খগেন্দ্রনাথ মিত্র
রেলপথের বাইরে দুধারে মাটিকাটা খাল জল নেমে গেছে। পথটাও উঁচু; গাছ-গাছালি, গ্রাম-গঞ্জ দূরে দূরে, মাঠের পর মাঠ, মাঠের শেসে ধোঁয়াটে সবুজ গ্রাম। টেলিগ্রাফের তারে কোথাও বসে আছে ফিঙে, কোথাও সারি বেঁধে গায়ে গায়ে বসেছে সোয়ালো। ওদের আঙুলের ফাঁক দেয়ে বিদ্যুৎস্রোত শব্দমালাবয়ে নিয়ে যাচ্ছে দূর-দূরান্তে। এক জায়গায় রেলপথ মেরামত ও বদলানো হচ্ছে, তাঁবু পড়েছে, লোহার উনুন জ্বলছে। উনুনে কী একটা রান্না হচ্ছে। পাশে ক্যানেস্তারা ও বালতি ভরা জল।
রোদের তাপ বেড়েছে। ভোম্বল দুটো স্টেশন পার হতেই পুবে-পশ্চিমে দুখানা - যাত্রী গাড়ি চলে গেল। চলে গেল মালগাড়ি। ওই সামনে আর একটা স্টেশন, বেশ বড়োই মনে হছে। ওর পরেই নদী। ওই যেন দেখা যায় পোল। ভোম্বল খানিক গিয়েই পরিষ্কার দেখতে পেল স্টেশনটার নাম বড়ো বড়ো আক্ষরে লেখা - ‘সতুমণিগঞ্জ'। তারিণী বলেছেন, সতুমণিগঞ্জে ইছামতীর ধারে তার মামার বাড়ি। ওই নদীটার নামও তাহলে ইছামতী। ভোম্বল একটু তাড়াতাড়ি হেঁটে স্টেশন পৌঁছে প্ল্যাটফর্ম দিয়ে এগোতে এগোতে প্রথমেই যে বেঞ্চিখানা পেল তাতে বসল। সেখান থেকে দেখল স্টেশনটার পুবে বেশ বড়ো গঞ্জ ও বাজার, পশ্চিমে গ্রাম, গ্রামের পর গ্রাম - যেন সবুজের পাহাড়। উত্তর-দক্ষিণেও গ্রাম। তার মাঝ দিয়ে শান্তশ্রী, স্বল্পজল নিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে, মৃদুভাষিণী ইছামতী। গঞ্জের বাজারের ঘাটে কতকগুলো ব্যাপারীর নৌকো পানসি ও ডিঙি গায়ে গায়ে বাঁধা। রেলের পোলটা বেশ লম্বা ও উঁচু। ওর ওপর দিয়ে লোকে সাধারণত নদী পারাপার করে বলে মনে হয় না। ওই যে ওপার থেকে যাত্রী-বোঝাই খেয়া আসছে। আরে! ওই একখানা গোরুর গাড়ি আসছে না? হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো! দিব্যি ভেসে আসছে। ভোম্বল উঠে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল। গাড়ির জোয়ালের দুপাশে দুটো গোরু। কেবল ওদের মাথা ও শিং দেখা যাচ্ছে। গাড়োয়ান দড়ি ধরে লকড়ি হাতে গাড়ির ওপর জোয়াল বরাবর দাঁড়িয়ে আছে। ভোম্বলের ভারি মজা বোধ হল। এমন দৃশ্য সে কখনও দেখেনি। চলার পথে কত কি যে দেখা যায়।
তারিণীর মা কলার পাতার মোড়কে মুড়ি-বাতাসা বেঁধে দিয়েছিলেন। যখন শুনেছিলেন ছেলেতি বাপ-মা মরা, তখন প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলেন। বলেছিলেন ‘মুখ দেখলে মায়া হয়।’ ভোম্বল সেখানে বসে সেগুলো খেয়ে স্টেশন থেকে নেমে গেল বাজারে। সেখানে একটা খাবারের দোকানে চার পয়সায় আটখানা জিলিপি কিনে খেয়ে গেলাস দুই জল গিলে মস্ত একটা ঢেকুর তুললে। তারপর দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলে, - “এখানে থেকে কলকাতার ভাড়া কত?”
দোকানদার রসে ভরা এক ঝাঁঝরি জিলিপি তলে পাশের বারকোষে রাখতে রাখতে বললে, “টাকাতটক হতি পারে।”
ভোম্বল বললে, “হেঁটে যাওয়া যায় না?”
দোকানদার এবার চোখ তুলে তার দিকে তাকালে; বললে, “রেলগাড়ি থাকতি পা-গাড়ি ক্যান? এই এক ছ্যামড়া!”
ভোম্বল আর কিছু না বলে আধুলিটা ভাঙিয়ে দাম দিয়ে খেয়াঘাটের দিকে এগোতে লাগল। বাজারের শেষে, পোল থেকে সিকি মাইলটাক দূরে খেয়াঘাট। উঁচু পাড় থেকে নীচে ওই যে জলের কিনারায় বালিতে কয়েকজন স্ত্রী-পুরুষ উবু হয়ে বসে খেয়ার প্রতীক্ষা করছে। ভোম্বল স্থির করলে ওপারে পৌঁছে যতদূর পারে হেঁটেই যাবে। তার মনে হচ্ছে কলকাতা, ওই পশ্চিমে - ওই কালো ধোঁয়া আকাশপানে উঠে মিলিয়ে যাচ্ছে। ধোঁয়াটা বোধ হয় কোনো কলের চিমনি থেকে উঠছে। সে শুনেছে কলকাতার যত কাছে যাওয়া যায় তত কলকারখানা চোখে পড়ে। টাটানগর যাবার আগে সে ভূগোলে কলকাতার যতগুলো দেখবার জায়গার কথা পড়েছে সব কদিনে দেখে তারপর টাটানগরের পথ ধরবে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে থাকা খাওয়ার। সম্বল দেড় টাকার মধ্যে এক আনা তো খরচ হয়ে গাছে। বাকি এক টাকা সাত আনা। তাতে কদিন খাওয়া চলবে?এখান থেকে কলকাতা নব্বই মাইল। হেঁটে যেতে বড়োজোর আট দিন লাগতে পারে। সে ভেবে স্থির করতে পারছে না কী করবে? তবে এক বিষয়ে নিশ্চিত যে আর বাড়ি ফিরবে না। আচ্ছা, প্রথমে মোট বয়ে কিছু টাকা-পয়সা রোজগার করা যায় না কি? বর্ধমানে স্টেশনে বিদ্যাসাগর ও সেই মুঠে ছেলেটির গল্প তো সে পড়েছে। ওই ভাবে রোজগার করতে করতে সে এগোবে। কিন্তু তার একবারও মাথায় এল না, বিদ্যাসাগর ওই একজনই এসেছেন। ইতিমধ্যে খেয়া এসে ঘাটে লাগল। একজন নেমে উবু হয়ে আগগলুই ধরে রইল। পাটনি হাল ছেড়ে ডাঙায় নেমে যাত্রীর কাছে থেকে একটি করে পয়সা পারানি নিতে লাগল। নানা বয়সের নানা ধরনের যাত্রী। সবাই চলেছে বাজারে। যারা ডাঙায় বসেছিল তারা ততক্ষণে খেয়ায় উঠে বসেছে। ভোম্বলও উঠতে উঠতে সেই গোরুর গাড়িখানার হদিস করলে। কিন্তু গাড়িখানা ততক্ষণে পাড়ে উঠে আদৃশ্য। ক্রমে খেয়া নৌকা যাত্রী বোঝাই হতেই ছেড়ে দিলে।
একজন যাত্রী বললে, “ও ভবানীদা, বাজার কেমুন?”
পাটনি হাল থেকে বললে, “ইদিকে তো ভালোই। কিন্তুক এক হাতে লগি ঠেলা, হাল বওয়ার তাল রাখা যায় না।”
—“সে ছ্যামড়া তো পালিয়েছে? আর একটা রাখো। খাওয়া-থাকা আর তিন টাকায় কী লোক পাওয়া যায়? তোমার ছাওয়ালের বয়স কত হল?
—“আট সন হবে।”
“তার হাতে হাল দাও। পাটনির ছাওয়াল পাটনি হবে। এই তো শিক্ষের বয়েস।”
পাটনি উত্তর দিলে না। কথাগুলো ভোম্বলের মনে ঘুরপাক দিতে লাগল। তার ইচ্ছে হতে লাগল সে হালে বসে বা লগি ঠেলে। পাটনি লগি রেখে হালে বসল। নৌকো মুখ ঘুরিয়ে চলল ওপারে। এক জোড়া কাক ওপার থেকে এপারে উরে এল; একটা মেটে বক এপার থেকে জোড়া-পায়ে জল ছুঁই ছুঁই করতে ওপারে উড়ে যেতে লাগল। এ কূলে বোধ হয় মাছ নেই। মাথার ওপর অনেক উচুতে ঘুরপাক দিচ্ছে কয়েকটা চিল। ওই যে মস্ত ডানা মেলে উড়ছে একটা শকুন। নৌকো পারের কাছাকাছি হতেই ভোম্বল দেখলে একটা নারকোলগাছের মাথায় একটা শঙ্খচিল বসে এদিকে ওদিকে তাকাচ্ছে। ভোম্বলের মনে পড়ল ছোটো ছেলেমেয়েদের মুখে শোনা ছড়াটি - ‘শঙ্খচিলের ঘটি-বাটি গোদাচিলের মুয়ে লাথি।’
খেয়া পারে ভিড়তেই আর সকলের সঙ্গে সেও নামল। সে পারানি দিতে গেলে পাটনি বললে, ‘ইসকুলির ছাওরের মাপ।’
এমন নিয়ম যে হতে পারে ভোম্বলের বিশ্বাসই হল না। সে পারে উঠে এদিকে-ওদিকে তাকিয়ে দ্যাখে, জায়গাটি গঞ্জ। একটি কাঁচা-পাকা রাস্তা সোজা দক্ষিণে চলে গেছে। কয়েকটি লোক তার বিপরীত দিক থেকে তাড়াতাড়ি হেঁটে আসছিল নদীর দিকে। ভোম্বলের মনে হল, ওরা বোধ হয় পারের যাত্রী। তারা কাছে আসতেই সে তাদের একজনকে জিজ্ঞেস করলে, —“এই পথ দিয়ে কলকাতা যাওয়া যায়?”
লোকটা যেন কথাটা শোনেনি বা বোঝেনি, এমনি ভাবে প্রশ্ন করলে, “কোথায়?”
—“কলকাতায়।”
—“কাশী-গয়া-বেন্দাবনও যাওয়া যায়। বলে লোকটা হেসে উঠল!
আর একজন বললে, “আজকালকার ছ্যামড়া!” এবং তিনজনেই হাসতে হাসতে চলে গেল।
ভোম্বল কিছু অপ্রস্তুত হলেও সেই পথেই চলতে লাগল। জায়গাটি গ্রামগঞ্জে মেশানো। এদিকে-ওদিকে কোঠাবাড়ি, টিনের ঘর, খড়ের চালা, খোলা-টালির খুপরি, ঝোপ-ঝাড়, ময়রা-মুদির দোকান, বাঁশঝাড়, তাল-খেজুরের গাছ। পথের ধারে কয়েকটি ছেলে মার্বেল খেলছিল। একজন তখন ‘ফ্যাক' খাটছে। অন্যেরা তাকে টিটকিরি দিচ্ছে। এবং একটু পরেই সেই ছেলেটির সঙ্গে তর্কাতর্কি তা থেকে একটি ছেলের হাতাহাতি শুরু হল। ভোম্বল একটু দাঁড়িয়ে যুদ্ধটা দেখলে। কিন্তু তার মধ্যে নতুনত্ব কিছু ছিল না। সব যুদ্ধই এক রকম! - সে আবার চলতে লাগল।
খানিক দূরে গিয়ে দেখলে, পথের বাঁক থেকে একটা ছেলে ছুটতে ছুটতে বেরিয়ে এল; তার পিছনে আধলা ইট হাতে ছুটতে ছুটতে এল একটি মাঝবয়সি লোক। সে ছুটছে আর ছেলেটাকে গালাগাল দিচ্ছে। এবং হাতের ইট ছুঁড়ে ছেলেতাকে মেরে বললে, ‘আজ বাড়ি আসিস। সকালে উঠে গিলেই বেরিয়েছিস।’
ভোম্বল অনুমানে ব্যাপারটা বুঝল। মনে হয় লোকটি ওই ছেলেটার বাবা। দুজনের পোশাক ও চেহারায় ভদ্রয়ানির কিছু নেই। বাবা ছেলেটির কাছে যা আশা করে তা পায় না। তার ফলে এই অবস্থা! ছেলেটা ডানধারে একটা ধানের মরাইয়ের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। লোকটি কোমরে দুহাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ছেলেটার পথের দিকে তাকিয়ে হাঁপাতে লাগল। লোকটির চেহারা, পোশাক ও ক্লান্ত আবস্থায় ভোম্বলের মনে কেমন একটু দুঃখ হল। তার কোনও সঙ্গী-সাথী এমন নেই৷
এদিকে বেশ বেলা উঠেছে। গঞ্জ-গ্রাম শেষ হয়ে সে এসে পড়ল গ্রামে। বাড়িগুলোর সিমানায় পালটে মাদার, বাকস, রাংচিতে ও তেশিরা মনসার বেড়ার ওধারে শীতের আনাজপাতির খেত। কোনও কোনও খেতের মাঝে কাঠির ডগায় পোড়া হাড়ি; তার গায়ে চুনের মানুষ আঁকা। ঘরের চালে ও মাচায় লাউ ও পুঁই, খেত ভরা পালং, বেগুন ও ফুলকপি। মাঝে মাঝে কুয়ো।
পথের ডানধারে কয়েকখানা কাঁচাবাড়ি; কিন্তু বেশ পরিপাটি। সামনে রাস্তা। তারপর বাঁশঝাড় আম কাঁঠালের গাছ। একটু তফাতে একটা আমগাছ সদর্পে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তার গোড়াটায় বেশ পরিষ্কার ঘাস, ঘাসগুলো শীতে মরমর কিন্তু বাড়ন্ত বেলায় রোদে ভরা। একটা পায়ে-চলা পথ তার মধে দিয়ে ওধারে যেন কোথায় চলে গেছে। বাঁশঝাড় ও গাছপালার ফাঁক দিয়ে ওধারে বাড়ি-ঘর দেখা যাচ্ছে অস্পষ্ট। মনে হচ্ছে একপাশে একটা পুকুরও যেন রয়েছে। একটা সাদা রঙের শিং ভাঙা দামড়া গোরু জঙ্গলে ঘাস খুঁজে বেড়াচ্ছে। ওই একটা কাঠবেড়ালি আমগাছে ঘুরঘুর করছে। দূর থেকে ভেসে আসছে একটা ঘুঘুর ডাক - ভারি করুণ, ভারি অলস। সে সেই আমতলায় রোদে তপ্ত আধমরা ঘাসে ভরা জায়গাটুকুর ওপর গিয়ে বসতেই সামনে বাড়ি থেকে খড়ম পায়ে, লাল গামছা পরা, গায়ে জবজবে করে তেলমাখা, বেরিয়ে এলেন হুঁকা টানতে টানতে একজন। এবং উঁচু গলায় জিজ্ঞেস করলেন—“আমতলায় কে বসে?”
ভোম্বল বললে, —“আমি।”
—“আমি কারো নাম হয়? কার ছেলে? কোন বাড়িতে থাকো?”
—“আমি এখানে থাকি না”-বলে ভোম্বল উঠে দাঁড়াল।
তিনিও এগিয়ে এসে বললেন, “তবে এ রাস্তায় কেন?”
ভোম্বল বলতে যাচ্ছিল, ‘আমার ইচ্ছে’ কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, –“এই দিক দিয়ে যাওয়া সুবিধের।”
–“কোথায়?”
ভোম্বল এবার ফাঁপরে পড়ল। চারধারে নাম না জানা, অচেনা গাঁ। সে আস্তে আস্তে বললে, -“কলকাতায়।”
ভদ্রলোকটি যেন অদ্ভুত একটা কথা শুনলেন এমনভাবে বললেন, ‘কোলকাতা - আ!’ এ পথে কলকাতা? কলকাতা সে তো’ – বলেই একটু ভেবে আবার বললেন, “ও! হাঁ - হাঁ। তা - তোমার নাম কী বাবা?”
ভদ্রলোকের কোমল স্বরে ভোম্বল যেন গলে গেল। নিজের নাম বলতেই তিনি বললেন, – “তোমরা কায়স্থ? আমিও কায়স্থ। তা বাড়ি কোথায়? বাড়িতে কে আছেন?”
ভোম্বল একটু সবিস্তার পরিচয় দিতেই তিনি বললেন, “চরমাদারিপুরের কাছারিতে কাজ করে জোড়া-বটতোলে বাড়ি, আমার এক আত্মীয় আছে। এই কয়েক দিন আগে একটা পেয়াদা সঙ্গে এসেছিল কলকাতা থেকে ফেরার পথে। কী বললে? তুমি ওদের বাড়ি গেছ? বটে! ওর একটা মেয়ে আছে না? হাঁ-হাঁ-মালতী। নামটি আমার মনেই থাকে না। কলকাতায় কেন যাবে? কী বললে, টাটানগর? কেউ আছে সেখানে? কাজ শিখবে? তা বেশ। আমার বড়ো ছেলে ওখানে চাকরি করে। আমি কয়েকবার ওখানে গেছি। ভারি সুন্দর জায়গা। একদিকে কালোমেঘের মতো দলমা পাহাড়, আর একদিকে খড়কাই নদী ঘন বনের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে। শহরের বাইরে এক জায়গায় ঘন ঢালা নির্জন শালবনে মিশেছে সুবর্ণরেখা আর -ওকি? যাচ্ছ কোথায়? এই ভরদুপুরে একটা দুধের ছেলেকে না খাইয়ে কেউ ছাড়ে? আমি সব বুঝেছি বাবা! আমি তোমাকে নিয়ে যাব সেই টাটানগর। দু-তিন দিনের মধ্যেই সেখানে আমার যেতে হবে। এই তো তোমার সঙ্গে চেনা-পরিচয় হল। এখন-চলো, ভেতরে চলো - টাটানগর তো কাছে নয়।” বলতে বলতে তিনি এগিয়ে এসে ভোম্বলের হাত ধরে টেনে নিয়ে চললেন।
ভোম্বলের বুকের মাঝখান থেকে একটা নিশ্বাস বেরিয়ে এল। তার স্বপ্ন কী সত্যি হবে? সেই বিশ্বকর্মার পুরী, সেই গড়ার রাজ্য।
ভদ্রলোকটি বললেন, “চলো, থামছ কেন? টাটানগরের পথেই তো এগোচ্ছ।”
ভোম্বল আশা-নিরাশায় দোদুল মনে চলতে লাগল।
তৃতীয় খন্ড সমাপ্ত
Ebook Created by - Asterix
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন