অনিরুদ্ধ বসু
আজ ওদের সেলিব্রেশনের দিন। আশিসের কলকাতার ফ্লাইট আগেই পৌঁছে গেছে। কিছু করার না পেয়ে, গ্রেটার কৈলাসের ফ্ল্যাটে ডিনার তৈরিতে ব্যস্ত। প্রায় শেষ। সারাদিন মিটিং করে ইন্দ্রাক্ষি ক্লান্ত হয়ে আসছে। আজ তার কালিনারি স্কিলস দেখাবে।
ইন্দ্রাক্ষি ফ্ল্যাটে ঢুকে ডম পেরিডনের বোতলটা আশিসের হাতে দিল “ফ্রিজে রাখ, আমি স্নান সেরে আসছি। পথে ভসন্ত ভিহার থেকে শ্যাম্পেনটা কিনলাম”
চেন্নাইতে সিএম ও অন্যান্যদের সঙ্গে একটানা দু-ঘণ্টা মিটিং সেরেই ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছল। ভ্যাপসা গরমে গা টা চ্যাটচ্যাট করছে। আগে ওয়েদার অনেক ড্রাই ছিল। লক্ষ করছে, রিসেন্টলি হিউমিডিটা অনেক বেড়ে গেছে। জামাকাপড়গুলো ড্রেসিং টেবলের স্টুলে ছুড়ে বিবস্ত্র, বাথরুমে। সি নিডস এ ওয়ার্ম ফোম বাথ। বাথে জল ভর্তি করতে দিয়ে দাঁত মাজায় মন দিল। দিনে দুবার দাঁত মাজার অভ্যাস। বহুদিনের স্বপ্ন সফল হতে চলেছে বাস্তবে। চেন্নাই-এ গড়ে উঠবে স্বপ্নের ‘ইনস্টিটিউট অফ ত্রিুয়েটিভিটি অ্যান্ড হিউম্যান পোটেনশিয়াল’। নতুন যুগের বীজ। আগামী প্রজন্মের বুনিয়াদ। আগামী ভারতবর্ষ। বাথটব ভরে গেছে। নগ্ন দেহকে নাতিশীতোষ্ণ জলে চুবিয়ে লিকুইড বাথ সোপ ঢেলে দিল।
১৯৪৭-এর স্বাধীনতার পর এতদিন পর্যন্ত শুধু সাহেবদের শেখানো প্রথায় নেতারা এক্কা-দোক্কা খেলে গদি বজায় রাখতে গিয়ে, ভুলে গেছে প্রাচীন সভ্যতার বুনিয়াদ ভারতবর্ষ। মহেঞ্জদারো হারাপ্পার আর্কিয়লজিক্যাল এক্সকাভেশন ছাড়া, সেই সভ্যতার প্রগতি বিগত ৫০০০ বছর ধরে ইতিহাসের পাতায় বন্দি। বাইবেলের থ্রি ওয়াইজ মেন ফ্রম দ্য ইস্ট এখান থেকেই। এখানেই যিশুর শিক্ষা লাভ, রোজাবলে জীবনের পঞ্চাশ বছর ও মৃত্যু। ভুলে গেছে কবির সুর ‘ভারত আবার জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে’। প্রাচীন ঐতিহ্য শুধু দেশাত্মবোধক গানে আর গোলামির নাগপাশে সীমাবদ্ধ। সীমার বলয় ছেড়ে সময় হয়েছে নতুন ভারতবর্ষ দেখার, স্বপ্ন দেখার, বাস্তবে রূপায়িত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। একদিন যেমন ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন্সে দ্য নিউ এজের স্বপ্ন দেখেছিল। সঙ্গে আরেকটা স্বপ্ন। স্থান-কাল-পাত্র-সময়ের বাইরে বেরিয়ে অতীত ভুলে চিন্তার বিকাশের মধ্যেই জীবনের সার্থকতা।
বোর্ডরুমে সিএম প্রশ্ন করেছিলেন “হোয়াই চেন্নাই?”
“হোয়াই নট? ফ্রম দ্য ডেজ অফ রামায়ণ, ইটজ দ্য এরিয়ান কালচার হুইচ হ্যাস ডমিনেটেড ইন্ডিয়া ফর ডিকেডস। দো উই আর এ কসমোপলিটান কান্ট্রি, ইন রিয়েলিটি, দ্য এরিয়ান সিভিলাইজেশন স্টিল ডমিনেটস দ্য ইন্ডিয়ান এরিনা। ফ্রম দ্য ডেজ অফ রামায়ণ উই হ্যাভ এপিটোমাইজড রামা অ্যাজ দ্য এপিটোম অফ গুডনেস অ্যান্ড রাভানা অ্যাজ দ্য সিম্বল অফ ইভিল”
“ইউ আর গোয়িং ব্যাক টু দ্য হেরিটেজ”
“ইটস ট্রু আওয়ার কান্ট্রি ইজ বিল্ট অন হেরিটেজ। ওল্ড হেরিটেজ হ্যাস টু বি রি-থট। রামা অ্যান্ড রাভনা হ্যাভ স্প্লিট ইন্ডিয়া ইনটু টু বেসিক কালচার্স - দ্য রুলিং এরিয়ান কালচার, সিমবলাইজড বাই রামা অ্যান্ড দ্য ড্রাভেডিয়ান কালচার, সিম্বলাইজড বাই রাভনা, হুইচ স্টিল রিমেইনস সেকেন্ডারি”
সিএম এই দীর্ঘ পলিটিক্যাল জীবনে অনেক যুক্তি-তক্ক-বন্ধুতা-শত্রুতা-আপস নিয়ে খেলেছে। সীমিত ক্ষমতার মধ্যে গদি বজায় রেখে কিছু উন্নতি করার চেষ্টাও করেছে। পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা মাথায় রেখে দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে এমন করে কিছু ভাবতে পারেনি। যত শুনছে, অবাক, এই বিচক্ষণ মহিলার নিঃস্বার্থ দূরদৃষ্টি। এমন মহিলা আগে দেখেনি।
“ইন দ্য মিথলজি অল অফ আস ফ্যন্সি রামা। বাট ইন দিস টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি উই হ্যাভ টু রি-থিংক দ্য মিথ ইন রিয়ালিটি”
স্তনে সাবান বুলিয়ে নিজেকে বাহবা দিল। জানত না, এত ফ্লেয়ারিং ভাষা ব্যাবহার করতে পারে। নিজেকে নতুন করে চিনল।
“ইফ ইউ আস্ক মি মাই হনেস্ট ভিউস আই ফ্যান্সি রাভনা দ্যান রামা, বিকজ হি ইজ নট ওনলি এ মিথলজিক্যাল ফিগার, হি সিম্বলাইজেস দ্য এপিটোম অফ দ্য ড্রাভেডিয়ান কালচার। আই ফাসটেড ফর ওয়ান উইক হোয়েন দেয়ার ওয়াজ টামিল জেনোসাইড অ্যাট জাফনা। আই বিলিভ চেন্নাই ক্যান বি দ্য আউটলেট অফ কনফাইনমেন্ট অফ রিবার্থ অফ দ্য সার্ভার্স অফ দ্য কসমস”
“হাউ ডু ইউ প্রোপস টু ডু দ্যাট?” সিএমের প্রশ্ন।
“দ্য ত্রিুয়েটিভ পোটেনশিয়াল অফ অ্যান ইন্ডিভিজুয়াল ইস পার্টলি বেসড অন জেনটিক ইনফ্লুয়েন্স অ্যান্ড কনডিশনিং দ্য মাইন্ড ইন এ মেথডিক্যাল অ্যান্ড গ্র্যমাটিক্যাল ওয়ে। দ্য ফার্স্ট ওয়ান উইল ম্যানিফেস্ট থ্রু দ্য নেক্সট প্রোজেনি, দ্য সেকেন্ড ওয়ান ক্যান বি কালটিভেটেড থ্রু দিস ইনস্টিটিউট ইন এ স্ট্রাকচার্ড মেথডিক্যাল ওয়ে। বিকজ হিউম্যান মাইন্ড ক্যান বি গাইডেড অ্যান্ড কনডিশনড টু থিংক নিউ, প্রোভাইডেড দ্য ইনহেরেন্ট পোটেনশিয়াল ইজ দেয়ার। টু বি প্রেসাইস পিকিং আপ দ্য ক্রিম অফ দ্য সোসাইটি”
সিএম অবাক হয়ে শুনছেন। অনেক জ্ঞানী-গুণী-বিদ্বজ্জনের সঙ্গে মিটিং করে নতুনের প্রচেষ্টায়। এই প্রথম একজনের সঙ্গে কথা বলছেন, যে স্থান-কাল-পাত্রের ঊর্ধ্বে উঠে গোটা ড্রাভেডিয়ান প্রজন্মের ভবিষ্যৎ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে। বোর্ডে অনেকেই - চিফ সেত্রেুটারি রঙ্গনাথন, ফাইনান্স মিনিস্টার ও সেত্রেুটারি, আর্বান ডেভেলপমেন্ট মিনিস্টার ও সেত্রেুটারি, হায়ার এডুকেশন মিনিস্টার ও সেত্রেুটারি, পলিক্যাল সেত্রেুটারি। ওদের দিকে তাকাল। কেউ মাথা নেড়ে, কেউ বা ভাষায় সম্মতি জানাল।
সিএম বললেন “উই হ্যাড ইওর প্রজেক্ট স্টাডিড ইন ডিটেল বাই এ টিম অফ এক্সপার্টস। উই হ্যাভ সিঙ্গল্ড আউট এ ল্যান্ড। বাট ওয়ান্টেড টু হিয়ার ফ্রম ইউ দ্য ভিশান বিহাইন্ড ইওর প্রোজেক্ট। উই দ্য বোর্ড মেম্বারস ইউন্যানামাসলি এগ্রি টু ইওর প্রপোজাল। উই উইল গো অ্যাহেড”
হ্যান্ডসেক করে বেরবার আগে বলল “আস্ক ইওর স্টাফ টু লিয়েস উইথ মাই অফিস। দে উইল ফরম্যালি পুট ইট ইন রাইটিং অ্যান্ড প্রোসিড উইথ দ্য এগ্রিমেন্ট”
“থ্যংকস ফর লেটিং মাই ড্রিম কাম ট্রু”
বোর্ডরুম থেকে বেরিয়ে সিএম ভাবছিলেন, এটা করতে পারলে যা পলিটিক্যাল মাইলেজ পাবেন, এর আগে কোনও চিফ মিনিস্টার পায়নি।
ফেরার পথে আশিসকে জানাল। আশিস তখন সবে দিল্লি এয়ারপোর্টে।
“হয়ে গেছে?” আশিস মোবাইলে।
“হ্যাঁ। সিএম প্রজেক্টটা অ্যাপ্রুভ করেছেন। তুমি ফ্ল্যাটে গিয়ে রিল্যক্স কর”
“আজকে তো সেলিব্রেট করার দিন”
“করবই তো। আগে দিল্লি পৌঁছই”
প্লেনে বসে পাওয়ার আনন্দের থেকে বেশি না-পাওয়ার শূন্য অতীত ফিরে আসছে। কোথায় পায়নি? কোথায় হারিয়েছে? ছেলেবেলার না-পাওয়া পৃথিবীকে সারাজীবন খুঁজে বেরিয়েছে। হারিয়েছে, পেয়েছে, আবার হারিয়েছে, আবার পেয়েছে। এই পাওয়া-হারানোর মধ্যে ইন্টেলেকচুয়াল অরগ্যাজম খুঁজেছে। শুধু দেহে নয়, মনেও। অতৃপ্ত ক্ষুধায় পুরুষের সেক্সচুয়ালিটি নিয়ে খেলা করেছে, নাড়া দিয়েছে তাদের জৈবিক আবেগে, যা এর আগে কেউ কখনও এত সক্ষমভাবে করতে পারেনি। চিফ মিনিস্টারই বা বাদ কেন?
প্রতি শিবরাত্রিতে শিবলিঙ্গের পুজো হয়। যদি পুরাণের সময় জন্মাত দলে দলে মানুষ, বিশেষ করে সক্ষম কর্মঠ যুগান্তকারী দ্রষ্টা তার নিম্নাঙ্গের মৃত্তিকাতে ষষ্টাঙ্গে প্রণাম করত। পুরুষের মাংসপিণ্ডের ঔদ্ধত্য তার জীবনে কখনও দুষ্প্রাপ্য ছিল না। সেসব যৌবনাসক্ত পুরুষরা তার সব রকমের মানসিক চাওয়ার পথিকৃৎ হয়েছে বিভিন্ন রূপে, ছন্দে, বর্ণে, ভঙ্গিতে, তার সব কামনার কাছে নতজানু হয়ে। কিন্তু এই দৈহিক ক্রিয়াকলাপের মধ্যে তো মানুষটাকে খুঁজে পায়নি। যৌবনের উচ্ছ্বাসকে পেছনে ফেলে, সে শুধু অন্তরের গভীরে শুনতে পেয়েছে বিজয়ের জয়ধ্বনি। ভায়েগ্রা নিঃশেষিত প্রতিটা বয়সের পুরুষ তার যোনিতে বহু জন্মের পুঞ্জিভূত কামরস ঢেলে তাদের তীর্থস্নান পূর্ণ করেছে। এমনও হয়েছে, সে যখন পুরুষসঙ্গীকে প্রিম্যাচিওর ইজ্যাকুলেশনে সেক্সচুয়ালি ভেঙে পড়তে দেখেছে, তখনও সে থেকে গেছে অপরিচিত অতৃপ্ত নারী রূপে।
এই পুরুষ সঙ্গীদের মধ্যে সব থেকে সবল মানুষটাও তার অনন্ত চাওয়ার আলোকে থেকে গেছে। বিরাট স্ফুরণে না-পাওয়ার অঙ্গীকার। ওয়ার্ডসওয়ার্থের দ্য ইয়ারো ভিসিটেড চিরকালই রয়ে গেছে দ্য ইয়ারো আনভিসিটেড, জীবনের একাকী অন্ধকারে। এখন বুঝতে পারছে, তার জীবনের আসল ওয়ার্ডসওয়ার্থ আর কেউ নয়, তার বড় কাছের ডাঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূর্য যখন আকাশে বিদায়ের মালা পরাচ্ছে, সেই অনন্তে শুনতে পারছে ইন্দ্রলোকের সাম্ভা নৃত্য হাইপোথ্যালামাসের উচ্চতা থেকে নিম্নাঙ্গের বিলুপ্ত হাইমেনের নিস্তেজ ছন্দের বন্দনা। জীবনে অনেক ঘুরেছে। না না... দূরত্বের পরিমাপ দিয়ে বিচার করা বাতুলতা মাত্র। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে তার শেষ মেন্সট্রুয়াল পিরিয়ড মিলে গেছে থার্ড ট্রাইমেস্টারের শেষ দিনের সঙ্গে।
প্লেন যখন দিল্লিতে নামছে, তখন সন্ধে রাতের মুখোশের সাজে। এই প্রথম তার চুয়াল্লিশ বছর বয়সে ইন্দ্রাক্ষি বুঝতে পারল সে প্রেগন্যান্ট। এত বছর পরে সে সত্যি সত্যি গর্ভবতী, তার কসমিক সঙ্গীর যুগলবন্দিতে। তার সমস্ত সত্ত্বাকে আঁকড়ে, না-পাওয়া সংসারের মায়ায় ফিরিয়ে আনতে চাইছে, বাঁধভাঙা অনুভূতির বাধাহীন নিষ্পেষণে। আবার নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে না-পাওয়া ইনটেলেকচুয়াল বন্ডেজ অফ হিউম্যান রিলেশনশিপের মধ্যে।
মনে পড়ল অলিভার গোল্ডস্মিথ লিখেছিলেন ‘হ্যান্ডসাম ইস দ্যাট হ্যান্ডসাম ডাস’ সেখানেই তার জীবনে আশিস। হাজার পুরুষের মধ্যে সে-ই একমাত্র পুরুষ, যে তাকে বিশ্বাস করে, অনুভব করে। দিস ওয়াজ জাস্ট এ ফিকান্ডেশন অফ ফিলিং। ইন্দ্রাক্ষি বুঝতে পারল না, এর আগে পৃথিবীতে কেউ কখনও অনন্তকাল ধরে প্রেগন্যান্ট থেকেছে কি না? ওর জানা নেই।
হাউসকোট জড়িয়ে ভেজা চুলে ড্রয়িংরুমে বেরিয়ে এল। আশিস পাজামা-পাঞ্জাবি পরে সোফায় টিভি দেখছে। ইন্দ্রাক্ষিকে দেখে বলল “রান্না করে রেখেছি। শ্যাম্পেনটা ফ্রিজে”
ভেজা চুল পেছনে ঠেলে বলল “ভালোই করেছ। এই ধকলের পর রান্না করতে ইচ্ছে করছিল না। ভাবছিলাম খাবার কিনে আনি”
“কী হল?”
“দু-ঘণ্টা ধরে মিটিং। সিএম অনেক প্রশ্ন করলেন। জবাব দিলাম। বোর্ডে অনেকে ছিলেন। চিফ সেক্রেটারি রঙ্গনাথন, ফাইনান্স মিনিস্টার ও সেত্রেুটারি, আর্বান ডেভেলপমেন্ট মিনিস্টার ও সেত্রেুটারি, হায়ার এডুকেশন মিনিস্টার ও সেত্রেুটারি, পলিটিক্যাল সেত্রেুটারি। সবাই প্রজেক্ট শুনে একসঙ্গে রাজি”
সোফায় গা এলিয়ে বলল “তুমি পারও বটে। সবাইকে কনভিন্স করে এলে?”
“যখন হাত দিয়েছি ফেরার পথ নেই। যা করার তা তো করতে হবেই”
আশিস ইন্দ্রাক্ষিকে চুমু খেতে যাচ্ছিল। ইন্দ্রাক্ষি বাধা দিল “ইস ঘেমো গাটা আমার ওপর লেপটো না। এই ধুয়ে এলাম। যাও গিয়ে স্নান করে এস”
অনিচ্ছায় টিভি বন্ধ করে বাথরুমে ঢুকল। সত্যি তো, রান্না করতে গিয়ে ভুলেই গেছিল। কিচেনের ভ্যাপসা গরম এসির হাওয়ায় পুষিয়ে নিচ্ছিল। স্নান করার সময় ভাবছিল, চিনির আবশ্যকতা জীবনের মোড় কীভাবে ঘুরিয়ে দিল। সেদিন বোঝেনি। শুধু তার পৌরুষ নয়, মনও অন্তরে দেবী আরাধনায় নিমগ্ন। অনুভব করেছে, পুরুষ শুধু পুরুষাঙ্গে নয়, অন্তরের নিভৃত কলরবের আত্মপ্রকাশে, মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে। সেই থেকে যাত্রা শুরু। এত বছরে চিনেছে অন্তরের বনলতাকে, একান্ত ইন্দ্রাক্ষি।
ড্রয়িং রুমে ফিরে দেখল, ইন্দ্রাক্ষি ডম পেরিডনের বোতল নিয়ে বসে “হু উইল ওপেন দ্য বটল, ইউ অর মি?”
সোফায় বসে বলল “তুমি”। নিজের মনে গেয়ে উঠল ‘মুক্তা যেমন শুক্তির বুকে তেমনি আমাতে তুমি আমার পরাণে প্রেমের বিন্দু তুমিই শুধু তুমি’
গ্লাসে গ্লাস ঠেকিয়ে চলল চিয়ার্স, শ্যাম্পেনে চুমুক।
“তোমার পাশে আমি সবসময়”
ইন্দ্রাক্ষি অনুভব করছে আশিস ইয়ারো আনভিসিটেড নয়, তার জীবনের ওয়ার্ডসওয়ার্থ। অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরুষ। জীবনছন্দের পেছনে বাকহীন নীরব প্রেরণা। তার বহুমুখী বিচ্ছুরণের আসল কবি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।