অগ্নিকুমার আচার্য
খুদে বিজ্ঞানীই বটে।
১৮ বছরের কিশোর যদি বিজ্ঞানীর তকমা পায়, তখন তো তাকে খুদে বিজ্ঞানীই বলা যায়। কে সে?
নাম তার রিফাৎ শারুক। আর তার সৃষ্টি করা চমকটি হল একটা কৃত্রিম উপগ্রহ।
খেলনা উপগ্রহ নয়। সত্যিকারের একটা উপগ্রহ। যা নাসা থেকে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে। বিশ্বাস হচ্ছে না বুঝি? তাহলে খুলেই বলছি।
ছোটোবেলা থেকেই রিফাতের বিজ্ঞানে ঝোঁক। ব্যাবসা সূত্রে তার বাবা ছিলেন কলকাতায়। তখন থেকেই রিফাৎ ছোটোখাটো বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি বানিয়ে বাবাকে দেখাতেন। বাবা মহম্মদ ফারুক ছেলেকে উৎসাহিত করতেন। বাবার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে পেয়ে রিফাৎ ছোটোবেলাতেই মহাকাশ গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠে।

রিফাৎ শারুক
এরই মধ্যে ২০১৬ সালে ‘নাসা’ এবং একটা বে-সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা মিলে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল— ‘কিউবস ইন স্পেস’। বিশ্ব প্রতিযোগিতা ছিল এটি। খুদে বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ ছিল।
নাসার তরফে জানা গেছে, ৫৭টি দেশের ৮৬ হাজার প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। প্রত্যেকে নিজ নিজ আবিষ্কারের নকশা জমা দিয়েছিল।
এবং সারাবিশ্বকে অবাক করে রিফাৎ প্রথম স্থান দখল করে নিল।
সত্যি এক অভাবনীয় কান্ড! কী ছিল রিফাতের আবিষ্কার? সেমাথা খাটিয়ে বানিয়েছিল একটা ছোট্ট কৃত্রিম উপগ্রহ। বিশ্বের সবচাইতে ছোটোই শুধু নয়, এই উপগ্রহের ওজনও ছিল সবচাইতে কম। মাত্র ৬৪ গ্রাম। দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছিল ৩.৮ সেন্টিমিটার।
তামিলনাড়ুর পালাপট্টির কিশোরের তৈরি খুদে উপগ্রহ সত্যি সত্যিই মহাকাশে পাড়ি দিল। নাসার ওয়ালপস স্পেস সেন্টার থেকে। সাউন্ডিং রকেটে চড়ে। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এ এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী ঘটনা। উপগ্রহটির নাম রেখেছিল—‘কালামস্যাট’। মহাকাশ বিজ্ঞানী ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এপিজে আবদুল কালাম-এর নামানুসারেই রিফাৎ তাঁর উপগ্রহের নামকরণ করেছিল। এই আনন্দের দিনে রিফাৎ স্মরণ করেন তার প্রয়াত পিতাকে— যাঁর আদর্শ, সহায়তা ও উৎসাহই তাকে প্রাণিত করেছে।
রিফাৎ-এর এই সাফল্য তো একদিনে আসেনি। এর আগে ২০১৫ সালে সেতার তৈরি হিলিয়াম বেলুন আকাশে উড়িয়েছিল কেলাবক্কম থেকে। তখনই সকলের নজর পড়ে এই কিশোর বিজ্ঞানীর দিকে। এই সাফল্যই তাকে উপগ্রহ তৈরির দিকে নিয়ে যায়।
অবশ্য রিফাৎ-এর সহযোগী চার বন্ধুও এই কাজে তাকে সহায়তা করেছে। এরা হল, তানিষ্ক দ্বিবেদী, বিনয় ভরদ্বাজ, ইয়াপ্পা সাই, মহম্মদ আবদুল কাসিফ। রিফাৎ এদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
নাসার বিজ্ঞানীরা রিফাৎ-এর সাফল্যকে যথেষ্ট বড়ো করে দেখছেন। তাঁরা বলেন, মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ইসরোর সাফল্য সারাবিশ্বের দরবারে স্বীকৃত। মাত্র বছর দুয়েকের মধ্যে মহাকাশ গবেষণায় ভারত একাধিক রেকর্ড গড়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রিফাৎ-এর তৈরি ন্যানো স্যাটেলাইট। নয়া প্রজন্মের মহাকাশ বিজ্ঞানসাধনা ভবিষ্যতে অবশ্যই এক নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে।
নাসার বিজ্ঞানীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে রিফাৎ-ও বলে, আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণায় আরও নতুন কিছু উদ্ভাবনের চেষ্টা করব।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন