অনিরুদ্ধ বসু
কাভিয়া অনেকদিন ধরেই একটা স্কুপ খুঁজছিল। জার্নালিজমে মাস্টার্সের পর আরও অনেক রিপোর্টারের মতো ‘দ্য হেরাল্ড অফ ইন্ডিয়া’-তে যোগ দিলেও নবাগতাদের মতো ফরমায়েসি লেখায় সীমাবদ্ধ। ইচ্ছে থাকলেও প্রকাশের সুযোগ খুঁজে পায়নি। যখন পৌরভির মৃত্যুর খবর পেপারে, চ্যানেলে ফলাও করে দেখানো হচ্ছে, রাজা আন্নামালাইপুরমের স্টুডিও ফ্ল্যাটে বসে ভাবছিল, দু-দিনের মাদকতা তো চারদিনের মধ্যেই হারিয়ে যাবে।
বাড়ি কুন্নুর। চাকরির জন্য চেন্নাইতে। ভাড়ার স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে একলা টিভি দেখে প্রাণ হাঁপিয়ে উঠেছিল। দ্য হেরাল্ড অফ ইন্ডিয়ার সাব-এডিটর রামাসোয়ামি তাকে আর পাঁচটা রিপোর্টারের মতো টম, ডিক অ্যান্ড হ্যারির দলে ফেলে দিয়েছে। তাকেও একদিন বরখা ডাট, করণ থাপার, অর্ণব গোস্বামী হতে হবে। কিন্তু চেন্নাই ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া কাভিয়াঞ্জলি রঙ্গবাসমকে সে সুযোগ কে দেবে?
রামাসোয়ামি তাকে গুরুত্বই দেয় না। গতানুগতিক লেখার ফরমায়েস দিয়ে বলে “বাই টুডে ইভিনিং গেট ইট রেডি। দেয়ার ইজ অ্যান এম্পটি স্লট। দে ওয়ার সাপোসড টু গিভ অ্যান অ্যাড। বাট মিডিয়ানেট ইনফরমস মি দে হ্যাভ ব্যাকড আউট। সো উই হ্যাভ টু ফিল দ্য স্পেস”
অ্যাডের বদলে লেখা! মনে হয় জার্নালিজমে কেন? সব কিছুই কী পণ্য? হয়ে গেল। কী লিখতে হবে সেটাও বলে দেওয়া। মাছি মারা কেরানির মতো শব্দ গুনে অর্থহীন কিছু লিখে দেওয়া। সেখানে ভাবনার অবকাশ নেই, চিন্তাধারার বিকাশ নেই। এর নাম চাকরি। সাব-এডিটর যা ভাববে, তাই করতে হবে। তার চিন্তাধারা অর্থহীন প্রলাপ হলেও বাধ্য মেয়ের মতো বেদবাক্য মেনে, বিলাপ-বন্যা বইয়ে চাকরি বজায় রাখা। নইলে কভিয়ার বদলে অন্য কেউ সেই জায়গায়। অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে একটা খবরের কাগজ থেকে অন্যের দোরগোড়ায়।
পরের দিন রামাসোয়ামির ঘরে ঢুকে আমতা করে বলল “স্যার, আই হ্যাভ এ রিকোয়েস্ট”
রামাসোয়ামি কম্পিউটারে ডিটিপি গ্রাফিক্স দেখছিল। কালকের এডিশনের কভার। কাভিয়ার দিকে ফিরে বলল “হোয়াট?”
“আই ওয়ান্ট টু মেক এ স্টোরি অন দ্য ডেথ অফ পৌরভি”
আকাশ থেকে পড়ল রামাসোয়ামি। যেখানে পুলিস, মিডিয়া হিমসিম, হাজারও লোকের ইন্টারভিউ নিয়ে কারণ বার করার চেষ্টা করছে, সেখানে বাচ্চা মেয়েটা পৌরভির মতো সুপারস্টারকে নিয়ে স্টোরি লিখবে। বলে কী?!
“আর ইউ আউট অফ ইওর মাইন্ড?”
ক্ষুব্ধ হলেও সারল্যে ভরা অনুনয় “প্লিজ স্যার”
কাভিয়ার দিকে তাকিয়ে মায়া হল। নীল জিনস, বেগুনি টপস, বব চুল, টমবয় কাভিয়ার চোখে করুণ মিনতি “প্লিজ স্যার... গিভ মি দ্য চান্স”
“হাউ আর ইউ সো সিওর?”
“মাই হার্ট সেস”
নিঃশব্দ কয়েক মুহূর্ত। রামাসোয়ামি অঙ্ক করছিল। মিডিয়ানেটের দৌলতে অ্যাডের ভাণ্ডার পরিপূর্ণ। মেয়েটা যখন চাইছে, টাকা ঢাললে এডিটর কিছু মনে করবে না। অভানি হলে, বোনাস হিসেবে রাতের উত্তেজনা সওদা করতে পারত। জার্নালিজম জানে কি না অবান্তর। উপচে পড়া শ্যামলা স্তনযুগল রাতের উত্তেজনাকে সন্তুষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট। সাধারণ বৈচিত্রহীন মেয়েটাকে দেখলে মনে হয়, উত্তেজনা বাড়াবার বদলে, নিভে যাবে।
“সো, হোয়ার ডু ইউ ওয়ান্ট টু স্টার্ট?”
“সিন্স দ্য ডেথ হ্যাপেন্ড ইন মহাবালিপুরম আই হ্যাভ টু স্টার্ট ফ্রম দেয়ার”
“ইফ ইউ ফেইল?”
“ইউ ক্যান কিক মি আউট অফ দ্য জব”
কাভিয়া ভাবতেও পারেনি এত বড় বাজি হঠাৎ খেলে ফেলবে। দ্য হেরাল্ড অফ ইন্ডিয়ার মতো নামি কাগজে চাকরি পাওয়া চারটিখানি নয়। চেন্নাই থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের জার্নালিজমের ছেলে-মেয়েরা এরকম কাগজে চাকরির জন্যে পাগল। নেহাত ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিল, তাই চাকরিটা পেয়ে গেছে। সেই চাকরিকে না-ভেবে হঠাৎ দাঁওতে। এখন ফেরার উপায় নেই।
“ওয়েল দেন গো অ্যাহেড”
ভাউচার সই করে কাভিয়াকে দিল “কলেক্ট দ্য মানি ফ্রম দ্য অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্ট। আই ওয়ান্ট এ সেনসশনাল স্টোরি। হুইচ ক্যান ব্রিং অ্যাস্টাউন্ডিং রেভিনিউ”
“থ্যংক ইউ স্যার। আই উইল ট্রাই মাই লেভেল বেস্ট। দ্যাটস এ প্রমিস”
যদিও রামাসোয়ামিকে মহাবালিপুরমের কথা বলেছে, কাভিয়ার মনে হল আসল কারণটা ফিল্ম ইউনিটে। কী ভাবে শুরু করবে?
সেনসশনাল খবর বাজারে খেলেও, ইউনিটের সবার মুখে কুলুপ। খুন, পুলিস বলে কথা। কী বলতে কী বলে বিপাকে না পড়ে। যাকেই ফোন করে, একটাই বুলি ‘আই ডোন্ট নো’। কথা না বাড়িয়ে কেটে দেয়। প্রডিউসার বোধহয় গোটা ইউনিটকে সেই ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে। কিপ মাম্ব। মিডিয়ার উৎপাতে, পুলিসের জেরায় সবাই মৌন। অনেক ভেবে ঠিক করল পৌরভির প্রাক্তন ইতিহাস ঘাঁটাই শ্রেয়। পৌরভিকে না জানলে, খুনের কিনারা করবে কী করে? বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পেপার কাটিং ও অন্যান্য ইন্টারভিউ চাই।
পৌরভি নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসার প্রায় অচল। কয়েকটা খুচরো কাজ করেছিল, যদিও কোথায় জানতে পারল না। মা আর ছোটভাই। একদিন সংসারের তাগিদে চেন্নাইয়ের আঠেরো বছরে বিউটি কন্টেস্টে অ্যাপ্লাই। শ্যামলা হলেও দেখতে মন্দ নয়। নিম্নবিত্ত ঘরের পিতৃহারা মেয়ে কেন বিউটি কন্টেস্টে, কোনও কারণ খুঁজে পেল না। আত্মপ্রকাশেই হিরের মুকুট। যেখানে দু-বেলা খাবার জোটে না, সেখানে হিরের মুকুট না-দেখা স্বপ্নের বাস্তব পরিণতি। তাই নিয়ে শো-বিজে পদার্পণ। কয়েকটা অ্যাড। হঠাৎ হাসির ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ - ‘ভায়ামরু ভিল্লেপো’। বিশেষ চলেনি। কিন্তু অভিনয় প্রশংসা পেয়েছিল। তার পর সাকসেসের ভাটা। হাতে কাজ নেই। স্বপ্ন তখন বাস্তবের মাটিতে। এখানেই টাকা। মডেলিং, সিনেমা করে যে টাকা পেয়েছিল, তার কিছুটা নিয়ে পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে অ্যাক্টিং শিখতে। সসম্মানে প্রথম স্থান অধিকার করায় ক্যাম্প্যাস থেকে তুলে আনলেন অবনিরতনাম, নতুন ছবির নায়িকার ভূমিকায়। ‘থডুবনাম’ ছবিটা জাতীয় পুরস্কারই শুধু পায়নি, পৌরভি সেরা অভিনেত্রীর শিরোপা পাওয়ার পর, আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। হিট থেকে সুপারহিট। স্টার থেকে সুপারস্টার। হঠাৎ ছোটবেলার অন্ধকার আকাশে তারার রোশনাই।
সেই পৌরভি আর নেই। বিস্ফোরণে হারিয়ে গেছে অবয়ব। হারিয়ে গেছে চাওয়া-পাওয়া, উত্থান-পতনের ইতিহাস। কেন এমন হল?
মাউন্ট রোডে ওরায়ন বিউটি সেলুন। ভালো লোক্যালিটি, রমরমা ব্যবসা, প্রচুর ক্লায়েন্টেল। চিত্রতারকা, বড়লোক গৃহিণী, মডেল থেকে মধ্যবিত্ত বাসিন্দা - কেউ বাদ নেই। অনেকদিন চুল ঠিক করা হয়নি। শীততাপনিয়ন্ত্রিত পারলারে ঢুকে কাভিয়া ভাবল চুল ঠিক করা ছাড়াও মালকিনের সঙ্গে আলাপ জমাতে হবে। মালকিন আর কেউ নয়, পৌরভির হেয়ার ড্রেসার মধুস্করা। শুনেছে মহাবালিপুরমের অঘটনের পর সিনেমায় হেয়ার ড্রেসিং থেকে সরে এসেছে। ওটা তার আসল পেশা নয়। পৌরভি আর সেই মার্গের কয়েকজন হিরোইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের জন্যই ছবিতে কাজ। তবে পৌরভির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাটা বেশি। শুনেছে, যখন পৌরভি হিরের মুকুট পরে তারকা হওয়ার চেষ্টায় নিমগ্ন, তখন পাড়ার হেয়ার ড্রেসিং সেলুনে মহিলা নাপিতের কাজ করত। সেই সূত্রেই দুজনের আলাপ। সেখান থেকে হৃদ্যতা। দু-জনেরই সমসাময়িক উত্থান। তাইতো পৌরভি কাছের। যেমন পৌরভির নামডাক বেড়েছে, সেজেগুজে বড় হয়েছে মাউন্ট রোডের এই শীততাপনিয়ন্ত্রিত ওরায়ন বিউটি পার্লার।
কাভিয়ার বব চুল ট্রিম করছিল সুন্দরী। এক মহিলাকে আসতে দেখে একটু থেমে কাজে মন দিল। স্মিত হেসে মহিলা কাভিয়াকে পেশাদারি কেতায় বললেন “ইজ এভরিথিং ফাইন?”
কাভিয়া ঘাড় ঘোরাল “হোয়াট কাইন্ড অফ কাট উইল লুক রাইট অন মাই ফেস?”
কাভিয়ার দিকে তাকাল। কয়েক মুহূর্ত “এ বিট সর্ট, আপটু দ্য নেক। নট রোল্ড ইনওয়ার্ডস্”
“এভরিবডি কমপ্লেন্স আই অ্যাম নট গুড লুকিং”
মহিলার মায়া হল “লুকস আর নট ইন র্বন। ইউ হ্যাভ টু কালটিভেট ইট”
“হাউ?”
“লেট হার ফিনিশ ইওর হেয়ার। আই উইল গিভ ইউ সার্টেন টিপস। বাই দ্য ওয়ে, আই অ্যাম মধুস্করা রামানন। মিট মি বিফোর ইউ গো”
চুলের বিন্যাস শেষ করে মধুস্করা রামাননের খোঁজ করল। মধুস্করার তন্বী দেহে সুপ্ত মাদকতা। সুন্দরী না হলেও, সৌন্দর্যকে দেখার দৃষ্টি দিয়েছেন তিরুপতিশ্বর। যা দিয়ে অনেক কিছু দেখতে পারে, যা অন্যরা পারে না। সেই দৃষ্টিই রামধনু ভাঙার পণে আকৃষ্ট করে। এখানেও বুঝিয়ে দিচ্ছে মধুস্করাই সোনার চাবিকাঠি।
“ম্যাডাম নাউ দ্যাট আই হ্যাভ ফিনিশড কুড ইউ সাজেস্ট সাম বিউটি টিপস দ্যাট উইল মেক আদার্স বিলিভ আই অ্যাম নট আগলি?”
“ইউ আর নট। নোবডি ইস। আই সাপোস ইওর ইনোসেন্স ইস পুট ইন দ্য ফোরফ্রন্ট বিফোর অ্যাসেসিং ইওর বিউটি। ডু ইউ ওয়ান্ট টু বি ইনোসেন্টলি বিউটিফুল অর নটিলি বিউটিফুল?”
“ইফ ইউ থিংক ইনোসেন্স ইজ মাই অ্যাসেট, আই উড প্রেফার টু বি ইনোসেন্টলি বিউটিফুল”
“নট মেনি হ্যাভ দ্য ইনোসেন্স লাইক ইউ। ইফ ইউ ওয়ান্ট মাই হনেস্ট অ্যাডভাইস, এ চায়েল্ডিস লুক উড সুট ইউ বেস্ট। এ বেবি ফেস লুক। ব্রিজিট বার্ডট ইন হার হে ডেইস। অর প্রীতি জিন্টা অ্যাস সি ইস”
“দ্যাট সাউন্ডস্ ইন্টারেস্টিং। ম্যাম, ক্যান ইউ স্পেয়ার মি অ্যান ইভিনিং সো দ্যাট আই ক্যান নো বেটার? ইউ আর বিসি নাউ”
ডায়েরির পাতা উলটে বলল “হাউ অ্যাবাউট সানডে ইভিনিং? আর ইউ ফ্রি?”
“সানডে আই অ্যাম ফ্রি”
কার্ডটা দিয়ে বলল “কল মি অন সানডে। উই উইল মিট সামহোয়ার”
কার্ডটা ব্যাগে ঢুকিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। পেছন থেকে মধুস্করা বলল “হোয়াট ডু ইউ ডু?”
“ওয়ার্ক ইন অ্যান আইটি ফার্ম” ফিরে জবাব।
রবিবার সকালে মধুস্করাকে ফোন “ডোন্ট ফিল লাইক গোয়িং আউট। ইট হ্যাস বিন এ বিজি উইক। পপ ইনটু মাই প্লেস, উইল ইউ?”
বোট ক্লাবের বাংলোর ঠিকানাটা লিখে জিজ্ঞেস করল “অ্যাট হোয়াট টাইম?”
“সিক্স উড বি ফাইন”
এ যেন স্বপ্নপুরী।
গেটের সিকিউরিটি পার করে বিরাট লন। তার পাশ দিয়ে এলোমেলো রাস্তা চলে গেছে দোতলা বাংলোয়। সিঁড়িতে মধুস্করা হাসিমুখে আপ্যায়ন করল।
কুন্নুরে বাবার মাঝারি ফ্ল্যাট। রাজা আন্নামালাইপুরমে ভাড়া স্টুডিও। কাভিয়ার মধ্যবিত্ত জীবন। প্রবেশ করেছে স্বপ্নরাজ্যে। এই কম বয়সেও এত টাকা লোকে করতে পারে? এ যদি মধুস্করার বাড়ি হয়, পৌরভির বাড়ি কত না বড়। বুঝতে পারে শিক্ষাদীক্ষা ছেড়ে কেন লোকে তারকার লোভে ছোটে। স্বপ্ন, ঘরে বসে তারা দেখা নয়, মর্ত্যে তারা হওয়া।
তারকার বান্ধবীর ড্রয়িং রুমে পা দিয়ে মনে হল, তিরুপতিশ্বর অতটা দয়াহীন নয়। না হলে, সে আজ এখানে?
“হোয়াট উড ইউ প্রেফার? টি অর কাফি?”
“হোয়াটেভার”
সোফায় বসে কাজের মেয়েকে বলল “কাফি। ইউ লুক লাইক মাই ইয়ং সিস্টার”
“হোয়ার ইস সি?”
“সি ডায়েড ইন বম্ব ব্লাস্ট ইন দ্য ট্রেন কপল অফ ইয়ার্স ব্যাক”
এবার বুঝতে পারছে কেন মধুস্করা এত ক্লায়েন্ট সত্ত্বেও সময় দিয়েছে। স্মৃতির আঙিনায় কাভিয়ার উপস্থিতি তাকে নাড়া দিয়েছে।
“সরি টু হিয়ার দ্যাট”
“সি ওয়াজ মাই ওনলি ইনোসেন্ট সিস্টার”
“ক্যান আই কল ইউ পরিয়া আক্কা?”
মধুস্করা চুপ করে বসে। বুঝতে পারছে ভেতরে আলোড়ন। অর্ধ-বিস্মৃত ঢেউ আড়াল করা পাহাড়ের বুকে আছড়ে পড়ছে। কয়েক মুহূর্ত। সামলে নিয়ে বলল “সিওর। বাই অল মিনস”
কাভিয়া বলল “ইউ ওয়ার টকিং অফ এ ইনোসেন্ট বিউটিফুল লুক”
মধুস্করা হারিয়ে গিয়েছিল বোনের মৃত্যুর স্মৃতিতে। সম্বিত ফিরল কাভিয়ার কথায় “বেবি ফেস হ্যাস ইটস ওন ইনোসেন্স। লার্জ হেড উইথ কার্ভড ফোরহেড। লার্জ রাউন্ড আইজ, স্মল সর্ট নোস, রাউন্ড চিকস, স্মল চিন... অ্যাম আই ডেসত্রুাইবিং ইওর ফিচারস রাইটলি?”
কাভিয়া মুগ্ধ। এসেছিল খুনের উৎস খুঁজতে। নিজের মুখের নিঁখুত বর্ণর্নায় অভিভূত।
“নোবডি হ্যাস ডেসত্রুাইবড মি সো অ্যাকুরেটলি”
“ইউ রিসেম্বল মাই সিস। হু সেইড ইউ আর আগলি?”
“এভরিওয়ান। প্রব্যাবলি আই ল্যাক দ্য অ্যাট্রাকশন"
“আই উইল গিভ ইউ এ লুক হুইচ ইভেন হোরোইনস উড এনভি। লিভ ইট টু মি, মাই লিটল সিস”
কিছু বলতে যাচ্ছিল। এমন সময় মধুস্করার মোবাইল “হ্যালো, ইয়েস রভি?”
ওপাশে কী বলছে শুনতে পাচ্ছে না। এপাশে মধুস্করা বলে চলেছে “আই অ্যাম সিওর। সি ওনলি হ্যাড হার মোবাইল অ্যান্ড দ্য এমপিথ্রি প্লেয়ার। নাথিং এলস্”
বেরবার আগে পৌরভিকে ও দুটো জিনিসই সঙ্গে নিতে দেখেছে ফতুয়ায়। ওপাশে ফোনে রভি কিছু বলছে। মধুস্করার উত্তর “ইউ আর সিওর ইট কেম ফ্রম দ্য মিউজিক অ্যারেঞ্জার দাক্সি? আই হ্যাভ টু টক টু রুক্সা টুমরো”
ফোন কেটে দিল। ইনোসেন্ট বিউটি নিয়ে কী বলছিল, সে খেয়াল নেই কাভিয়ার। মাথায় কতগুলো নাম ঘুরপাক খাচ্ছে - রভি, দাক্সি, রুক্সা। বুঝতে পারছে পৌরভির বম্ব ব্লাস্ট এমপিথ্রি প্লেয়ার থেকে।
মধুস্করার সঙ্গে লেগে থাকতে হবে। ওর কাছেই পৌরভি খুনের চাবিকাঠি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।