অনিরুদ্ধ বসু
ভওয়ানিশঙ্কর অন্দরমহলের বসার ঘরে, চতুর্বেদীর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে, বলল “কেও বেটি? পুলিস অফিসার সে পেয়ার কেও? সারে সংসার মে পেয়ার কি কুছ কমি হ্যায়?”
শিরিন কী জবাব দেবে ভেবে পেল না। স্নেহাশিস কলকাতায় ফিরে গেছে। চতুর্বেদীকে অস্বীকার করার উপায় নেই। অনিচ্ছাসত্ত্বেও চতুর্বেদীর গাড়িতেই ম্যাথেরনে ভওয়ানিশঙ্করের আশ্রমে।
শিরিন বুঝতে পারছে না কোন চত্রেু জড়িয়ে। মেহুলিও কী কোনও চত্রেু জড়িয়ে পড়েছিল? তাই বারবার চতুর্বেদীর মেহুলির ব্যাপারে শিরিনকে ফোন, স্নেহাশিস কদ্দূর জানে? তারও কী মেহুলির মতো পরিণতি হবে? বুকটা ভয়ে কাঁপছে। পালাবার উপায় নেই। চতুর্বেদীর ফোনে মুম্বাইয়ের পাট নিমেষে চুকে যেতে পারে, অজানা নয়।
শিরিনকে চুপ থাকতে দেখে ভওয়ানিশঙ্কর সাদা ধুতির কোঁচাটা ঠিক করে বলল “ইস আশ্রম মে সিরিফ প্যার হি প্যার। ইয়ে দেখো রম্ভা, অনুস্কা কিতনি পেয়ার মহব্বৎ সে জি রহি ঈশ্বরকে চরণো মে” রম্ভা তিনজনকে ঘোলের শরবত দিতে, বাবা ওর কানে কিছু বললেন।
লস্যিতে কী কিছু মেশানো? গ্লাসের দিকে তাকিয়ে পুরনো স্মৃতি ঢেউ খেলে গেল। বাবাকে কোথায় দেখেছে। কোথায়? স্মৃতির পাতা হাতড়াচ্ছে শিরিন। বাবাকে দেখতেই অস্পষ্ট স্মৃতিটা আকার নিল। ভেসে উঠল বাবার ছবি। সুনেত্রার কমপিউটারে। যদি স্নেহাশিস একথা জানত, আরও কিছুদিন মুম্বাইতে থেকে যেত। থেকে গেলেই ভালো ছিল। তাকে আগলে রাখতে পারত এই অস্পষ্ট চরিত্রগুলো থেকে। তাহলে অবশ্য সুনেত্রার কথা খুলে বলতে হত। ভগবৎভক্ত সুনেত্রা কী ভাবে জড়িয়ে পড়েছিল সাধুসঙ্গে। ধর্ম অন্য বলে সাধুসঙ্গে জড়াতে শিরিন চায়নি, বিশেষ করে নিজে যখন কোনও ধর্মই প্র্যাকটিস করে না। দেহ বেচে যখন রোজগার, এ ধরনের হিপোক্রিসির মানেই হয় না। দেহ দেখিয়ে, বিত্রিু করে তো নয়।
সুনেত্রা বলত “যৈসে হো হমে ঈশ্বর পানা হ্যায়”
শিরিন বুঝতে পারত না সুনেত্রার কেন এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা? কোথায় যেন মানুষের প্রতি অবিশ্বাস, ক্ষোভ, বিদ্বেষ। প্রেমে আঘাত খেলে কী মানুষ ঈশ্বরমুখী হয়? শিরিনের তো হয়নি। বরং আরও জীবনমুখী হয়েছিল প্রমাণ করার নেশায়। কলকাতা থেকে মুম্বাই তারকা জগতে উত্তরণ। নইলে স্নেহাশিসের গিন্নি হয়ে পুত্র-কন্যা নিয়ে মেদিনীপুর কিংবা বালুরঘাটে জীবন কাটিয়ে দিত। একদিক থেকে ভালোই হত। অন্তত চতুর্বেদীর চাপে ভওয়ানিশঙ্করের সামনে দাঁড়াতে হত না।
শিরিনকে নীরব দেখে ভওয়ানিশঙ্কর বলল “কিতনে পেয়ার কা বাত হুয়া আসিকি কে সাথ?” শান্ত সৌম্য স্বরে ভওয়ানিশঙ্কর কথাগুলো পাড়লেও, শিরিনের মনে হল, পেছনে প্রচ্ছন্ন হুমকি।
নম্রভাবে বলল “কুছ নেহি। চতুর্বেদী সাবকা বারে মে কুছ ভি নহি। উসে কুছ মালুম নেহি”
“ফির উসে ঘর মে রখা কেও?”
চতুর্বেদীর দিকে তাকিয়ে বলল “চতুর্বেদী সাব সে পুছিয়ে”
ভওয়ানিশঙ্করের চতুর্বেদীকে প্রশ্ন “কেও চতুর্বেদী চক্কর কেয়া?”
চতুর্বেদী তুতলিয়ে বলল “মহারাজ, হমে জান না থা ইয়ে পুলিস মেহুলি ঔর মেরে বারে মে কিতনা জানে?”
ভওয়ানিশঙ্কর মাথা নাড়ল “সহি” শিরিনেরকে জিজ্ঞেস করল “কিতনা জানে?”
“কুছ ভি নেহি। নাম তক ভি নেহি”
“তুমহে কৈসে মালুম? কুছ বোলা?”
“কুছ জানে তো হামে জরুর পুছতা”
“তুম কিতনা বোলে?” ভওয়ানিশঙ্কর নম্র দৃঢ়।
“কুছ ভি নেহি। কেউ বলু?”
“সহি?”
“বিলকুল সহি মহারাজ” শিরিন দৃঢ়।
মহারাজের অস্পষ্ট ছবিটা আকার ধারণ করছে। সুনেত্রার কম্পিউটারে ছবি দেখে চমকে উঠেছিল। সুনেত্রা পাশের ফ্ল্যাটে ওঠার পরের দিন সন্ধেবেলায় কড়া নেড়েছিল শিরিনের ফ্ল্যাটে। “আই মুভড ইন দ্য ফ্ল্যাট নেক্সট টু ইউ। কেম টু নো ইউ”
“কাম ইন প্লিজ” ক্লিন্সার দিয়ে মেক আপ তুলে শিরিনের সোফার দিকে ইঙ্গিত “প্লিজ...”
“ইউ আর ফ্রম মহারাষ্ট্রা?”
“নো বেঙ্গল। ইউ?”
“ফ্রম কলকাতা” সুনেত্রা সোফায় বসল।
“তুমি বাঙালি?”
“না মারোয়ারি। জন্ম কলকাতায়। বড় হয়েছি কাঁকুরগাছিতে। বাংলা বলতে পারি”
একগাল হেসে শিরিন বলেছিল “ভালোই হল। এত বছর এখানে। বাংলা-মেশানো হিন্দি বেরচ্ছে। ভুলেই যাচ্ছিলাম কলকাতার মেয়ে”
সেই আলাপ। জেনেছিল দ্য নিউ এজ কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে মুম্বাই পাড়ি। সায়েন্স কলেজের কেমেস্ট্রিতে এমএসসি। শিক্ষিত মেয়ে। শ্রদ্ধা বেড়ে গেছিল। যতই মডেল হিসেবে নাম থাক না কেন, সমসাময়িক শিক্ষিত মেয়ের সামনে এলে অজান্তেই শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। সুনেত্রার সূত্রেই সন্নিধির সঙ্গে পরিচয়। দ্য নিউ এজে কাজ করে। মডেল হতে চায়। শিরিন প্রতিষ্ঠিত মডেল। স্বাভাবিক ভাবেই হৃদ্যতা বেড়ে উঠেছিল। শিরিন সন্নিধির ওঠার সোপান। সুনেত্রা কলকাতার বাসিন্দা। দুজনের বন্ধুত্বে শিরিন গুছিয়ে নিয়েছিল দ্য নিউ এজ মডেলিং-এর সব হাই-প্রোফাইল কন্ট্র্যাক্ট। কে বেশি পাবে? শিরিন, না মেহুলি? বন্ধুত্বের নাগপাশে দুজনকে জড়িয়ে মেহুলিকে কোণঠাসা করে দিয়েছিল দাবার পাশায়। তাই মেহুলিকে অন্য রাস্তা ধরতে হয়েছিল খ্যাতির শিখরে থাকতে। মেহুলিকে টপকে কনট্র্যক্টগুলো হাতিয়ে নিচ্ছিল শিরিন। দেঁতো হাসিতে অভ্যর্থনা করলেও, মেহুলি বুঝতে পারছিল, মুম্বাইয়ের ইঁদুর দৌড়ে শিরিন অনেক চোস্ত, পাক্কা, দক্ষ খেলোয়াড়। ইঁদুর দৌড় ছেড়ে ঘোড়দৌড় চতুর্বেদীর হাত ধরে। তার মৃত্যুর সঙ্গে চতুর্বেদী কতখানি জড়িত বোঝা যাচ্ছে না।
চাওয়া-পাওয়ার হিসেবে বন্ধুত্বের পরিধি ছুটি কাটানো, সিমলা বেড়ানো, হরিদ্বারের হর-কি-পৌরিতে স্নান। অন্য আনন্দের আকাশে। জীবন কাব্যময় ছন্দ। তখনও দিনের আলো মুছে যায়নি। গোধূলির শেষ রশ্মি বিদায় নেওয়ার আগে মানুষের গুঞ্জন শুনছে হর-কি-পৌরির ব্যস্ত, মুখর অস্থিরতায়। ভক্তদের নৈসর্গিক দান। সন্ধ্যা কালো আচ্ছাদনে ওড়না পরছে প্রদীপ ভাসাবার আয়োজনে, যা কলাপাতার ভেলায় ভেসে যাবে ভারত সেবাশ্রমের দিকে।
ওরা তিনজন চুপচাপ বসে সেই দৃশ্য উপভোগ করছিল। সুনেত্রা চেয়েছিল গেরুয়া জামা পরা সাধুবাবার দিকে। কিছুদূরে জলের ধারে বসে। খালি গা, জোড়াসনে ধ্যানমগ্ন। বাঁ দিকে রাখা একরাশ বইয়ের স্তূপ থেকে একটা একটা করে পুস্তক ছিড়ে ভাসিয়ে দিচ্ছে গঙ্গার জলে। অবাক হল সুনেত্রা। বারবার দেখছে সাধুকে। সাধু ধ্যান আর পুস্তক বিসর্জনে মগ্ন। অবাক সুনেত্রা উঠে পড়ল। এগিয়ে গেল সাধুটির দিকে। দূরে দাঁড়িয়ে দেখল পুস্তকগুলি বিভিন্ন ভাষার। হিন্দি লেখা দেখে বুঝতে পারল, সবগুলোই ধর্মগ্রন্থ। ধর্মগ্রন্থগুলো এভাবে জলে ভাসাচ্ছে কেন? সুনেত্রার কৌতূহল। নিবিষ্ট মনে দেখছে সাধুর কার্যকলাপ। এক সময় পুস্তকগুলির বিসর্জন সমাপ্ত হল। সাধুরও ধ্যানের অবসান। শিথিল পায়ে হাঁটতে লাগল হর-কি-পৌরির সিঁড়ি ধরে। শিরিন আর সন্নিধি লক্ষ করল অন্ধ মাদকাতায় সুনেত্রা হাঁটছে সাধুর পেছনে। ডাকতে যাচ্ছিল সন্নিধি। শিরিন বাধা দিল। গোঁড়া মারোয়ারি পরিবারের মেয়ে। হতেই পারে। শিরিন গোঁড়া মুসলমান পরিবারের হয়েও যদি ভডকা খায়, সবাই সংস্কার বিসর্জন দেবে, এমন ভাবাও ভুল।
কোথায় সুনেত্রা গেছিল জিজ্ঞেস করলেও এড়িয়ে গেছিল সুনেত্রা। ওরা আর ঘাঁটায়নি। পরে একদিন, সুনেত্রার ঘরে গল্প করতে করতে যখন ওদের বেড়ানোর ছবিগুলো দেখাচ্ছিল, শিরিন প্রশ্নটা আবার তুলেছিল “তোমার এখানে এত সাধু-সন্ন্যাসীর ছবি কেন?”
কফি এগিয়ে সুনেত্রা বলেছিল “আমার ভালো লাগে”
“তুমি কী খুব গোঁড়া মারোয়ারি পরিবার থেকে?”
“হ্যাঁ। বাবা-মা রোজ ‘হনুমান চালিসা’ পড়ে”
“তা বলে, এই বয়সে?”
বুঝেছিল শিরিন বিশ্বাস করতে পারছে না, কেন ওর সাধুপ্রীতি। ওদের তো বলা যাবে না। পেছনের ইতিহাস চেপে বলেছিল “ভগবান পাওয়ার কী কোনও বয়স আছে?”
শিরিন আল্লা রহিমের কথা শুনেছে। রমজানের পর ইদের চাঁদ দর্শনে মুবারকবাদ দিয়েছে। দুর্গাপুজোতেও সারারাত ঠাকুর দেখেছে। ভক্তিতে নয়। নিছক অনুষ্ঠান, সাবেকি রীতি। আনন্দ করাই প্রধান। শিরিন নয় দিনে পাঁচবার নমাজ পড়ে না। সুনেত্রা যদি শান্তি পায়, ক্ষতি কী?
সোহমের সঙ্গে অতীতের কাহিনি তো বলা যবে না শিরিনকে। তাই কথা ঘুরিয়ে বলেছিল “একটা ঘটনা কী রকম সব পালটে দিল”
“কী ঘটনা?”
“হর-কি-পৌরিতে বেড়াতে গেছিলাম, মনে আছে? ওখানে এক সাধুকে দেখলাম ধর্মগ্রন্থগুলো ছিঁড়ে জলে ভাসিয়ে দিচ্ছে। পেছন পেছন গেছিলাম ওনার ছাউনিতে। বাবাকে প্রণাম করে বলেছিলাম ‘বাবা আপ কেও সব ধর্মকে কিতাব গঙ্গা মে ফেক রহা থা?’ আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন ‘সব পড় লিয়া বেটি। উসমে ধরম নেহি হ্যায়। ধরম বিসোয়াস মে’। আমার ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কথা ঠিকঠাক বলেন। অবাক হয়েছিলাম শুনে। সেই থেকে বিশ্বাস করি”
সেখানে অনেক সাধুর ছবি - গৈরিক বসন পরিহিত, যোগী সাধু, শ্বেতবস্ত্র পরিহিত সাধু, নাগা সাধু, জৈবিক ত্রিুয়ায় লিপ্ত সাধু। এখন মনে পড়ছে। ভওয়ানিশঙ্করের জৈবিক ত্রিুয়ায় লিপ্ত ছবি। বুকটা ভয়ে শিউরে উঠল। এ কোন সাধুর আশ্রমে সে? মাঝে আবার চেলা চতুর্বেদী। কোনও বৃহত্তর চত্রেু জড়াচ্ছে না তো?
রম্ভা আর অনুস্কা ভওয়ানিশঙ্করের দুপাশে বসল। ওদের দুজনের কাঁধে হাত রেখে ভওয়ানিশঙ্কর বলল “ঈশ্বর তো দূরকে অন্তিম সমাধি। জনম জনম কে প্রায়শ্চিত ঔর করমকে সাথ উসে প্রাপ্ত হোতা। জনম করম মে হি ধরম। করম হমারে হর রিপুকে উপাসনা। উসমে হি ঈশ্বরকা জ্ঞান প্রাপ্ত হোতা” রম্ভা আর অনুস্কার কোমরে হাত দিয়ে কাছে টেনে বলল “ইয়ে জো শরীর হ্যায় ইয়ে ঈশ্বরকে মর্ত্যরূপ। ইসে পা না, পুরে শক্তি সে নিভানে দিল মে তন্দুরুস্তি লাতি। ঈশ্বর হম নেহি, তুম নেহি, হামারে ছুপি হুই বাসনাকে পরিপূর্ণতা মে হি হ্যায়”
শিরিনের মাথায় ঢুকছে না, ভওয়ানিশঙ্কর ওকে দেহতত্ত্বের কাহিনি শোনাচ্ছে কেন? এই কাহিনিই কী সুনেত্রাকেও শুনিয়েছিল? হয়ত এই দর্শন শুনেই সুনেত্রা আকৃষ্ট হয়েছিল ওর প্রতি। এখানেই লুকিয়ে তার মৃত্যুর বীজ। শিরিন ঈশ্বরও চায় না, মরতেও চায় না। ভওয়ানিশঙ্করের থাবা থেকে নিস্তার চায়। চতুর্বেদী তাকে শুধু মেহুলির মৃত্যুর ইনভেস্টিগেশনে সে জড়িয়ে কি না, সেটুকুই জানাতে বলেছিল। এখন দেখছে চতুর্বেদী মহারাজের অনুগামী। তাহলে কী দেহতত্ত্বের মূল আঁকড়ে মেহুলি পৌঁছতে চেয়েছিল খ্যাতির স্বর্ণশিখরে? ভওয়ানিশঙ্করের ছত্রছায়ায়? তা কী সুনেত্রা জেনে গেছিল? তাই তার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি? মেহুলি সুনেত্রার মৃত্যুর সঙ্গে এরা জড়িয়ে নেই তো? যদি থাকে, পান থেকে চুন খসলে, তারও একই পরিণাম হতে পারে।
ভীষণ অসহায় লাগছে। এতদিন পর্যন্ত পার্টি, আড্ডা, একটু ঢলাঢলির মধ্যে কেরিয়ার সীমাবদ্ধ ছিল। এখন দেখছে, শুধু তা নয়। একবার যদি এ জালে জড়ায়, এই চত্রেুর দুটোই পরিণতি - মৃত্যু অথবা জেল। এখন মনে হচ্ছে স্নেহাশিসকে সুনেত্রার সঙ্গে সম্পর্কের কথাটা না চাপলেও পারত। বিচক্ষণ পুলিস অফিসার। উপায় বাতলাতে পারত। ইচ্ছাকৃতভাবেই কথাটা চেপে গেছিল। পাছে স্নেহাশিসের ছানবিন সাজানো বাগানে আগুন না জ্বালায়। ও তো আর জানে না, এখানের খ্যাতি কীভাবে? ফিরে গিয়ে স্নেহাশিসকে জানাতে হবেই। নইলে এ জাল থেকে বেরোবার পথ দেখছে না।
চতুর্বেদী বলল “কেয়া করে মহারাজ? ইয়ে লড়কি নাদান হ্যায়”
ধমকে উঠল ভওয়ানিশঙ্কর “নাদান নেহি। পুরানে আশিক কো ছোড়ো। ঔর আপনে জিন্দেগি চালাক কে মাফিক জিয়ো। কভি মন ঔর ভি কুছ চাহে, শরীর ঈশ্বর কে ওর ধায়ে, তো ইঁহা চলা আনা। লেকিন এক বাত... আজকে মুলাকাত কিসি কো পতা নেহি চলনা চাহিয়ে” দৃঢ়তার সঙ্গে ছুড়ে দিল। শিরিনের মনে হল এটা শুধু আদেশ নয়, হুমকিও বটে।
“আপকে আজ্ঞা ম্যায় মরতে দম ইয়াদ রখুঙ্গা। উসে জি ঔর জিগর সে মানুঙ্গা। জো কুছ হমে কিয়া ও চতুর্বেদী সাবকে ইশারে পে। আপ ঔর চতুর্বেদী সাব বোল দিয়া ওহি মেরে লিয়ে ঈশ্বরকে বাণী”
অনুস্কা ও রম্ভার কোমর ছেড়ে, ওদের হাত নাড়ল। একজন পাশের ঘর থেকে ফুলের থালা নিয়ে এল। বুঝতে অসুবিধা হল না ভওয়ানিশঙ্কর ওকে আশীর্বাদ করতে চাইছে। সোফা থেকে উঠে সষ্টাঙ্গ প্রণাম। ওর মাথায় ফুলের পরশ ঢেলে পরম স্নেহে বলল “ঈশ্বর তুমহারা ভলা করে। হম হ্যায় তুমহারে সাথ। কভি কুছ মুস্কিল হোয়ে তো হমে ইয়াদ করনা। করোগে তো?”
“জি মহারাজ” সায় দিল শিরিন।
“চতুর্বেদী মেরে নম্বর তুমহে দে দেগা” তাকাতে মাথা নাড়ল চতুর্বেদী।
ভওয়ানিশঙ্কর উঠে পড়ল “অব মেরা আরামকে ওয়াক্ত। যাও বেটি। কাম মে ঔর তরক্কি করো। ইয়ে সব ছোটিমোটি বাত ভুল যাও। জিন্দেগি মে বহত দূর জানা হ্যায়। জিয়ো, জি ভরকে জি লো”
আশ্রম থেকে বেরিয়ে কথাগুলোর মানে খোঁজার চেষ্টা করছে শিরিন। কী বলতে চাইছিল? শিরিনকে ভদ্র ভাষায় ধমক দিয়ে কী নাটকের যবিনকা টানল? না কি, পিছনে অন্য কোনও খেলা জড়িয়ে?
অসহায় লাগছে। বিশাল পৃথিবীর লড়াইয়ে সে একা। মনে হচ্ছে, আরেকজন পাশে থাকলে ভালো হত। স্নেহাশিস ছাড়া এই মুহূর্তে আর কে হতে পারে?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।