অনিরুদ্ধ বসু
ইন্দ্রাক্ষি রায়চৌধুরী গলার চশমাটা নাকে বসিয়ে মেনু কার্ডে চোখ বোলাল “প্রন ককটেল অর্ডার দিই?”
ডাঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্দ্রাক্ষির দিকে তাকাল। ইন্দ্রাক্ষি আগের থেকে অনেক সুন্দর। কবেকার পরিচয়। ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন্সে চিনি দিয়ে। তারপর কত বসন্ত, হাতে হাত, মনে মন।
কিছুদিন যেতেই এক সন্ধ্যায় ইন্দ্রাক্ষির ফ্ল্যাটে আশিস। চিনি বা দুধের আশায় নয়।
“কী ব্যাপার? আসুন আসুন” সাদর আমন্ত্রণে ঘরে ডেকে নিয়েছিল।
শনিবারের সন্ধে। মোবাইল ড্রয়িং রুমের টেবলে রেখে বলেছিল “কেমন আছেন?”
চোখ ঘুরিয়ে ফিরে দেখছিল ফ্ল্যাটের ছিমছাম সাজানো ড্রয়িং রুম। হালকা খয়েরি রঙের লেদার সোফা। কোণে টেবলে মার্বেলের টেবল ল্যাম্প। সোফার ওপরে আর্টিস্টের আঁকা বিবস্ত্র মহিলার ছবি। ঘাসের গালিচায় উলটো দিক ফিরে শুয়ে।
“ছবিটা কার আঁকা?”
“অরিজিন্যাল নয়, প্রিন্ট। রেনোয়ার”
দেওয়ালে দুটো ইজিপশিয়ান গোল চাকতির প্লেক। ড্রয়িং রুমের ওধারে ছোট্ট ডাইনিং এরিয়া বারান্দায় মিশেছে। চোখ নেমে এল ওর ওপর। সামনে কাটা ডবল ব্রেস্টিং কালো কাফতান। কালো লেসের দড়ি দিয়ে কোমরে বাঁধা। চুল লুটিয়ে পড়েছে কাঁধের নীচে। মেকআপহীন মুখে আধো তন্দ্রা ভাব। সদ্য ঘুম থেকে উঠেছে।
টেবলে রাখা উইলস্ ফ্লেক সিগারেট ধরাল “হাফ-ডে। ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম”
“ব্যাঘাত ঘটালাম না তো?”
“একেবারেই নয়। কিছুক্ষণ হল উঠেছি। গা ম্যাজম্যাজ করছিল। বেরতে ইচ্ছে করছিল না। এসে ভালোই করেছেন। শনিবারের সন্ধে। একা টিভি দেখা ছাড়া আর কিছু করার নেই। আপনার চেম্বার নেই?”
“শনিবার বিকেলে চেম্বার থাকে না। শহরের তো নই, ভাটপাড়ার। কলকাতায় বন্ধু-বান্ধবও বিশেষ নেই। ভাবলাম আপনি যদি ফ্রি থাকেন...”
“বেশ করেছেন। কী খাবেন? চা না টা?”
“চায়ের টাইম পার হয়ে গেছে। আপনাকে চিনিও আনতে বেরোতে হবে”
“একেবারেই নয়। আজ চিনি-দুধ মজুত” কাঁধের চুল পেছনে ঠেলল “হুইস্কি, না ভডকা?”
"আপনি?"
“গেস্ট যা খাবে আমিও তাই”
“তাহলে হুইস্কি”
মোবাইলে অর্ডার “দুটো রেশমি কাবাব। একটা চিকেন টিক্কা। দু-প্লেট বিরিয়ানি। আর দুটো মটন কাবাব। আমার অ্যাড্রেস্...”
উঠে বেডরুমে। ফিরে এল টিচার্স-এর বোতল নিয়ে।
“চলবে তো?” মাথা নাড়ল আশিস। আবার কিচেনে ফেরত ইন্দ্রাক্ষি।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ভরে গেল সামনের টেবলটা। হুইস্কির গ্লাস, বরফ, ঠান্ডা জল, কুরকুরে, পট্যাটো চিপস, ডালমুট।
“বরফ না জল?”
আশিসের চোখ কাফতানের ফাঁক দিয়ে স্তনের একাংশে। পেশেন্টের স্তন আর ইন্দ্রাক্ষির মধ্যে কত তফাত। একটা আবেগহীন রোজগার। অন্যটা আবেগপূর্ণ বাসনার সম্ভার। সুচিস্মিতা চলে যাওয়ার পর নীচের আকাঙ্ক্ষা আত্মপ্রকাশ করেনি। কিংবা ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল।
“বরফ। অন দ্য রকস্”
উলটোদিকের সোফায় বসল ইন্দ্রাক্ষি। ওর চাহনি চোখ এড়ায়নি ইন্দ্রাক্ষির।
“বিয়ে করেননি কেন?”
“মনের মতো কাউকে পাইনি। পাত্রী ঠিক করে দিন। করে ফেলছি। আপাতত শনিবারের সন্ধেতে টিভি, হুইস্কি। রাত একা, ফাঁকা”
একাকিত্বের কারণ ভিন্ন হলেও ইচ্ছে নেই বিশ্লেষণে। অতীত শুধু ব্যথার নিভৃত অন্ধকার। তাই ইন্দ্রাক্ষির দরজায় বেল। অন্ধকারের মধ্যে আলো। নিঃশব্দ আহ্বান। সুপ্ত কামনার নিষ্কৃতির উপায়।
“কর্নার ল্যাম্প জ্বালিয়ে বড় আলোটা নিভিয়ে দিই?”
মাথা নাড়ল। ক্ষীণ আলোয় দেখল ইন্দ্রাক্ষির চোখের পাতার মেদ। এখন আর সে মেদ নেই। মুখ অনেক টানটান। বব চুল মনমোহিনী হাসির সঙ্গে মানান। মধ্য চল্লিশেও মনে হয়, পঁয়ত্রিশের বেশি নয়। হাসলে গালে টোল পড়ে। হাল্কা নীল রঙের টপসের ওপর চশমা, বুকের খাঁজ ঢেকে রাখলেও, নাকে তোলায় প্রকট। ইন্দ্রাক্ষি এখনও লো কাট টপস্ পরে কেন?
বললেই উত্তর “ডিসাইনার টপস্। তুমি প্লাস্টিক সার্জেন হতে পার, ডিসাইনের কিছু বোঝো না”
বোঝে না আবার? ইন্দ্রাক্ষি দেখতে এত সুন্দর হল কী করে? তার হাতের ছোঁয়ায় চল্লিশোর্ধ্ব আজ তিরিশের কোটায়। ইন্দ্রাক্ষি ভুলে গেছে? ইন্দ্রাক্ষি ভুললেও, আশিস ভোলেনি তার তার কারসাজি। স্ম্যাস ফেস লিফট উইথ ফোর কোয়াড্রেন্ট ব্লেফারপ্লাস্টি। নিখুঁত কাজ। বয়সের, মধ্যাকর্ষণের ভারেও টানটান। দিনে-দিনেই ইন্দ্রাক্ষির প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে।
সেদিন সম্পর্কটা নিছক আকর্ষণ ছিল। আকর্ষণের সংজ্ঞাও ছিল অন্য। ইন্দ্রাক্ষিই সোফা ছেড়ে উঠে এসেছিল তার পাশে। হুইস্কির গ্লাসটা টেবলে রেখে হাত রেখেছিল কাঁধে। মাথা এলিয়ে দিয়েছিল হাতে। এত তাড়াতাড়ি কিক লাগবে বুঝতে পারেনি। অনেকদিন ধরেই জমছিল। এই মুহূর্তে বাঁধভাঙা প্লাবনে আত্মপ্রকাশ করতে চাইছে। সেটা আশিস কিংবা ইন্দ্রাক্ষি নামাঙ্কিত দুই সত্তা। দুজনেরই প্রবল জৈবিক চাহিদা। সামলাতে পারেনি। নেশা তখন মাথায়। ঠোঁট চেপে দিয়েছিল ওর ঠোঁটে। বাধা দেয়নি ইন্দ্রাক্ষি। বহিঃপ্রকাশ রিপুর নীতি। ইন্দ্রাক্ষির নরম ফোমের বিছানায় বিবস্ত্র দেহের নিবিড় আলিঙ্গনে। সেদিন সম্পর্কটা দেহেই সীমাবদ্ধ ছিল। মনটা কেঁপে ওঠেনি।
আশিসের প্র্যাকটিস নিজস্ব গতিতে বাড়ছে। ইন্দ্রাক্ষি দিশাহারা অতৃপ্ত। সামান্য চাকরি থেকে মুক্তি খুঁজছে।
ভাটপাড়া থেকে বারবার সত্তরোর্ধ্ব বাবার ফোনে কাতর মিনতি “আমার বয়েস হচ্ছে। টাকার মুখও দেখছিস। আবার বিয়ে কর। তোর ঘর দেখে যেতে চাই”
বাবার কাতর অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেনি। সুচিস্মিতার পর, মেখলা নতুন সাজে এসেছিল জীবনে। বরণডালা সাজিয়ে তাকে আপন করে নিয়েছিল ইন্দ্রাক্ষি। ইন্দ্রাক্ষির প্রতি জৈবিক আকর্ষণ তখন মানসিকে রূপান্তরিত। সেই আবহে মেখলার কাছে পৌরুষকে দাঁড় করাতে পারেনি।
“আগে জানলে বিয়ে করতাম না” মেখলা অভিযোগ করলেও আশিসের মন জুড়ে ইন্দ্রাক্ষি।
মেখলাকে পরিপূর্ণ করতে পারেনি। তখনই অনুভব করেছিল দেহে-প্রাণে সর্বত্র ইন্দ্রাক্ষি। অস্বীকার করার ক্ষমতা ছিল না ভেতরের আবেগকে। ছিল না বলেই মেখলাকে সম্পূর্ণভাবে সঁপে দিতে পারেনি। অনুভব করেছিল অন্তরের আলোড়নে। সদর্পে বলতে পারেনি মেখলাকে ‘আমি পুরুষ’। পৌরুষের রন্ধ্রে ইন্দ্রাক্ষি একচ্ছত্র আধিপত্যে। সেখানে সে পূর্ণ কামে সম্পূর্ণ। মেখলার বাহুডোরে নয়। সুচিস্মিতা ছেড়ে গেল অর্থের স্বল্পতায়। মেখলা বিদায় নিল পৌরুষের অভাবে। হারিয়ে গেল মোহময় অজানা জীবনের আঙিনায়।
ইন্দ্রাক্ষির নিশিতে তখন সুর। রাতে ফ্ল্যাটের আলো নিভিয়ে স্টিরিওতে ‘সেই তো আবার কাছে এলে দূরে গিয়ে বল না কী সুখ তুমি পেলে’ মান্না দে নয়, ইন্দ্রাক্ষির মনের সুর। সেই সুরের রেশ সম্পর্কহীন সম্পর্কের আবর্তে। কামনা থেকে স্বপ্নের মায়ালোকে।
ইন্দ্রাক্ষি মেনু থেকে চোখ সরিয়ে চশমা বুকে বেয়ারার দিকে ইঙ্গিত করে বলল “টু প্রন ককটেলস প্লিজ”
বেয়ারা চলে যেতে ইন্দ্রাক্ষি সোফা ছেড়ে উঠে পড়ল “এক্সকিউজ মি ফর এ মোমেন্ট। আই হ্যাভ টু গো টু দ্য লু”
কালো স্ল্যকসে দৌদুল্যমান নিতম্বের দিকে চেয়ে থাকল আশিস। কুড়ি বছরের প্লাস্টিক সার্জেনের জীবনে কম মেয়ে তো দেখেনি। প্রথম যৌবনে সুন্দরী দেহের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করলেও, এখন আর করে না। মেখলা চলে যাওয়ার পর আকর্ষণটা আরও ফিকে। ইন্দ্রাক্ষির মধ্য-চল্লিশের দেহ প্রথম যৌবনের রস-সাগরে ফেরায় বারবার। প্রেম? মনে হতেই হাসি পেল। বুড়ো বয়সে আবার প্রেম হয় নাকি? প্রেম কি না জানে না, তবে মেয়েটার মধ্যে অদ্ভুত আকর্ষণ প্রথম দিন থেকেই অনুভব করেছে। সেই আকর্ষণ এখন সুদৃঢ়, সুপ্রতিষ্ঠিত। ইন্দ্রাক্ষি না বুঝলেও আশিস অনুভব করতে পারে। আকর্ষণকে বয়স, যৌবনের পরিধি দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। আকর্ষণটা সামগ্রিক। অদেখা শক্তি চুম্বকের মতো তাকে গাঢ় বলয়ে জড়িয়ে রেখেছে। সমস্ত সত্তা দিয়ে গ্রাস করতে চাইছে। আশিস অসহায়, শিশু।
শুধু ফেস লিফট ছাড়া অন্য কিছু করার প্রয়োজন নেই ইন্দ্রাক্ষির জানা। দেহের দোলা, চোখের মাদকতা, ঠোঁটের একটুকরো ঝলক - সবই জয়ের উপঢৌকন। শুধু দেহ নয়। অন্তরালে কাজ করে প্রখর চিন্তাশীল মন-ও। খাওয়া, বসা, প্রেমে, নতুন কিছু ভাবছে। নতুন দিক। সাকসেসের এক-একটা স্টেপ। কোম্পানিকে কী করে বৃহৎ থেকে বৃহত্তর করা যায়। শাখা-প্রশাখা আজ ভারতের আনাচে-কানাচে। আমোয়েবার সিউডপোডিয়ার মতো আইটি থেকে মডেলিং এজেন্সি থেকে শো-বিজ দুনিয়ায়। এখন তার সঙ্গে মিলেছে আরেক নতুন স্বপ্ন। নিজের চিন্তাকে পার্থিব আকার দিতে একটা ইনস্টিটিউট তৈরি করা।
সেদিনের ইন্দ্রাক্ষি আর আজকের মধ্যে কত তফাত। বিষণ্ণ চাকুরের শনিবার সন্ধ্যায় উত্তাপ খুঁজত আশিসের নিবিড় বন্ধনে। এখনকার বৃহত্তর দুনিয়ার কর্ত্রী হয়েও কী সেদিনের মতো মানসিক অরগ্যাজমের মার্গে পোঁছতে চায়? চাওয়াটা চিরকালই থেকে যায়। কিন্তু অরগ্যাজমের নিখাদ পন্থা পরিবর্তনশীল নতুন আকারে। ছোট্ট ফ্যাশন কোম্পানির চাকুরে ইন্দ্রাক্ষি আজ ‘দ্য নিউ এজ’ গ্রুপের মালকিন কাম প্রেসিডেন্ট। বিয়ে করেনি। অভিপ্রায়ও নেই। বিয়ের স্বাদ যখন সাত পাকে না জড়িয়েই পাচ্ছে, কী প্রয়োজন? মেখলার সঙ্গে আশিসের বিয়ের পর কিছুদিন মনমরা হলেও, ইন্দ্রাক্ষি বুঝেছিল, আশিস যেখানেই গাঁটছড়া বাঁধুক চিরকাল তারই।
এক রাতে বলেছিল “চাকরি আর ভালো লাগছে না”
ওর নরম স্তনে হাত বুলিয়ে আশিসের উত্তর “না লাগলেও করতে হবে। পেট চলবে কী করে?”
“বিজনেস” দেহটা নিয়ে খেলে রিপিট করেছিল “নিজের বিজনেস”
“কীসের?” আশিসের হাত ইন্দ্রাক্ষির স্তন থেকে নীচে নামছে।
“যা করি তাই। ফ্যাশন এজেন্সি। এছাড়া আমি আর কী জানি?”
“খরচা?”
“কী আর এমন? ঘর ভাড়া, টেলিফোন, রিসেপশনিস্ট” ওর রোমশ বুকে আঁকিবুকি “এক কাজ করলে কেমন হয়? লাউডন স্ট্রিট বা থিয়েটার রোডে একটা অফিস ভাড়া নিই। দিনের বেলা ওখানে ফ্যাশন এজেন্সি চালাব। সন্ধেতে তোমার চেম্বার। উই উইল স্প্লিট দ্য কস্ট বিটুইন টু অফ আস”
আইডিয়াটা মন্দ নয়। একা নিজে ওই পশ এরিয়ায় চেম্বার করতে পারবে না। ভাগাভাগি করলে দুজনেরই সুবিধে। ওই ফ্যাশন এজেন্সিতে যে সব মেয়েরা আসবে, বোর্ড দেখে আশিসের নামও জেনে যাবে। তার পসারের পক্ষেও সুবিধে।
সেই রাতেই শুরু হয়েছিল দ্য নিউ এজের কনসেপ্ট। সেই কোম্পানি আজ এত বছরে, ফুলে ফেঁপে, থিয়েটার রোডের সীমানা পেরিয়ে সারা ভারতে। জনসংযোগ থেকে বিপণন ইন্দ্রাক্ষি সবেতেই অনন্যা।
লেডিস রুম থেকে ফিরে দেখল আশিস মোবাইলে “রক্ত পড়ছে? চিন্তা করার দরকার নেই। বসিয়ে দাও। নাকে আরেকটা বিব দিয়ে দাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই কমে যাবে”
উলটো দিকের সোফায় বসে লেডিস ব্যাগ থেকে এসটি-ডা-লডারের মেক-আপ কিটের আয়নায় লিপস্টিকের হাল্কা প্রলেপ লাগিয়ে নিল। আশিসেকে জিজ্ঞেস করল “আজ ক’টা ছিল?”
“দুটো ব্রেস্ট অগমেন্টেশন, একটা রাইনোপ্লাস্টি। ব্যস”
“যথেষ্ট নয়? ব্রেস্ট কারা করাল? বাচ্চা মেয়ে, মডেল না ফিল্ম স্টার?”
“কোনওটাই নয়। মধ্যবিত্ত গৃহবধূ” মুচকি হেসে আশিসের জবাব।
টিভি, সিনেমার দৌলতে আজকাল গৃহবধূরাও সুন্দর হতে চায়। আগে শাড়ি-গয়না ডিম্যান্ড করত। এখন কসমেটিক সার্জারি। যুগের হাওয়া, বিদেশের জল পেরিয়ে আমাদের দেশেও। এই পাশ্চাত্যের হাওয়া শুধু মধ্যবিত্ত গৃহবধূকে প্লাস্টিক সার্জারির ছুরির তলায় ফেলেনি, ফেলেছে অনেক ডিভোর্সি গৃহবধূদের নবতম বাবুদের হাত ধরে।
“তোমাদের কত আনন্দ। রোজ রোজ নতুন সৃষ্টি করতে পার” বলতে গিয়েও পারল না, কত মহিলাদের দেহের সৌন্দর্য ফোকটে উপভোগ করতে পার। আশিস খেপে বলবে “তোমাকে ছাড়া আর কটা মেয়ের সঙ্গে আমায় দেখেছ?”
“সৃষ্টি না ছাই। স্রেফ রুজি-রোজগার”
"আমাদের লাইনে সৃষ্টির কিছু নেই। একঘেয়ে। শুধু টাকা কামাও। কোম্পানির মুনাফা বাড়াও। ব্যলেন্স সিট। এতে যে পৃথিবীর কী উন্নতি হচ্ছে, কে জানে?”
“পৃথিবীর উন্নতি কে করতে পারে? নিজের উন্নতি করে কিছু কামিয়ে নেওয়া। ব্যস, এই পর্যন্ত”
“আমিও তো তাই করছি। যদিও মন থেকে মেনে নিতে পারছি না। একটাই তো জীবন। কিছুই যদি যেতে করে না পারলাম...”
ইন্দ্রাক্ষি সম্রাজ্ঞীর আসনে বসেও সৃষ্টির মাদকতায় বিভোর।
“আমাদের মতো নগণ্য লোক এর থেকে বেশি কী করতে পারে?”
“রুজি রোজগার সবাই করতে পারে। এমন কিছু যার জন্য পৃথিবী আমায় মনে রাখবে” একটু থেমে বলল “আমাদেরকে”
“কী?” উত্তর দিতে যাচ্ছিল। বেয়ারা প্রন ককটেল টেবলে রাখতে ক্রিস্ট্যাল গ্লাসটা টেনে সুতির ন্যাপকিন উরুতে বিছিয়ে প্রন ককটেলে কামড় দিল ইন্দ্রাক্ষি। আশিস ওর দিকে তাকিয়ে। এত বছর হয়ে গেল। এত কাছ থেকে দেখেছে। তবুও মনে হয় ওকে চেনা বাকি। ভালোবাসার বাইরে।
ধোঁয়াশায় ভরা অচেনা, অজানা ইন্দ্রাক্ষিকে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।