বললেন— জন্মের পর, যখন ক্রাশনা একটু একটু করে বড়ো হতে লাগল, তখন থেকেই কোলে বসিয়ে আমি ওকে রাজ্যের গল্প শোনাতাম। প্রতি রাতে একটা করে নতুন গল্প। তখন তার বয়স কতই-বা হবে। দু-তিন। গল্প পেলে আর কথা নেই। ও নাওয়া-খাওয়া ভুলে যেত। আর সবচেয়ে আশ্চর্য— যে গল্পটি সেএকবার শুনেছে, আর ভুলত না। গড়গড় করে বলে যেতে পারত। গল্প শোনার কী বিস্ময়কর তন্ময়তা!

ক্রাশনা রাওয়াত
এই গল্পপাগল ছোট্ট মেয়েটিকে শৈশব থেকেই বই পড়ার নেশায় পেয়ে বসল। কল্পকাহিনি, রোমাঞ্চকর নানা বই। হ্যারি পটার, পার্সি জ্যাকসন ওর সবচেয়ে প্রিয় দু-খানি বই। ক্রাশনা-র বন্ধুদের, বাড়ির বড়োদের কাছে আব্দার— জন্মদিনে অন্য কিছু উপহার চাই নে। শুধু চাই বই। তাই ক্রমশ জমতে জমতে ক্রাশনার সংগ্রহে বইয়ের সংখ্যা দাড়িয়েছে পাঁচ-শোর মতো, এই দশ বছর বয়সে। আরও তাজ্জব কান্ড এই পাঁচ-শো বই এরই মধ্যে সেপড়েও শেষ করে ফেলেছে।
কিন্তু নাটক লেখা! সেআবার কী করে ওর মনকে অধিকার করল!
ওর মা জানালেন, বই পড়তে পড়তেই নাটক লেখায় হাতেখড়ি। তখন সেমাত্র তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া। তখনই সেআস্ত একটা নাটক লিখে ফেলে। একটা কল্পকাহিনি ছিল নাটকটির বিষয়বস্তু। এবং নাটকের মুখ্য চরিত্রের নাম ছিল টিঙ্কল। এসব নামই তার পছন্দ।
নাটকের প্রাণ-দ্বন্দ্ব। এ বোধটি জন্মেছিল তার প্রথম নাটক লেখার সময়েই। চাট্টিখানি কথা নয়! তাই না?
মা-ঠাকমা-দাদুর কাছে গল্প শোনা, বই পড়া আর নাটক লেখা— এই তিন নেশা নিয়েই দশ বছরে পা দিল ছোট্ট ক্রাশনা। আর এই দশ বছর বয়সেই বিশ্বজয়!
নাটকের নাম— ‘দ্য লস্ট কি’— মানে হারানো চাবিটি। নামটিও কী আকর্ষণীয়! এই নাটকের নায়িকা টিঙ্কি। এক কল্পজগতের মেয়ে। কল্পনার রঙিন পাখায় ভর করে, ডানা মেলে টিঙ্কি উড়ে যায় পরির দেশে। একটা পরির সঙ্গে ভাব জমায় আর তার হারানো চাবিটি উদ্ধার করে। এই হল নাটকের মূল কথাবস্তু। নাটকটি ছিল দ্বন্দ্বময়।
স্কুলের পড়া-টড়া আছে তো! তবু এরই ফাঁকে ফাঁকে নাটক লেখা। ছ-মাস লেগেছিল নাটকটি শেষ করতে। বেশ লম্বা-চওড়া নাটক। অভিনয় করতে সময় লেগেছিল আশি মিনিট। হইহই করে বন্ধুরা মিলে শহরের বিড়লা অডিটরিয়ামে নাটকটি অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিল ক্রাশনা। যার পুরস্কারও মিলল হাতে হাতে। কনিষ্ঠতম নাট্যকার হিসেবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সম্মান। গিনেস বুকে নাম উঠল ক্রাশনার। কী গর্বের কথা! তাই না?
সিনেমা-টিনেমায় একদম রুচি নেই ক্রাশনার। তবে ‘টম অ্যাণ্ড জেরি’-জাতীয় কার্টুন বেশ মজা লাগে। কিন্তু ক্রাশনার ধ্যান-জ্ঞান এখন বই পড়া আর নাটক লেখা। সঙ্গে স্কুলের রেজাল্ট ভালো করা, স্কুলের পরীক্ষায় ভালো ফল করে মা-র হাত থেকে সেউপহার পেয়েছে ওর ভালোবাসার বই— দি উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ড অব হ্যারি পটার।
এখন ক্রাশনা পড়ছে রাজস্থানের ‘জয়শ্রী পেরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে’। ষষ্ঠ শ্রেণিতে।
নাট্যকার ক্রাশনা অবশ্যই দেশের গর্ব।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন