অনিরুদ্ধ বসু
ইন্দ্রাক্ষি রায়চৌধুরী মিঃ পি কে খাসনবিসকে ধমকিয়ে বলল “নাথিং ইজ রাইট”
“কেন ম্যাডাম?”
“আমাদের এজেন্সির মেয়ে মারা গেল, আপনি প্রশ্ন করছেন কেন? এভাবে যদি এমপ্লয়িরা মারা যায়, ব্যবসা লাটে উঠবে”
“আমি কী করতে পারি ম্যাডাম? চাকরির পর মেয়েরা কী করে, খোঁজ রাখি কী করে?”
“রাখতেই হবে। শুধু চাকরিতে নেওয়ার সময় বায়োডাটা দেখলে চলবে না, প্রত্যেকটা এমপ্লয়ির ব্যাকগ্রাউন্ড সম্বন্ধে হোমওয়ার্কও করতে হবে। আমাদের অর্গানাইজেশনের ত্রেুডিবিলিটি আছে” ইন্দ্রাক্ষি কঠোর।
“কী করে জানব, অন্য সময় কী করে?”
“খোঁজ নিন। লোক লাগান। জেনেই এজেন্সিতে চাকরি দেবেন”
টেবলে রাখা প্যাকেট থেকে সিগারেট ধরাল। মুখে বেগুনি আভায় উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ। পারদটা প্রকট হাতের কম্পনে, মার্জিত শ্লেষে।
“অলরেডি পুলিস ফোন করেছিল। রুটিন ইনভেস্টিগেশনে আসবে। যদি মিডিয়ার কানে পৌঁছয় এজেন্সিতে আর কেউ আসবে না। ইমপ্লিকেশনটা এবার বুঝতে পারছেন?” অ্যাশট্রেতে সিগারেটটা গুঁজে বলল “তিলতিল করে এজেন্সি তৈরি করেছি। আই কান্ট অ্যাফোর্ড টু পুট ইট আন্ডার স্ক্যানার”
খাসনবিস আমতা করে বলল “ম্যাডাম একটা কথা বলব, যদি কিছু মনে না করেন...”
“বল”
"আউটসোর্সিং নিয়ে কোনও প্রবলেম নেই। যত প্রবলেম ফ্যাশন এজেন্সির মেয়েগুলোকে নিয়ে। ওদের গতিবিধি সব সময় ট্র্যাক করা যায় না”
ইন্দ্রাক্ষি তীক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল “কী বলতে চান? ফ্যাশন এজেন্সি সেগমেন্টটা বাদ দিয়ে দেব? ওটাই তো মেইন সোর্স অফ ইনকাম। কোথায় কোন মেয়ে মরল তার জন্য পুরো বিজনেসটা বন্ধ করে দেব? কত কষ্ট করে দাঁড় করিয়েছি। একটা সাজানো সংসার এভাবে ভেঙে দেওয়া যায় না”
থিয়েটার রোডের সেই ছোট্ট ভাড়া ঘর থেকে গ্রেটার কৈলাসের নেহেরু সেন্টারের এই বিশাল অফিস। মাঝে কুড়িটা বছর। ছোট্ট ফ্যাশন এজেন্সি দিয়ে শুরু। আজ, ফ্যাশন, কম্পিউটার আউটসোর্সিং, ইন্টারন্যাশনাল ম্যানপাওয়ার প্লেসমেন্ট, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশন। আমোয়েবার সিউডোপোডিয়ার মতো বিস্তার করেছে দ্য নিউ এজ। দিল্লি থেকে ভারতের অন্যান্য শহরে, ব্রাঞ্চ থেকে সাব ব্রাঞ্চ।
সেদিন বাহুডোরের কামাতুর মেয়েটাকে ঠিক চিনতে পারেনি আশিস। ভেতরের সুপ্ত স্বপ্ন কালের ফেরে কোনও সময় আত্মপ্রকাশ করে। প্রথম জীবনে ভালোবাসা। পরে উচ্চাশা। এই দুইয়ের যুগলবন্দি দৈহিক ও মানসিকভাবে কাছের মনে হয় আশিসের। থিয়েটার রোডে প্র্যাকটিস থাকলেও, উইকেন্ডে দিল্লির গ্রেটার কৈলাসের ফ্ল্যাটে, ইন্দ্রাক্ষির বাহুডোরে নিশিযাপন না করলে, সপ্তাহটা আধুরা। অর্থের অভাব নেই। রিপুর টান তো অস্বীকার করা যায় না?
সিগারেটটা নিভিয়ে বলল “এই ফ্যাশন এজেন্সি থেকেই আমার শুরু” ইন্টারকমে সেত্রেুটারিকে বলল “বলজিৎ কৌর কো ভেজনা। খাসনবিসকে বলল “বসুন। উই হ্যাভ টু সর্ট দিস আউট”
অপেক্ষা বলজিৎ কৌরের জন্য। ইন্দ্রাক্ষির মোবাইলে কল। খাসনবিস বুঝতে পারল না কার।
“ফ্রাইডেতে আসতে পারবে? ইন্সটেড অফ স্যটারডে?”
ওপাশ থেকে উত্তর। প্রত্যুত্তরে শুনল “ঠিক আছে। জাস্ট কনফার্ম দ্য ফ্লাইট। উইল বি অ্যাট এয়ারপোর্ট” ফোন কেটে দিল।
মিসেস বলজিৎ কৌর ঘরে ঢুকতেই খাসনবিসের পাশের চেয়ারে ইঙ্গিত “প্লিজ টেক এ সিট”
আরেকটা সিগারেট ধরাল “আই ওয়াজ জাস্ট টেলিং মিঃ খাসশনবিস দ্যাট এ লেডি হ্যাস ডায়েড ফ্রম আওয়ার অর্গানাইজেশন। ইট’জ অ্যালার্মিং। দ্য আদার ওয়ান হ্যাড মেনি কনট্র্যক্টস্ ফ্রম আস। দিস মে ডেটার আদার্স ফ্রম বিইং এ পার্ট অফ আওয়ার অর্গানাইজেশন”
কোম্পানির অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিরেকটার মিসেস কৌর বলল “ইয়েস, সামথিং টু ওয়ারি। শ্যাল আই ইনভেস্টিগেট?”
“নো পয়েন্ট। সো মেনি গার্লস আর লিঙ্কড্ উইথ আওয়ার অর্গানাইজেশন। ইফ ইউ ট্রাই টু ইনভেস্টিগেট দে উডন্ট লাইক ইট। ফিল অ্যালার্মড। মে মিন ইন্টারভেনিং অন দেয়ার প্রাইভেসি। নট অল হ্যাভ এ ক্লিন আফটার-অফিস ব্যাকগ্রাউন্ড। ইট উড ফ্রাইটেন দেম। আই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি ওয়ান টু বি ফ্রাইটেনড ওয়ারকিং ইন আওয়ার অর্গানাইজেশন”
মিসেস কৌর অর্গানাইজেশনের বহুদিনের কর্মী। বয়েসে ইন্দ্রাক্ষির থেকে কিছুটা ছোটো হলেও ভীষণ এফিসিয়েন্ট। ইন্দ্রাক্ষির সাম্রাজ্য বিস্তারের পেছনে মিসেস কৌরের প্রচ্ছন্ন হাত। বিচক্ষণ এই মধ্যবয়সির কাছে কোনও নতুন নন-ইনভেসিভ সলিউশন চাইছে। সেটা বুঝতে পারছে মিসেস কৌর। সেও তো এই অর্গানাইজেশনে প্রায় প্রথম থেকেই আছে। ইন্দ্রাক্ষির অবাধ বিশ্বাস।
“উইথ দ্য ডেথ পুলিস স্টার্ট কোয়েশ্চেনিং দেম?”
ইন্দ্রাক্ষি খাসনবিশকে বলল “প্লিজ টেল দেম ইট ইজ অ্যান আইসোলেটেড ইনসিডেন্ট। দ্য গার্ল ওয়াজ ওনলি ওয়ার্কিং উইথ দ্য কোম্পানি। ইউ হ্যাভ নো ক্লু অফ হার পারসোনাল লাইফ। ডস্ দ্যাট সাউন্ড রিসনেবল মিসেস কৌর?”
“সাউন্ডস্ ফাইন। বাট হোয়াট অ্যাবাউট দ্য আদার ক্লায়েন্টস অ্যাসোসিয়েটেড উইথ আওয়ার অর্গানাইজেশন?”
“দ্য মডেলস্?”
“প্রেসাইসলি। মেহুলি ওয়াজ আওয়ার ক্লায়েন্ট টু”
“উই ওয়ার ওনলি কনসার্নড উইথ হার কনট্র্যক্টস্ অ্যান্ড প্লেসমেন্ট। হাউ ডু উই নো হোয়াট সি ওয়াজ ডুয়িং রেস্ট অফ দ্য টাইম?”
“ট্রু” ঘাড় নাড়ল মিসেস কৌর।
উঠে পড়ল ইন্দ্রাক্ষি। পায়েচারি করছে। সাদা স্ল্যাক্সের নীচের ঢলঢলে অংশটা হাওয়ায় লেপ্টে আছে। নীল টপ্সের পেছন দেখতে পাচ্ছে খাসনবিস আর কৌর। ম্যাডাম যেন কিছু একটা ভাবছেন। কাঠের প্যানেলের দেওয়ালে কাকু ক্লক টিকটিক করছে। এরপর? মিসেস কৌরের দিকে ফিরে বলল “ফাইন্ড আউট অ্যাবাউট দিস গার্ল”
“মেহুলি?”
“নো। উই ডিড হার প্লেসমেন্ট ওনলি। সি ইজ এ নোন মডেল। নট মাই কনসার্ন” খাসনবিসকে বলল “ওই মেয়েটা। আমাদের মুম্বাই ডিভিশনের। কী যেন নাম?"
“সুনেত্রা আগারওয়াল”
“ওর ফাইলটা নিয়ে আসুন তো। ও কি এখান থেকে রিক্রুটেড, না মুম্বাই?”
“দেখছি” খাসনবিস বেরিয়ে গেল।
চেয়ারে বসে মিসেস কৌরকে “হোয়েদার দ্য টু ডেথস্ আর রিলেটেড অর নট, হ্যাভেন্ট এ ক্লু। বাট দ্য ফ্যাক্ট দ্যাট বোথ আর লিংকড উইথ আওয়ার অর্গানাইজেশন ইস সিওর টু রেইস কোয়েশ্চনস্”
“হোয়াটএভার মে ইট বি, উই হ্যাভ টু হ্যন্ডল ইট। হাউ?”
“মেহুলিস ওয়ান ক্যান ইজিলি বি ব্রাসড অ্যাসাইড। দ্যাট গার্ল আগারওয়াল বিইং ওয়ান অফ আওয়ার এমপ্লয়িস উইল সিওরলি পুট আস আন্ডার স্ক্যানার। আই ওয়ান্ট টু লুক অ্যাট হার রিক্রুটমেন্ট ডিটেলস সো আই হ্যাভ দ্য আনসারস”
মিসেস কৌর বুঝতে পারছে ইন্দ্রাক্ষির ব্রেন জেট স্পিডে কাজ করছে। এভাবে কাজ না করলে কী স্ক্র্যাচ থেকে এই সাম্রাজ্য করতে পারে? কৌর জানে, এই মহিলা দশ স্টেপ আগে চিন্তা করে। তাইতো দ্য নিউ এজ ভারতে একটা নাম। তখনও অর্গানাইজেশন এভাবে ফুলে ফেঁপে ছত্রছায়া বিস্তার করেনি। কলকাতায় মেন ব্রাঞ্চ। দিল্লির গ্রেটার কৈলাসে এই অফিসঘরটুকু। মিসেস কৌর সেই থেকেই এই অর্গানাইজেশনে। স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়ে বিয়ে করে অ্যামেরিকায়। বছরে একবার আসে। এখন সারা জীবনটাই দ্য নিউ এজ। তার প্রচেষ্টা, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও ইন্দ্রাক্ষির বুদ্ধির যুগলবন্দিতে সাম্রজ্যের বিস্তার।
তখনও দিল্লি ব্রাঞ্চের তেমন বিকাশ হয়নি। একদিন সেই-ই ইন্দ্রাক্ষিকে বলেছিল “উই হ্যাভ টু হুক দ্য মুম্বাই শো-বিজ ওয়ার্ল্ড ইন আওয়ার পকেট”
“হাউ?”
“ডোন্ট হ্যাভ টু টেল ইউ হাউ। মাই হাসব্যান্ড ওয়াজ ইন দ্য মিনিস্ট্রি। আই হ্যাভ প্লেনটি অফ কনট্যক্টস্ হিয়ার। আই ক্যান ওয়ার্ক আউট দ্য দিল্লি চ্যাপটার। ইউ হ্যাভ টু ওয়ার্ক আউট দ্য মুম্বাই লিংকস”
আউটসোরসিংয়ের লিংকসগুলো মিসেস কৌর-ই জোগাড় করে দিয়েছিল। বিদেশে লেবার এক্সপেনসিভ। এখানে অনেক সস্তা। সাহেবদের জানা থাকলেও, ইন্ডিয়ান কোনও এজেন্সির ত্রেুডিবিলিটি তেমন গড়ে ওঠেনি। দিল্লির মসনদ থেকে সাহেবদের অফিসে পৌঁছে গেছিল অভয়বাণী। জুটে গেছিল আউটসোরসিং কনট্র্যক্ট।
‘বিউটি অ্যাট ইটস্ বেস্ট’ প্রথম চাকরি জীবনের লোকদের সঙ্গে নতুন সূত্র। ইন্দ্রাক্ষির মন ছোঁয়া আন্তরিকতা, কমিশনের বহর ভাসিয়ে দিয়েছিল মুম্বাইয়ের ব্যাবসায়িক সাম্রাজ্যকে। একটা মোবাইল নম্বর। দিন নেই, রাত নেই, অফিস আওয়ার্স নেই। ফোন করো, বান্দা হাজির। ত্রুমে বিস্তার লাভ করল সাম্রাজ্য।
কৌরকে বলল “ইউ আর রাইট। উই হ্যাভ টু বি প্রিপেয়ার্ড। দো উই নো উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ দিস ডেথস”
ইন্দ্রাক্ষি মুচকি হাসল “ইট ইজ নট এ কোয়েশ্চেন অফ নোয়িং। ইট ইজ অফ কনভিনসিং”
শুত্রুবারের রাত শুধু আরেকটা মধুযামিনী নয়। অনেক কথা আশিসের সঙ্গে।
এয়ারপোর্টে ট্রলি ঠেলে রাস্তা পার হয়ে পার্কিং লটের দিকে এগোতে আশিস বলল “হঠাৎ জরুরি তলব?”
“ঘরে চলো। কথা আছে” ইন্দ্রাক্ষি গাড়ির বুট খুলল।
ড্রাইভিং সিটে বসে দরজাটা খুলে দিতেই পাশে আশিস বসল “সে কথা নয় পরে। এত চিন্তিত কেন?”
“বাড়িতে গিয়ে বলব। কাল ক’টা কেস ছিল?”
"চারটে। ক্যান্সেল করে দিলাম। নেক্সট উইকে অ্যাকোমডেট করে নিয়েছি”
গ্রেটার কৈলাসের ফ্ল্যাটের সোফায় পাজামা-পাঞ্জাবি পরে, হুইস্কিতে চুমুক দিয়ে আশিসের প্রশ্ন “কী হয়েছে?”
আশিস ইন্দ্রাক্ষি কখনও একসঙ্গে থাকে না হাউস খাস এনক্লেভের বাড়িতে। ইন্দ্রাক্ষির নিজস্ব ফ্ল্যাট গ্রেটার কৈলাস-টু। এখানেই উইকএন্ড কাটায় আশিসের সঙ্গে। এখানে কোনও কাজের লোক নেই, বেয়ারা বাবুর্চি নেই। ইন্দ্রাক্ষিই সব কাজ করে। এটা তার নিজের নিভৃত সংসার। লোকচক্ষুর আড়ালে আশিসের সঙ্গে মধু-মিলনের মধ্যে অন্য কেউ নেই। মনের বাসর। নিজেকে খুঁজে পাওয়ার একাকী নিভৃত অবসর।
ইন্দ্রাক্ষি ভডকায় চুমুক দিল “ওপাশের খবর কদ্দূর?”
“মেহুলির মৃত্যুর?”
“হ্যাঁ”
সিগারেট ধরিয়ে, ইন্দ্রাক্ষির কাঁধে হাত ছড়িয়ে গালে চুমু খেল “তুমি কী জানতে চাও জানি ডার্লিং। মেহুলি দেখাতে এসেছিল, ওরা জানে কি না? উত্তর, না। জানলে দেখা করতে আসত”
“এদিকে ওই মেয়েটার মৃত্যু, মানে সুনেত্রা আগারওয়াল নিয়ে, কলকাতার কে এক পুলিস উঠেপড়ে লেগেছে। অবভিয়াসলি ওরা জানে আমাদের মুম্বাই এজেন্সিতে কাজ করত। মুম্বাই ব্রাঞ্চের চিফ দারুওয়ালার সঙ্গে দেখাও করে গেছে”
“কাজ করত তো কী হয়েছে? কে কবে মরল, আমাদের ঠিক-ঠিকানা রাখতে গেলে তো আর অর্গানাইজেশন চালাতে হবে না। সবার বাঁচা-মরার ঠিকেদারি কী আমরা নিয়ে রেখেছি?”
এই জন্যেই আশিসকে এত ভালো লাগে। যখন গভীর সমস্যায় জর্জরিত, কত সহজেই না সব কিছু হাল্কা করে দেয়। এই একচ্ছত্র রাজকীয়তায় একটু মুক্তি। মনের কাউকে পাওয়ার পরম পরিতৃপ্তি। কাজের দুনিয়ার বাইরে নিশ্চিন্ত বটের ছায়া।
আশিস সিগারেটের ধোঁয়া ছুড়ে কাঁধের ওপর রাখা হাতটা ইন্দ্রাক্ষির বুকের ওপর নামিয়ে ব্লাউজের ফাঁক দিয়ে আকুলি-বিকুলি কাটতে লাগল “ইকোয়েশনটা কী মিলছে?”
আশিসকে স্তন নিয়ে খেলতে দিয়ে ভডকায় চুমুক “মিলবে। ঠিক মিলবে”
“এখন ওসব ভুলে যাও। ইকোয়েশনটা শুধু কষে যাও”
সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে গুঁজে ঠোঁটে চুমু। চোখের ওপর ডান হাত বুলিয়ে মুখ গুঁজে দিল ওর স্তনে। ওকে মুক্তি দেওয়ার একটাই রাস্তা। উষ্ণতার সাগরে ভাসিয়ে সব চিন্তাকে আবেগের জলপ্রপাতে নিষ্কৃতি। সেখানেই ওর চিন্তার মুক্তি। নিজেকে ছেড়ে দেওয়ার পরিতৃপ্তি। আজ আর ভাবনা নয়। শুধু দেহ। কাল সকালে কথা হবে। সারা সপ্তাহের ক্লান্তিকে মিশিয়ে দিতে চায় রিপুর আকাশ। নতুন ছন্দে। সন্ধ্যার ঝরঝরে হাওয়ায় গ্রেটার কৈলাসের সাজানো আসরে।
পরের দিন সকালে উঠে আধা ঘুমন্ত আশিসের জন্য চা তৈরি করছিল ইন্দ্রাক্ষি। মোবাইল বেজে উঠল। ওপাশে খাসনবিস “ম্যাডাম ডিটেলস পেয়েছি। সুনেত্রা আগারওয়াল কলকাতার মেয়ে। কলকাতা থেকে ওর অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছিল। সায়েন্স কলেজের এক ফিজিক্স প্রফেসারের রেফারেন্সে। মুম্বাই অফিসের জন্য। মুম্বাই অফিসে খবর নিয়ে জানলাম, ও অফিসের কাজে খুশি ছিল না”
“কী করে জানলে?”
“অফিস কলিগদের প্রায়ই বলত। গোঁড়া মারোয়ারি পরিবারের। ঈশ্বরভক্ত। শো-বিজ দুনিয়ায় মন টিকছিল না”
“চাকরি ছেড়ে দেয়নি কেন?”
“তার-ই চেষ্টা করছিল। এর মধ্যেই কে এক চতুর্বেদী নামে লোক ওকে মুম্বাইয়ের কাছে এক সাধুবাবার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয়”
“ঠিক আছে। ফাইলটা আমার টেবলে সোমবারের মধ্যে পাঠিয়ে দিতে বলো”
মুচকি হেসে ফোনটা নামিয়ে রাখল। বিবস্ত্র আশিস ততক্ষণে কিচেনে “চা কই?”
আশিসের নেতানো পুরুষাঙ্গে এক পলক তাকিয়ে ইলেকট্রিক কেটল অন করল। হাজার হোক আশিস সম্মানিত অতিথি।
ভোরের সুর্য কিচেনের ভেনিশিয়ান ব্লাইন্ডের ফাঁক দিয়ে আলো-আঁধারি রচনা করলেও ইন্দ্রাক্ষি দ্বিতীয়বার আশিসের বস্ত্রহীন অবয়বে চেয়ে বলল “মুখ ধুয়ে জামা পরে এস। ততক্ষণে চা রেডি। কথা আছে”
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।