খগেন্দ্রনাথ মিত্র
বাড়ি ফিরে নায়েবমশাই হুঁকো নিয়ে বারান্দায় জলচৌকিতে বসলেন। হারাণে তাঁকে তেল মাখিয়ে দিতে লাগল। তেল মাখতে মাখতে তিনি ভোম্বলকে বললেন, “তুমিও গায়ে মাথায় বেশ করে তেল মাখ। তেলেজ্বলে বাঙালীর শরীর।”
কিন্তু ভোম্বল বাটি থেকে এক খাবলা তেল নিয়ে মাথায় মেখে কুয়ো তলায় গেল। এবার জল তুলে দিতে এল একটা খোট্টা চাকর। লোকটি এ-ক'দিন কোথায় ছিল কে জানে? লোকটার বুকের ছাতি হবে ভোম্বলের হাতের অন্ততঃ তিন হাত চওড়া, মাথার চুল গোড়া ঘেঁষে ছেঁটে কপালে ক্ষুর দিয়ে চেঁচে সুগোল করা, চোখ দুটো কুকুতে, নাকটা চাপা, কান দু'টো দোমড়ানো, ঘাড়টা মোষের ঘাড়ের মতো, হাত পা যেন কলাগাছ।
লোকটি যে পালোয়ান সে বিষয়ে ভোম্বলের সন্দেহ নেই। সে শুনেছিল, জমিদারেরা হাতী পোষে প্রজাদের ঘর-দোর ভাঙার জন্যে; তার কাকার কাছারিতে হাতী নেই। তার বদলে এ লোকটা আছে কি লোকের ঘাড় ভাঙতে?
কিন্তু সে ভোম্বলের ঘাড় ভাঙল না, কুয়া থেকে জল তুলে তার মাথায় ঢালতে লাগল।
ভোম্বল স্নান করতে করতে ঠিক করলে, লোকটির সঙ্গে আলাপ করবে। ও কে, কি করে, এখানকার গুম-ঘরটা কোথায়, এসব প্রশ্ন তাকে খুব কৌতূহলী করে তুলল। ও হয়তো গুম-ঘরের পাহারাদার। কিন্তু নায়েমশাইয়ের স্নানের পর ভোম্বল তাকে আর দেখতে পেল না। হারাণে আর স্বরূপকে ভোম্বলের বেশ লাগে, বগা লোকটাও মন্দ নয়। খেতে বসার আগে ভোম্বল হারাণেকে চুপিচুপি জিজ্ঞেস করলে, “সেই ষণ্ডামার্কা চাকরটা কি গুম-ঘরের পাহারাদার?”
হারাণে অবাক হয়ে বললে, “কিসের পাহারা দেয়?”
—“আস্তে! বলছি, ও কি এখানকার গুম-ঘর পাহারা দেয়?”
হারাণে হেসে ফেললে; বললে, “এখানে ও সব নেই! কার কাছে শুনেছেন এ কথা? ঐ সুচী বেটা বলেছে বুঝি? ও বেটা মেড়ো ভারী নচ্ছার। ওর কথায় কান দেবেন না।”
—“ও কোথায় থাকে?”
-“ও বেটার কথা ছাড়ান দ্যান, দা'বাবু।”
তার কথায় সুচী সম্বন্ধে ভোম্বলের কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। হারাণের কথায় তার মনে এ ধারণাও হল যে, লোকটির কাজকর্ম ভাল নয়। সে বুঝতে পারলে, এখান থেকে সরে পড়া মুখের কথা নয়। জায়গার নাম চরমাদারীপুরের কাছারি। যার এক পাহারাদার ঐ সুচী। কিন্তু তার নামও “ভূপেন চাকী ওরফে ভোম্বল।” দুর্গাপুরের আমলাপাড়ার সেরা ছেলেদের সর্দার সে। যে তাকে ধরবে তার মুঠোর ভেতর থেকে সে বাণমাছের মতো যাবে পিছলে, পালিয়ে, পগার পার হয়ে। হাতে কাঁটার জ্বালায় লোকটা ছট্পট্ করতে থাকবে। ভোম্বল একবার দাঁতে দাঁত ঘষল।
সে রান্নাঘরের বারান্দায় নায়েবমশাইয়ের পাশে খেতে বসল। 'ঠাকুরমশাই’ ভাতের থালা সামনে দিলে। কাটারিভোগ চালের ভাত—গরম, অল্প অল্প ধোয়া ও গন্ধ উঠচে। হারাণে কালো ভাঁড় থেকে পলা করে তুলে একটি ছোট বাটিতে দিলে খানিকটা গাওয়া ঘি যেন তরল কাঁচা সোনা! 'ঠাকুরমশাই' বাটি টি তুলে নিয়ে গেল গরম করতে। কিন্তু ভোম্বল গরম ঘি খেতে ভালবাসে না, সে ঘি-র চেহারা দেখে মনে হয় যেন নারকোল তেল। কিন্তু উপায় নেই। এখানে আব্দার-আপত্তি চলবে না। 'ঠাকুরমশাই' গরম ঘি এনে ভাতে ঢেলে দিলে। কিন্তু ঘি দিয়ে ভাত মেখে সে খাবে কি করে? বেগুনভাজা, মাছভাজা দিয়ে তো ঘি-মাখা ভাত খাওয়া যায় না। সোনামুগের ডাল হয়েছিল। সে ঘি-মাথা ভাতের সঙ্গে খানিকটা ডাল মেখে নিলে।
নায়েবমশাই বললেন, “ঘি দিয়ে ডাল দিয়ে” বলেই একটু কৌতুকের হাসি হাসলেন মাত্র। ভোম্বলও নিজের মনে খেয়ে তাঁর সঙ্গে উঠে আঁচিয়ে শোবার ঘরে গেল।
নায়েবমশাই বিছানায় বসে পান চিবোতে চিবোতে তামাক টানতে লাগলেন । ভোম্বলের কেমন করে যেন ধারণা হল, তিনি এবার তাকে গুরুতর কিছু বলবেন।
তার অনুমানই ঠিক হল। হুঁকোটি হারাণের হাতে দিয়ে তিনি ভোম্বলকে বললেন “এখানে এসে বোস।”
ভোম্বল চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে আস্তে আস্তে বিছানার একধারে বসল। তার হাত-পা কেমন আড়ষ্ট হয়ে গেল, কপালের দু' পাশের রগ দপ্, দপ্ করতে লাগল, কান দু'টো সজাগ হয়ে রইল। তার এই অবস্থা নতুন নয়। কিন্তু তার মধ্যে যে মরীয়া—ভাবটা জেগে উঠেচে তা একেবারে নতুন। সে দুরন্ত সত্য; কিন্তু তার জন্যে তারও মনে আফসোস হয়। মনকে সে কিছুতেই বাগে আনতে পারে না!
নায়েবমশাই আস্তে আস্তে বললেন, “তুমি কি মনে কর, তোমাকে শাস্তি দিয়ে আমি খুশি হই? মোটেই তা নয়। তোমার ভালোর জন্যেই তোমাকে শাসন করি। তুমি পিতৃমাতৃহীন। আমারও বয়স হয়ে এসেছে। আমি মরে গেলে কোথায় দাঁড়াবে? কি ভাবে উপার্জন করবে? তাই তোমাকে শান্ত হয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে বলি। কিন্তু তুমি তা বুঝতে পার না।”
ভোম্বল মনে মনে প্রতিবাদ করে উঠল—“তা নয়। আমি বুঝি তা। কিন্তু আমাকেই কেউ বুঝতে পারে না।”
তার কাকা আবার বললেন, “তুমি যে খালি পায়ে, খালি গায়ে, খালি হাতে এরকম অভুক্ত অবস্থায় পথে পথে পাগলের মতো ঘুরচ, এ কথা যে আমার কষ্ট হয়। তুমি আমারই বড় ভাইয়ের ছেলে!”
ভাবতেই ভোম্বল নায়েমশাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল। ও কি? ঐ দু'চোখে জল না, আলোর ফোঁটা চক্চক্ করছে? যাঁর হাত থেকে নির্মম প্রহার ছাড়া ভোম্বল আর কিছু পায় না, যাঁর রক্তচক্ষুই ভোম্বলের মনে ভয়ের বাসা হয়ে আছে, তাঁর চোখে জল?
ভোম্বল ঢোক গিলল।
নায়েবমশাই আবার বললেন, “তুমি বাড়ি থেকে পালিয়ে এল কেন?”

ভোম্বল তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার স্বাভাবিক টানা ও বড় চোখ দু'টো আরও বড় হয়ে উঠল, তারা দু’টো ঝকঝক করতে লাগল। সে বলতে যাচ্ছিল, “আপনি আমায় মারবেন বলে।” কিন্তু পারল না। তার মনে হল, উনি বৃদ্ধ। ঐ তো ওঁর চুল পাকা, কপালে রেখা, চোখের কোণে চামড়া কুঁচকে গেছে, রগ দু'টো শুকিয়ে এসেছে। সে ওঁর মার সইবার শক্তি রাখে, কিন্তু উনি হয়তো তার কথার আঘাত সইতে পারবেন না!
নায়েবমশাই আবার বললেন, “কথাটি যে আমার জানা দরকার। বল শুনি।”
ভোম্বল বললে, “আমি টাটানগর যাচ্ছিলাম—”
তার কাকা একটি নিশ্বাস ফেললেন: বললেন, “কথাটি ঠিক বললে না। তবুও যদি তাই-ই হয়, তা হলে তুমি আমাকে বললে না কেন? তুমি ছেলেমানুষ। সেখানে গিয়ে কি করবে? সেটা হল একটা লোহার কারখানা। তোমার মত ছোট ছেলের জায়গা সেটা নয়। সেখানে তোমার কিছুই করবার নেই।”
ভোম্বল বললে, “লোকে কাজ শিখতে সেখানে যায়—”
নায়েবমশাই বললেন, “লোকে যায়, তোমার মতো ছেলে যায় না। তুমি যদি বড় হয়ে সেখানে যাবার চেষ্টা করতে তা হলে কেউই তাতে বাধা দিত না, বরং খুশি হতো। তোমার এখন স্কুলে লেখাপড়া করবার বয়স। স্কুলের পড়া যেদিন শেষ করবে সেদিন তোমার চারধারে নানা পথ খুলে যাবে। সেদিন তুমি যেও। আমি যদি ততদিন বাঁচি, তোমাকে সাহায্য করব।”
ভোম্বল মনে মনে সেদিনটি দেখবার চেষ্টা করল, কিন্তু ভেবে পেল না। মনে হল, তা এখনও অনেক দূরে।
তার কাকা হঠাৎ তার পিঠে হাত রাখলেন। এমন অভিভূত হল যে, কথা বলতেই ভুলে গেল। জন্যে তার মন কাঙাল, সে আজ তা পেল। সে তার চোখ দুটি ছল্ছল্ করে উঠল। ভোম্বল এমন অবাক, যা কখন হয় নি, যার একেবারে গলে গেল।
পর নায়েবমশাই তার পিঠে তেমনি হাত রেখে বললেন, “মন দিয়ে পড়াশোনা কর। বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতে না চাও, আমার মাস সেখানেই থাক। এখন এলে এখানে থেকে পড়। তবে এই ক'টা তোমার ক্ষতি হবে। বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে চলে এস। তুমি বেড়াতে ভালবাস। এখানে অনেক বেড়াবার জায়গা আছে। হরিণমারীর জঙ্গল যদি দেখ তো ভুলতে পারবে না। সে জঙ্গল যেমন ভীষণ, তেমনি সুন্দর—দিনেই অন্ধকার। তোমার সঙ্গে পাকা শিকারী দেব। সেখানে নৌকোয় যেতে হয়। যেতে যেতে দেখবে নদীর দু'পাশে ঘন বন। গাছপালা একেবারে জলের ওপর নুয়ে পড়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় সেখানে বাঘ-হরিণ জল থেতে আসে। আমি নিজে তা দেখেছি। জঙ্গলের এক জায়গায় একটি প্রকাণ্ড দীঘির ধারে আছে একটি ভাঙ্গা মন্দির—অনেক কালের পুরনো। কেউ জানে না তার বয়স কত। তার চূড়ায় বটগাছ। কেউ সেখানে যেতে সাহস করে না। আমি গিয়েছিলাম। একবার তোমার বাবাও গিয়েছিলেন। একাই গিয়েছিলেন। তাঁর দুর্দান্ত সাহস ছিল। অমন মানুষ আর দেখলাম না।” বলে নায়েবমশাই নিশ্বাস ফেললেন এবং একটু পরে ভোম্বলের পিঠ থেকে হাত সরিয়ে নিলেন।
ভোম্বলের মনে হল, তার পিঠের সেই জায়গাটিতে যেন একটি সুন্দর ছাপ রইল। সেখান থেকে ছাপটি নেমে গেল, একেবারে মনের মাঝখানে।
নায়েবমশাই বললেন, “পুজোর ক'টা দিন এখানে থাক। আবার বলছি, স্কুলের পড়া শেষ করে যদি তখনও টাটানগরের কারখানায় কাজ শিখবার ইচ্ছা কর তো আমি তোমাকে সাহায্য করব। তুমি এখানে পড়াশোনা করতে চাও? এখানকার স্কুলটা ভালোই।” বলেই তিনি ভোম্বলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
একটু পরে ভোম্বল বললে, “আমি বাড়ি যাব।”
নায়েবমশাই শান্তভাবে জিজ্ঞেস করলেন, “কেন? এখানে ভালো লাগছে না?”
ভোম্বল বললে, “এখানে কেউ নেই”
নায়েমশাই হাসলেন; বললেন, “আজ মহাষ্টমী। তুমি বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতেই তো পথে ভাসান হয়ে যাবে। তা ছাড়া, তোমার সঙ্গে কাকেই বা পাঠাব? সকলকারই বছরকার দিন। তুমি একাদশীর দিন সকালের দিকে রওনা হয়ো। আমি বাড়িতে তাই লিখে দিয়েচি। এ ক'দিন এখানকার যা কিছু দেখার আছে দেখ—” বলে তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন। ভোম্বলও কোমর বেঁধে বাইরে এসে দাঁড়াল। ততক্ষণে ঠাকুর-চাকর পিয়াদাদের খাওয়া-দাওয়া চুকে গেছে। কুয়োতলায় জড়-করা এঁটো বাসন কয়েকটা কাক টানাটানি করছে। চাটাইয়ের বেড়ার তলা দিয়ে কুয়োর জল বেরিয়ে যাবার সরু নালাপথে গলে এল একটা লাল রঙের কুকুর। ও বোধহয় রোজ আসে। কুকুরটা কাকগুলোকে “ঘেউ ঘেউ” করে তেড়ে গিয়ে বাসনে মুখ দিয়ে খেতে লাগল। কাক ক'টা উড়ে বসল কুয়োর পাড়ে এবং একটু পরেই নেমে এসে অন্য পাশ থেকে উচ্ছিষ্ট বাসন ঠোকরাতে লাগল। রান্নাঘরের দাওয়ায় চোখ বুজে বসে আছে গুলবাঘার মতো গায়ে ছাপ দেওয়া একটি বেড়াল। সে মাঝে মাঝে কান দু'টি ঘোরাচ্ছে; চোখ দুটি একটু খুলেই আবার বন্ধ করছে। একবার হাই তুলল। বাড়ির পেছনে কয়েতবেল গাছে ডাকচে একটি ঘুঘু। অনেক দূরে কোথা থেকে তার উত্তর দিচ্ছে আর একটি ঘুঘু। আকাশে সাদা-কালো মেঘের স্তূপ। মেঘগুলো যেন তন্দ্রার ঘোরে অলসের মতো ভাসতে ভাসতে আকার বদলাচ্ছে। ভোম্বলের মনে হল, সব যেন তন্দ্রায় জড়িয়ে গেছে। সে উঠোনে নেমে মেঘগুলোকে দেখতে দেখতে তাদের গায়ে নানা মূর্তি কল্পনা করতে লাগল। বাতাসটা ভোম্বলের গায়ে লাগছে না আর মনে হচ্ছে শীতের কথা। সেই সঙ্গে মনে ভেসে উঠচে শীতের দু-একখানি ছবি।
এমন সময় বাইরে শোনা গেল স্বরূপের গলা। ভেতরে এসে শোবার ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে সে নায়েবমশাইকে কি বললে। তারপর আবার বাইয়ে গিয়ে বাজারের পথে দেখা সেই বৃদ্ধ ও তার সঙ্গী ক'টিকে নিয়ে ভেতরে এল। ভোম্বলও পায়ে পায়ে সেই দরজা পার হয়ে বাইরে পথের ধারে ছোট মাঠখানির পাশে আমগাছটির তলায় গিয়ে দাঁড়াল।
সেখান থেকে অনেক দূর দেখা যায়। বাঁ-দিকে গ্রামের ঘর-বাড়ি, তারপর আর একখানি মাঠ। মাঠের পারে রাস্তা। ঐ রাস্তা দিয়েই সে সেদিন এখানে এসেছিল। রাস্তার পর ধানক্ষেত; ক্ষেতের পর ক্ষেত যেন সবুজের দোদুল পাথার। তা শেষ হয়েছে একেবারে দিগন্তে ধোঁয়ামাখা শ্যামল প্রাচীরের কোলে। সেই সীমানাটির পর যেন ক্ষেতও নেই, পৃথিবীও নেই, আকাশও ফুরিয়ে গেছে। সেই পাথারে উড়ে উড়ে বসচে বন-চড়ুয়ের ঝাঁক!
পাথারের মাঝ দিয়ে রাস্তাটির দিকে একটু একটু করে এগিয়ে আসছে যেন সাদা কাপড়-পরা এক সার পুতুল। তারা আসছে হয়তো আলের উপর দিয়ে, আসছে ঠাকুর দেখতে। সব নিঝুম। দূরে একটা গোরু ডেকে উঠল—হাম্বা। কিন্তু ভোম্বলের মনে হল, গোরুটি যেন ডাকল, 'ওমা —অ।’
রাস্তা দিয়ে টিং টিং শব্দে ঘণ্টা বাজিয়ে ছুটে গেল একখানি বাইসিকল। গাছ থেকে টুপ করে খসে পড়ল একটি শুকনো পাতা। তাতে ভোম্বলের আরও বেশী মনে হতে লাগল, দেশটা ঘুমের। দুর্গাপুরে ফিরে যেতে সে ব্যাকুল হয়ে উঠল। কিন্তু যেতে এখনও কয়েক দিন বাকী। সে মনে মনে ঠিক করলে, ফিরবার পথে পদ্মদিদি আর শালুকডাঙ্গার সেই বুড়ীর সঙ্গে দেখা করে যাবে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন