স্টেশনের পথে

খগেন্দ্রনাথ মিত্র

ভোম্বল তখন হনহন করে হেঁটে চলেছে আড়ানি স্টেশনের দিকে।

যে পথে সে এসেছিল, চলেছে সেই পথ ধরে। যেতে যেতে সে বার কয়েক পিছন ফিরে লক্ষ করলে যতদূর দেখা যায়, না, সুধীর আসছে না। তবু বিশ্বাস নেই। কিন্তু এমন একটি পথ বা পথের অংশ তার চোখে পড়ছে না, যেটা ধরে গেলে দূর থেকে তাকে দেখা যাবে না।

প্রায় গাছপালাশূন্য পথটির দুপাশে খেত। বেশির ভাগেরই ধানকাটা প্রায় সারা। গাছগুলোর শুকনো গোড়াগুলো মাত্র রয়েছে। খেতগুলোর আলে আলে পায়ে চলা পথ গেছে ঘুরে ফিরে। এ-ধারে, সে-ধারে চৈতালি ফসলের ফুল ও কচি শুঁটি ভরা ছোটো বড়ো খেত। মাঝে মাঝে দুটি-একটি গাছ - বাবলা, আম, তাল বা খেজুর দাঁড়িয়ে আছে প্রকাণ্ড ছাতা বা প্রহরীর মতো। দূরে দূরে ধোঁয়াটে গ্রাম। এক জায়গায় মনে হচ্ছে যেন একটা জলায় জল চিকচিক করছে। ওই বক উড়ছে। পথটি বোধ হয় নতুন। তাই ধারে ছায়াতরু নেই।

সমুখে, পশ্চিমে আধ-রাঙা সূর্য বেলাশেষের রং মাঠে মাঠে লেপে দিয়েছে। ভোম্বলের পিছনে, বলতে গেলে প্রায় পাশেই তার সঙ্গে সঙ্গে চলেছে তারই লম্বা -অনেক লম্বা-ছায়া। খানিক পরে সূর্য ডুবে যাবে, অন্ধকার নামবে। তখন সে যাবে কোথায়? ওই যেন দেখা যায়, সেই বটতলা। সুধীর আসতে আসতে বলেছিল, রেলস্টেশন আড়ানি ওখান থেকে সওয়া ক্রোশ মানে দু-মাইলের ওপর। বটগাছটা মনে হচ্ছে, এখন প্রায় আধমাইল দূরে। তার মানে রেলস্টেশনে পৌঁছতে তার এখনও আড়াই মাইল, প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার মতো লাগবে।

সূর্য ডুবতে বড়োজোর আর আধঘণ্টার মতো। ওই তো ক্রমে গাঢ় রাঙা হয়ে উঠেছে। পাখিরা বাসায় ফিরছে একা বা জোড়ায়; ওই চলেছে ডানা দুলিয়ে বকের সারি। আলোর পথে ঘাসের বোঝা মাথায় চাষি বা চাষিবউ চলেছে গ্রামের দিকে। সব কেমন নিঝুম। স্টেশনের দিকে যেতে যেতেই পথে সন্ধ্যা নামবে। তারপর রাত। পথের চিন্তাই তার মনে। সুধীরের মামার বাড়িতে যে আচরণ সে পেয়েছে তার দুঃখ ও অপমানের বেদনাকে চেপে রাখলেও মাঝে মাঝে তা মনে ঠেলে উঠছে। কোনওদিন আর কারো বাড়ি সে যাবে না, পথের ধারেই কোথাও রাত কাটাবে, এটা স্থির করেও কেন সে গেল? দুপুরে অবজ্ঞায় ধরে দেওয়া ভাত তরকারি সে পেটভরে খেতে পারেনি, বিস্বাদ লেগেছিল। এখন পথ চলায় খুব খিদে বোধ হচ্ছে।

এদিকে বটতলায় পৌঁছতেই সূর্য ডুবল, আকাশে সন্ধ্যাতারাটি ফুটে উঠে স্থির চোখে তাকিয়ে রইল। শীতের বাতাস মুখে-চোখে বিঁধছে। ওই যেন সেই দোকানে কেরোসিনের ঢিবরি জ্বলে উঠল। কাঠের উনুনটায় এখন আর মুড়ি ভাজা হচ্ছে না, একটা হাঁড়ি চাপানো রয়েছে। তার তলা থেকে আগুনটা মাঝে মাঝে লকলকে জিভ বার করছে, যেন হাঁড়িকেই গিলতে চাইছে।

ভোম্বল সকালে লক্ষ করেনি যে দোকান-ঘরের পিছনে রয়েছে একটা ঢ্যাঙা খেজুর গাছ। এখন দেখলে, একটা লোক একটা কলসির দড়ি ধরে গাছটার গলা থেকে নামছে। নিশ্চয় হাঁড়িটাতে সাঁঝের রস আছে। ভোম্বলের রস খাবার লোভ হল। সাঁঝের রস ভারি মিষ্টি ও গন্ধ ভরা। কিন্তু রসে তো খিদে মরবে না। তা ছাড়া লোকটা রস নাও বেচতে পারে, হয়তো জ্বাল দিয়ে গুড় বা তাতারসি করবে। ভোম্বল দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দেখলে, সেই বুড়ো দোকানদার গায়ে-মাথায় সুতির চৌখুপি চাদর জড়িয়ে উবু হয়ে বসে ডাবা হুঁকোতে তামাক খাচ্ছে। এখন সেই বুড়ি আর সেই মেয়েটি নেই।

দোকানদার ভোম্বলকে দেখে বললে, ‘কী চাই?’

ভোম্বল যেন না ভেবেই বললে, ‘চিঁড়ে-গুড়।’ -

—‘চিঁড়ে নেই – বলেই জিজ্ঞেস করলে, ‘তুমি সকালে এয়েছিলে নয়?’

ভোম্বল বললে, -‘হ্যাঁ।’

—‘এখন কোথা চলেছো?’

ভোম্বল বললে, ‘আড়ানি।’

দোকানদার জিজ্ঞেস করলে, ‘সঙ্গী আছে।’

—‘সঙ্গী? একা যাওয়া যাবে না?’

—‘যাবে না কেন? তুমি ছেলে-মানুষ। আঁধার রাত। এদিকে কোথা গিয়েছিলে?’

—‘জটাগাঁয়ে চাটুয্যে-বাড়ি।’

—‘ছিধর চাটুয্যে তোমার কে হয়?’

ভোম্বলের বিরক্তি বোধ হল। একটু রুক্ষভাবে জবাব দিলে, ‘কেউ নয়।’

—‘তবে যে লোকটার বাড়ি গিয়েছিলে?’

ভোম্বল জবাব না দিয়ে দোকানের সামনে থেকে সরে আসতেই দেখলে হাঁড়ি হাতে সেই লোকটি তার পিছনে এসে দাঁড়িয়ে বললে, ‘কালীখুড়ো চলি। আজ রসের জোগান অল্প। গলা পারেনি।’

দোকানদার বললে, ‘জিরেন দে। কদিন জাড়টা একটুকু কম। আজ কটা নামালি?’

—‘চারটে। বনমালী উদিকে অপিক্ষে করছে। খ্যাপা শিয়ালের উৎপাত হয়েছে - ওর কাছে ননঠন আছে। আলো দেখেও ডরায় না। সেদিন তো জব্বর আলিকে কামড়ে দেয় আর কি! ওরা ছিল চারজন। আসছিল কাঁঠালের থেকে। জব্বরের ভাই ছুকুর শিয়ালটার পিঠে দিলে এক ঘা। তবে না শালো পালায়।’

দোকানদার বললে, “খবরটা শুনেছি। হ্যাঁ দ্যাখ রসকে, তোরা তো যাবি আড়ানির আগে ভাজনায়। এই ছোকরা যাবে আড়ানি। সাথে নিয়ে যা। ছোকরা বিদেশি, আসছে জটা থেকে।”

লোকটা ভোম্বলের দিকে তাকাল; তারপর বললে, ‘ভাজনা থেকে আড়ানি পোয়াটাক। চলো।’

ভাজনার নামটা ভোম্বলের চেনা-চেনা মনে হল। কিন্তু ভাজনা কি? সে ভাবতে ভাবতে চলল। সামনে খানিক তফাতে একটা আলো দেখা যাচ্ছিল আলোটার কাছাকাছি হতেই ভোম্বল দেখলে, আলোটার একটু আগে দুটি লোক দাঁড়িয়ে আছে।

শূন্যে জোনাকির মতো একটু আগুনের ফোঁটা, মাঝে মাঝে উজ্জ্বল হয়েই অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। আর, পথে মাটিতে দুটো লম্বা ছায়া আছে লেপটে।

হঠাৎ লোক দুটো হইহই করে উঠল। আর একটা শিয়াল লাফ দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। দুজনে আলোর আরও কাছে যেতেই লোক দুটির একজন হেঁকে উঠল, ‘রসিক নাকি?’

-‘হ্যাঁ।’

-‘পা চালিয়ে এসো। শালোর শিয়াল নেগেছে–’

রসিক ও ভোম্বল তাদের কাছে পৌঁছতেই যে লোকটি রসিকের নাম ধরে ডেকেছিল সে জিজ্ঞেস করলে, ‘সঙ্গে ও কে?’

রসিক বললে, ‘জটা থেকে আসছে, যাবে আড়ানি।’

—‘বাজারে?’

—‘রেলেই চাপবে বা!’

ভোম্বল দেখলে, মাটিতে তিনটে বাঁক। একটার দু-মুড়োয় দুটো কলসি। অপটার এক মুড়োয় একটা কলসি। তার খালি মুড়োটায় হাতের কলসির দড়ি গলাতে গলাতে যে রসিককে ডেকেছিল তার পাশে দাঁড়িয়ে যে পাগড়িবাঁধা লোকটা বিড়ি টানছিল রসিক তাকে জিজ্ঞেস করলে, ‘কি গো উস্তাদ। আজ কটা চিড়িয়া পাকড়ালে?’

ভোম্বলের মনে হল, তৃতীয় বাঁকটার দুমুড়োয় যেন দুটো কাপড় ঢাকা খাঁচা রয়েছে আর লোকটার হাতে রয়েছে গোটা কয়েক বাঁশের নল। ওই নল দিয়ে ও বোধ হয় পাখি ধরে। লোকটা পাখির খোঁজে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘোরে, গাঁয়ের এ-পথে ও-পথে যায়। লোকটার সঙ্গে তার ভাব করতে ইচ্ছে হল। হঠাৎ তার মাথায় এল পাখি ধরবার মতলব। সে যদি পাখি ধরে হাটে-বাজারে, কি শহরের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বিক্রি করে, সেই পয়সা জমিয়ে রেলের ভাড়া, খাবার খরচ জোগাড় করতে পারে, তাহলে টাটানগরে যাওয়া কিছু কঠিন হবে না। সে তাদের বাড়ির উঠোনে মুড়ি ছড়িয়ে, কি ফড়িং মেরে রেখে কয়েকবার ধামা চাপা দিয়ে দোয়েল বা বুলবুল ধরার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি।

বাঁকে দড়ি গলিয়ে রসিক বললে, ‘বনমালীদা, চলো রওনা দিই। ওগো খোকাবাবু, তুমি আমার পিছে এসো।’

বনমালী কাঁধে বাঁক হাতে লণ্ঠনটা নিয়ে চলতে শুরু করলে। তার পিছনে ভোম্বল। তার পিছনে পর পর রসিক ও ওস্তাদ চলতে লাগল। তাদের প্রায় কোমর অবধি ছায়া পথে, বাকিটা যেন শূন্যে শূন্যে চলল৷ পথের দুপাশে কালো পাথরের উঁচু পাঁচিলের মতো অন্ধকার গ্রাম। তার গায়ে দুটি-একটি আলো; মাথার ওপর কালো আকাশ-ভরা তারা থরথর করে জ্বলছে, কাঁপছে, দুলছে, নিবছে। দূরে যেন কোথায় শিয়াল ডেকে উঠে জানিয়ে দিলে এক প্রহর রাত হল।

চারজনে একটু জোর কদমে চলছে। পথটা ধুলোয় ভরা। ভোম্বলের জুতোর ভেতরে ধুলো ঢুকছে। তাতে অস্বস্তি বোধ হচ্ছে। তার সঙ্গীদের কারো পায়েই কিন্তু জুতো নেই। ওরা দিব্যি এগোচ্ছে, আর মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে একটা-দুটো কথা কইছে। তারার আলোয় পথ ও তার দুপাশের যেটুকু আন্দাজ করা যায় তাতে ভোম্বলের মনে হল, তার ডানদিকের কালো প্রাচীরটা যেন অনেকটা কাছে এসেছে; তার গায়ে জোনাকিগুলো বেশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, কাঠ ও শুকনো পাতা পোড়ার সিঁটকে গন্ধ নাকে লাগছে। একটা কুকুর যেন কোথায় ডেকে উঠল। একটা লোকের অস্পষ্ট গলা শোনা গেল। ওই যেন একটা কুবো ডাকছে - কুব-কুবকুব।

কতক্ষণ ধরে হাঁটছে, পথটা বাঁকা কি সোজা ভোম্বল আন্দাজ করতে পারছে না, কিন্তু খিদেয় যে পেট জ্বালা করছে, এটা বেশ বুঝছে। তাতে একটু কষ্টও হচ্ছে। হঠাৎ দেখলে, সমুখে দূরে আলো, একটা নয়, যেন কয়েকটা।

রসিক বললে, ‘বনমালীদা, আর কয়েকটা গাছ জমা নিতে পারলে হত। ছিপতি দত্তর মাঠের পুবের গাছ তিনটে গত সনে দিয়েছিল, এবার আর দিলে না লোকটা ভারি সেয়ানা। তেমনি পাড়ার ছোঁড়াদের কাছে জব্দ হয়েছে। ওরা রেতে কলসি পাড়ে। ও পাহারা বসিয়েছিল। কিন্তু ইস্কুলির ছাত্তরদের সঙ্গে এঁটে ওঠা দায়।’

বনমালী বললে, ‘আমার মাসিতো একটা ভাই, ইস্কুলি পড়ে, এই খোকার বয়সি হবে। তার চোখে-মুখে কথা। সে আবার গ্যাট-ম্যাট করে ইংজিরি বলে। ও নাকি ছাত্তরদের সদ্দার।’

রসিক বললে, ‘আমাদের ছেলে বয়সে ইদিক পানে ইস্কুল-পাঠশালা ছিলই না। চাষার কাজে ওর দরকারই বা কি? ওতে পেট ভরে না। ছোটোবেলায় পেটভাতায় রাখালি করতাম, এখন গাছ-চাঁছি। তবে কথা কি জানো? এতেও পেট ভরে না। দু-একখানা ভুঁই যদি থাকত -’

বনমালী বললে, ‘তারও জ্বালা রে ভাই! যাদের বেশি থাকে তাদের কথা আলাদা। দু-চার বিঘেয় কি হয়? আমার এক সুমুন্দি গাঁয়ে মজুর খাটত। তাতে সোমবচ্ছর চলত না। ওই আড়ানির একজনের সঙ্গে সলা করে যায় কলকাতায় কলে কাজ করতে। পাটকল, না তেলকল, মানে গঙ্গার ধারে কোথায় -’

ভোম্বল কান খাড়া করে বনমালীর কথা শুনছিল। সে মনে মনে বললে, ‘পাটকল, তেলকল আবার কি? ওখানে কি তৈরি হয়? কল তো টাটায়। এরা একেবারেই গেঁয়ো।’

রসিক বললে, ‘হুঁ।’

পাখিওয়ালা বললে, হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে, ‘কারখানা তো টাটা। উ-ইলাকা কা পাহাড়-জঙ্গলমে হামি ঢুঁড়েছি। বাংলা মুলুক কা মাফিক এতনা চিড়িয়া নেহি। বাংলা মুলুকের কারখানা টাটা মাফিক ভারী নেহি। তোম যাকে দেখো।’

ভোম্বল মনে মনে বললে, সেখানেই তো চলেছি। লোকটার উপর ভোম্বলের শ্রদ্ধার ভাব জন্মাল। ওর সঙ্গে কিছুক্ষণ যদি আলাপ করতে পারে তাহলে টাটা সম্বন্ধে অনেক কথাই জেনে নেবে; আর জেনে নেবে পাখি ধরার কলা-কৌশল। কিন্তু তখন ভোম্বল ওর বেশি আর ভাবতে পারলে না বা ভাবলে না।

রসিক বললে, ‘খোকাবাবু, উই দেখা যায় বাজারের আলো। ওর পরই আড়ানির ইসটিশান। তুমি যাবে কোন দিকে - দক্ষিণে না পুবে? আমরা বাঁয়ের পথ ধরবো। এই আমাদের গাঁ - ভাজনা।’

ভোম্বল সোজা জবাব না দিয়ে বললে, ‘এখন গাড়ি পাবো কি?’

—‘তা কি জানি? রাতে গাড়ি চলাচলের হুড়হুড়নি তো শুনি। আচ্ছা, অস্তাদজি, ছালাম।’

বনমালী ও রসিক বাঁয়ের পথে চলে গেল। ভোম্বল দেখলে, বনমালীর লন্ঠন দুলতে দুলতে গ্রামে ঢুকে গেল। এবার চার ধারে গাঢ় অন্ধকার। এমন অন্ধকার অচেনা পথে সে কখন চলেনি। মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করলে, ‘অস্তাদজি, তুমি টাটার কারখানায় কাজ করো না কেন?’

পাখিওয়ালা কি একটা জবাব দিলে, ভোম্বল বুঝতে পারলে না। ঠিক সেই সময়ে তার কানে এল রেলের ইঞ্জিনের সিটির শব্দ এবং একখানি গাড়ি যেন হুড়হুড় শব্দে চলেও গেল। পৌষের সেই কনকনে ঠাণ্ডার রাতে গ্রামের অন্ধকার নির্জন পথে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ তখন বোধ হয় চলছে না। যে যার মতো ঘরে ঢুকে যা হোক একটু আরাম করছে। পথ চলায় কষ্ট হলেও ভোম্বলের মন কিন্তু উৎসাহে ভরা!

যে আলো দূরে দেখা যাচ্ছিল তারা তার কাছে পৌঁছতে পৌঁছতেই দেখলে - সেখানে আরও আলো রয়েছে - হ্যারিকেন, ঝোলানো আলো, ঢিবরি, লন্ঠন। জায়গাটি ঠিক বাজার নয়, পথের দু'ধারে কতকগুলো ছোটো-বড়ো দোকানের সারি। ঘরগুলো কাঁচা, পিছনে বড়ো বড়ো গাছপালা, বাঁশঝাড়। আর খানিক দূরে যেন পথের মাঝে দূরে দেখা যাচ্ছে একটা টকটকে লাল আলো। সেদিক থেকে একটা লন্ঠন দুলতে দুলতে আসছিল। টকটকে লাল আলোটা যে রেলগুমটির, এটা ভোম্বলের বুঝতে পারলে। ওর ডাইনে বা বাঁয়ে রেলস্টেশন হবেই। রাতে নিশ্চয়ই যাত্রীগাড়িও চলে। তবে রাতের গাড়িতে না গিয়ে সে দিনের গাড়িতেই যাবে। পাখিওয়ালার কাছ থেকে পথের হদিস জেনে নেবে। মনে হচ্ছে লোকটা অনেক খবর রাখে। ওর কাজে কত পথ-ঘাট যে ঘুরতে হয়। পাখি ধরা কি সহজ? মাটির মানুষকে পাকড়াতে হয় আকাশচারীকে। আবার তাকে ঘুরে ঘুরে বেচতে হয়, শৌখিনদের কাছে। লোকটা অত বড়ো কারখানাটার খবর জেনেও কেন তাতে কাজ করে না? যাক এ সব কথা।

এখন চাই খাবার। খিদের জ্বালা তার পেটে বেশ প্রখর হয়ে উঠল। সেই সঙ্গে মনে ভেসে উঠল সুধীরের মায়ের ম্লান মুখখানি ও কথা কয়টি, ‘সারাদিন পেটে খিদে নিয়ে থাকবি রে বাবা!’ এই স্মৃতি তার মনে একটু দুঃখ, সেই সঙ্গে আরাম ও দিলে - স্নেহ ভালোবাসার আরাম। ভোম্বল কি কখনো ভাবে, যে এদেশের বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ের পেটেই খিদে থাকে, দেহ অপুষ্ট? সে অত খবর রাখেই না। কোন ছেলেই বা রাখে?

সে একটু অন্যমনস্ক হয়েছিল, তাই দেখতে পায়নি, পাখিওয়ালা তার বিপরীত দিকে একখানি খাবারের দোকানে সামনে গিয়ে তার বাঁকটি নামিয়ে রাখছে। সেও তৎক্ষণাৎ তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।

দোকানঘরখানি বেশ বড়ো ও টিনের। ভেতরে ওপর থেকে দুটি আলো ঝুলছে, সামনেও ঝুলছে একটি আলো। সেজন্যে দোকানের ভেতরে ও সামনে বেশ একটু আলো হয়েছে। তার একদিকে জিলিপি সিঙাড়া জিভেগজা ও মেঠাই সাজানো। মস্ত কড়াইয়ে রসে ভাসছে রসগোল্লা। আর একদিকে হাঁড়ি-কলসি জালা। সেগুলোতে হয়তো রয়েছে চিঁড়ে-মুড়ি-বাতাসা-মুড়কি ইত্যাদি।

ঘরের মাঝখানে মাটিতে রয়েছে বারকোষে জলিপি - গজা ইত্যাদি খাবার সাজানো। একটি সতেরো আঠারো বছরের ছোকরা বলছে, ‘পিসিনজাররা জাড়ের ভয়ে কামরার জানলাই নামায় না তো খাবার কিনবে কি?

ভোম্বল বুঝতে পারলে, এই দোকানের খাবার রেলগাড়িতে চলতি যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা হয়।

পাখিওয়ালা এক ঠোঙা ‘চুড়া-বাতাসা’ কিনে দোকানের সামনে বেনচিতে বসে চিবতে চিবতে ভোম্বলকে জিজ্ঞেস করলে, ‘খোঁকা, তুমি খাবে না?’

ভোম্বল বললে, ‘হাঁ’ এবং সেও চার পয়সার ‘চুড়া বাতাসা'র ফরমায়েশ দিয়ে তার পাশে বসে জিভেগজার দিকে বারবার তাকাতে লাগল।

দোকানদার বললে, ‘নেবে? একটু আগে তৈরি হয়েছে - ভালো।’

কিন্তু ভোম্বলের পকেটে যা আছে তা তার পছন্দমতো খাবার খেতে গেলে শূন্য হয়ে হাবে। তারপর?

পাখিওয়ালা আচমকা জিজ্ঞেস করলে, ‘কি দাম আছে?’

-‘দু'পয়সা করে। দেবো?’

-‘হ্যাঁ। দোঠো। একঠো ইসকো দো -’

দোকানদার ঠোঙায় চুড়া-বাতাসার সঙ্গে একখানি জিভেগজা দিয়ে ভোম্বলকে বললে, ‘ধরো।’


ভোম্বল যেমন অবাক, তেমনি অভিভূত হল। এক পথের আলাপি বিদেশি পাখিওয়ালার এত দরদ? ভোম্বল ঠোঙাটা হাতে নিয়েই জিভের মতো দেখতে, মস্ত, পাতলা, সদ্য জমাট রসে ঢাকা নরম ও সাদা গজাখানিতে কামড় দিয়ে ভারি আরাম ও আনন্দ বোধ করলে। তার খিদে আরও জেগে উঠল। সে খাঁচার পাখিগুলোর খবর নেবার আগেই পাখিওয়ালা বাতাসায় কট করে কামড় দিয়ে বললে, “তোমারা মাফিক হামার একঠো ভাই আছে। ও ইস্কুল মে পড়তা। হামি কুছকুছ বাংলা বলতে পারে। ইখান থিকে দেশে রুপেয়া ভেজি।’

ভোম্বল জিজ্ঞেস করলে, ‘তোমার ঘর কোথায়?’

—‘মোতিহারি জিলা। ইখান থিকে বহুত দূর। গণ্ডক নদীকা নাম জানে?

—‘হাঁ-হাঁ - হিতোপদেশে ব্যাধ, ইঁদুর আর পায়রার - গল্প পড়েছি। ওর তীরে বন। নদীটার ধারে পাহাড়ও আছে। সেই পাহাড়ের পাথর ভেঙে গণ্ডকের জলে পড়ে। তারপর শালগ্রাম শিলা হয়। নদীটার খুব স্রোত। তাই নয়?’

-‘বন? হাঁ হাঁ - জঙ্গল, পাহাড়, পানি মে বহুত জোর টান।’

ভোম্বল আরও কিছু জিজ্ঞেস করবার আগেই গায়ে মাথায় ধোসা জড়িয়ে যে লোকটি ভেতরে চৌকিতে একটি কাছের হাত-বাক্স সামনে নিয়ে বসেছিলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘খোকা, তোমার বাড়ি কোন গাঁয়ে? ট্রেন থেকে নামলে?’

ভোম্বল বললে, ‘ট্রেনে যাবো।’

-‘রাতের ট্রেনে? একা? কোথা যাবে? কোন গাঁয়ে বাড়ি?’

ভোম্বল এতগুলো প্রশ্নে প্রথমটা যেন ঘাবড়ে গেল। কোনটার জবাব আগে দেবে ঠিক করতে পারলে না। সাজিয়ে-গুছিয়ে মিথ্যে বলাটা তার রপ্ত হয়নি; সে যা বলে, সব সোজা। তার ফল যা-হোক। সে-কথাটার সত্যতা বোঝাতে ঠাকুর-দেবতার দিব্যিও করে না। ওটা মিথ্যাকে সত্য বলে বোঝাবার কৌশল। বেপরোয়া ভাবটা তার স্বাভাবিক। কিন্তু লোকটির কাছে সত্যি যা তা বলতে তার ইচ্ছা হল না। কেবল শেষ প্রশ্নতির জবাব দিলে, ‘বাড়ি দুর্গাপুর।’

—‘দুর্গাপুর! এদিকে তো ও নামে কোনো গাঁ নেই। তুমি কোন গাঁয়ে কার বাড়ি এসেছিলে?’

ভোম্বলের ভারি বিরক্তি বোধ হল। মনে হচ্ছে, লোকটি ভদ্রলোক। তাই এত কৌতূহল। বুড়ো চাষিরা এত প্রশ্ন করে না। তবুও জবাব দিলে – ‘জটাগাঁয়ে - শ্রীধর চাটুয্যের বাড়ি।’

আবার প্রশ্ন, ‘চাটুয্যে তোমার কে হয়?’

ভোম্বল বিরক্তির সঙ্গে বললে, ‘কেউ নয়।’

লোকটির কৌতূহল যেন আরও বাড়ল; এবং কতকটা নিজের মনেই বললেন, ‘কেমন যেন গোলমাল ঠেকছে! এইটুকু ছেলে অন্ধকার রাতে গাঁয়ের পথে একা, সঙ্গে একটা হিন্দুস্থানি পাখিওয়ালা। ওরা তো ব্যাধ, পাখি ধরে বেড়ায়। ছেলেটাকে ভুলিয়ে চা-বাগানে নিয়ে যাচ্ছে নাকি?’

তিনি চৌকি থেকে নেমে চটি ফটফট করতে করতে ভোম্বলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘তোমাদের সঙ্গের লোকটি বাঙালি নয় - মেড়ো ব্যাধ। ওদের দয়ামায়া নেই; পয়সার জন্যে সব পারে। ওর সঙ্গে কোথায় যাচ্ছ? আমার কেমন ধাঁধা ঠেকছে। ও নিজের পয়সা দিয়ে গজা কিনে তোমায় খাওয়াচ্ছে। এমন ব্যাপার তো আমার পঞ্চাশ বছর বয়সেও দেখিনি। কেমন যেন মনে হচ্ছে।’

ইতিমধ্যে দোকানে দু-একটি করে কয়েকজন খরিদ্দার এসে জমেছিল। তাদের একজন বললে, ‘ছেলেটার বাড়িতে খবর দিন। বাড়ি কোথায় বলছে?’

দোকানের লোকটি বললেন, ‘বলছে দুর্গাপুর।’

—‘ইদিকে দুগগোপুর কোথায়? এক দুগগোপুর তো আছে সেই ইচ্ছামতী ছাড়িয়ে খোলসাপুরের ওধারে সে কি এখেনে? রেলেই একবেলা পথ। আর সে তো গাঙের ধারে শহর,’ বলে একজন ভোম্বলের আপাদমস্তক তাকিয়ে দেখলে।

আর একজন বললে, ‘ওর পাশে ওটা কীসের পোঁটলা? মন্মথ দ্যাখো তো?’

ভোম্বল ও পাখিওয়ালার ‘চুড়া-বাতাসা’ ও ‘জিভেগজা’ ততক্ষণে শেষ। দুজনেই মহা ফাঁপরে পড়ল। তারা দাম চুকিয়ে উঠতে যাবে এমন সময়ে মন্মথ ভোম্বলের পোঁটলায় হাত দিতেই ভোম্বল ‘আমার জিনিসে হাত দেবে না' বলে পোঁটলাটা তুলে নিয়ে আবার বললে, ‘ওতে যা-ই থাক।’ এবং যাবার জন্যে দাঁড়াল। পাখিওয়ালা বাঁকটা কাঁধে তুলে নিলে। তার মুখের ভাব কঠিন। গায়ে-পড়া পরহিতকারীদের কৌতূহলের ঠেলায় ভোম্বল ও পাখিওয়ালার দরকার সত্ত্বেও জলও খাওয়া হল না।

লোকগুলো তাদের দুজনের আচরণে এবং হইচই করার ব্যাপারটা এমনভাবে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় মনে মনে হতাশ ও রুষ্ট হল।

একজন বললে, ‘কোথায় যায় দ্যাখ।’

—‘কোথায় আর যাবে ইস্টেশান ছাড়া? চারধারে আঁধার গাঁ, বন-বাদাড়,’ বলে একজন ব্যাপারটার শেষ সেখানেই করতে চাইলে।

আর একজন বললে, ‘আমি তো ইস্টিশানেই যাচ্ছি। ওখানে পুলিশও আছে। গাড়ির এখনও ঢের টাইম’ ওদিকে - দুদিককারই।’

কিন্তু দোকানের মানুষটি তাদের সহজে ছাড়লেন না, একটু নরম ভাবে ভোম্বলকে বললেন, ‘একটু দাঁড়াও। তুমি ছেলেমানুষ। একটা বিদেশি ছোটোলোকের সঙ্গে এই রাতে তোমার বয়সি কোনও বাঙালি ছেলেকে দেখলে সন্দেহ হয়। আজকাল দিন-কাল ভালো নয়। বোমা ছুড়েছিল বলে তোমার বয়সি একটা ছেলের ফাঁসি হয়েছে। ও পোঁটলাটা কীসের?’

রুক্ষভাবে ‘দেখবেন?’ বলে ভোম্বল পোঁটালাটা দুহাতে ধরে জোরে চাপ দিলে।

পাখিওয়ালা ভোম্বলকে বললে, ‘পিয়াস লাগছে। টিশন চলি।’

লোকটি বলে উঠলেন, ‘জল খাবে? এই গোবিন্দ্‌ লোকটাকে জল দে। তেষ্টার জল। খাবারের সঙ্গে জল দিতে পারলি না?’

তারপর ভোম্বলকে বললেন, ‘চিত্রা-দুর্গাপুরে তোমার বাড়ি? ওখানে চাকিদের চেনো? হারান চাকি, তাঁর দাদা নারায়ণ চাকি? তিনি বেঁচে নেই –’

ভোম্বলের স্মৃতির দরজা হঠাৎ খুলে গেল। এই তো তার শোনা ও দেখা সেই ভাজনা। এখানে সে ও তার ছোট্ট বোনটা মায়ের সঙ্গে একবার এসেছিল। সে যে কতকাল আগে। তখন তার বয়স নাকি চার বছর। তারপর সে আর আসেনি। তবু তার মনে শ্লেটের গায়ে প্রায় মুছে যাওয়া একখানি ছবি যেন আছে, ‘বাড়ির উঠনে - সজনেতলায় ছড়ানো সাদা ফুলের আর একটা হলদে পাখির।’ এইখানেই তো তার মামার বাড়ি।

লোকটি আবার বললে, ‘নারায়ণ আমার ভগ্নীপতি। আমার বোন-ভগ্নীপতি কেউ বেঁচে নেই, মেয়েটাও নেই। তাঁদের একটা ছেলে ছিল। সে যদি বেঁচে থাকে, তোমার বয়সিই হয়েছে। তোমার বয়স কত? তোমার নাম কি?’

ভোম্বল মহাফাঁপরে পড়লে। সামনে তার মামা দাঁড়িয়ে, যাঁকে সে দেখে থাকলেও মনে নেই। কাকার মুখে এঁর কথা দু-একবার শুনেছে এবং কাকা অনুযোগও করেছেন, ‘বোন-ভগ্নীপতি মারা গেলেও ভাগ্নেটা তো আছে। একবারও তার খোঁজ-খবর করেন না।’


কিন্তু সেজন্যে ভোম্বলের মনে কোনও দুঃখ নেই। ইনি রূপকথার আঁধার রাতে ঘরের কানাচে বসে থাকা বাঘা-মামা কিনা কে জানে? সে বললে, ‘আমার নাম ভূপেন, বয়স চৌদ্দ বছর -’

—‘আমার ভাগ্নের নাম জানো? বেঁচে আছে? পড়াশুনা করে?’

-‘তারও নাম ভূপেন। আমাদের ইস্কুলে থার্ড ক্লাসে পড়ে।’

-‘তুমি পড়ো না? চাটুয্যে বাড়ি কেন গিয়েছিলে? তুমি ব্রাহ্মণ? কায়স্থ? আলাপি? বাড়ি ফিরে গিয়ে ভূপিকে আমার কথা বোলো। একদিন তাকে দেখতে যাব। এই দোকান আমার। তাকে আমার কাছে নিয়ে এসে রাখব। আমার ছেলে পুলে নেই। তুমি আজকের রাতখানা আমার বাড়িতে কি এই দোকানঘরে থাকো। এই শীতে কোথায় যাবে? সকালে রোদ উঠলে সাতটার গাড়িতে যেয়ো-’

চুড়া-বাতাসা চিবিয়ে ও উত্তেজনায় ভোম্বলের গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। সে জল চেয়ে খেয়ে ‘আমি চললাম’ বলেই কোঁচায় মুখ মুছতে মুছতে - পাখিওয়ালার সঙ্গ ধরতে অন্ধকার পথ দিয়ে তাড়াতাড়ি চলল। সেই লোকগুলো তখন সওদা নিয়ে যে যার মতো চলে গেছে।

অন্ধকারে চার হাত দূরের মানুষকেও দেখা যায় না। কিন্তু চলতে চলতে ভোম্বলের মনে হল। ওই যেন দেশলাই জ্বেলে কে বিড়ি ধরালে। মনে হচ্ছে ওস্তাদজি। তাকে ধরতে সে আরও জোরে হাঁটতে লাগল।

সকল অধ্যায়
১.
পলাতক
২.
অন্ধকারে
৩.
পথে
৪.
দেশছাড়া
৫.
শালুকডাঙায়
৬.
অদ্ভুত কীর্তি
৭.
বুড়ীর বাড়ি
৮.
যুদ্ধ
৯.
পাঠশালায়
১০.
কাছিমদহর হাটে
১১.
পুঁটিমারীর পথ
১২.
ভোজ
১৩.
যাত্রা
১৪.
পদ্মদিদির শ্বশুরবাড়ি
১৫.
কান্তিনগরে
১৬.
চরমাদারিপুরের বারোয়ারিতলায়
১৭.
নায়েব মশাইয়ের কাছারি বাড়ি
১৮.
চরমাদারীপুরের বাজারে
১৯.
জুতোর কারখানায় ও কাপড়ের দোকানে
২০.
বাদলার মেঘ ও সোনালী রোদ
২১.
নাটকের মহড়া ও পরের ঘটনা
২২.
পাগলাপাড়া ও দরগাবাড়ি
২৩.
দুই যোদ্ধা
২৪.
রাখাল ও ভোম্বলের স্বপ্ন
২৫.
গোরুর গাড়িতে
২৬.
নৌকো চলে
২৭.
ভাঙা হাটে
২৮.
কৃষ্ণপুরে নদীর কূলে
২৯.
সাতগেছে জোড়াবটতোলে
৩০.
দুর্গাপুরের পথে
৩১.
ঘরে ফেরার পরে
৩২.
পল্লীতে বন্ধুমহলে
৩৩.
কুলচারা গাঁয়ের পথে
৩৪.
কুলচারা গাঁ
৩৫.
নতুন কথা
৩৬.
আব্দুলপুরের মেলার পথে
৩৭.
নতুন পথ ধরে আগের লক্ষ্যে চলা
৩৮.
খোলসাপুরের পথে ও বন্ধুর বাড়ি
৩৯.
পথের শেষে
৪০.
মালঞ্চ গাঁয়ে
৪১.
জটা গাঁয়ের পথে
৪২.
চাটুয্যে বাড়ি
৪৩.
স্টেশনের পথে
৪৪.
স্টেশনে দুই আলাপি
৪৫.
হঠাৎ দেখা পথের মাঝে
৪৬.
বন্ধুর বাড়ি
৪৭.
চলার পথে
৪৮.
শুধু পথ আর পথ
৪৯.
টাটা নগরের পথে
৫০.
যাত্রা শেষ

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%