দুর্গাপুরের পথে

খগেন্দ্রনাথ মিত্র

দ্বাদশীর চাঁদ আকাশে ঝকঝক করছে। গ্রামের গাছপালা ফিকে জ্যোৎস্নায় চিক্‌চিক্ করছে। পথের ধারে, গাছের তলায়, বাড়ি-ঘরের কোলে ছায়া পড়েছে। একটা বাছড় মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল। দূর থেকে শিয়ালের ডাক ভেসে আসছে।

মুহুরিমশাইয়ের পিসীমা লতীকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে কথকতা শুনতে যাবার জন্যে উঠোনে নামতেই মুহুরিমশাই বললেন, “পিসীমা! যাচ্ছেন? ভূপেনকেও সঙ্গে নিয়ে যান। যাও ভূপেন—”

ভোম্বল বললে, “আমি এখন যাব না! পরে যাব।”

পিসীমা বললেন, “চল, দাদু। তুমি সঙ্গে থাকলে খুব সাহস হবে। বৌমার রান্না এখনও বাকী। হরির শরীরটাও ভালো নেই।”

ভোম্বল তবুও বললে, “আমি কাকিমার সঙ্গে যাব।”

মুহুরীমশাই বললেন, “আপনারা যান। ও পরে যাবে।”

পিসীমা লতীকে নিয়ে চলে গেলেন।

ভোম্বল কিন্তু বাড়িতে থাকল না। বাইরে রাস্তার ধারে দাঁড়াতেই দূর থেকে তার কানে এল —'মুশকি—ই—ইল অ—সা—আ—ন'।

একটু পরেই সামনের রাস্তার ওপারে গাছপালার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল একটি আলো। তারপর কাছে এলে দেখা গেল, একটি লোক। তার হাতে প্রদীপ, মুখে পাকা দাড়ি-গোঁফ, মাথায় বাবরি, গলায় প্রবাল ও ছোট-বড় কাচের গুটির মালার গোছা, গায়ে আলখাল্লা। সে সোজা মুহুরিমশাইয়ের বার-বাড়ির উঠোনে ভোম্বলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে সুর করে বলতে লাগল—‘মুশ–কি–ই–ইল আ— সান্'।

ভোম্বল একটি পয়সা মুশকিল আসানের থালায় দিতেই লোকটি প্রদীপটি ভোম্বলের কপালে ঠেকাল। ভোম্বলের নাকে লাগল তেলপোড়া গন্ধ; কপালে লাগল তাপ। সে তাকিয়ে দেখলে, পলতের মাথায় ভূষো বড় মাছির চোখের মতো গুটি বেঁধে আছে। মুশকিল আসান চলে গেল। কিছুদূরে আবার একখানি বাড়ির দরজায় গিয়ে হাঁকল, ‘মুশকি–ই–ই–ল আসা—আ―ন’।

পিসীমারা যেদিকে গিয়েছিলেন, ভোম্বল এক পা এক পা করে খানিক দূর গিয়েই দেখলে, গাছতলায় একটি মন্দিরের সামনে সামিয়ানার তলায় অনেক লোক বসে। তাদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশী। ওটাই বোধ হয়, জোড়াবটতলা। কিন্তু ও তো মোটে একটা বটগাছ।

সে আর একটু এগিয়ে গিয়ে দেখলে, সামিয়ানার তলায় বাঁশের আড়া থেকে ঝুলচে, কয়েকটি ঝুলনবাতি। নিচে এক জায়গায়, বোধহয় একখানি জলচৌকিতে বসে চাদর গায়ে, তিলককাটা, নাদুস্-নুদুস, ফর্সা একটি লোক হাত-মুখ নেড়ে কি বলছেন। লোকটির সামনে সাদা কাপড়-ঢাকা একটি উঁচু জায়গা। তার ওপর লম্বা একখানি বই। পাশে একটি টেবিলল্যাম্প। ভোম্বল আন্দাজ করে নিলে; উনিই গোবিন্দ ঠাকুর — কথকতা কইচেন।

লোকগুলো পুতুলের মতো বসে বসে শুনচে। ভোম্বল সাহসে ভর করে তাদের একেবারে কাছে গিয়ে দাঁড়াল। একটু শুনেই বুঝলে ‘রামায়ণ-পাঠ’ হচ্ছে। কথকঠাকুর হনুমানের কথা বলছিলেন। হনুমানের বুদ্ধি ও শক্তিতে রাক্ষসেরা লঙ্কায় কি ভাবে বিব্রত, তারই বর্ণনা হচ্ছে। ঠাকুরের বর্ণনায় সবাই হেসে লুটোপুটি; রাক্ষসেরা জব্দ হচ্ছে , এজন্যে সবাই খুশি। কিন্তু ভোম্বলের সব চেয়ে বেশী মজা লাগছে, কথকঠাকুরের টিকি নাড়া দেখে। ঠাকুর যখন কথা বলছেন, আতার বীচির মতো তাঁর কালো দাঁতগুলো বেরিয়ে পড়ছে।

ঠাকুর সুর করে বলে উঠলেন, “হনুবীর ত—খ—ও-ন”—অমনি তাঁর গেরো-বাঁধা টিকির গোছা বাঁ কাঁধের ওপর এসে পড়ল। তাই দেখে ভোম্বল হেসে উঠলI আর সেই সঙ্গে তার পাশ থেকেও কারা খিলখিল করে হাসতে লাগল। ভোম্বল সেদিকে লক্ষ্য করে দেখে, মালতী ও তারই বয়সী আরও দুটি মেয়ে তাদের মধ্যে একজন ভোম্বলের দিকে তাকিয়ে মালতীর কানে কি যেন বললে।

ভোম্বলের মনে হল, মেয়েটির মুখখানা মিঠকুমড়োর মতো দেখতে। মালতী কোন উত্তর না দিয়ে একটু নড়েচড়ে বসল। ভোম্বল সেখান থেকে সরে গিয়ে একটি খুঁটিতে হেলান দিয়ে কথকতা শুনতে লাগল।

একটু পরে বাড়ি থেকে মুহুরিমশাইয়ের চাকর কেষ্ট গিয়ে তাকে ও মালতীকে খাবার জন্যে ডেকে নিয়ে এল। কথকতা তখনও শেষ হয় নি। ভোম্বল অনিচ্ছায় এল এবং খাবার পর আবার যাবার উদ্যোগ করতেই মুহুরিমশাই বললেন, “শোও গে। সারাদিনের ক্লান্তির পর বিশ্রাম দরকার। আবার কাল সারাদিন পথে কাটবে।”

ভোম্বল অগত্যা শোবার জন্যে ঘরে ঢুকল। কেষ্ট পাতের ভাতগুলো কুয়োতলার একপাশে ঢেলে তীক্ষ্ণস্বরে বোধ হয় সেই লাল রঙের কুকুরটাকে ডাকতে লাগল—‘তু–উ–উ'।

যে ঘরের বারান্দায় ভোম্বল খেয়েছিল, তার মধ্যে দুখানি তক্তায় দুটি পরিষ্কার বিছানা, ওপরে মশারি গোটানো রয়েছে। একটি কালো কাঠের সিন্দুকের ওপর একটি হারিকেন মিটমিট করে জ্বলছিল। তাতে ঘরের ভেতরে কেমন একটা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

আলোটি উস্কে দিয়ে মুহুরিমশাইয়ের স্ত্রী বললেন, “শোও। পিসীমা লতীকে নিয়ে ঐ বিছানায় শোবেন। মশারি ফেলে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে যাচ্ছি। তোমার ভয় করবে না তো?” বলে তিনি মশা তাড়াতে পাখার বাতাস করতে লাগলেন।

ভোম্বল বললে, “ভয় কিসের?”

সে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগল, সকালে উঠেই যদি চলে যেতে পারে তো বেশ হয়। ঐ তো সুচির গলা শোনা যাচ্ছে। ও বোধহয় খেতে এসেছে। ওর সঙ্গে নৌকোয় গিয়ে শুলেও বেশ হতো। এখানে তার থাকতে লজ্জা করছে।

মশারির বাইরে তখন মশার ঝাঁক সমস্বরে পোঁ পোঁ করছে; ঘরের বাইরে একটা কটকটি ব্যাঙ ডাকচে কটর্-কটর্-কটর্, আর চারধার থেকে এমন কি, চালের বাতা থেকেও ঝিঁঝিরা বুকচেরা চিৎকার করছে। দূরে একটা কুকুর ডেকে উঠল। ভোম্বলের ক্লান্ত দেহ নিঝুম গ্রামের শান্ত রাতে একটু একটু করে ঘুমে তলিয়ে গেল।

তারপর এক সময় হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেলে শুনতে পেল, দূরে চৌকীদার হাঁকচে; ঘরের মধ্যে শব্দ হচ্ছে, কট-কট।

সে চোখ মেলে দেখলে, ঘর অন্ধকার। কিসের কট-কট শব্দ। একটু কান পেতে শুনল, মুহুরিমশাইয়ের পিসীমা কিন্তু বুঝতে পারলে না, হাই তুললেন। তারপরই আবার সেই শব্দ।

ভোম্বল পাশ ফিরে শুয়ে একবার হাঁচতেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন “ও দাদু, মশা কামড়াচ্ছে?”

ভোম্বল বললে, “না।”

তিনি বললেন “আমার সুপুরি খাওয়ার শব্দে তোমার ঘুম ভেঙে গেল নাকি? কি করি দাদু, ডুমো ছাড়া কুচো সুপুরি খেতে পারি না। লতীও কট-কট আওয়াজে ঘুমোতে পারে না। সে আজ ঘুমিয়ে কাদা হয়ে গেছে। সারাদিনের কষ্ট! তুমিও ঘুমোও। আর শব্দ হবে না। বুড়ো হয়ে গেছি, দাঁতের গোড়া সব ঢিলে হয়ে গেছে।”

কিন্তু কট্ কট্ শব্দও থামল না, ভোম্বলের চোখেও আর ঘুম এল না। সে শুয়ে উশখুশ করতে লাগল। একটু পরেই গ্রামের নির্জন পথ দিয়ে কে যেন ঝুমুর-ঝুমুর শব্দে ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে চলে গেল। ভোম্বল আন্দাজে ধরে নিলে, রানার; তবুও মুহুরিমশাইয়ের পিসীমাকে জিজ্ঞেস করলে, “ওটা কিসের শব্দ?”

পিসীমা বললেন, “তুমি ঘুমোও নি? ও হল, ডাকওয়ালা। রোজ রাতে এমনি সময়ে যায়। ও আসে নদীর ওপারে কমলাপুর থেকে—যাবে পাশের গাঁয়ে সাতগেছে। তোমার ঘুম আসচে না? বিছানাটা শক্ত হয়েচে? আমাদের গাঁ তোমার ভালো লাগল?”

ভোম্বল বললে, “হু।”

—“এই গাঁয়ে আগে খুব বন-জঙ্গল ছিল। ঐ সাতগেছের দক্ষিণে বিলের ধারে থাকত ডাকাত। আমার শ্বশুরবাড়ি ছিল সাতগেছের পরমাকমপুরে। সেবারে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি পালকিতে। সঙ্গে ছিল মদন। আমাদের বাড়িতে সে কাজ-কর্ম করত। বিলের ধারে পৌঁছতেই বেলা ডুবে গেল। আর, বিলের পাড়ে জঙ্গল থেকে ‘হা–রে—রে—রে’—করে বেরিয়ে এল একদল ডাকাত। পালকির দরজা বন্ধ। তবুও সেই মাঘমাসের ঠাণ্ডায় ভয়ে গা দিয়ে ঘাম বেরুতে লাগল। গা-ভরা গয়না আমার। এমন সময়ে মদন হাঁক দিয়ে উঠল, 'তফাৎ থাক্‌। জানিস্! পালকিতে চৌধুরী মশাইয়ের নাতনী আছে।’ অমনি সব চুপ। বেহারারা পালকি কাঁধে ভয়ে ছুটচে। মদনা আবার হাঁক দিলে, ‘ভয় নেই। আস্তে চল্!’ তারপর পালকির দরজায় এসে আমায় বললে, 'কোন ভয় নেই দিদি। বেটারা সব গা-ঢাকা দিয়েচে।’ তবুও কি আমার ভয় যায়?”

ভোম্বল জিজ্ঞেস করলে, “চৌধুরীমশাই কে?”

—“আমার ঠাকুরদাদা। তিনি নাকি নিজেই একটা ডাকাতদলের সর্দার ছিলেন। ছোটবেলায় আমাদের এই জোড়াবটতলার দু-এক বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। কিন্তু আমাদের বাড়ির ত্রিসীমনায় কেউ ঘেঁষত না। ঠাকুরদার চেহারা ছিল খুব দশাসই—”

মালতী অনুযোগের সঙ্গে ও কাঁদ কাঁদ গলায় বলে উঠল, “আমার ঘুম ভাঙিয়ে দিলে—এ!”

“আচ্ছা—আচ্ছা—আর কথা কইব না। তোরা ঘুমো” বলে পিসীমা চুপ করলেন।

ভোম্বল পিসীমার গল্পটি ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল।

সকালে উঠে সে কাউকে কিছু না বলে গ্রামের শিশির ভেজা পথ দিয়ে খানিকটা ঘুরে এল। তখন গাছের মাথায় রোদ ঝিক-ঝিক করছে। পথের ধারে খেজুর গাছে একজন গাছি উঠে পাতা ঝুড়ছে। এর পর চাঁছ দেবে। জন দুই জেলে জাল কাঁধে নদীর দিকে চলেছে। ঐ দেখা যায় নদী। পথের এপাশে ওপাশে ক্ষেত, ঘর-বাড়ি। ঐ চলেছে গোরুর গাড়ি। ঐ যে জলায় নাল ফুলের মেলা। কিন্তু ভোম্বল আর এগোল না; ফিরে এল। এসে দেখে সবাই তার জন্যে উদ্বিগ্ন। কিন্তু তার সেখানে আর থাকতে ভালো লাগছে না। বাড়ির জন্যে মন ব্যাকুল, তবুও সে খাওয়া-দাওয়া সেরে যখন রওনা হল, তখন বেলা দুপুর।

সে মুহুরিমশাইয়ের স্ত্রী ও পিসীমাকে প্রণাম করলে। কিন্তু তার মন হঠাৎ কেমন যেন বিষণ্ন হয়ে গেল।

দুজনেই তার থুৎনি ধরে চুমো খেয়ে আশীর্বাদ করে বললেন, “আবার এস।”

পিসীমা বললেন, “বুড়িকে ভুলে যেও না, দাদু।”

মুহুরিমশাই তাকে নৌকোয় তুলে দিতে সঙ্গে চললেন। তাঁদের সঙ্গে চলল সেই লাল রঙের কুকুরটি।

ভোম্বল যেতে যেতে পিছন ফিরে দেখলে, পিসীমারা পথে এসে দাঁড়িয়েচেন ; মালতী দাঁড়িয়ে আছে, পথের ধারে ঝাঁকড়া আমগাছটির ছায়ায়। তার বড় বড় চোখ দুটি ও কপালের ওপর কোঁকড়া চুলগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ভোম্বলের মনে হল, সে যত গ্রাম দেখেচে তার মধ্যে এই গ্রামখানিই সবচেয়ে সুন্দর।

ভোম্বল নৌকোয় উঠতেই মাঝি নৌকো ছেড়ে দিলে। মুহুরিমশাই ঘাটের ওপর থেকে বললেন, “সাবধানে যেও কুকুরটিও নৌকোর দিকে তাকিয়ে রইল।”

মূর্তি দুটি ও ঘাট ছোট হতে হতে সবুজ গাছপালায় গেল মিলিয়ে। নৌকোও বাঁক ঘুরে আর একটি বাঁকের কোল দিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল। ভোম্বলের মনে হতে লাগল সে নৌকোয় একা বসে আছে। তার সামনে ও পিছনে একটানা জলের স্রোত চলেছে।

যখন বেলা ডুবে আসচে, ভোম্বলের চোখে পড়ল, দুর্গাপুরের রেলস্টেশন, বাজার ঘর-বাড়ি, কাঁইয়াদের কাঠগোলা কূলে পড়ে আছে বড়ো বড়ো শালের গুঁড়ি। তারপর এল গোয়ালা পাড়ার ঘাট। ঐ ছোট একটা পাক, জল ঘুরছে। মাঝি কৌশলে পাক কাটিয়ে এগোতেই বাঁ-ধারে দেখা গেল, তাদের আমলাপাড়ার ভাঙা ঘাট। ওপর থেকে পথ নেমে এসেছে জল অবধি।

ভোম্বল ছইয়ের ভেতর থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে বললে, “মাঝি, ওই ঘাটে লাগাও। ওই কাঁঠালগাছ—”

ঘাটের বাঁ-ধারে জামতলা। তারপর পথ। পথের ধারে, নদীর পাড়ে সেই পুরানো বাঁকা কল্‌কে ফুলের গাছটি। কতদিন সে নির্জন দুপুরে ওর ওপর উঠে নদীপারে ঝাউবনে ঢাকা জনহীন বিশাল চরখানির দিকে তাকিয়ে একা বসে থেকেচে, কল্‌কে ফুলের মধু খেয়েছে। তখন দূর থেকে ঘুঘুর ডাক ভেসে আসে, জামের পাতা হাওয়ায় খসখস্ করে।

কিন্তু ঘাটের ওপর কাঁঠালতলায় দাঁড়িয়ে ঐ যে কারা? নৌকো ঘাটে লাগবার আগেই সে চিনতে পারলে। দাঁড়িয়ে আছে তার খুড়তুতো বোন, রানীদিদি ও তার বন্ধু পদ্মদিদি। চরমাদারীপুরের পথে ওরই বাড়িতে সে একরাত্রি ছিল। দুজনেই তাহলে শ্বশুরবাড়ি থেকে এসেছে? কিন্তু রানীদিদির ছেলে খোকন কই?

ঘাটে নৌকো লাগতে না লাগতেই এক লাফে ডাঙায় নেমে ওপরে উঠতে উঠতে সে শুনতে পেল, কে যেন বলছে, “কে রে? ওমা, এ যে ভোমলা!”

ভোম্বল ওপরে উঠে তাড়াতাড়ি দুজনের পায়ের ধুলো নিতেই রানী দিদি বলে উঠল, “সুবুদ্ধি হয়েছে? বাবা ভালো আছেন?”

“হুঁ।” তারপর ঘাটের দিকে ফিরে বললে, “সুচি, জিনিস-পত্তরগুলো নিয়ে আয়? আমি বাড়ি যাচ্ছি।”

রানীদিদি বললে, “ও কি করে বাড়ি চিনবে? সঙ্গে নিয়ে যা।”

ভোম্বল বললে, “তুমি দেখিয়ে দাও না।”

তারপর বাড়ির দিকে চলতে চলতে চেঁচিয়ে বললে, “পদ্মদি, জামাইবাবুকে চরমাদারীপুরে দেখেছিলাম। সাইকেলে মানকচু বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিলেন—”

পদ্মদিদি খিল্‌খিল্ করে হেসে উঠে বললে, “কি দুষ্টু ছেলে রে বাবা! ও কাউকে কিছু না বলে ভোরবেলা চলে যেতে আমার শ্বাশুড়ী তো ভেবেই সারা—”

ভোম্বল আর কিছু শুনতে পেল না।

রাতে খেয়ে-দেয়ে বিছানায় শুতেই এই ক'দিনের ঘটনা তার মনে আপনা থেকেই জেগে উঠল । কত নতুন লোক, কত নতুন গ্রাম সে দেখলে, বাড়ি ফিরে পদ্মদিদিকেও সে দেখতে পেল, কিন্তু শালুকভাঙার সেই বুড়ীর দেখা পেল না! সে হয়তো এখনও তাকে গ্রামের পথে খোঁজে। কিন্তু ভোম্বল কি আর কোনও দিন সে পথে যাবে?

দ্বিতীয় খণ্ড শেষ

সকল অধ্যায়
১.
পলাতক
২.
অন্ধকারে
৩.
পথে
৪.
দেশছাড়া
৫.
শালুকডাঙায়
৬.
অদ্ভুত কীর্তি
৭.
বুড়ীর বাড়ি
৮.
যুদ্ধ
৯.
পাঠশালায়
১০.
কাছিমদহর হাটে
১১.
পুঁটিমারীর পথ
১২.
ভোজ
১৩.
যাত্রা
১৪.
পদ্মদিদির শ্বশুরবাড়ি
১৫.
কান্তিনগরে
১৬.
চরমাদারিপুরের বারোয়ারিতলায়
১৭.
নায়েব মশাইয়ের কাছারি বাড়ি
১৮.
চরমাদারীপুরের বাজারে
১৯.
জুতোর কারখানায় ও কাপড়ের দোকানে
২০.
বাদলার মেঘ ও সোনালী রোদ
২১.
নাটকের মহড়া ও পরের ঘটনা
২২.
পাগলাপাড়া ও দরগাবাড়ি
২৩.
দুই যোদ্ধা
২৪.
রাখাল ও ভোম্বলের স্বপ্ন
২৫.
গোরুর গাড়িতে
২৬.
নৌকো চলে
২৭.
ভাঙা হাটে
২৮.
কৃষ্ণপুরে নদীর কূলে
২৯.
সাতগেছে জোড়াবটতোলে
৩০.
দুর্গাপুরের পথে
৩১.
ঘরে ফেরার পরে
৩২.
পল্লীতে বন্ধুমহলে
৩৩.
কুলচারা গাঁয়ের পথে
৩৪.
কুলচারা গাঁ
৩৫.
নতুন কথা
৩৬.
আব্দুলপুরের মেলার পথে
৩৭.
নতুন পথ ধরে আগের লক্ষ্যে চলা
৩৮.
খোলসাপুরের পথে ও বন্ধুর বাড়ি
৩৯.
পথের শেষে
৪০.
মালঞ্চ গাঁয়ে
৪১.
জটা গাঁয়ের পথে
৪২.
চাটুয্যে বাড়ি
৪৩.
স্টেশনের পথে
৪৪.
স্টেশনে দুই আলাপি
৪৫.
হঠাৎ দেখা পথের মাঝে
৪৬.
বন্ধুর বাড়ি
৪৭.
চলার পথে
৪৮.
শুধু পথ আর পথ
৪৯.
টাটা নগরের পথে
৫০.
যাত্রা শেষ

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%