পথে

খগেন্দ্রনাথ মিত্র

সামনেই গোয়ালাপাড়া।

মাঝে মাঝে ঘি, মাখন আর গোবরের গন্ধে পাড়াটা বেশ মশগুল হয়ে ওঠে। রেল-লাইনটা গোয়ালাদের বাড়ি-ঘরগুলোর ওধারে। ফুলু গোয়ালার বাড়ির কোল দিয়ে গেলে লাইনে পৌঁছনোর পথটা কম হয়। ভোম্বল যেতে যেতে দেখলো, ফুলুর বাড়ির বা’র-উঠোনে লটকানো গাছের তলায় ফুলু আর তার ভাই হনি মস্ত একটা হাঁড়িতে খোল মইছে— ঘস্ ঘস্ । মেটে ঘরখানার বারান্দায় প্রচুর কালো ধোঁয়া ছেড়ে কেরোসিনের একটা চিমনি জ্বলছে। আরে! ঐ যে আলোর কাছে বসে ফুলুর ছেলে যদু। সে ভোম্বলদের ক্লাসে পড়ে। একদিনও পড়া পারে না, কেবল কানমলা খায় আর নীল-ডাউন হয়। ‘যোদোটা’ যেন কী করছে। সে বেড়ার ধারে সরে গিয়ে, বাঁশের পাতার ফাঁক দিয়ে দেখলো, যোদো একখানা বাঁকের মাথায় দড়ি পরাচ্ছে। তার ইচ্ছে হলো, ‘যোদোকে’ একবার ডাকে। ও সেদিন তাকে এক ডেলা মাখন খেতে দিয়েছিল। কিন্তু এখন ওর বাবা আছে। লোকটা ভারী শয়তান! তাকে মাখন তো খেতে দেবেই না, বরং চেপে ধরবে। দরকার নেই মাখন খেয়ে।

সে লাইনের দিকে এগিয়ে গেল। রাস্তার শেষেই গুমটি। গুমটির লম্বা লোহার গেটের ওপর একটা আলো জ্বলছে, টকটকে লাল। গেট বন্ধ। বোধ হয় কোন গাড়ি আসছে। কিন্তু এখন আবার কী গাড়ি আসবে? হয়তো মালগাড়ি। সে গিয়ে গেটের একটা রেলিংয়ে উঠে দাঁড়ালো।

দু'পাশে তারের বেড়া; মাঝ দিয়ে লাইন। লাইনের দু'পাশে কুশ-খড়। তার মধ্যে চামরের মতো কাশফুল ফুটেছে। এখন সেগুলো দেখা যাচ্ছে না; কিন্তু দিনের বেলা দেখায় সুন্দর। বাতাসে হেলে-দোলে, ঢেউ খেলে।

ভোম্বল একবার ভাবলো, লাইনের ওপর দিয়ে ষ্টেশনে যাবে। ষ্টেশনটা তো বেশি দূরে নয়। ঐ যে সিগন্যালের আলো দেখা যায়, যেন গোটা কয়েক লাল, সবুজ তারা পৃথিবীতে নেমে এসেছে। কিন্তু রাত্রে লাইনের ওপর সাপ শুয়ে থাকে। সেদিন মস্ত একটা গোখরো সাপ গাড়িতে কাটা পড়েছিল।

হঠাৎ সে শুনলো, গেটের কাছে ভাঁট জঙ্গলে শব্দ হচ্ছে, হিস্ হিস্, সাপ নাকি? সে তাড়াতাড়ি গেটের একেবারে মাথায় উঠে রেলিংয়ের দু'পাশে পা ঝুলিয়ে বসে ভাঁট জঙ্গলটার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলো। কিন্তু অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না। তবে শব্দটাও আর শোনা যাচ্ছে না; কেবল চারধারে ব্যাঙ ও ঝি ঝি ডাকছে।

তবু তার নিচে নামতে সাহস হলো না — যদি সাপটা গেটের তলায় এসে থাকে!

সে সাপটাকে তাড়াবার জন্যে বার কয়েক হাততালি দিলে। শব্দ করলে সাপ পালায়। তারপর কান পেতে শুনতে লাগলো। না- আর শোনা যাচ্ছে না। সাপটা হয়তো সরে গেছে। কিন্তু আবার ঐ ক্যাচ-কোচ ও ফোঁস-ফোঁসানি শব্দ কিসের?

সে ঘাড় ফিরিয়ে দেখলো, গেটের ওধারে একখানা গরুর গাড়ি এসে দাঁড়ালো, যেন ভূতের গাড়ি। গরু দুটোর চোখগুলো অস্পস্ট আলোয় একবার চকচক করে উঠলো। গাড়োয়ান হাঁক দিলে—গুমটি খুলে দাও গো-ও-ও-ও।

গুমটি ঘর তখন বন্ধ। গুমটিওয়ালা বোধ হয় বাড়িতে ভাত খেতে গেছে। কে তাকে গুমটি খুলে দেবে? লাইন-পারে বাঁশবন। তার তলায় জোলা-পাড়া। গুমটিওয়ালা হলো ছিরু জোলার বাবা চয়নদ্দি। লোকটার ডান হাত কনুঙ অবধি কাটা। সে ভোম্বলকে চেনে।

গাড়ি দেখে ভোম্বলের মনে সাহস হলো। আবার ভয়ও হলো। ছিরুর বাবা তাকে দেখে এখনই হয়তো বাড়িতে খবর দেবে। সে গেট থেকে নেমে লাইন পার হয়ে কাঁচা রাস্তায় পড়লো।

দুপুরে বৃষ্টি হয়েছিল। সেই জল রাস্তাটার মাঝে মাঝে জমা হয়ে আছে। ভোম্বল চলেছে ষ্টেশনের দিকে। চলতে চলতে তার পা জলকাদায় বসে যায়। একবার একটা শিয়াল তার প্রায় গায়ের ওপর দিয়েই ছুটে পালালো। শিয়ালটাকে জোলাদের দুটো কুকুর তাড়া করেছে। শিয়ালটা পালাতেই তারা ভোম্বলকে তেড়ে এলো। কী বিপদ! কিন্তু নেড়ী কুকুরের রোখ শিকারের বিশ হাত তফাৎ অবধি। কুকুর দুটো কেবল ডাকতেই লাগলো। ভোম্বল সেখান থেকে এগিয়ে পাকা রাস্তায় উঠলো। রাস্তার ধারে মাঝে মাঝে মিট্‌মিটে কেরোসিনের আলো। তবে ষ্টেশন আর বেশিদূর নয়। ঐ যে তার বাইরে রাস্তার একধারে খাবারের দোকানগুলো দেখা যাচ্ছে—আলো জ্বলছে। লোক চলা-ফেরা করছে।

ভোম্বল ষ্টেশনে পৌঁছে প্ল্যাটফর্মের এদিক-ওদিক কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ালো। তখন কোন গাড়ি নেই। প্ল্যাটফর্ম প্রায় অন্ধকার। আলো জ্বালাবে গাড়ি আসবার কিছু আগে। দু-একজন যাত্রী কাপড় পেতে পোঁটলা মাথায় দিয়ে এদিক-ওদিক শুয়ে আছে। কেউ কেউ বসে বিড়ি ফুঁকছে, গল্প করছে।

একটা ছোকরা পানওয়ালা ভোম্বলকে জিজ্ঞেস করলো, —“তুই কে রে?”

ভোম্বল চোখ-মুখ রাঙা করে বললে, –“তুই কে রে?”

—“তুই কে আগে বল!”

—“চুপ। এক ঘুসিতে দাঁত ভেঙে দেবো—”

লড়াইটা বাধে আর কী! ভোম্বলের চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরে পড়ছে। সে ঘুসি পাকিয়ে দাঁড়ালো।

ছোঁড়াটা বেগতিক দেখে “ও দাদা, মেরে ফেললো” বলে চিৎকার করতে করতে ষ্টেশনের বাইরের দিকে দিলে ছুট।

রণক্ষেত্রের কিছুদূরে ডাক রাখবার কাঠের একটা খুব বড় সিন্দুক ছিল। ভোম্বল গিয়ে তার ওপর উঠে পা ঝুলিয়ে বসলো।

সে আর বাড়ি যাবে না। রাত দুটোয় একখানা গাড়ি আছে। গাড়িখানা যায় কলকাতায়। সেই গাড়িতে সে কলকাতায় যাবে। তারপর সেখান থেকে চলে যাবে টাটানগর। সেখানে তার সঙ্গী জিতেন থাকে।

জিতেন গতবছর স্কুল থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে তার বাবার সঙ্গে সেখানে চলে গেছে। তার মুখে সে টাটানগরের কারখানার অনেক গল্প শুনেছে। ভোম্বল কোনো একটা কাজে লেগে পড়বে। তার গায়ে খুব জোর; সে ধমাধম হাতুরি পিটবে, লোহা-লক্কড় ঠেলবে—একদিন হয়তো একখানা মোটরগাড়ি, ডুবোজাহাজ বা এরোপ্লেনও তৈরি করে ফেলতে পারে। ইঞ্জিনীয়ার আর কারিগরেরাই তো বিশ্বকর্মা।

তার আগে এখন কিছু খাবার পেলে ভালো হোত। খেয়েছে সেই কোন সকালে। তাও কাকার ভয়ে পেট ভরেনি। পয়সা থাকলে কয়েকটা চম্‌চম্ খাওয়া যেত। গায়ে শুকনো ক্ষীরের গুঁড়ো মাখানো চমচগুলো খেতে যা গ্র্যানড!

সে সিন্দুকটার ওপর থেকে নেমে খানিকক্ষণ এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ালো। ষ্টেশনটা ক্রমে নিঝুম হয়ে পড়েছে। রেলের বাবুদের কেউ কেউ অফিস ঘরের ছারপোকাগুলোর ওপর বিছানা বিছিয়ে ঘুম দিচ্ছেন। মাঝখানে জ্বলছে মস্ত চৌকো লণ্ঠন। কোথাও বিশেষ কোন সাড়া নেই। কারুকে চলা-ফেরা করতেও দেখা যাচ্ছে না। কেবল ষ্টেশনে ঢোকবার মুখে বড় রাস্তার ধার থেকে সেতারের আওয়াজ আসছে।

ভোম্বল ষ্টেশন থেকে বেরিয়ে দেখে, ছাদেক ব্যাপারীর পাটের আড়তের এপাশে অশ্বত্থতলায় ধুনী জ্বলছে। ধুনীর ওধারে বসে দু’জন হিন্দুস্থানী সন্ন্যাসী, এধারে জন কয়েক লোক—বোধহয় সন্ন্যাসীদের চেলা। ধুনির আগুনের আভায় মনে হচ্ছে, যেন কয়েকটা ভূত বসে।

সন্ন্যাসী দুজনের একজন সেতার বাজাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল দিয়ে চিমটে বাজাচ্ছে অপর জন। সেতারের সুরটা ভোম্বলের চেনা। তার স্কুলের খোট্টা মালির মুখে বার কয়েক এ সুর শুনেছে।

ভোম্বল রাস্তা পার হয়ে গুটি গুটি সেখানে গিয়ে দাঁড়ালো। সুরটা মিঠে ও ভাল, কিন্তু লোকগুলোর চেহারা ভাল নয়। দেখলেই মনে হয়, তারা গুণ্ডা। তবে গুণ্ডা হলেই বা তার কী? তার কাছে পয়সা-কড়ি তো কিছু নেই।

সে তাদের পাশে দাঁড়াতেই একজন তীক্ষ্ণ চোখে তার দিকে তাকালো৷ মুখে কিছু বললে না। ভোম্বল চুপ করে দাঁড়িয়ে বাজনা শুনতে লাগলো। প্রায় আধঘণ্টা পরে সেতার থামলো। ভোম্বলের মাথায় তবুও সে সুরের ঝঙ্কার থামলো না; কেবলই বাজতে লাগলো রিম্‌-ঝিম্‌ কাঁটা-কাঁটা, রিম্‌ঝিম্‌ কাঁটা-কাঁটা—!

যে সন্ন্যাসীটা চিমটে বাজিয়ে তাল দিচ্ছিল, সে তার পিছন থেকে দুটো পাকা ন্যাসপাতি নিয়ে ভোম্বলকে বললো—“এ লে কে ভাগো বেটা।”

লোকগুলোর একজন ধুনি থেকে এক টুকরো জ্বলন্ত কয়লা একটা লম্বা কলকের মাথায় তুলতে তুলতে রুক্ষ ভাঙা গলায় বললে “ভাগ, বে!”

ভোম্বলও আর সেখানে দাঁড়াতে চায় না। লোকগুলো যে খুনে বদমাইশ তাতে আর ভুল নাই। সে সন্ন্যাসীর হাত থেকে নাসপাতি দুটো নিয়ে ষ্টেশনের ভেতরে চলে গেল।

তারপর সেই সিন্দুকটার মাথায় উঠে বসে গন্ধ শুঁকে দেখলো—চমৎকার। আকারেও বেশ বড়। সে একবার সেতারের হুর নকল করে ‘রিম-ঝিম, কাঁটা-কাঁটা’ বলেই একটা নাসপাতিতে কামড় দিলে! সেটা খাওয়া হয়ে গেলে বাকিটাও খাবার লোভ হল। কিন্তু তাহলে কাল খাবে কী? তুলেই রাখা যাক। সেটাকে কাপড়ের খুঁটে শক্ত করে বেঁধে দেখে এলো কটা বাজে।

রাত তখন কাঁটায় কাঁটায় বারোটা। গাড়ি আসবার দু'ঘণ্টা দেরী। এই দুঘণ্টা খানিকটা ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে যদি ঘুমটা গাঢ় হয়ে যায়। সেই ফাঁকে গাড়িখানা চলে গেলে কী হবে? কিন্তু ঘুম গাঢ় বা হবে কেন? লোকজনের চিৎকারে, গাড়ির দরজা বন্ধ করবার ধপধপানি আর ইঞ্জিনের ফোঁস ফোঁসানিতে কী ঘুম ভাঙবে না? নিশ্চয় ভাঙবে। সে পড়েছে নেপোলিয়ান ঘোড়ার পিঠে বসে দু'দশ মিনিট ঘুমিয়ে নিতেন। লড়াইয়ে মাঝেও তাঁর গাঢ় ঘুম হোত এতো বইয়ে পড়া। সে চোখেও দেখেছে, তাদের ভূগোলের মাস্টারমশাই জগতবাবু ক্লাসে পড়াতে পড়াতে হাতলহীন ভাঙা চেয়ারটায় বসে কেমন নাক ডাকিয়ে ঘুমোন। আবার পিরিয়াড শেষ হবার ঘণ্টা বাজবার আগেই উঠে পড়েন। তবে সেই বা বেশী ঘুমোবে কেনো? সে বাক্সটার ওপর সটান শুয়ে চোখ বুজে পড়ে রইলো।

কিন্তু মশার উৎপাতে প্রথমটা ঘুম হলো না। মশার ঝাঁক কানের কাছে পিঁ-পিঁ করে হাতে পায়ে কামড়ায়। একটা তার নাকের ডগায় বসে এমন কামড় দিয়েছে যে নাকটা জ্বলে যাচ্ছে। সে তাদের কামড় থেকে রক্ষা পাবার জন্যে আগাগোড়া কাপড় মুড়ি দিয়ে মরা চিংড়ির মতো হাঁটু ভেঙে কুঁকড়ে শুয়ে রইলো। তাতেও কী রক্ষা আছে? তবুও সেই ভাবে শুয়ে থাকতে থাকতে সে ঘুমিয়ে পড়লো।

তারপর হঠাৎ ঘুম ভাঙলে দেখে, চারধারে লোকজন ছুটোছুটি ও চিৎকার করছে—সামনে একখানা ট্রেন দাঁড়িয়ে। তার ইঞ্জিনখানা করছে সোঁ—সো–ও-ও!

সে ধড়মড় করে উঠে সিন্দুক থেকে একলাফে নেমে ছুটে গিয়ে একটা কামরায় উঠে পড়লো। সঙ্গে সঙ্গে হুইসল দিয়ে গাড়িও দিলে ছেড়ে।

সকল অধ্যায়
১.
পলাতক
২.
অন্ধকারে
৩.
পথে
৪.
দেশছাড়া
৫.
শালুকডাঙায়
৬.
অদ্ভুত কীর্তি
৭.
বুড়ীর বাড়ি
৮.
যুদ্ধ
৯.
পাঠশালায়
১০.
কাছিমদহর হাটে
১১.
পুঁটিমারীর পথ
১২.
ভোজ
১৩.
যাত্রা
১৪.
পদ্মদিদির শ্বশুরবাড়ি
১৫.
কান্তিনগরে
১৬.
চরমাদারিপুরের বারোয়ারিতলায়
১৭.
নায়েব মশাইয়ের কাছারি বাড়ি
১৮.
চরমাদারীপুরের বাজারে
১৯.
জুতোর কারখানায় ও কাপড়ের দোকানে
২০.
বাদলার মেঘ ও সোনালী রোদ
২১.
নাটকের মহড়া ও পরের ঘটনা
২২.
পাগলাপাড়া ও দরগাবাড়ি
২৩.
দুই যোদ্ধা
২৪.
রাখাল ও ভোম্বলের স্বপ্ন
২৫.
গোরুর গাড়িতে
২৬.
নৌকো চলে
২৭.
ভাঙা হাটে
২৮.
কৃষ্ণপুরে নদীর কূলে
২৯.
সাতগেছে জোড়াবটতোলে
৩০.
দুর্গাপুরের পথে
৩১.
ঘরে ফেরার পরে
৩২.
পল্লীতে বন্ধুমহলে
৩৩.
কুলচারা গাঁয়ের পথে
৩৪.
কুলচারা গাঁ
৩৫.
নতুন কথা
৩৬.
আব্দুলপুরের মেলার পথে
৩৭.
নতুন পথ ধরে আগের লক্ষ্যে চলা
৩৮.
খোলসাপুরের পথে ও বন্ধুর বাড়ি
৩৯.
পথের শেষে
৪০.
মালঞ্চ গাঁয়ে
৪১.
জটা গাঁয়ের পথে
৪২.
চাটুয্যে বাড়ি
৪৩.
স্টেশনের পথে
৪৪.
স্টেশনে দুই আলাপি
৪৫.
হঠাৎ দেখা পথের মাঝে
৪৬.
বন্ধুর বাড়ি
৪৭.
চলার পথে
৪৮.
শুধু পথ আর পথ
৪৯.
টাটা নগরের পথে
৫০.
যাত্রা শেষ

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%