অগ্নিকুমার আচার্য
নাম তার ঈশ্বর। ঈশ্বর শর্মা।
বয়স মাত্র আট। এই অল্প বয়সেই সেঅসাধ্যসাধন করেছে। যোগাসনে অসাধারণ দক্ষতার জন্য ঈশ্বর জিতে নিয়েছে বিশ্বখেতাব। ‘ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অব দ্য ইয়ার’। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে।
ঈশ্বর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের ছেলে। ব্রিটেনে কেন্টের সেন্ট মাইকেলস প্রিপারেটরি স্কুলের ছাত্র ঈশ্বর।
ব্রিটেনের ছাত্র হয়ে যোগার প্রতি এই ঝোঁক, এই নিষ্ঠা কীভাবে হল ঈশ্বরের? কারণ একটা নিশ্চয়ই আছে।
ঈশ্বরদের মূল বাড়ি মহীশূরে। ভারতে।
তোমাদের জানা আছে কি, মহীশূর যোগার জন্য বিখ্যাত। বড়ো বড়ো সব যোগাগুরুদের বাড়ি মহীশূরে। তাই, যে ছেলের আদি বাড়ি মহীশূরে, তার তো যোগাসনের প্রতি আকর্ষণ থাকবেই।

ঈশ্বর শর্মা
তবে আরেকটা বড়ো কারণ হল ঈশ্বরের বাবাও একজন অসামান্য যোগার সাধক। নাম তাঁর বিশ্বনাথ শর্মা। বহু ধরনের যোগাসনে তিনি সুদক্ষ। বৈদিক যোগা, হঠ যোগা, অ্যাক্রো যোগা, আর্টিস্টিক যোগা—সব ধরনের যোগাসনে বিশ্বনাথবাবু সিদ্ধহস্ত।
জন্মের পর থেকেই খুদে ঈশ্বর দেখে আসছে তার বাবাকে। বাবা ঘরে যোগাভ্যাস করেন। শিশু ঈশ্বর রোজ তা দেখে। স্বাভাবিকভাবেই শৈশব থেকেই ঈশ্বরের যোগার দিকে মন। বাবার দেখাদেখি ছেলেও যোগাসন করে। বাবাও উৎসাহ দেন। যোগাসনের নিয়মকানুন ছেলেকে শিখিয়ে দেন। ধীরে ধীরে ঈশ্বর যোগাসনে নিপুণ হয়ে ওঠে।
স্কুলে ঈশ্বর যোগাসন করে। স্কুলের মাস্টারমশাইরা ঈশ্বরকে খুব উৎসাহ দেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বলেন। ঈশ্বরও যোগাকে ধ্যানজ্ঞান করে ক্রমশ আরও দক্ষ হয়ে ওঠে।
শুনলে তোমরা অবাক হবে, এই আট বছর বয়সের মধ্যেই ঈশ্বর নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
গত জুন মাসে কানাডার ‘উইনপেগে’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল— ‘ওয়ার্ল্ড স্টুডেন্ট গেমস—২০১৮’। এগারো অনুর্দ্ধ জাতীয় যোগা প্রতিযোগিতা বিভাগে ঈশ্বর শ্রেষ্ঠ খেতাব জিতে নেয়। চাট্টিখানি কথা! মাত্র আট বছর বয়সে এই সম্মান! সত্যি— নামেও যেমন ঈশ্বর, যোগাতেও সেঈশ্বরই হয়ে উঠেছে। ‘ব্যক্তিগত যোগা’ ও ‘আর্টিস্টিক যোগা’ দু-বিভাগেই ঈশ্বর প্রথম।
ঈশ্বরের সাফল্য কিন্তু থেমে নেই। তার সাফল্যের মুকুটে নতুন নতুন পালক যুক্ত হয়েই চলেছে।
কিছুদিন আগে বার্মিংহামে আয়োজিত হয়েছিল এক যোগা প্রতিযোগিতা। সেই অনুষ্ঠানে ঈশ্বর ভূষিত হয়— ‘ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অব দ্য ইয়ার’।
এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।
বিরল সম্মানের অধিকারী হয়ে ঈশ্বর দারুণ খুশি। সেবলেছে, অন্য কোনো প্রতিযোগীর দিকে সেতাকায় না। তার লক্ষ্য একমাত্র নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। সেআরও বলে, যোগাসন তার রক্তে, শৈশবে উৎসাহ জুগিয়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা। আর আছেন সর্বক্ষণের সঙ্গী তার বাবা। যখন ছেলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, তিনিও তার সঙ্গে সংগীতের তালে তালে যোগদান করেন।
ঈশ্বর এখন সারাপৃথিবী চষে বেড়াচ্ছে। আর ছিনিয়ে আনছে জয়ের নানা পুরস্কার। ২০১৮-র মে মাসে তুরস্কে আয়োজিত ‘ইউরো এশিয়ান যোগা চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ যোগদান করে স্বর্ণপদক পেয়েছে ঈশ্বর। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত শতাধিক যোগা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ঈশ্বর। এখন তার পাখির চোখ ‘বিশ্ব যোগা চ্যাম্পিয়নশিপ’। যা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কানাডায় আগামী বছর।
এই বয়সেই ঈশ্বর চিন্তা করে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনোর অসুবিধার কথা। তাই সেওই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় সাহায্য করার জন্য নানা মঞ্চে যোগা প্রদর্শন করে অর্থ সংগ্রহ করে। সে-অর্থ সেগরিব ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দেয়। সত্যি, তুলনা হয় না ঈশ্বরের মানসিকতার।
শুধু কি যোগসাধনায় ওস্তাদ! এই বয়সে বেদ ও ভগবদগীতা থেকে পঞ্চাশটি করে শ্লোক সেঅনর্গল মুখস্থ বলে দিতে পারে।
যোগাসন আজ ভারতের স্কুল-সিলেবাসে প্রবেশের অপেক্ষায়। ঈশ্বর ছোটোদের ডাক দিয়ে বলে— যোগাসন করো সবাই। এতে শরীর-মন দুই-ই নীরোগ থাকবে।
এই আট বছর বয়সের বিস্ময় বালক ঈশ্বর এখন সকল ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এক প্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন