তেতাল্লিশ

অনিরুদ্ধ বসু

মালাটা গাঁথা হয়েও যেন সম্পূর্ণ হচ্ছে না।

বিয়ের সময় রজনীগন্ধার মালা কোলে মার্কেট থেকে কেনা হয়েছিল। গাঁথা হয়নি। শুধু বদল করেছে। সাজানো রজনীগন্ধার ফুলের বিছানায় গিন্নিকে নিয়ে সোহাগ রাত। একটু ভালোবাসা। একটু আবেগ। উষ্ণতার ছোঁয়ায় যৌবনের রেশ। মন জুড়িয়েছিল তরুণীর লম্বা খোলা কেশ। একটু মাদকতা, প্রাপ্তির আনন্দ। তরুণীর নীরবতা জাগিয়েছিল নতুন ছন্দ। কোথায় সেই লাজুক হাসি প্রথম প্রেমের পাওয়া। কোথায় সেই তরুণীর চোখে চোখ রেখে নতুন সুরে গাওয়া। সেই কবে টেপি এসেছিল ঘর আলো করে। সেও আজ পরের ঘরে। তারপর কত বছর পার হয়ে গেছে। সেই অনুভূতি আর কখনও আসেনি।

এই দ্বিতীয়বার আবার মধুসূদন ফেলে আসা ছন্দের তরঙ্গে ভাসছে। কেরানির লাল সুতোর ফাঁসে আবার অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে। নিজের কাছে। এবার আর ওদের রিপোর্ট নয়। নিজের অঙ্কের উত্তর নিজেই খুঁজতে হবে। বেরিয়ে আসতে হবে ফাইলের বাইরে।

এয়ারপোর্টে সব এয়ারলাইনসের বোর্ডিং লিস্ট চেক করতে লাগল। যদি নামটা পাওয়া যায়। মনোরথ বিফল করলেন না ইশ্বর। চতুর্বেদী ১১ নভেম্বর স্পাইসজেটের বিকেলের কলকাতা-মুম্বাই ফ্লাইটে বোর্ড করেছিল। যেদিন সে আর মেহুলি অঞ্জলি রিসর্ট থেকে টাটা ইন্ডিকা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল। সেদিনই মেহুলি চেক-ইন করেছিল দ্য হেভেনে। মানে মেহুলি চতুর্বেদীর সঙ্গে ফেরেনি। কেন? কী আছিলায় থেকে গেছিল চতুর্বেদী চলে যাওয়ার পর? এমন কিছু স্বপ্ন দুদিনের মধুরাতে চতুর্বেদীকে বিত্রিু করতে সক্ষম হয়েছিল। কী সেই স্বপ্ন? উত্তর দিতে পারে দুজন - মেহুলি, যাকে স্বর্গ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে জানার জন্যে। নয়ত চতুর্বেদী যে পৃথিবী উলটে গেলেও সত্যি বলবে না। তাহলে?

কী মোহে মুম্বাইয়ের উজ্জ্বল মডেল মেদিনীপুরের রিসর্টে পড়ে থাকবে? ডাঃ অনঙ্গ দত্তই ঠিক। মুম্বাইয়ের কুচক্র থেকে পালাতে চাইছিল একাকী শান্তির আশায়, দ্য হেভেনের সবুজে। তাই মেদিনীপুর। মেদিনীপুরেই এর জবাব মিলবে।

ওই চত্বরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে স্নেহাশিসকে না জানিয়ে করা ঠিক নয়। স্নেহাশিসকে ফোন “বলুন মুখুজ্জেবাবু, কী করতে পারি?”

“কেস ফাইল ঘেঁটে মনে হচ্ছে খুনগুলো বিভিন্ন প্রান্তে হলেও সূত্র মেদিনীপুরে। আমার জুরিসডিক্সনের বাইরে হলেও সাহায্য করতে পারি”

স্নেহাশিস জানত মধুসূদন করিতকর্মা পুলিস নয় বলেই ওকে ফাইলিং সেকশনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গেলবার যখন লালবাজারে দেখে, মনে হয়েছিল, অনুসন্ধিৎসু।

“কীভাবে?”

“যদি আপনার ওখানে চলে যাই, দুজনে মিলে এনকয়ারি করলে সুবিধে”

“বেশ তো। চলে আসুন। এই মফসসলে তো কেউ আসে না”

“কাল সকালে”

দ্য হেভেনে গিয়ে কথাবার্তা বলতে হবে। মিসিং পয়েন্ট আবার খুঁটিয়ে দেখতে হবে। নাম, টাকা সত্ত্বেও এমন কিছু, যা বিলাসবহুল তারকাখচিত মুম্বাই দিতে পারে না। দিতে পারে, বনছায়া ঢাকা একটা নির্জন প্রান্তর। একান্ত নিরালায়। মেহুলি নিশ্চয়ই দ্য হেভেনে ছুটে গিয়েছিল, নিজেকে দেখতে, চিনতে, একাকী নিভৃতে। কেন চতুর্বেদীর সঙ্গে মধুরাত্রির পর?

ডাঃ অনঙ্গ দত্তই ঠিক। সাব্লিমেশনে নিজের রিঅ্যাকশন খুঁজতে অন্য পরিপ্রেক্ষিতে, আত্মিক উন্নতির জন্য। সেখানেই এই চক্রের অধিপতির সঙ্গে টক্কর। বোঝাপড়ার অঙ্কটাও নিজস্ব চেতনায় একাকী আবিষ্কার করতে চেয়েছিল।

সাত সকালের বাসে রওনা হল মেদিনীপুরের পথে। একমাস পরেই পুজো। কলকাতায় তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। কে বলে কলকাতা মৃত নগরী? এখানে লোকেদের মধ্যে এর হৃদস্পন্দন হাড়েমাসে জড়িয়ে। সবাই আহুত, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে। খারাপ ভালো উভয়েরই সমন্বয়। প্যান্ডেল তৈরি, ব্যানার, হই হট্টগোল ছেড়ে বাস মেদিনীপুরের পথে। নেহাত মধুর দুনিয়া খারাপদের নিয়ে। তাই খারাপের উৎস খোঁজাই এখন মূল।

“কোথায় শুরু করি?” স্নেহাশিস মধুকে জিজ্ঞেস করল।

“ওই কাজের ছেলেটা, অসিতের সঙ্গে রিসর্টের বাইরে খোলাখুলি কথা বলতে চাই। ম্যানেজারের ছত্রছায়ার বাইরে”

“বেশ তো। আমারও কিছু জিজ্ঞাস্য আছে” স্নেহাশিসের গাড়ি রিসর্টের পথে।

মধু বলল “ফ্লাইট রেকর্ডস চেক করতে গিয়ে দেখলাম, যেদিন মেহুলি রিসর্টে চেক-ইন করে, সেদিনই চতুর্বেদী মুম্বাইয়ে ফেরত যায়। রিসর্টে ছিল না”

“এক কাজ করলে হয়। যতক্ষণ আপনি অসিতের সঙ্গে বাইরে কথা বলছেন, আমি ম্যানেজার সত্যসুন্দর মাইতিকে আরেকবার ঝালিয়ে নিই”

কাজের বাইরে অসিতকে পাকড়াও করে বলল “তুই যা চাস, তাই খাওয়াব। বকশিসও”

এতদিন দ্য হেভেনে কাজ করেছে। কেউ বকশিস দেওয়া ছাড়া, খাওয়ায়নি। পুলিস খাওয়াচ্ছে। স্বপ্নেও ভাবা যায় না।

একটা ভালো হোটেলে বসে মধুসূদন বলল “কী খেতে ভালোবাসিস?”

“কষা মাংস। বেশ ঝাল ঝাল”

কষা মাংস, রুই মাছের ঝাল, ভাতের অর্ডার দিয়ে বলল “মেমসাহেব যেদিন মারা গেছিলেন মানে ১২ নভেম্বর রাতে, সেদিন কী উনি সারাদিন ঘরেই ছিলেন? না কি, গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন?”

অসিত মনে করার চেষ্টা করল “উনি কোথাও বেরোননি। স্পষ্ট মনে আছে। টাটা ইন্ডিকার ড্রাইভার আমাকে বলল ‘হম থোড়া বাহার ঘুম আতা। মেমসাহেব পুছে তো বোলনা নজদিক মে হ্যায়। আধে ঘন্টে মে চলা আউঙ্গা”

“কেউ ওনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল?”

“শুধু ধুতি-ফতুয়া পরা লোকটা। উনি দেখা করেননি। বলেছিলেন ‘আমি এখন কারও সঙ্গে দেখা করব না’ সারাক্ষণ ঘরেই ছিলেন। যখন প্রয়োজন হত বেল বাজিয়ে ডেকে নিতেন”

“ঘরে কী করছিলেন?”

“যতবার গেছি, দেখেছি উনি ঘরের বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে মাঠের দিকে তাকিয়ে আছেন। মাঝে মাঝে সিগারেটও খেতে দেখেছি। দু-একবার আরও কয়েকটা ক্লাসিকের প্যাকেট এনে দিতেও বলেছিলন”

“মেমসাহেবকে দেখে কী মনে হচ্ছিল?”

“কেমন যেন উদাসীন। কিছু ভাবছিলেন”

“কী পরেছিলেন?”

“বেশিরভাগ সময় নাইটি”

অসিত লক্ষ করেছিল ফিনফিনে নাইটির তলায় কিছু পরেননি। এক ঝলক না দেখে পারেনি। আধা বিবস্ত্র অবয়বটা এখনও চোখে ভাসছে। দেখেই মনে পড়ে গেছিল পুটির টেপস্কার্টে কলতলায় স্নান। সেকথা তো মধুসূদন মুখুজ্জেকে বলা যাবে না।

এই উত্তরটাই খুঁজতে এসেছিল মধুসূদন। এখন ছবিটা স্পষ্ট। মেহুলি দ্য হেভেনে কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে যায়নি। গেছিল, মুম্বাই তারকা জীবনের বাইরে নিশ্চিন্তে একা কাটাতে। যে কোনও তারকা কী চায়, নাম, টাকা, যশ, ঔজ্জ্বল্য যখন হাতের মুঠোয়? মধুসূদন ভাবার চেষ্টা করল। আর পাঁচজনের মতো শান্তির নীড়, সুখী সংসার। মেহুলিও এর বাইরে বেরিয়ে সেটাই খুঁজছিল - মুম্বাইয়ের ঝলমলে আলো থেকে দূরে। উদাসীন কেন? প্রেমে প্রত্যাখ্যান বা প্রেম নিয়ে সমস্যা? মধুসূদন ভাবল। সমস্যাটা দুদিক থেকে আসতে পারে। এক প্রেমিকের কাছ থেকে নয়ত বাইরের কারও থেকে, যে শান্তিকে বিঘ্নিত করতে চাইছে। সেটা কী চতুর্বেদী? না চতুর্বেদী মারফত ভওয়ানিশঙ্কর?

“কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিল?”

অসিত রুই মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মেখে মনে করার চেষ্টা করল। ঝোলটা দারুণ খেতে “হ্যাঁ, বেশ কয়েকবার ফোনে কথা বলতে দেখেছি”

“কী মনে হয়েছিল? কার সঙ্গে কথা বলছে?”

“ঠিক বলতে পারব না। মনে হল, ওনার ভালোবাসার কারও সঙ্গে। বোধহয় ওদের মধ্যে কেউ ঝামেলা পাকাবার চেষ্টা করছিল”

“কী করে বুঝলে?”

“ওনার কথায়। কথাগুলো ঠিক মনে নেই। তবে কেউ ঝামেলা পাকাচ্ছে বুঝতে পারছিলাম কথার স্বরে। সবটা বুঝিনি। ইংরেজিতে বলছিলেন। আমি তো ওখানে বেশিক্ষণ থাকিনি”

মাছের মাথাটা শেষ করে প্রিয় কষা মাংসে হাত দিয়েছে। মধুসূদন বুঝতে পারছে এর থেকে বেশি অসিতের কাছ থেকে কিছু জানতে পারবে না। সন্দেহের সদুত্তর পেয়ে গেছে। এই চক্রাকার খুনের মালায় ভালোবাসার অঙ্কও জড়িয়ে। তবে বিঘ্ন হয়ত মালার সুতোটা। যা বারবার মধুসূদন ছুঁতে চাইছে।

অসিত বেরিয়ে যাচ্ছিল। কী মনে হতে মধুসূদন ডাকল “রিসর্টে আর কেউ এসেছিল?”

“কত লোকই তো রোজ আসছে যাচ্ছে। মেমসাহেব থাকতে যারা ছিল পুলিসবাবু জেরা করেছে”

“মেমসাহেব আসার আগে বা মারা যাওয়ার পর?”

“অনেকেই। মনে থাকে?”

“বিশেষ কাউকে?” মধুসূদন অন্ধকারে ঢিল ছুড়ল।

অসিত ভাবার চেষ্টা করল “মেমসাহেব আসার আগে, ওই ঘরেই তো এক সাধুবাবা ছিল”

চমকে উঠল মধুসূদন। দ্য হেভেনে সাধুবাবা কেন? এটা তো ছুটি কাটানো, মৌজ ফুর্তির জায়গা “সাধুবাবা এখানে কেন?”

“কী করে বলব? মেমসাহেব আসার দিনই সকালে চলে যান। লম্বা, সুন্দর দেখতে। এমন সাধুকে আগে এত কাছ থেকে দেখিনি”

“সঙ্গে আর কেউ?”

“অনেকেই। অনেক চেলাচামুণ্ডাও দেখা করতে এসেছিল”

“ক’দিন ছিলেন?”

“দু-রাত। যদিও আমাকে খুব ডাকেননি। ওনার খুচরো ফরমাসের প্রয়োজন হয়নি। ভক্তরাই দেখভাল করতেন”

“ধুতি-ফতুয়ার লোকটা দেখা করতে এসছিল?”

“না” তারপর কী মনে হতে বলল “একবার। তবে একা নয়, সঙ্গে আরেকজন ছিল”

“কে? চেন তাকে?”

“তা তো বলতে পারব না। আগে দেখিনি। পরেও নয়”

অসিত বেরিয়ে যেতে মনে হল, ভওয়ানিশঙ্কর নয়ত? মৃত্যুর সময় যারা উপস্থিত ছিল, স্নেহাশিস তাদেরই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আগে কিংবা পরের লোকেদের করার কথা মাথায় আসেনি। যদি ভওয়ানিশঙ্কর এসেই থাকে, সুদূর মুম্বাই থেকে এখানে কেন? মেহুলির মৃত্যুর ছক কাটতে? না কি চক্রের পাণ্ডা হিসেবে সব তদারকি করতে?

ওরা ওই লোকটিকে খুঁজছে। যাকে কখনও দেখা গেছে ধুতি ফতুয়া পরা মাঝবয়সি রূপে। কখনও বা স্যানট্রো নিয়ে বেরিয়ে যেতে। কখনও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ব্যাঙ্গালুরু ছুটতে। কখনও গোবিন্দ নামক বেল বয়কে দিয়ে দক্ষিণী নায়িকার হাতে এমপিথ্রি প্লেয়ার পৌঁছতে। সে নিমিত্ত মাত্র। এই চত্রেুর বিশ্বস্ত কর্মী। আসল নায়ক অন্য কেউ, দাবার মাথা, এই চত্রেুর আসল পরিচালক। তার আবছা কায়া আন্দাজ করতে পারছে।

হোটেল থেকে হেঁটে রিসর্টে ফিরতে গিয়ে মনে পড়ে গেল ডাঃ অনঙ্গ দত্তর কথাগুলো “অবসেসিভ কম্পালসিভ পারসোন্যালিটি। টাইপ আর, মানে রেসিলিয়েন্ট। সাব্লিমেশন, র‍্যাসেনালাইজেশন, রিঅ্যাকশন ফর্মেশন”। চত্রেুর সুরটা এই তারেই বাঁধা। এই ছন্দেই গাঁথা। এর পেছনে কাজ করছে তুখোড় বুদ্ধি। এই খুনগুলো কিছু পাওয়ার আশায় নয়। চাওয়া-পাওয়ার বাইরে, এক মানসিক বিশেষ অবস্থার ইঙ্গিত। নিজস্ব চিন্তা দিয়ে গড়া মন ইশ্বরের কাছে নৈবেদ্য নিবেদন করছে নিজের মতো করে। জাগতিক প্রাপ্তির বাইরে সেই মনটা খ্যাপার মতোই কোন এক পরশপাথর খুঁজছে। তাকেই শানিয়ে সর্বেশ্বরকে নিবেদন করছে আপন পূজার অর্ঘ। সেই অর্ঘের বিস্তারে যেখানেই বাধা, সেখানেই অন্তিম। মৃত্যুকে সে গ্র্যামারের বাইরে বিচ্যুত সত্ত্বা হিসেবেই বিচার করছে। এটাই র‍্যাসেনালাইজেশন অফ থট। কে সেই ভিনমার্গীয় চিন্তাধারায় পরিচালিত? যে একই সঙ্গে আপন মহিমায় ভালোবাসার পূজারি, রসিক।

আত্মিক চেতনা, ভালোবাসা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি মিশিয়ে যে অবয়ব তার চোখের সামনে, সে চতুর্বেদী নয়। চতুর্বেদী তো জাগতিক বলয়ে বদ্ধ। তার ক্ষমতা নেই ওই মানসিক স্তরে পৌছনোর। ভওয়ানিশঙ্কর ছাড়া আর কে হতে পারে? এর আধ্যত্মিক চিন্তাধারা, সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধি দুটোই আছে। দৈহিক ভালোবাসায় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু এই চত্রেুর খুনের পেছনে উদ্দেশ্য কী? কোনও কমপালশন? ঐহিক চাওয়া-পাওয়ার বাইরে অন্য কোনও তাড়না।

সত্যসুন্দরকে স্নেহাশিস জিজ্ঞেস করল “ছবিটা দেখে বলুন তো, মেহুলির মৃত্যুর সময় একে এখানে দেখেছেন?” চতুর্বেদীর ছবি দেখাল, যেটা দুদিন আগে রোশন ফ্যাক্স করেছে।

“আমাদের রিসর্টে থাকেনি। স্টাফরা কেউ দেখেছে কি না জিজ্ঞেস করি” ছবি নিয়ে বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এল এক ছোকড়ার সঙ্গে “এ, ঘর পরিষ্কার, লাগেজ বওয়া, ফাই ফরমাস খাটে। দেখেছিস?”

“হ্যাঁ সাহেব” লাজুকভাবে বলল।

“ভয় পাস না। কবে দেখেছিস?” স্নেহাশিস অভয় দিল।

“ঠিক মনে করতে পারছি না। মেমসাহেব আসার আগে”

“কার সঙ্গে দেখা করতে?”

“সাধুবাবার সঙ্গে। যিনি মেমসাহেব আসার আগে ও ঘরে ছিলেন”

মাইতির দিকে ফিরে বলল “রস্টারটা দেখুন তো”

ভুলেই গেছিল। প্রথম দিন রস্টার চেক করার সময় ম্যাথেরনের এক বাবার নামটা চোখে পড়লেও, মেহুলি আসার আগে এসেছিল বলে গুরুত্ব দেয়নি। সন্তর্পণে রস্টার দেখল। বাবা ভওয়ানিশঙ্কর, সুট ছাড়া আরও তিনটে ঘর ৯ মার্চে ওনার নামে বুক করা হয়েছিল। ১১ মার্চ মেহুলি আসার দিন ভোরে চেক-আউট করে। চতুর্বেদী অঞ্জলি রিসর্টে থাকাকালীন বাবার সঙ্গে দেখা করে। ওখানকার স্টাফ বলেছিল, চতুর্বেদী এর মধ্যে একদিন একাই ইন্ডিকা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়। মেহুলি যায়নি।

স্নেহাশিস জিজ্ঞেস করল “অন্য তিনটে ঘরে বাবার সঙ্গে কারা ছিল?”

“বলতে পারব না। বাবা বলেছিলেন ওনার ভক্ত”

রেকর্ড দেখে মাইতি বলল “রচয়িতা বলে এক মহিলা, কলকাতা থেকে। এই তার নম্বর”

স্নেহাশিস নম্বরটা লিখে ছেলেটিকে বলল “এ বাবার সঙ্গে কতক্ষণ ছিল?”

“সারাদিন। চা খেয়ে চলে যায়। আমিই চা দিই”

“অন্য কোনও ঘরে গেছিল?”

“না। আরও এক-দুজন ছিল বাবার সঙ্গে ওই ঘরে যেদিন এই বাবু আসেন দেখা করতে। বোধহয় মিটিং করছিলেন”

স্নেহাশিস মাইতিকে জিজ্ঞেস করল “অন্য ঘরে কারা ছিল?”

“তাদের নাম জানি না। সব ঘর-ই তো বাবার নামে বুকড ছিল। নিশ্চয়ই ভক্ত হবে”

মধুসূদন ততক্ষণে পৌঁছে গেছে। স্নেহাশিস অসিতকে ডেকে পাঠাল। অতীনের ছবি দেখিয়ে বলল “চেন একে?”

“এই তো ধুতি-কুর্তা পরা লোকটি”

স্নেহাশিস হাসল। অতীন এখানেও। যা আশা করেছিল।

মধুসূদন নিজের ঘরে রিপোর্টগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল। এমন সময় ফোন “ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিস”

এই দ্বিতীয়বার ডিজি তাকে ফোন করল।

“ইয়েস স্যার”

“এখুনি আমার ঘরে আসতে পারবেন?”

রিপোর্টগুলো লকারে ঢুকিয়ে উঠে পড়ল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%