খগেন্দ্রনাথ মিত্র
রাত পোহালে ভোরে ঝড়ু উঠে দেখলে, ভোম্বলের বিছানা খালি, ঘরের দরজা ভেজানো। একটু রোদ উঠলেও যখন সে এল না, তখন সকলে বুঝলেন, সে নিজের মনোমতো পথেই চলছে। ভোম্বল গতকাল যে মাঠে বসে দেখছিল দিনের আলো নিবছে, আজকের ভোরে সেই মাঠ দিয়ে যেতে যেতে দেখলে, দিনের আলো ফুটছে; সেদিকের আকাশে রয়েছে একটি মাত্র তারা। আর পশ্চিমের ছায়া। চাষিরা এদিক-সেদিকের খেতে চলেছে। পাখিরা উড়ছে, ডাকছে, মাঠে বসছে, গাছে বসছে।
চিটেঝুড়ি গাঁ থেকে যাবার সময় ভয় ছিল, পদ্মদিদির বর তাকে ধরতে পিছু নেবেন। আজ সে চলেছে, গত দিনান্তে দেখা দূরে গাছপালার মাথায় কালো ধোঁয়া ও কল্পিত রেল স্টেশনের পথে। তার পিছনে ধাওয়া করবার কেউ নেই। সে নির্ভয়।
মাঠের শেষে ঐ যে উঁচু পথ দেখা যায়। পথের ওপারের মাঠ, ক্ষেত, গাঁ একটু একটু করে সোনালী রোদে উজ্জ্বল হচ্ছে। পথে দু'চারজন পথিক গায়ে মাথায় চাদর জড়িয়ে চলাচল করছে। বাতাস কনকনে ঠাণ্ডা, হাত-পা-মুখে বেঁধে, আলোয়ানের তলায় ঢোকে। পথের ধারে খেজুর গাছ থেকে রসভরা কলসী নামাচ্ছে একটি লোক।
পথের কোলে কোলে শুকনো খাল। ভোম্বল তাড়াতাড়ি হেঁটে খাল পারে পথে উঠলো। গতকাল যেদিকে কালো ধোঁয়া দেখেছিল— আজও দেখলে, সেদিকে কালো ধোঁয়া উত্তরে বাতাসে গাছপালার মাথায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ঐ যেন সরতে সরতে ধোঁয়াটা মিলিয়ে গেল। ভোম্বলের মনে হলো, ও ধোঁয়া রেলগাড়ির ইঞ্জিনের না হয়ে যায় না। সে বেশ জোরে হাঁটতে লাগলো৷
পথটাও ক্রমে বেঁকে একখানা গাঁয়ে গিয়ে ঢুকেছে। গাঁয়ের মুখেই মস্ত পুকুর। পুকুরের তিন দিক ঘিরে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা, তাল খেজুর-নারকোল গাছ, বাতাসে দুলছে। কোন কোন বাড়ির খড় বা টিনের চাল অথবা ছেঁচ দিয়ে সাদা ধোঁয়া উঠছে। বোধ হয় উনুনে আগুন দেওয়া হয়েছে। কোন কোন খড়ের চালের মটকায় খড়ের ময়ূর বা গোলপাখার মতো একটা কি যেন বসানো।
পথটা পুকুর ঘেঁষে চলে গেছে গাঁয়ের ওদিকে যেন কোথায়। পুকুরে তিনটে ঘাট, খেজুর-গুঁড়ি বেঁধে তার কোলে বাঁশ পুঁতে তৈরী। জলে চরছে, ডুব দিচ্ছে গোটা কয়েক সাদা ও কালো-সাদায় মেশানো পাতিহাঁস। একটা দশ-এগারো বছরের ছেলে একখানা বাড়ির ভেতর থেকে একটা সাদা-কালো হাঁসকে দু'হাতে চেপে ধরে এনে পুকুরে ছুঁড়ে দিলে। হাঁসটা ডানা মেলে পুকুরের জলে ঝপ করে পড়েই সাঁতার দিতে দিতে প্যাক্ প্যাক্ করে ডাকতে লাগলো। কয়েকটা হাঁসের ছানা এসে ঝুপ ঝুপ করে জলে নেমে পড়লো। ছানাগুলো বোধ হয় ওরই।
ভোম্বল চলেছে আনমনে। পথের ধারে আশশেওড়া, নিম, বেল ও বাঁশঝাড়৷ দু-একটা ঝাড় নুয়ে পড়েছে। ঝাড়ে ঢুকে একটা লোক বাঁশ কাটছে। খট্ খট্ শব্দ হচ্ছে। আরও খানিক যেতেই দেখলে, একটা কাঁঠাল গাছের গোড়ায় বেশ একটা জটলা। দুটি লোকের মধ্যে খুব বচসা হচ্ছে। তাদের একজন মোটা, একজন রোগা, রোখ তারই বেশি। সে বলছে, ‘এ কাঁঠাল গাছ আমার। আমার ঠাকুরদা পাঁচ পুকুরীর হাট থেকে চারা এনে লাগিয়েছিল। আমি ঘিরবো।’
মোটা লোকটি বলছে, ‘আমার ঠাকুর গাছসুদ্দ, শ্রীপতি নন্দীর কাছ থেকে এ জমি কিনেছিলেন। দলিলে এ গাছের উল্লেখ আছে।’
—‘মিথ্যে দলিল৷ আমাদেরও দলিল আছে। তোমার ঠাকুরদা গাছসুদ্দ জমি কিনেছে? আমার ঠাকুরদার উইলেও এ গাছের উল্লেখ আছে।’
—‘নিয়ে আয় তোর উইল।’ বলে মোটা লোকটা এগিয়ে গেল।
রোগা লোকটা বললে, ‘তুই হাকিম নাকি যে উইল দেখাবো?’
—‘তুই বা কোন আদালত যে দলিল বার করবো? আমি এ গাছ ঘিরবোই। দেখি তুই কি করিস?’
—‘আমি তোর নড়া ভেঙে দেব। এই রতন, ফটকে, নেতা— হেতের নিয়ে আয় বলে রোগা লোকটা হাঁক দিলে। লোকটার চোখ দুটো ঠেলে বেরিয়ে এসেছে, খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে মুখখানা দেখাচ্ছে ভয়ংকর। মোটা লোকটাও গায়ের চাদর কোমরে জড়াতে জড়াতে ‘কে কার নড়া ভাঙে দেখ’ বলতে বলতে একখানা বাড়ির দিকে ছুটলো।
যারা জটলা করছিল তারা চুপচাপ। ভোম্বলের মনে হলো জটলাটা গ্রামের চাষী-মজুর ও ভদ্রলোকের। বচসাটা হচ্ছে, দুজন ভদ্রলোকের মধ্যেই। কিন্তু শেষটা দেখতে তার ইচ্ছা হলো না। তার মনে প্রশ্ন জাগলো, এ বিবাদের মীমাংসা হবে কি করে? মারামারিতে? তারপর হবে মামলা? ভারি তো একটা কাঁঠাল গাছ! কাঁঠালের কচকচে খাজা যা খেতে ভাল লাগে পাতিলেবুর রস, মুন বা ক্ষীর দিয়ে, শুধু খাওয়া যায় না!
গাঁখানাও শেষ হয় হয়। কিন্তু ততক্ষণে বেশ বেলা উঠেছে। কোথায় সেই কালো ধোঁয়া? কাঁচা-পাকা রাস্তাটা চলে গেছে আরও দূরে। দু’পাশে ক্ষেত—সর্ষে, মটর, ছোলার।
ঐ যে একটা মূলোর ক্ষেত দেখা যায়৷ একটা লোক ক্ষেত থেকে মূলো তুলছে। এদিকে রাস্তার খালে অল্প স্বল্প জল। লোকটা এক গাদা মূলো খালের পাড়ে একটা ঝাঁকার পাশে রেখেছে। ঐ খালের জলে মূলোর কাদা ধোবে বোধ হয়৷ ঐ যে একটা মেয়েছেলে নিচু হয়ে কি তুলছে, মনে হচ্ছে লঙ্কা! হাঁ-হাঁ —তাই তো। ওটা লঙ্কার ক্ষেত। আরে, ঐ যে বিলিতি বেগুনেরও ক্ষেত রয়েছে। ঐ যে দুটো কালো ছেলে মাথায় ঝাঁকড়া চুল, কোঁচড় ভরে বেগুন তুলছে। এ সব ওরা কি করবে? হয় হাটে, অথবা বাজারে বেচবে। নিশ্চয় কাছাকাছি কোথাও হাট-বাজার আছে। ওরা চাষী। নিজেরা আর কত খাবে?
এদিকে রোদের রঙ সাদা হয়েছে, তেজও কিছু প্রখর। তবু যে তার কল্পিত রেলস্টেশনের দেখা নেই। ক্ষেতের লোকগুলোও তার কাছ থেকে দূরে, পথেও কাউকে দেখছে না। এ দেশে কি পথে পথিক চলে না? আর সে চলেছেই বা কোন দিকে? তার বাঁ দিকে সূর্য, ডান দিকে ছায়া, সমুখে দক্ষিণ। দক্ষিণে কোন শহর আছে কি?
মনে হচ্ছে, সে সকাল থেকে অন্ততঃ ছ-ক্রোশের ওপর অবিরাম হাঁটছে। পা দুখানা একটু যেন ক্লান্ত, গলায় ও গায়ে একটু ঘাম আর পেটে ক্ষিদে বোধ হচ্ছে। কিন্তু কোথায় বা বিশ্রামের মতো ছায়াঢাকা একটু ঠাঁই, ক্ষিদে মেটাবার মতো কিছু খাবার? ঐ যেন সামনে একটা বটগাছ, তার তলায় ও কাছে দু-তিনখানি কাঁচাঘর দেখা যায়! হাঁ-হাঁ- তাই তো৷
ভোম্বল তাড়াতাড়ি গাছটার দিকে এগোতে লাগলো। অল্পক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে দেখে, সেখানে রয়েছে একখানি ময়রার দোকান। এক বুড়ী বাঁধা উনুনে কাঠের জ্বালে বালি-খোলায় কুঁচি দিয়ে মুড়ি ভাজছে। আট-ন বছরের একটা মেয়ে তার পাশে মেঝেয় উবু হয়ে বসে ভাজা মুড়ি গুলো চালুনিতে চেলে ধামায় তুলে রাখছে। মেয়েটার পরনে ময়লা শাড়ি, মাথায় কাগ-খোঁপা, মুখখানা আলুর মতো।মেয়েটা বোধ হয় বুড়ীর নাতনী। ভোম্বল দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দুজনেই তার দিকে চোখ তুলে তাকালো। দোকানের ভেতর থেকে এক বুড়ো, বোধ হয় দোকানদার, শুকনো গলায় ভোম্বলকে জিজ্ঞেস করলে, ‘কি চাই?’
ভোম্বলের মুখ থেকে ফস করে বেরিয়ে গেল, ‘মুড়ি-খাগড়াই।’
বুড়ো জিজ্ঞেস করলে, ‘কতকের?’
ভোম্বল বললে, ‘এক আনার।’
দোকানদার গরম মুড়িভরা ধামাটা টেনে নিয়ে পাশে সরা ঢাকা কালো জালায় ঢেলে ধামাটা বুড়ীর দিকে ঠেলে দিলে। জালায় বোধ হয় বাসী মুড়ি ছিল। তাই জালার মুড়িগুলো হাত দিয়ে ঘুলিয়ে তা থেকে মুড়ি ও একটা হাঁড়ি থেকে মুঠো দুই খাগড়াই পাল্লায় চড়িয়ে ওজন করে বুড়ো ভোম্বলকে বললে, ‘কোঁচড় পাত।’
ভোম্বল কোচড় পাততেই দোকানদার পাল্লাটা কোঁচড়ে উজাড় করে দিয়ে বললে, ‘এখানে খাও তো ঐ বেনচিতে বোস। এই ঘরের পিছনে কুয়োতলা—দড়ি-বালতি আছে, কোন্ জাত?’
ভোম্বল জাতের পরিচয় না দিয়ে বড় বড় চোখ করে তার দিকে তাকাল এবং বেনচিতে বসে মুড়ি-খাগড়াই চিবতে চিবতে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগলো। দেখলে, একটা রাস্তা পূর্ব থেকে এসে পশ্চিমে সোজা চলে গেছে দূর গ্রামের দিকে। সে বসে আছে চৌরাস্তায় বটতলায়। পশ্চিম দিক থেকে একখানা ছইওলা গরুর গাড়ি ভোম্বলের দিকেই আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছিল। ভোম্বল তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুড়ি চিবতে লাগলো।

গাড়িখানা তার খুব কাছে আসতেই সে গাড়োয়ানের ঠিক পিছনের সওয়ারিটিকে দেখেই প্রথমে কিছু অবাক হলো। সে বিশ্বাসই করতে পারলে না ছেলেটা তার সহপাঠী—সুধীর—ডাক নাম পচা৷
সুধীরও তাকে দেখে অবাক। চেঁচিয়ে বললে, ‘কি রে ভোম্লা? তুই এখানে?’
ভোম্বল উঠে গাড়ির দিকে কয়েক পা এগিয়ে বললে, ‘তুই? কোথা যাচ্ছিস?’
—“মামার বাড়ি। মামাতো ভাইয়ের পৈতে। ঐ যে গাঁ দেখা যায়, ঐখানে। সকালের ট্রেনে এসেছি। তুই এদিকে কোথায় এসেছিস? ও! বুঝেছি। শুনেছি, তুই কোথায় যেন চলে গেছিস্। চল—চল— আমার মামার বাড়িতে দিন তিনেক থেকে আমার সঙ্গে ফিরে যাস।’
ভোম্বল বললে, ‘না।’
গাড়ির ভেতর থেকে একটি মেয়েলী গলা বললে, “আয়, উঠে আয়। এই ভোমু—”
ভোম্বল দেখলে, সুধীরের মা, পাশে ছোট বোন বুলি বসে। সুধীরের মা আবার তাকে ডাকলেন। ‘এই ভোমু, আয়—আয় ৷’
ভোম্বল বললে, ‘আমি যে জলপান খাচ্ছি।’
সুধীর বললে, ‘গাড়িতে বসে খেতে খেতে চল।’
—‘পথে জল কোথায় পাব?’
—‘ওই দেখা যায় গাঁ - ওই পাহাড়ের মতো অশ্বত্থ গাছ ওইখানে যাব আমরা। জল ওখানে পাবি। পৌঁছতে বড়োজোর আধ ঘণ্টা।’ বলে সুধীর আকাশের কোলে ধোঁয়াটে গ্রামরেখাকে হাত বাড়িয়ে দেখালে।
ভোম্বলের কিন্তু গাছ বা গ্রাম ভাল করে ঠাহর হলো না। দেখলে, বিশাল ক্ষেত-খামার, এদিকে-ওদিকে গরু চরছে। সে আকাশপথে পাখি উড়ে যাচ্ছে। সেদিক থেকে আসছে একটি লোক, তার পিছনে ছেলে কোলে একটি স্ত্রীলোক—বোধ হয় ওরা চাষী। ভোম্বল অগত্যা গাড়িতে উঠে বসতেই সুধীর তার কোঁচড় থেকে মুড়ি তুলে নিয়ে খেতে লাগলো। ভোম্বল জিজ্ঞেস করলে, ‘তোরা কোন্ স্টেশনে নেমেছিস? স্টেশনটা এখান থেকে কত দূর? ঐ পশ্চিম দিকে গাছপালার মাথায় কাল থেকে এক জায়গায় কালো ধোঁয়া দেখেছি। ঐদিকে কি রেলস্টেশন আছে?’
সুধীর বললে, ‘হ্যাঁ। স্টেশনের নাম আড়ানি। দুর্গাপুর থেকে আমরা এখানেই তো নেমেছি। ঐ চৌমাথা থেকে সওয়া ক্রোশ হবে।’
ভোম্বল বললে, ‘তোরা যে গাঁয়ে যাচ্ছিস তার নাম কি?’
সুধীর বললে, “‘জটা’, চমৎকার জায়গা। গাঁ থেকে অধিক্রোশ উত্তরে খুব পুরনো একটা মন্দির দেখবি। তার সামনে মস্ত গভীর দীঘি যেন একটা বিল৷ দীঘিটার চারধারে তালগাছ। লোকে বলে 'জটার দীঘি।’ গেলেই সব দেখতে পাবি।
ভোম্বল বললে, ‘এখনই বল্।’
সুধীর বললে, “মন্দিরে আছে পুরনো একটা শিবলিঙ্গ। এক সাধু তার সেবা করেন। সাধুর মাথায় জটা, মুখে পাকা দাড়ি, পরনে কৌপীন, গলায় হাতে রুদ্রাক্ষের মালা। তিনি কারো সঙ্গে কথা কন না৷ মাঝে মাঝে কেবল বলে ওঠেন ‘ব্যোম ব্যোম- বব ব্যোম ব্যোম।’
গভীর রাতে ‘ব্যোম ব্যোম’ শুনে ভয় করে। সবাই বলে, উনি নাদ-সিদ্ধ। মন্দিরের কাছাকাছি, খুব কাছে নয়, মস্ত শ্মশান —শ্মশানের তিন দিক ঘিরে ফণী মনসা, বড় বড় আশশেওড়া, বুনো জাম, বেল, পুটুশ, আকন্দ, ধুতরোর ঘোর জঙ্গল—আর আছে কয়েকটা শিমুল গাছ। বনের মাটির তলায় নাকি অনেক কালের একটা পাকা ভিত আছে। তুই গেলেই দেখতে পাবি।” কথায় কথায় তাদের গাড়ি জটা গাঁয়ের অনেক কাছে গিয়ে পৌঁছলো৷
সুধীর বললে, ‘ঐ দেখা যায় জটামাথায় তাল গাছের সার। ঐ যে মন্দিরের চূড়োয় ত্রিশূল।’
—‘কৈ রে?’ বলে ভোম্বল ভ্রূ কুঁচকে, একটু ঝুঁকে সুধীরের আঙুল -বরাবর তাকালো।
—‘ঐ যে গাছের ফাঁকে সাদা। দেখতে পাচ্ছিস?’
—‘হাঁ — হাঁ, তুই যে বললি পুরনো?’
—‘গাঁয়ের লোকে চাঁদা তুলে হিন্দু মিস্ত্রী দিয়ে ভেতরে বাইরে কলি ফিরিয়েছে। প্রত্যেক বছর শিবচতুর্দশীতে কলি ফেরায়। তাই অমন সাদা ধবধবে, দেখে মনে হয় লোকে বলে যেমন জটে বাবা, নতুন তেমনি তাঁর ধামও সাদা৷’
ভোম্বল বললে, ‘শিবের বাস তো শ্মশানে। তাঁর আবার জাত কি?’
সুধীর বললে, ‘শ্মশানেই বটে—কিন্তু কবরখানায় তো নয়?’
ভোম্বল অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে কথাটা ভাবতে লাগলো।
গাড়ি প্রায় গ্রামের কোলে এসে পৌঁছলো।
সুধীর বললে, ‘ঐ যে টিন আর খড়ের আটচালা, ঐ দেখা যায় পোয়ালের পালা, ধানের গোলা—ঐ যে মস্ত কদম গাছ—ঐ আমার মামার বাড়ি৷’
ভোম্বল সেদিকে তাকিয়ে বললে, ‘খুব তেষ্টা পেয়েছে।’
সুধীর বললে, ‘আমারও।’
সুধীরের মা তাঁর মেয়েটিকে নিয়ে বসেছিলেন। মেয়েটি তাঁর কোলে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছিল।
সুধীর বললে, 'মা, বুলিকে তোল। এসে গেছি –’
মা বললেন, ‘যতক্ষণ পারে ঘুমোক। সেই কোন্ অন্ধকার থাকতে উঠেছে।’
—‘আমারও তো রাতে ঘুমই হয়নি।’
—‘তুমি আর ও?’
বলে মেয়ের গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। ভোম্বল কোন কথা না বলে গাড়ি থেকে চট করে নেমে গেল।’
সুধীর বললে, ‘আমিও হেঁটে যাব! দাঁড়া। কি! ঢুলতে ঢুলতে যাওয়া। দুজনে নেমে গাড়ির আগে আগে হেঁটে চললো এবং গাড়ি পৌঁছবার আগেই বাড়িতে গিয়ে পৌঁছলো।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন