সাতচল্লিশ

অনিরুদ্ধ বসু

তখন সবে ভোরের আলো ফুটেছে। মর্নিং ওয়াক করতে হাউস খাস এনক্লেভের টিকোনিয়া পার্কে চারবার চক্কর দিয়ে ফেলেছে ইন্দ্রাক্ষি। রোজকার অভ্যেস। বডি ফিট রাখতে গেলে কম খাওয়া, রোজ এক্সারসাইজ অত্যন্ত জরুরি। ফিরেই বারান্দার সোফায় পা ছড়িয়ে বসবে। চায়ে চুমুক দিয়ে রবীন্দ্রসংগীত, খবরের কাগজে চোখ বোলাবার সময় দিনের কর্মসূচি ঠিক করা।

শনিবার বিকেলের ফ্লাইটে আশিস আসবে। আশিস এ বাড়িতে ওঠে না। এখানে সে দ্য নিউ এজ গ্রুপের সাম্রাজ্ঞী, মহীয়সী নারী, সাম্রাজ্যের কর্ণধার। দেখাশোনা করছে বিশ বছর ধরে পুত্র পরিত্যক্ত প্রৌঢ় বঙ্কিম বাউরিয়া। বাড়ি দেখাশোনা, বাজার, রান্না করা থেকে গাছেও জল দেয়। সঙ্গে তদারকি করে ওর প্রিয় কুকুর জয়কে। তার এখানে পরিচয় সুপ্রসিদ্ধ প্রগতিশীল ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট।

গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্য মিটিমিটি হাসছে। হাসছে ইন্দ্রাক্ষিও। চেন্নাই প্রজেক্টকে অনেক দিনের স্বপ্নে সাজাতে হবে। তার উর্বর চিন্তা, ছন্নছাড়া কয়েকটা সাজানো চরিত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাকে বাস্তবে রূপায়িত করতে অতীনের মতো মাইনের চাকরের প্রয়োজন নেই। চিন্তাধারার বিচ্ছিন্ন প্রয়োগেও আটকে থাকতে হবে না। চিন্তাকে ব্যাকরণে ফেলে ফসলটুকু তুলে দিতে হবে আগামী প্রজন্মকে। আগামী প্রজন্মের বিন্যাস।

এতদিনের স্বপ্ন বাস্তবের দোরগোড়ায় - ‘দ্য নিউ এজ ইনস্টিটিউট অফ ত্রিুয়েটিভিটি অ্যান্ড হিউম্যন পোটেনশিয়াল’। দ্য ইনটেলেকচুয়াল বন্ডেজ অফ হিউম্যান রিলেশনস। এই প্রগতির স্বপ্নই তো এতকাল দেখছে। কোথাও জিতেছে, কোথাও বা হেরেছে। যা ছিল চিন্তার মায়াজালে সীমাবদ্ধ, আজ ইনস্টিটিউটের মোহর লাগিয়ে পরিবেশনা বিশ্বের দরবারে। উর্বর মস্তিষ্কের ফসল আগামীর বুনিয়াদ। অধরা স্বপ্ন কালজয়ী স্বাক্ষর রাখবে ইতিহাসে।

ভুলতে চায় অতীতকে, না-পাওয়া নির্মল ছোটবেলাকে। সেই স্বপ্নের বুনিয়াদ দ্য নিউ এজের বিশাল সাম্রাজ্য। অর্থ, যশ, প্রতিপত্তি, সব-ই জাগতিক চাওয়া। এবার তার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাক্ষর রাখতে হবে কালের দরবারে, যাবতীয় কামনা-বাসনার বাইরে। মোহ ছেড়ে সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন। যেখানে শিশুরা খেলবে মায়ের আঁচলে, প্রস্ফুটিত হবে ন্যূনতম ভালোবাসার বলয়ে। সংসার-রথের আবর্তে নতুন সৃষ্টি। পেছনে বলিদান, ইতিহাসেই লেখা। ধুয়ে যাক কলঙ্কিত জীবনের বলিরেখা। একটা জীবনেই থাকুক আগামীর রেশ। সময় হয়েছে স্বপ্নটা পৌঁছতে বিশ্বের দরবারে। বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে এই ইনস্টিটিউট আগামী প্রজন্মের রূপকার।

আনন্দে আচ্ছন্ন। আত্মতৃপ্তিটা ভাবার নয়, করে দেখানোয়। পরশু স্বপ্নের প্রথম পদক্ষেপ, তার নতুন ইন্সটিটিউটের ভিত স্থাপন - দ্য নিউ এজ ইনস্টিটিউট অফ ত্রিুয়েটিভিটি অ্যান্ড হিউম্যন পোটেনশিয়াল।

আশিসকে এ সপ্তাহের অপারেশন ক্যানসেল করেতে বলেছে। কাল রাতের ফ্লাইটে চেন্নাই যাবে ওরা। দ্য নিউ এজের সব শাখার কর্ণধারও পৌঁছে যাবে কালকের মধ্যে। বলজিৎ কৌর এক সপ্তাহ আগেই গেছে বন্দোবস্ত করতে। অসুবিধা হলে ফোনে জানাচ্ছে। পৌঁছেছে মিঃ খাশনবিশও, গণ্যমান্যদের নিমন্ত্রণ করতে, মিডিয়াকে বলতে। উদ্বোধন করছেন স্বয়ং চেন্নাইয়ের মুখ্যমন্ত্রী। প্রধান অতিথি ইউনিয়ন এডুকেশন মিনিস্টার। কাগজে পুরো পাতার অ্যাড। মঙ্গলবার সকালে, উদ্বোধনের দিন বেরবে।

মোবাইলে খাশনবিশকে “সব কম্পপ্লিট?’

“মোটামুটি। লিস্ট ওয়াইজ সবাইকে বলা হয়ে গেছে”

“দেখো কেউ যেন বাদ না যায়”

“নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন ম্যাডাম”

“সিএমের সেত্রেুটারির সঙ্গে ডবল কনফার্ম করেছ?”

“হ্যাঁ। উনি সেদিন সকালে ব্যাঙ্গালুরু থেকে ফিরবেন। কনফার্মড”

“মিডিয়া?”

“কার্ড তো আগেই পাঠানো হয়েছে। আপনার তৈরি প্রেস রিলিজ রেডি করছি। ফোন করে রিমাইন্ড করছি চিফ অফ ব্যুরোকে”

“দেখো কেউ বাদ না যায়”

“নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন”

বেশ কয়েকদিন অতীনের ফোন নেই। ইউজুয়ালি পারসোনাল ফোনেই করে। ফোন করলে উত্তর ‘দ্য মোবাইল ইজ সুইচড্ অফ’। কোথায় হাওয়া হয়ে গেল? মনে আশঙ্কা। খবর পেয়েছে দেহরাদুনের কাজ কমপ্লিট। হরিদ্বার থেকে ফোন করেছিল। দেহরাদুনে ফিরে আবার “সব ঠিক আছে ম্যাডাম” ব্যস। তারপরই বেপাত্তা। ভিত স্থাপনের অনুষ্ঠান হয়ে যাক। পরে খোঁজ নেওয়া যাবে। লোভী লোকটাকে খাইয়ে-পরিয়ে ভরিয়ে রেখেছে। পালাবে কোথায়? চিন্তার কারণ নেই।

আশিসকে ফোন। দুটো মোবাইলই সুইচড অফ। রিসেপশনে কোনওদিন ফোন করে না। ঘনিষ্ঠতার কথা জানাতে চায় না। দ্য নিউ এজে জড়িত কাউকেই নয়। হাউজ খাসের বাড়িরও নয়। তার নিভৃত পৃথিবীর সাক্ষী এই পুরুষ। দেহে নয়, প্রতি মুহূর্তে তার পাশে।

শুচিস্মিতা, মেখলার পর আশিসের জীবনে শুধু একটাই নারী। বৈবাহিক বন্ধনের বাইরে, চাওয়ার ভিতে, দেহ-মনের যুগলবন্দিতে, সর্বসত্তায়। লাখের মধ্যে সত্যি প্রেমের স্বাদ কজন পেয়েছে? তার রূপ, রস, ছন্দে প্রোজ্জ্বল একজনই, অতি কাছের ইন্দ্রাক্ষি। সামাজিক আখ্যা না থাক, বাঁধুনিও নয়। নিভৃতেই থাক তার কসমিক সহচর। তোমার মধ্যেই অন্তরের প্রকাশ। তোমার কিরণেই অন্তরের বিকাশ। তোমার শান্তির অন্তরালে মিশে থাক সর্বনাশ। জীবনের প্রতিটা কণাতেই ‘তুমি’।

খবরের কাগজটা তুলতে যাবে, দেখল চারটে পুলিসের গাড়ি বাড়ির গেটের সামনে। কী ব্যাপার? ইন্দ্রাক্ষি বারান্দার গদি থেকে উঠে দাঁড়াল। ততক্ষণে ছোটখাটো পুলিস বাহিনী নেমে পড়েছে। ডোর বেল।

বঙ্কিম এসে বলল “দিদিমণি অনেক পুলিস এসেছে”

ঠান্ডা স্বরে ইন্দ্রাক্ষি বলল “মেন গেট খুলে দাও”

পুলিসেরা নীচের ড্রাইভ-ইনে। দোতালায় এল দুজন। একজন আইডি কার্ড দেখাল “দেবাংশ ভর্মা। অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিস”

ড্রয়িং রুমের সোফার দিকে ইঙ্গিত করল “প্লিজ সিট ডাউন”

দাঁড়িয়েই বলল “ম্যাডাম, আর ইউ ইন্দ্রাক্ষি রায়চৌধুরী? দ্য ওনার অফ দ্য নিউ এজ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ?”

“ইয়েস” মাথা নাড়ল।

“ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট” ওয়ারেন্টটা ওর হাতে দিল।

“অন হোয়াট গ্রাউন্ডস?”

“চার্জেস অফ সিরিজ অফ মার্ডারস সেকশন ৩০২ অ্যান্ড ৩০৮ আইপিসি”

“মার্ডার?” বিকারহীন মার্জিত স্বরে বলল “আর ইউ সিওর, ইউ আর নট মেকিং এ মিস্টেক?”

“উই হ্যাভ এনাফ এভিডেন্সেস এগেন্সট ইউ”

মুহূর্তগুলো যেন বছর। গলায় ঝোলানো চশমা দিয়ে ওয়ারেন্টটা পড়ছে। বঙ্কিম বুঝতে পারছে না ব্যাপারটা কী। দিদিমণি, মার্ডার! অদ্ভুত ঠেকছে। জয় অপরিচিত পুরুষদের দেখে ঘেউঘেউ চিৎকার করছে। বঙ্কিম জয়ের গলা জড়িয়ে বেডরুমে নিয়ে বন্ধ করে দিল। পুলিস কেন দিদিমণির এখানে?

ওয়ারেন্ট পড়ে ইন্দ্রাক্ষি বলল “ক্যান আই রিং মাই ল্যইয়ার”

“বাই অল মিনস”

"হোয়ার ডু ইউ ওয়ান্ট টু টেক মি ফর ইন্টারোগেশন?”

“আওয়ার হেড কোয়াটার্স ইন আইটিও অফিস অ্যাট বাহাদুর শাহ জফর মার্গ”

“আই উইল আস্ক হিম টু কাম ওভার দেয়ার। বাট মাইন্ড ইউ, আই অ্যাম নট গোয়িং টু গিভ এনি স্টেটমেন্ট ইন হিস অ্যাবসেন্স”

“অ্যাজ ইউ প্লিজ”

ওয়ারেন্ট ফেরত দিয়ে চশমা নামিয়ে বলল “উড ইউ গিভ মি টু মিনিটস টু চেঞ্জ?”

“সিওর” দেবাংশ ভর্মা সোফায় বসল।

বেডরুমে ঢুকে ওয়ার্ডরোব থেকে বুটিকের কাজের সালোয়ার-কামিজ পরল। প্রসাধন লাগাতেও ভুলল না। আদরের জয়কে আদর করে বলল “ভালো থাকিস যতক্ষণ না ফিরে আসি”

বিহ্বল বঙ্কিমকে বলল “চিন্তা করো না। ওদের কোথাও ভুল হয়েছে। গিয়ে দেখি, কোথায়। ফেরত না আসা পর্যন্ত সব দেখে রেখো” পার্স থেকে এক বান্ডেল নোট দিয়ে বলল “ফেরত না আসা পর্যন্ত বোধহয় চলে যাবে”

বঙ্কিমের চোখ ছলছল। জয় চিৎকার থামিয়ে দিয়েছে। মালকিন অসুবিধায় বুঝতে পারছে। লেজ নাড়া বন্ধ করে গা ঘেঁসে দাঁড়াল। যাবার আগে ভালোবাসার শেষ ঘ্রাণটুকু নিতে। জন্তু-জানোয়ারের ভাষা তো বুঝি না, অনুভূতি বুঝতে পারি। তফাত সেখানেই। মানুষের ভাষা বোঝার চেষ্টা করি, মনকে নয়।

“ইয়েস মিঃ ভার্মা, লেটস গো”

ডিজি সুরেশ গুপ্তর ঘরে দেবাংশ বলল “ক্যান আই সি ইওর আইডেন্টিটি প্লিজ?”

ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, ত্রেুডিট-ডেবিট কার্ড বার করে দিল। দেবাংশ দেখা শেষ করতেই, ল্যইয়ার অঞ্জন মিত্র ঢুকল। ভয়েস রেকর্ডিং মেশিন চালিয়ে দিয়েছে সুরেশ গুপ্তে। বয়ান রেকর্ড করা হবে।

সুরেশ গুপ্তে শুরু করল “আই অ্যাম সুরেশ গুপ্তে, ডিজি অফ পুলিস। ইউ আর ইন্দ্রাক্ষি রায়চৌধুরী?”

“ইয়েস”

“ইউ ওন দ্য নিউ এজ অ্যান্ড অ্যাসোশিয়েটেড কোম্পানিজ?”

“ইয়েস”

“উই ব্রিং চার্জেস এগেন্সট ইউ ফর দ্য মার্ডারস অফ মেহুলি রায়, সোহম সান্যাল, সোফি চৌধুরী, অঙ্কুর জয়সওয়াল, শিবানী করঞ্জওয়ালা, সুনেত্রা আগারওয়াল, নীলকান্থ রঙ্গনাথন, পৌরভি কান্নান অ্যান্ড লোকেশ চাঢা। হোয়াট হ্যাভ ইউ গট টু সে টু দ্যাট?”

“ডোন্ট হ্যাভ দ্য ফেইন্টেস্ট ক্লু অ্যাস হোয়াট ইউ আর টকিং অ্যাবাউট?”

“হ্যাভ ইউ বিন ইনভলভড উইথ দিস মারডার্স?”

“নো”

“হাউ উড ইউ ডেফাইন ইওরসেলফ? গিল্টি অর নট গিল্টি?”

“অবভিয়াসলি নট গিলটি। আই ডোন্ট ইভেন নো হোয়াট ইউ আর টকিং অ্যাবাউট” নিরুত্তাপ ইন্দ্রাক্ষি।

“উই হ্যাভ এনাফ এভিডেন্সেস টু প্রুভ ইউ আর ইনভলভ উইথ দিস মারডার্স”

পাশ থেকে অঞ্জন মিত্র বলল “স্যার ইওর এভিডেন্সেস মে কাইন্ডলি বি প্রডিউসড ইন কোর্ট”

“বাই অল মিনস। বাট বিফোর উই গো অ্যাহেড, আই ওয়ান্ট হার কনফেশন”

“আই হ্যাভ অলরেডি টোল্ড ইউ আই অ্যাম ইনোসেন্ট”

“হ্যাভ ইউ এনি জাস্টিফিকেশন ইন ইওর ফেভার?”

“হোয়েন আই হ্যাভ ক্লেমড আই অ্যাম ইনসেন্ট, দেয়ার ইজ নো নিড ফর জাস্টিফিকেশন”

“দ্য ওনাস লায়েস অন আস টু প্রুভ আওয়ার চার্জেস। সিন্স টুমরো ইজ সানডে, উই উইল হ্যাভ টু ডিটেন ইউ ইন কাস্টডি আনটিল মানডে টু প্রুভ ইট”

ইন্দ্রাক্ষি প্রতিবাদ করল “টিউসডে উই আর সেডুল্ড টু লে দ্য ফাউন্ডেশন স্টোন অফ আওয়ার নিউ ইনস্টিটিউট ইন চেন্নাই। অল অ্যারেঞ্জমেন্টস হ্যাভ বিন মেইড। ইট ইজ টু বি ওপেনড বাই দ্য চিফ মিনস্টার অ্যান্ড ইউনিয়ন মিনিস্টার ফর হায়ার এডুকেশন। অল দ্য ডিগনিটারিস হ্যাভ বিন ইনভাইটেড। আই হ্যাভ টু বি দেয়ার”

“ইট ক্যান হ্যাপেন ইন ইওর অ্যাবসেন্স” অঞ্জন মিত্রকে বলল “ইউ ক্যান অ্যাপ্লাই ফর বেল। আই অ্যাম সিওর ইট ওন্ট বি গ্র্যান্টেড”

বয়ান লিপিবদ্ধ করে প্রাইমা ফেসি কেস স্টার্ট করল। নিয়ে যাওয়ার আগে ইন্দ্রাক্ষি বলল “ক্যান আই টক টু মাই ল্যইয়ার অ্যালোন?”

“বাই আল মিনস” সম্মতি দিল ডিজি।

অঞ্জন বলল “ম্যাডাম, উনি ঠিকই বলেছেন। বেলের অ্যাপ্লাই করতে পারি। ফলপ্রসু হবে না। এটা ৩০২ ধারা”

“মিসেস কাউরকে জানিয়ে দেবেন। ওদের অ্যারেস্টের কথা বলবেন না। শুধু বলবেন, বিশেষ কাজের জন্য থাকতে পারছি না। এটা আমার জীবনের স্বপ্ন। ওরা আমাকে নিয়ে কী করে, সেটা পরের ব্যাপার। আমার স্বপ্ন যাতে থেমে যায়, সেটা দেখবেন। ওই ইনস্টিটিউটের মধ্যে লুকিয়ে আছে আগামীর ভবিষ্যৎ”

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%