খগেন্দ্রনাথ মিত্র
নিঝুম দুপুর। ভোম্বল কাছারি বাড়ির পশ্চিমে ঝাঁকড়া আমগাছটির তলায় একা বসে আছে। কাঠ-পিঁপড়ের ভয়ে গাছে হেলান দিতে সাহস হচ্ছে
না।
কেউ কোথাও নেই, যেন দুপুর রাত। একটি পথিক পথ দিয়ে ছাতা মাথায় চলেছে, সামনের মাঠে দু'টি সাদা রঙের গোরু মস্-মস্ করে ঘাস ছিঁড়ে খাচ্ছে আর মাঝে মাঝে লেজ নেড়ে মাছি তাড়াচ্ছে। একটি গাছ থেকে হলুদ রঙের পাতা টুপ করে খসে পড়ল। গাছের পাতা খসার দিন এল। আকাশে মেঘগুলো এক জায়গায় জড় হয়ে যেন বিশ্রাম করছে। বাতাসে কেমন ঘুমপাড়ানী ভাব, একটু শিরশিরে, একটু গরম। গাছের গুঁড়িতে বসে একটা কাঠঠোকরা ঠকঠক করে গুঁড়ি ঠোকরাচ্ছে। মাঠের ওধারে একটা তালগাছের মাথায় বসে একটা দাঁড়কাক হঠাৎ মোটা গলায় ডেকে উঠল, “আহা! আহা!”
ভোম্বলের নাকে লাগল কেমন একটু বিশ্রী গন্ধ। সে ফিরে দেখে, তার পাশে এসে বসেচে একটি আধবুড়ো লোক। লোকটি অস্থি-চর্মসার। তার পরনে ময়লা ছোট ধুতি, গায়ের রঙ কালো, হাতে পায়ে মোটা শিরা দড়ির মত ফুলে আছে, হাতের আঙুলগুলো মোটা, মাথার চুল খাড়া, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, চোখ দু’টো বড় গ্লান, হাতে একখানি পাঁচনি।
সে একটু হেসে বললে, “সালাম, হুজুর। আপনি নায়েবমশাইয়ের ভাজতে? আমি রাখালি করি। নাম মোবারক আলি।”
তার কথা শুনে ভোম্বলের হাসি পেল। রাখাল আবার বুড়ো হয় নাকি?
লোকটা আবার বললে, “থাকি ঐ বটতলার কোলে। ঐ পাড়া দেখা যায়। আমরা বড় গরিব। তার আর কি করব! খোদার মার। তা না হলে দু-দু'টো ছাওয়াল যায়? আমার আর বেটাবেটি নেই। বড়টা আপনার মতো হয়ে উঠেছিল। তাকে বাঁশঝাড়ে সাপে কামড়াল। কত গুণীন এল, কিছুই করতে পারল না। হুজুর, কালসাপে কামড়ালে গুণীনের ওস্তাদও কিছু করতে পারে না। ছোটটা ছিল। সেটারও একদিন বাতাস লাগল। তিন দিনের জ্বরে মরে গেল। কত ঝাড়-ফুঁক করলাম, মসজিদের 'পানি' দিলাম। এখন বউ আর আমি। কেউই আর খাটতে পারি নে। জমিটুক ছিল, তাও খাস হয়ে গেছে। মাজাটা একেবারে ভেঙে গেছে–” বলে সে ভোম্বলের দিকে এমন ভাবে তাকাল যে চোখে জল না দেখা গেলেও মনে হল, লোকটি মনে মনে কাঁদছে।
তার কথার কি উত্তর দেবে ভোম্বল ভেবে পেল না। মাকে তার মনে নেই। থাকবার কথাও নয়। কারণ, সে যখন চার বছরের ছেলে তখন তার মা মারা যান। তার একটি ছোট বোন ছিল। বোনটির বয়স তখন সাত বছর, সেই সময় দুর্গাপুরে একবার কলেরার মড়ক লাগে। বোনটিও মারা যায়। ভোম্বলের বাবা মরা বোনটির দিকে এমনিভাবে তাকিয়ে বলেছিলেন। তাঁর চোখে জল ছিল না, কিন্তু তিনি কাঁদছিলেন। বাবাকে কাঁদতে দেখলে, ভোম্বলের বড় কষ্ট হত। ঐ বুড়ো রাখালটির চাউনি তাকে সেদিনকার কথা মনে করিয়ে দিলে।
লোকটি কাতরভাবে বললে, “হুজুর, নায়েবমশাইকে একটু বলে জমিটুকু – ”
এমন সময় পিছন থেকে তিনটি সাদা গোরু এসে তাদের সামনে খুব তাড়াতাড়ি মস-মস করে ঘাস ছিঁড়ে খেতে লাগল। ডানধারে পায়ে চলার পথটির বাঁকে বেড়ার ওধারে ছিল একটি লাউ-মাচা। মাচা থেকে বাতাসে দুলছিল কয়েকটি লাউ-ডগা। গোরু তিনটির একটি সেখানে সোজা গিয়ে শিঙ দিয়ে বেড়া ফাঁক করে তার মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে দিলে। তবুও সে লাউগাছটির নাগাল পেল না, ডগাটিকে ধরতে সে বার বার জিভ বা'র তাড়াতাড়ি উঠে করতে লাগল। বুড়ো রাখাল “হৈঃ! দাঁড়া তোরে দেখাই” বলে গোরুটিকে ফিরিয়ে আনতে গেল। কিন্তু সে তার কাছে পৌঁছবার আগেই গোরুটি বেড়া থেকে মাথা বার করে দিলে ছুট। লোকটিও বকতে বকতে তার পিছু নিলে। একটু গিয়েই তারা গাছপালার আড়ালে ঢাকা পড়ল।
ভোম্বলও উঠে মাঠ পেরিয়ে, বড় সড়কটি পার হয়ে সামনের বাঁশঝাড়ের তলায় সরু পথটি দিয়ে চলতে লাগল। কিন্তু লোকটির সঙ্গে কথা বলবার পর তার মন কেমন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বাঁশঝাড়ের একদিকে ছিল বাড়ি-ঘর। একখানি বাড়ির সামনের উঠোনে পৌতা দু’সার কাঠি। তাতে ছিল সুতো। কাঠিগুলোর মধ্যে একটি স্ত্রীলোক একহাতে লাটাই অপর হাতে একটি লম্বা কাঠি নিয়ে এদিক-ওদিক করতে করতে তাড়াতাড়ি পায়চারি করছিল। এটা জোলাপাড়া। একখানি বাড়ির কানাচে একটি মুরগী তার ছানা ক’টিকে নিয়ে চরছিল। পাশে একটি কয়েৎবেলের গাছ থেকে হঠাৎ একটি শিকরে বাজ তাদের ওপর ছোঁ দিলে। কিন্তু সে একটা ছানাকেও ধরতে পারলে না। তাদের মা চিৎকার করে উঠল। ছানাগুলো কিচির-মিচির করতে করতে ঝোপের তলায় ঢুকে গেল । আরো খানিক গিয়েই ভোম্বল দেখলে, একটা প্রকাণ্ড গোসাপ বাঁশতলায় কি খুঁজে বেড়াচ্ছে, বোধ হয় সাপ।
জোলাপাড়া ছাড়িয়ে ভোম্বল একটা চওড়া রাস্তা দিয়ে খানিক যেতেই তার কানে এল ঢাকের আওয়াজ—“দে দে–দে না রেখে।” অমনি তার মনে হল, আজ নবমী। পুজোর শেষ দিন। কেমন একটু বেদনায় তার মন ভরে উঠল। আবার এক বছর পরে আসবে এই দিন। পুজোর আনন্দ যদি সারা বছরই থাকত!
সে বারোয়ারিতলায় গিয়ে দেখে, কত লোক এসেছে ঠাকুর দেখতে। আজ শেষ দিন। তাই এত ভিড়। কাল আর কেউ এখানে আসবে না, সেও চলে যাবে দুর্গাপুর। কিন্তু হাতের ব্যথায় বারোয়ারিতলায় তার বেশিক্ষণ থাকতে ভালো লাগল না। সবাইয়েরই চোখ তার ঝোলানো হাতের দিকে।
বারোয়ারিতলা থেকে সে যখন বাড়ি এল, তখন সন্ধ্যা উতরে গেছে।
নায়েবমশাই তখন ঘরে বসে একটি ভদ্রলোকের সঙ্গে কি আলোচনা নিয়ে করছিলেন। ভোম্বলকে দেখে তাঁরা চুপ করলেন এবং ভদ্রলোকটি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন “তাই হবে।”
তিনি চলে যেতেই নায়েবমশাই জিজ্ঞেস করলেন, “সারাদিন কোথায় ছিলে? দরগাবাড়িতে গিয়েছিলে নাকি?”
ভোম্বল বললে, “না।”
“—ওদিকে দেখবার কিছু নেই। তোমার হাত কেমন আছে।”
—“টন্ টন্ করছে” বলে ভোম্বল ক্লান্তের মতো বসে পড়ল।
নায়েমশাই সস্নেহে বললেন, “শুয়ে পড়। কিছু খাবে?”
তাঁর সস্নেহ ব্যবহার হঠাৎ ভোম্বলকে সেই বুড়ো রাখালের কথা মনে করিয়ে দিলে। সে দু'আঙ্গুলে বিছানার চাদরের একগাছি শক্ত সুতোকে টানতে টানতে বললে, “দুপুরবেলা কাছারির পাশে আমতলায় একজন বুড়ো রাখালের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তার নাম মোবারক। তার জমি আপনি—”
“কি!” নায়েবমশাইয়ের গলার স্বর কর্কশ হয়ে উঠল। “কি কি বলেছে সে? তোমার এ সব কথায় কি দরকার? তুমি কালই বাড়ি চলে যাবে।”
ভোম্বল হাতের ব্যথা ভুলে গেল। তার মনে একটিমাত্র প্রশ্ন জাগল, “কি অন্যায় করেচে সে? লোকটি তো গরিব। কথা বলতে বলতে কাঁদছিল। ওর জমি–সে এখনই চলে যাবে।” ভোম্বল উঠে দাঁড়াল।
নায়েমশাই তার মুখের দিকে তাকিয়েই স্বর নরম করে বললেন, “ও, সেই বটতলার মোবারকের কথা বলচ? বুঝতে পারি নি। লোকটার মাথায় গোলমাল আছে। সবাইকেই ঐ কথা বলে। ওর ছেলে দুটো মারা যাবার যাবার পর ঐ রকম হয়ে গেছে। দেখ, পরশু সকালে তোমার বন্দোবস্ত করেছি। তোমার সঙ্গে লোক থাকবে।”
কিন্তু পরশু–সে এখনও অনেক দেরি। ভোম্বলের আর ভালো লাগছিল না। তার ধারণা হল, নায়েবমশাই ঐ মোবারকের সম্বন্ধে যা বলছেন তা ঠিক নয়। বললে, “আমি একাই যেতে পারব। আমি তো একাই এসেচি। কিচ্ছু ভয় করে নি—”
নায়েমশাই বললেন, “যে পথে এসেচ সে পথেই তোমাকে পাঠাতে পারতাম যদি তুমি ঘোড়ায় চড়তে জানতে। তাই নৌকোর ব্যবস্থা করেচি, বেশ আরামে যেতে পারবে—”
ভোম্বল সত্যই ঘোড়ায় চড়তে জানে না। সেজন্যে তার মনে কোন দুঃখ ছিল না; লজ্জাও দেখা দেয় নি। কিন্তু আজ সে যেমন হল লজ্জিত তেমনি তার হতে লাগল আফসোস। সে কেন ঘোড়ায় চড়তে শিখল না? দুর্গাপুরে সে পরের নৌকো চুরি করে নৌকো বাইতে শিখেছে; হরচন্দর ডাক্তারের সাদা রঙের ঘোড়াটাকে কতদিন ঢিল মেরে উত্যক্ত করেছে, কিন্তু তার পিঠে কোনদিন সওয়ার হবার চেষ্টা করে নি। ঘোড়াটা সান্যালদের পুকুরের ধারে আমতলায় লাফিয়ে লাফিয়ে ঘাস খেয়ে বেড়ায়। তার সামনের পা দু'খানা থাকে ছাঁদা! তখন ভোম্বলের মনে হয়েচে, গাছের ডাল থেকে ঝুলে ঘোড়াটার পিঠে লাফিয়ে পড়ে। কিন্তু তার সহপাঠী নলিনী একদিন অমনি করে ঘোড়াটার পিঠে চড়তে গিয়ে পিঠে না পড়ে তার পিছনে মাটিতে যায় পড়ে। একটুর জন্যে ঘোড়াটার চাট লেগে তার মাথার খুলি গুঁড়িয়ে যায় নি, তবে তার ডান পাখানি গিয়েছিল ভেঙে।
ভোম্বল নায়েবমশাইয়ের কথার কোন উত্তর দিলে না। আবার বসে ভাবতে লাগল, সে যেন ঘোড়ায় চড়ে দিগ্বিজয়ে চলেছে। এমন স্বপ্নে সে মাঝে মাঝে ডুবে যায়। তখন দেখে সে চলেছে যোদ্ধার বেশে। তার পিছনে চলেছে হাজার হাজার সৈন্য। কেউ তার সঙ্গে পারে না। সে মনে মনে কখন হয় গল্পে পড়া গোবি-মরুর তাতার দস্যু; কখন বাঙালী সেনাপতি, যুদ্ধে ইংরেজদের পরাস্ত করে তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে; কখন হয় মধ্য-এশিয়ার যাযাবর, ঘোড়ার পিঠে পর্বতে-উপত্যকায়-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে তৃষ্ণার্ত হয়ে পাহাড়ের ঝরনায় জলপান করছে, কখন বা চৈতক-পৃষ্ঠে রণক্লান্ত রাণা প্রতাপ, কখন বনপথে রবিনহুড। কিন্তু আজ তার মনে হল, সে একটি সাধারণ ছেলে, ঘোড়ায় চড়তেও জানে না। ঘোড়ায় চড়তে জানলে, সে যে পথটা হেঁটে এসেছে সেই পথের ওপর দিয়েই টগবগ শব্দে ঘোড়া ছুটিয়ে চলত, কোথাও থামত না! একটুখানির জন্যে থামত কান্তিনগরে পদ্মদিদির শ্বশুর বাড়ি। বাড়ির সামনে ছোট্ট মাঠখানিতে পৌঁছে ঘোড়ার রাশ টেনে ধরত। তেজী ঘোড়া, কিছুতেই স্থির হয়ে দাঁড়াত না, মাঝে মাঝে শিষ-পা হতো, ঘুরপাক দিত। পদ্মদিদি এসে দাঁড়াত বাড়ির দরজায়। বউ মানুষ। মাথায় ঘোমটা দিয়ে, একটু হেসে চাপাগলায় জিজ্ঞেস করত, “কি রে ভোম্বল, তুই কোথা থেকে? নাম—ভেতরে আয়—”
সে বলত, “আমি আসচি চরমাদারীপুর থেকে। দাঁড়াবার সময় নেই।” বলেই ঘোড়া ছুটিয়ে দিতে। গাঁ শুদ্ধ লোক হাঁ করে তাকিয়ে থাকত। তারপর একেবারে গিয়ে থামত বুড়ীর বাড়ির উঠোনে। বলত, “আজীমা, আমি এসেচি। বড় ক্ষিদে পেয়েচে।” বলেই সে ঘোড়া থেকে নেমে ঘোড়ার গলায় থাবা দিয়ে বলত, “লালটু, শান্ত হও।” তারপর লাগামটা আমগাছের ডালে বেঁধে তাকে খেতে দিত কচি কচি ঘাস।
আর বুড়ী হাসতে হাসতে তাকে মাদুর পেতে দিত। বলত, “দাদু এতদিন কোথায় ছিলে? আজীমার কথা মনে পড়ল? তোমার ঘোড়াটি তো বেশ—” বলে ফোগলা মুখে আবার হাসত। তারপর তাকে খেতে দিত, ক্ষীরের মতো ঘন দুধ, মর্তমান কলা, শালিধানের চিঁড়ে আর মিছরির মতো গুড়।
কিন্তু ভোম্বলের ঘোড়াটি শালুকডাঙা অবধি গিয়ে তার সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ল। সকালে যখন ঘুম ভাঙল তখন বুঝতে পারল না, রাত্রে সে খেয়েচে কি না। কারণ, ক্ষিদেয় তার পেট জ্বালা করছে। একটু নড়তেই হাতখানা ব্যথা করে উঠল অমনি মনে পড়ল, ঈশ্বরদের কথা।
বগা এসে নায়েবমশাইকে বললে, “হুজুর, ওদের বাড়ির মেয়েরাও কোথায় চলে গেছে—"
নায়েবমশাই বললেন, “নজর রাখিস।”
দুপুরে ভোম্বল হারাণেকে বললে, “চল না, দরগাটা দেখে আসি।”
হারাণে বললে, “সে পোড়ো জায়গা। কি দেখবেন? এখন চুপচাপ শুয়ে ঘুমোন তো।”
—“ওখানে কোন বিবি নাকি কাঁদে—”
হারাণে হেসে বললে, “সে বিবি কি ওখানে বসে আছে যে তাকে দেখতে পাবেন? তাকে কেউ দেখে নি।”
—“কেউ দেখে নি? পাগলাপাড়ার পাগলার ঠাকুরদা নাকি তাকে দেখেছিল?”
—“ও-সব কথা ‘ছাড়ান’ দেন। এখন ঘুমোন তো। আমি যাচ্ছি প্রতিমা নিয়ে যাবার ভারীদের ডাকতে—” বলে হারাণে কাঁধে গামছা ফেলে চলে
গেল।
ভোম্বল একবার ভাবল, সে একাই যাবে। আবার ভাবল যাবে না। উঠে বারান্দায় কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল। দুর্গাপুরে ফিরে যেতে তার মন ছটফট করছে। সে সারা বাড়িতে ও বাড়ির বাইরে চঞ্চল হয়ে ঘুরে বেড়াল। সন্ধ্যার সময় চলল বারোয়ারিতলায়, কিন্তু তখন সিংহাসন খালি করে প্রতিমা চলে গেছে। মণ্ডপ জনশূন্য, বেদীর ওপর একটি মেটে প্রদীপ মিটমিট করে জ্বলছে। জায়গাটি প্রায় অন্ধকার।
সেখান থেকে ভোম্বল চলল নদীর পথে। দশমীর জ্যোৎস্নায় সব যেন নেয়ে উঠেছে। খানিক দূর যেতেই তার কানে এল ঢোল-কাঁসি ও সানাইয়ের শব্দ। জয়ঢাকগুলো এখন চুপ করে আছে। ঢোল বলছে, “দিন তো গেল, দিন তো গেল।” কাঁসি বলছে, “বামুন দাদা, বামুন দাদা।” আর গলা ছেড়ে সানাই কাঁদচে, “ও মা- মাগে৷ মা-"
ভোম্বলের মনে হল, আজ সব ফাঁকা। সে ফিরে চলল বারোয়ারিতলায়। সেখানে গিয়ে দেখে, মঞ্চের এক ধারে এক ভিখারী বসে ভাঙাগলায় আস্তে আস্তে গান গাইচে। ভিখারীদেরও একটি থাকবার জায়গা থাকে। ও বোধহয় এত গরিব যে ওর তাও নেই।
ভোম্বল বারোয়ারিতলা থেকে বাড়ি ফিরে নায়েবমশাইকে প্রণাম করল। বাড়িতে অনেক রাত অবধি নানা রকম লোকের আনাগোনা চলল, কিন্তু দুর্গাপুরের মতো বিজয়ার আনন্দ সেখানে নেই। কাল সে ফিরে যাবে দুর্গাপুরে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন