টাটা নগরের পথে

খগেন্দ্রনাথ মিত্র

গাড়িও চলে, অন্ধকারও একটু একটু করে পরিষ্কার হয়। দেখা যায় মাঠ, জলা, বাড়িঘর, তার পিছনে সচল গ্রামরেখা - গাড়ি যেদিকে চলেছে রেখাটি চক্রাকারে তার উলটো দিকে যেন ঘুরছে। ভোম্বলের শীত করছে। সে আলোয়ানখানা গায়ে বেশ করে জড়িয়ে বসল। বাবাজিরা বিড়ি ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে গল্প করছে। যারা শুয়ে ছিল, তারা একে একে উঠে বসল। আর এ দিকে বাইরেও গাঁয়ের আকাশ রাঙা হয়ে উঠেছে। সে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে সবখানে।

গাড়িও চলে, অন্ধকারও একটু একটু করে পরিষ্কার হয়। দেখা যায় মাঠ, জলা, বাড়িঘর, তার পিছনে সচল গ্রামরেখা — গাড়ি যেদিকে চলেছে রেখাটি চক্রাকারে তার উল্টো দিকে যেন ঘুরছে। ভোম্বলের শীত করছে। সে আলোয়ানখানা গায়ে বেশ করে জড়িয়ে বসলো। বাবাজীরা বিড়ি ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছিল, তারা একে একে উঠে বসলো। ছাড়তে গল্প করছে। যারা শুয়ে আকাশ রাঙা হয়ে উঠেছে। সে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে সবখানে। আর এ দিকে বাইরেও গাঁয়ের ঐ উড়ে চলেছে বকের সারি, উড়ে যাচ্ছে ব্যস্ত কাক। রেললাইনের ছোট ছোট আধ শুকনো খাল, মাঠের মাঝে জলা, জলার ধারে তালনারকোলের গাছ, কয়েকটি ছোট ছোট বস্তি। একটি বস্তির উঠোনে পিঠে থলি চাপানো মস্ত একটা শিঙেল সাদা গরুকে দুইছে এক মাথায় পাগড়ি একটা লোক; বাছুরটা গরুর সামনের খোঁটায় বাঁধা। গাড়ি চলেছে সমান বেগে । গলা ভাঙা আওয়াজ করতে করতে একটা স্টেশনের ফাঁকা প্ল্যাটফর্মের কোল দিয়ে সমানে ছুটতে লাগলো। ওদিকে উঠেছে সূর্য। সর্বত্র লেগেছে সোনালী রোদ। জলার ধারে ধোপার ভাটি, লাইনের ইঞ্জিনের কয়লা-পোড়ার ছাইয়ের গাদা থেকে ছোট ছোট তারের আঁকড়ি দিয়ে পোড়া কয়লা বাছছে দু-চারজন মলিন বেশ, তেলের অভাবে রুক্ষ কটাচুল, ছোট-বড় মেয়ে। দেখা যাচ্ছে দু-একটা একশ-দেড়শ বছরের পুরনো ভাঙা বাড়ি, ছোট ছোট কারখানার সরু চিমনি, দেখা যাচ্ছে খুব পুরনো মসজিদ-কবরখানা, দেখা যাচ্ছে ভাঙা শিব মন্দির। এ সবের পিছনে দূরে সবুজ গ্রাম। রেললাইনের ধার থেকে চলে গেছে চওড়া রাস্তা গ্রামের দিকে। রাস্তা দিয়ে চলছে পথিক। এই দৃশ্যের কোল দিয়ে ছুটেছে রেলগাড়ি অথবা রেল রাস্তার দু-পাশে এই দৃশ্য— না গ্রাম, না শহর। ভোম্বলের ভাল লাগছে না। কোথায় রইলো সেই সবুজ গ্রাম, ধানক্ষেত, মাঠ, দীঘি-পুকুর-নদী? কোথায় গেল সেই প্রায় পথিকহীন নির্জন আঁকাবাঁকা পথ? সেই বাঁশঝাড়, আম-কাঁঠালের বাগান, সোদাল-রয়না সজনে গাছ? সেই খড়-টিনের ছোট ছোট গ্রাম কোথায় গেল মিলিয়ে?

গাড়ি ছুটতে ছুটতে এসে দাঁড়াল একটা স্টেশনে হুড়মুড় করে উঠল যাত্রী এবং যে যেখানে পারলে নিজের সুবিধা বুঝে বসে পড়ল, দাঁড়িয়ে রইল। কেউ দাঁড়াল দরজা খুলে। সবাই যাচ্ছে কাজে। গাড়ি চলার সঙ্গে সঙ্গে খোলা দরজা দিয়ে হু হু করে ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকতে লাগল। জানালার ঝাপসা শার্সি দিয়ে ঢুকছিল রোদ। ভোম্বল শার্সিটা নামাবার চেষ্টা করেও পারলে না। একজন এগিয়ে এসে শার্সিটা নামিয়ে দিলে। ভোম্বল এসে পৌঁছেছে নতুন দেশে। এদেশে না আছে ছায়া, না আছে কোমলতা। সব খটখটে শুকনো কঠিন।

গাড়ি চলতে চলতে যত স্টেশনের পর স্টেশন থামে তত যাত্রীর ভিড়, কোলাহল বাড়ে। ভোম্বল শোনে নতুন বুলি, দ্যাখে নতুন চাল, নতুন পোশাক কোট-প্যান্ট, টুপি-কমফর্টার আলোয়ান, শার্টজার্সি পাগড়ি। সেই সঙ্গে ময়লা ধুতি-কামিজ-চাদর জড়ানো মানুষ। ক্রমেই পথের দুধারে দালান-কোঠা, টিন-টালি খোলার ছোটো-বড়ো বাড়ির সংখ্যা বাড়ে। বাড়ে রুক্ষ - শ্রীহীন দৃশ্য। গাড়ি ঝমঝম করে ব্রিজ পার হয়, খাল ডিঙোয়, ছোটে উঁচু বাঁধ দিয়ে পথের দুধারে নীচু জমিতে বাড়িঘর-রাস্তা-গাড়ি-ঘোড়া মানুষজন কারখানা গোদাম নালা নর্দমা।

ক্রমে গাড়ি এসে পৌঁছলো মস্ত একটা ঘরে বা স্টেশনে! এত বড়ো স্টেশন বা ঘর ভোম্বল কোনো দিন দেখেওনি, ভাবতেও পারেনি যে এত বড়ো স্টেশন কোথাও থাকতে পারে বা রেলপথের শেষ আছে। প্ল্যাটফর্মে এত লোক, বাইরে অত গাড়ি-ঘোড়া, ভেতরে-বাইরে এমন কলকোলাহল! ভোম্বল ফিরে দ্যাখে বহুলোক ও বহুরকমের মালপত্র গাড়িগুলোর সামনে। তাদের গাড়ি এই সব বয়ে এনে এখন স্থির হয়ে, চুপ করে দম নিচ্ছে।

সবাই ব্যস্ত, সবাই চলছে - কেউ কেউ পাশের ফটক দিয়ে কালো কোটপরা বুকে পেতলের নম্বর আঁটা, মাথায় টুপি চেকারের হাতে টিকিট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ চলেছে জনতার স্রোতের সঙ্গে সামনে ইঞ্জিনের দিকে। উর্দিপরা, নম্বর আঁটা, কুলিদের মাথায় মোট, যাত্রীদের হাতে, কারো পিঠে কারো বা কাঁধে বোঁচকা, ব্যাগ বিছানা।

বাবাজি ভোম্বলকে বললে, ‘তুমি আমার ঠিক পিছু পিছু এসো। আমার দিকে নজর রেখে এগোও।’

বুড়ো বাবাজি বললে, ‘না পারো পিরেন চেপে ধরো। ধরো। ভিড়ে হারিয়ে গেলে আর কেউ কারো নাগাল পাব না।’

ভোম্বল মনে মনে বললে, ‘হারিয়ে যাব? একাই বেরিয়েছি একাই পথের শেষে পৌঁছব।’

তিনজনে জনতার স্রোতে এগিয়ে চলেছে। ইঞ্জিনের পাশ দিয়ে যেতে যেতে ভোম্বল দেখলে, তার মধ্যে কালি-ঝুল মাখা ‘ওভার অল’ পরা একটা মাত্র লোক, কি যেন করছে। ভেতরে কত রকমের কল। বাইরে যেখান দিয়ে ‘সিটি' ও সাদা ধোঁয়া বার হয়, সেখান থেকে একটু একটু সাদা ধোঁয়া বার হচ্ছে। তাকে কে যেন পিছন থেকে একটু ঠেলা দিয়েই পাশ দিয়ে চলে গেল। লোকটার ভারি তাড়া। ভোম্বলের খুব বিরক্তি বোধ হল।

চলতে চলতে সামনের ফটকে এসে টিকিট দিয়ে পরপর তিনজনে বেরিয়ে গেল।

ভোম্বলের সামনে এক অচেনা শহর - মস্ত মস্ত কোঠাবাড়ি, লোকজন, নানা ধরনের এক ঘোড়া, দুঘোড়ায় টানা গাড়ি - পালকি, বগি, ফিটন, টমটম, ব্রহাম - মালবোঝাই মোষের গাড়ি, আর? আর ওইটে ট্রাম গাড়ি। কী অদ্ভুত! ঠং ঠং শব্দে ঘণ্টা বাজছে, গাড়ির চালের ওপরে ডাণ্ডার মাথায় ছোটো একখানাচাকা একটা তারে লাগানো। গাড়ি চলছে চাকা ঘুরছে। চিড়িক করে আগুন জ্বলে চাকার সঙ্গে সঙ্গে ছুটছে। গাড়ির চাকাগুলো খাঁজকাটা লোহার রেলের ওপর দিয়ে চলেছে আর চিড়চিড় চটপট করে নীলচে আগুন জ্বলছে। ও আগুন কীসের, ভোম্বল বুঝতে পারলে না। আর ওই যে হাওয়া গাড়ি ঘরের মতো দেখতে। টুপি মাথায় একজন সামনে একখানা ছোটো চাকা ধরে চালাচ্ছে। গাড়িখানার পিছনে একটা ছোটো নল থেকে ভক ভক করে বার হচ্ছে ধোঁয়া।

বুড়ো বাবাজি বললে, ‘আমি ট্রামে চড়ে পোলতক যাব। তারপর গঙ্গায় একটা ডুব দিয়ে উঠে ঘাটের ধারেই দোকান থেকে যাহোক কিছু খেয়ে পোল পার হয়ে হাবড়ার ইস্টিশনে গিয়ে রেলে চাপবো। খামখা বেলম্ব করবো না।’

বাবাজি বললে, ‘বেশ।’

বুড়ো বাবাজি চলে গেল এবং একটু তফাতে গিয়ে যেন ট্রামে উঠল।

বাবাজি ভোম্বলকে বললে, ‘চলো ওই ফুটে। ওইদিকে বাজারের ধারে আমাদের দুর্গাপুরের শেতল দাস তার বউ নিয়ে থাকে। একটা জলপানের দোকান দিয়েছে। ওর ওখানে এ বেলাটা বেশ্রাম করে হোটেলে যাহোক চারডি খেয়ে দুপুরে রওনা দেব। কি বলো?’

ভোম্বল খুশি হল। ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাল। এই সময়ের মধ্যে শহরটা যতটা দেখা যায়৷

তারপর পথের যানবাহন ও ভিড়ের মাঝ দিয়ে ফুটে উঠে দুজনে বাজারের কোণে শেতল দাসের জলপানের দোকানে গিয়ে পৌঁছলো। খোলার ঘর। সামনে কয়েকজন ছোটো-বড়ো খদ্দের। শেতল ও তার বউ তাদের দেখে খুশি! দেশের লোক! কতদিন পরে দেখা, হোক না তারা দুজনে কলকাতাবাসী। দেশকে, জন্মভুমিকে কি ভোলা যায়? সেখানেই ঘরের পিছনে শেতলদের ‘বাসা’। খালি একটু উঠোন, কোণে টবে কালো তুলসী গাছ। ভাঙা হাঁড়িতে তেশিরা মনসা। পাশে মালসায় একটি নয়নতারা গাছ। গাছে কয়েকটি ফুল। সেখানেই তাদের বিশ্রাম ও নাওয়া খাওয়ার ব্যবস্থা হল। হঠাৎ কে যেন বলে উঠল, ‘হরে কৃষ্ণ।’ ভোম্বল চমকে উঠে তাকিয়ে দ্যাখে বাঁশের খাঁচায় একটি ময়না। দরজার পাশে গুটিসুটি দিয়ে বসেছিল। একটা কালো বেড়াল। তার মুখ সাদা। বেড়ালটার চেহারা দেখে মনে হয় শিকারি। সে চুপচাপ বসে কান ঘোরাচ্ছে, মাঝে মাঝে৷

শেতলের বউ বাবাজিকে বললে, ‘মেসো, আমরা কি তোমার পর?’

মেসো বললে, ‘না রে! তা মনে করলে কি তোদের দোরে আসতাম?’

ভোম্বলের পরিচয় পেয়ে বউটি খুব খুশি হল। সে ভোম্বলের মুখের দিকে সস্নেহে তাকাল। তাদের ছেলেপুলে নেই।

ভোম্বল কাঁধের ঝোলা, গায়ের আলোয়ান ভেতরের ঘরে রেখেই রাস্তার ধারে ফুটপাথে গিয়ে দাঁড়াল। তার সামনে, দু'পাশে কোঠাবাড়ির সারি। তাদের এ-মুড়ো ও-মুড়ো দেখা যায় না। রাস্তায় ট্রাম-গাড়ি, হাওয়া গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, গোরু-মোষের গাড়ি, বাইসিকল, ফুটে পথিক জন, ফেরিওয়ালা, ঝাঁকামুটে, মাথায় পিঠে কাঁধে মোট নিয়ে মেয়ে পুরুষ স্রোতের মতো এদিকে ওদিকে চলেছে। ভোম্বল পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে নতুন দেশের অবাক করা নতুন দৃশ্য দেখছে। কেউ কাউকে চেনে না, কেউ কাউকে পরোয়া করে না। ভদ্র-অভদ্র-দীন-ধনী প্রত্যেকেই নিজ নিজ পথে চলেছে। দাঁড়াবার ঠাঁই নেই, সময় নেই, সুযোগ নেই - কেবল চলা আর চলা।

একজন ভোম্বলকে একটা ঠেলা দিয়ে মাথায় মোট নিয়ে প্রায় ছুটে এ-ফুট থেকে ও-ফুটে চলে গেল। ভোম্বলের প্রায় পাশে একজন চলতে চলতে কমলালেবুর খোসায় পা পিছলে ফুটে ধপ করে পড়ে গেল। তারপরই উঠে একটু দাঁড়িয়ে প্রায় খোঁড়াতে খোঁড়াতে এগিয়ে চলল। কেউ তাকে তুললে না, সহানুভূতির একটি কথাও বললে না। হঠাৎ একটা হইহই শব্দে ভোম্বল ফিরে দ্যাখে একখানা ঘোড়ার গাড়ি বিষম বেগে ছুটে আসছে। তার সামনে থেকে লোকজন ভয়ে দুপাশে ছুটে পালাচ্ছে। ঘোড়াটা লাল রঙের ও মস্ত। কপালে সাদা টিপ, ঘাড়ের কেশর ছাঁটা। কোচোয়ান প্রাণপণে রাশ টেনেও তাকে সামলাতে পারছে না। হঠাৎ ঘোড়াটা ডানদিকের ফুটের ওপর উঠে পড়ল। গাড়িখানা গেল ট্রামের তার ঝোলানো একটা মোটা থামে আটকে। না আটকে গেলে? কি ভয়ংকর কাণ্ড হত। দেখতে দেখতে গাড়িখানার চৌদিকে ভিড় জমে গাড়ি ও লোক-চলাচলের পথ বন্ধ করে দিল। কোথা থেকে লাল পাগড়ি মাথায়, হাতে লাঠি ছুটে এল দুটো পাহারাওয়ালা। ভোম্বল সেদিকে যাবার উদ্যোগ করতেই বাবাজি এসে বললে, ‘উদিকে কোথা যাও? চলো, হাত-মুখ ধুয়ে দুটো জলপান চিবুবে।’

কৌতূহল দমন করে ভোম্বলকে যেতেই হল। ভেতরে পাশের বাড়ির প্রায় দেয়ালের গায়ে জলভরা চৌবাচ্চা ছিল। টাটকা জল সেই রাস্তার ধারে সিংহমুখো টেপা কলে। আসবে সেই বেলা বারোটায়। ভোম্বল রাস্তার ধারে কলটার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকলেও চিনতে পারেনি যে, লোকের ঘাড় মটকাবার বদলে সিংহটা মুখ থেকে মানুষকে তোড়ে জল দিয়ে প্রাণ বাঁচাবে। বোধহয় লোহার সিংহ বলেই এমনটা হয়েছে। ওরই পাশেই ছিল জলভরা লোহার চৌবাচ্চা। ওই জল পথ-চলতি ক্লান্ত পিপাসার্ত ঘোড়ার কলজে ঠাণ্ডা করে। ভোম্বল চৌবাচ্চাটাকে দেখলেও বুঝতে পারেনি, জিনিসটা খামখা ওখানে অমনভাবে জায়গা জুড়ে রয়েছে কেন? এ সব খবর দিলে শেতলের বউ। সে যেন কথা কইবার একটি মানুষ পেয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। যখন শুনলে, ভোম্বল যাচ্ছে টাটানগরের লোহার কারখানায় কাজ শিখতে, তখন হাঁ করে রইল। জায়গাটার নামই সে শোনেনি। ভোম্বল সবজান্তার মতো ছোটোখাটো একটা বিবরণ দিতেই বললে, ‘তা অদ্দুর যেতে হবে কেন? এই শহরেই তো ছাপাখানা, ছাতাখানা, বালতির কারখানা, কত কি রয়েছে। তার একটাতে লেগে পড়লেই তো রোজগার-পাতি হবে। সেখানে অসুখ-বিসুখ করলে দেখবে কে? থাকবে খাবে কোথায়? নিজের লোক কে আছে?’

ভোম্বল তার কথা শুনে অবাক। এত বড়ো শহরেও এমন গেঁয়োমানুষ থাকতে পারে। সে বাইরে এসে বাবাজিকে জিজ্ঞেস করলে, ‘হাতিবাগান কোথায়? সেখানে কি পাখি বিক্রি হয়?’

বাবাজি বললে, ‘উত্তরে কোথাও হবে। পাখি বেচা-কেনা হতে পারে।’

—‘টিটিবাজারটা কোন দিকে?’

—‘বাজারটার নাম শুনেছি। ওই শেতল জানতে পারে। সেখানে কি দরকার?’

ভোম্বল বললে, —‘আসবার পথে ভাজনা-আড়ানিতে এক হিন্দুস্থানি পাখিওয়ালার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। সে নাকি কখনো হাতিবাগানে, কখনো টিটিবাজারে থাকে। যদি এবার তার দেখা পেতাম। লোকটা ভালো।’

বাবাজি বললে, ‘সে কি করে হবে? তার দরকারই বা কি?’

দেখা করার দরকারই বা কি তা ভোম্বলও বুঝতে পারলে না। তবু তার কথা মনে পড়তে লাগল। মনে পড়তে লাগল সেই রাতখানির ঘটনা।

তারপর দুপুরের একটু পরে দুজনে শেতল দাসদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাওড়ার পথ ধরল। বাবাজি বললে, ‘আমার গাড়ি তো রাতে। তোমার গাড়িও তাই। শেতল দাসের এক খদ্দের তো তাই বললে। এখনও ঢের সময়। চলো হেঁটেই যাই। চলার পথে শহরটাও দেখা হবে। ঝুলিটা তোমার কাঁধেই থাক। কাজে লাগবে।’

ভোম্বল খুশি হয়ে বললে, ‘হাঁ।’

দুজনে চলতে লাগল।

সকল অধ্যায়
১.
পলাতক
২.
অন্ধকারে
৩.
পথে
৪.
দেশছাড়া
৫.
শালুকডাঙায়
৬.
অদ্ভুত কীর্তি
৭.
বুড়ীর বাড়ি
৮.
যুদ্ধ
৯.
পাঠশালায়
১০.
কাছিমদহর হাটে
১১.
পুঁটিমারীর পথ
১২.
ভোজ
১৩.
যাত্রা
১৪.
পদ্মদিদির শ্বশুরবাড়ি
১৫.
কান্তিনগরে
১৬.
চরমাদারিপুরের বারোয়ারিতলায়
১৭.
নায়েব মশাইয়ের কাছারি বাড়ি
১৮.
চরমাদারীপুরের বাজারে
১৯.
জুতোর কারখানায় ও কাপড়ের দোকানে
২০.
বাদলার মেঘ ও সোনালী রোদ
২১.
নাটকের মহড়া ও পরের ঘটনা
২২.
পাগলাপাড়া ও দরগাবাড়ি
২৩.
দুই যোদ্ধা
২৪.
রাখাল ও ভোম্বলের স্বপ্ন
২৫.
গোরুর গাড়িতে
২৬.
নৌকো চলে
২৭.
ভাঙা হাটে
২৮.
কৃষ্ণপুরে নদীর কূলে
২৯.
সাতগেছে জোড়াবটতোলে
৩০.
দুর্গাপুরের পথে
৩১.
ঘরে ফেরার পরে
৩২.
পল্লীতে বন্ধুমহলে
৩৩.
কুলচারা গাঁয়ের পথে
৩৪.
কুলচারা গাঁ
৩৫.
নতুন কথা
৩৬.
আব্দুলপুরের মেলার পথে
৩৭.
নতুন পথ ধরে আগের লক্ষ্যে চলা
৩৮.
খোলসাপুরের পথে ও বন্ধুর বাড়ি
৩৯.
পথের শেষে
৪০.
মালঞ্চ গাঁয়ে
৪১.
জটা গাঁয়ের পথে
৪২.
চাটুয্যে বাড়ি
৪৩.
স্টেশনের পথে
৪৪.
স্টেশনে দুই আলাপি
৪৫.
হঠাৎ দেখা পথের মাঝে
৪৬.
বন্ধুর বাড়ি
৪৭.
চলার পথে
৪৮.
শুধু পথ আর পথ
৪৯.
টাটা নগরের পথে
৫০.
যাত্রা শেষ

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%