অনিরুদ্ধ বসু
ইন্দ্রাক্ষি আশা করেনি ভোরটা এভাবে আসবে। ইতিহাস বলে, এভাবেই নতুন ভোর হয়। নতুন চেতনাকে চাপতে চায় গড্ডালিকা প্রবাহে রুদ্ধ সমাজ। যুগ যুগ ধরেই সেটাই হয়ে এসেছে। নতুন কী? গতের বাইরে ভাবলেই তুমি সমাজ শত্রু। একদিন তো কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হয়। সামাজিক বা মানসিক। ইন্দ্রাক্ষি কোন ছার? আগামীর স্বপ্নদ্রষ্টাকে বলিদান দিতে হবে, এটাই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি, কালচক্রের নিয়ম। নিজেকে নিয়ে ভাবছে না। ভাবছে স্বপ্নের পরিণতি নিয়ে।
পরের দিন রবিবার পুলিস হেড-কোয়াটার্সের বোর্ডরুমে আনা হলে লক্ষ করল বাইরে অসংখ্য পুলিস। ঢুকতেই দেখল বোর্ডরুম ভর্তি। বেশিরভাগই পুলিসের লোক। সুরেশ গুপ্তে, দেবাংশ ভার্মা ছাড়াও বহু অফিসার। কাউকে চিনতে পারল না টেবলের অপর প্রান্তে বসা ডাঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া। মনে হল আশিস ভীষণ বিচলিত। এসি ঘরেও ঘনঘন রুমালে ঘাম মুছছে। সাদা ক্যানভাসের মতো ফ্যাকাশে মুখ। শ্যামলা রং খালি চিত্রপটের আকার ধারণ করেছে।
ইন্দ্রাক্ষি অবিচলিত। ধীর পদক্ষেপে প্রবেশ করল। ভাবলেশহীন অবয়ব, নির্বিকার। দু-দিন হাজতে কাটিয়ে বিচলিত মনকে নিরালায় শান্ত করেছে।
কে সারা সারা
হার মানা হার গলায় না পরেও সে মনের সাম্রাজ্ঞী। আশিসের মতো বিখ্যাত প্লাস্টিক সার্জেন তার সব কাজেই জেনে-বুঝে সহায়তা করেছে। যোনিসুখের বাইরে, অন্তরের পূর্ণ নিবেদনে। প্রতি পদক্ষেপে থেকে গেছে অন্তরালে। নতজানু পুরুষের কামনার মার্গ থেকে জীবনের এক্কাদোক্কায়, রানির আসনে। তুচ্ছ শৃঙ্খলার বন্ধনে নয়, সুদূরপ্রসারী নতুন চিন্তার আসরে। পথের কাঁটা সরাতেও প্রথা ভেঙে বেরতে পেরেছে তীক্ষ্ণ চিন্তাধারার ব্যবহারিক প্রয়োগে। ইনটেলিজেন্ট কোসেন্ট ও ইমোশনাল কোসেন্টে এরা শিশু। মানসিক সাম্রাজ্ঞীর যুগান্তকারী আসনে বসে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। নতজানু হয়ে বেরিয়ে আসাও নয়। যেখানে ছিল, সেখানেই আছে, থাকবেও।
ব্যারিস্টার অঞ্জন মিত্রকে এলাউ করেছে লিগ্যাল গ্রাউন্ডসসে। কোর্টে যখন কেস উঠবে তাকেও সবকিছু জানতে হবে।
সুরেশ গুপ্তে চেয়ারে ইঙ্গিত করল “প্লিজ মেক ইওরসেলফ কমফার্টেবল”
বসতে গিয়ে লক্ষ করল, পেছনে দুজন সশস্ত্র পুলিস। ভাবলেশহীনভাবে চেয়ার টেনে বসল। বোঝাও যায় না সে চরমতম মুহূর্তে। এতটাই নির্বিকার। ছাপোষা মানুষের আক্রমণের স্পৃহাতে করুণা হচ্ছে।
যুগে যুগে এটাই হয়েছে। কে না বাদ গিয়েছে প্রকোপ থেকে? মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল সোত্রেুটিসকে। পারসিক ধর্মের প্রবর্তক জরথ্রুস্টকে খুন করা হয়েছিল। দেশদ্রোহিতার জন্য যিশু খ্রিস্টও দেশ থেকে বহিষ্কৃত। গৌতম বুদ্ধও বিতাড়িত গোঁড়াদের পলিটিক্সে। গ্যলেলিওকে ফাঁসির মঞ্চে। জোয়ান অফ আর্ককে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। শিখ ধর্মের রঞ্জিৎ সিংও বাদ পরেননি। চার্লস ডারউইনকে বিতাড়িত করেছিল চার্চ অফ ইংল্যান্ড। কাহিনি আদি অনন্ত কালের। ইন্দ্রাক্ষি কোন ছাড়।
আজ নয় কাল হওয়ারই ছিল। যারা নতুনের প্রবক্তা, নতুন কথা বলেছে, নতুন সুরে ভেবেছে, নতুন চিন্তা এনেছে, সকলেরই এক পরিণতি। সবার মতো ইন্দ্রাক্ষিকেও ইতিহাসের হাত ধরে এ পথেই হাঁটতে হবে। নতুন চিন্তার অবশ্যম্ভাবী পাথেয়। আজকের কাঁটা কাল ফুল হয়ে ফুটবে বরণযজ্ঞে। যারা শাস্তি দেয় বা শোনায় তারা কালের বলয়ে সীমাবদ্ধ। যারা শাস্তিকে বরণ করে, যুগ-যুগান্ত ধরে তারাই অমর ইতিহাসের পাতায়। এই নতুন প্রবর্তনের ধর্মযুদ্ধে কত প্রাণ গিয়েছে। সেও তো নতুনের প্রবর্তক। রূপায়ণের বিঘ্নে কয়েকটা বলিদান আশ্চর্য কিছু নয়।
সুরেশ গুপ্তে ইন্দ্রাক্ষিকে বলল “দ্য পিপল অ্যাসেম্বল্ড হিয়ার আর অল চিফস অফ পোলিশ ডিপার্টমেন্টস অফ ডিফারেন্ট স্টেটস। উই হিয়ারবাই চার্জ ইউ উইথ কনস্পিরেসি অ্যান্ড মার্ডার ইন ডিফারেন্ট পার্টস অফ ইন্ডিয়া। ইন বেঙ্গল ইট ইস মেহুলি রায় অ্যান্ড সোহম সান্যাল” সামনের কাগজটা দেখে পড়ে যাচ্ছে “ইন মহারাষ্ট্রা সোফি চৌধুরী, অঙ্কুর জয়েসোয়াল, শিবানী করঞ্জওয়ালা অ্যান্ড সুনেত্রা আগারওয়াল। ইন দ্য সাউথ নীলকান্থ অ্যান্ড পৌরভি। অ্যান্ড ইন দেহরাদুন লোকেশ চাঢা। উই হ্যাভ ফুললি ইনভেস্টিগেটেড দ্য মেথডলজি বাই হুইচ ইচ অফ দিস মার্ডাস ওয়ার কমিটেড। উই উইল প্রডিউস ইট উইথ এভিডেন্সেস ইন দ্য কোর্ট অফ ল্য ইন ডিউ টাইম। উই হ্যাভ অলসো অ্যারেস্টেড টু অফ ইওর অ্যাকমপ্লিসেস নেমলি অতীন রায় হু ওয়াজ ডিরেক্টলি ইন সাম কেসেস, ইনডিরেক্টলি অ্যাসোসিয়েটেড উইথ দিস ওয়েল-থট হিনিয়াস ত্রুাইমস অফ ইনোসেন্ট ভিক্টিমস। অ্যান্ড ইওর গুড ফ্রেন্ড ডাঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় হুম ইউ ক্যান সি সিটিং অ্যাট দ্য আদার এন্ড” আশিসের দিকে ইঙ্গিত করল।
ইন্দ্রাক্ষি নির্বিকার। শুনে যাচ্ছে। হাতে হাতকড়া নেই, তবে ব্যাগটি বাজেয়াপ্ত করেছে। হাত দুটো কোলে রাখা।
গুপ্তে বলে চলেছে “হিয়ার উই উইল নট গেট ইনটু দ্য নিটি গ্রিটিস অফ ইচ মার্ডার, হুইচ উইল বি প্রডিউসড অ্যাট দ্য কোর্ট অফ ল্য উইথ দ্য এভিডেন্স। দ্য অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ কলকাতা উইল হাইলাইট দ্য মোটিভ বিহাইন্ড দ্য মারডার্স, অ্যাজ হি হ্যাস বিন দ্য মেন ব্রেন টু সাম দেম আপ। হি হ্যাজ ডিরেক্ট এভিডেন্সেস লিডিং টু ইওর অ্যারেস্ট”
ডিজির পাশে বসা মধুসূদনের জীবনে এত গণ্যমান্য পুলিস অফিসারদের মধ্যে বসার সৌভাগ্য দূরে থাক, দাঁড়িয়ে দু-কথা বলার সুযোগ কখনও হয়েছে কি না সন্দেহ। বলাটা বড় নয়। ইংরেজিতে বলতে হবে বলেই চিন্তা। ইংরেজি পড়তে লিখতেও পারে। স্পিচ! কশ্মিনকালেও ভাবেনি। জীবনে যা করেনি, আজকে তাই করতে হবে। পল্টুর দোকানের শনিবারের আড্ডার কথা মনে পড়ল। কত তক্কের ঝড় বইয়েছে। এ পল্টুর আড্ডা নয়, দিল্লির মসনদ। পুলিসের উর্দিতে বিশ্লেষণ। স্নেহাশিসের দিকে তাকাল। কনভেন্টে পড়া স্নেহাশিস বুঝতে পারছে ওর সংশয়। এই চত্রেুর অনেক তদন্তের কান্ডারি হলেও, শেষ খেলাটা মধুসূদনের। ওর হয়ে বলা মানে ওর যোগ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা।
ওর হাতে চাপ দিয়ে বলল “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনি বলুন। আজকে আপনার দিন। ভাষা নিয়ে ভাববেন না। ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয়”
স্নেহাশিসের আশ্বাসে ভরসা পেল। ছোটবেলায় পড়েছিল এভরি ডগ হ্যাস ইটস ডে, আজ তার দিন। ভুলে গেল দিল্লির হেডকোয়ার্টসের বোর্ডরুমে কারা বসে।
গুছিয়ে বাংলামেশা ইংরেজিতে বলল “বিফোর আই সাম আপ দ্য কেস আই থ্যাংক দ্য পুলিস অফ ডিফারেন্ট স্টেটস লাইক স্নেহাশিস চ্যাটার্জি, রোশান, দিলওয়ান সিং অ্যান্ড আদার্স। দেয়ার ডাইভার্জেন্ট ইনভেস্টিগেশনস ফাইন্যালি গেভ মি দ্য আইডিয়া অফ লিঙ্কিং দিস কমপ্লেক্স কেস টুগেদার। টু সাম আপ, দ্য ভিক্টিম অ্যাস পার সাইকিয়াট্রিক গাইডলাইনস ইজ অ্যান অবসেসিভ কম্পালসিভ পারসোন্যালিটি, টাইপ আর, এ রেসিলিয়েন্ট ভ্যারাইটি। সি হ্যাস বিটার চায়েল্ডহুড হুইচ সি ওয়ান্টস টু ফরগেট। ইন সাইকিয়াট্রিক টার্মস ইজ কলড সাব্লিমেশন। দিস লেড টু হার অ্যাচিভমেন্টস মেটিরিয়ালি, অ্যান্ড অ্যাট এ লেটার স্টেজ টু এ নন-মেটিরিয়ালিস্টিক আপলিফমেন্ট। টু পারসিউ হার নন-মেটিরিয়ালিস্টিক আপলিফটমেন্ট, সি ওয়ান্টেড টু ক্রিয়েট এ প্রোজেনি অফ আইডিয়াল চায়েল্ডহুড ব্লসমিং আন্ডার অপটিমাল কেয়ার। ... ইন এ রিঅ্যাকশন টু দিস, সি ওয়ান্টেড টু ইকুয়েট এ ব্রিলিয়েন্ট মেল অ্যান্ড এ বিউটিফুল ফিমেল ফোর্সিবলি, টু ম্যাচ হার নোন ডিসায়ার্ড গোলস। দিস সাব্লিমেশন অ্যাটিচুড অফ হার, ম্যানিফেস্টেড ইন হার মাইন্ড, ইন দ্য ফর্ম অফ প্রডিউসিং অ্যান আইডিয়াল প্রোজেনি হু উড রুল দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়ান ডে। হুসোএভার রিফিউজড টু কাম ইন টার্মস উইথ হার ওন ভিশন অফ দ্য ফিউচার। সি এলিমিনেটেড দেম ইন হার ওন ওয়ে, উইথ দ্য মেডিক্যাল হেল্প অফ ডক্টর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, হার ফ্রেন্ড অ্যান্ড ফিয়াসে। দেয়ার সিমস টু বি এ কসমিক বন্ডেজ বিটুইন দ্য টু। গোয়িং ব্যাক টু হিস্ট্রি ইট রিসেম্বলস দ্য ইজিপশিয়ান মিথলজি। ইন দিস, কসমিক পার্টনারশিপ উইথ হার, ডক্টর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় হেল্পড হার কমিট দোস হিনিয়াস ত্রুাইমস উইদাউট ইভেন কোয়েশ্চেনিং হার অ্যাকশনস”
মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছে ডাঃ অনঙ্গ দত্তকে মোটিভ বোঝানোর জন্য।
“দেয়ার ওয়াজ এ কনফ্লিক্ট ইন হার সোল, উইদাউট হার নলেজ। দিস মে বি রিলেটেড টু হার আপ-ব্রিঙ্গিং অর হার ইন্টার্যাকশন উইথ দ্য সোসাইটি ইন চায়েল্ডহুড। দ্য কনফ্লিক্ট অফ মোটিভস উইদাউট কন্ট্রাডিকশন ফর্মস ফ্রম থ্রি ফ্যাক্টরস। দ্য লেডি হিয়ার ক্যালকুলেটেড অ্যান্ড ডিসাইডেড, হুইচ ফলোড দ্য ডিসায়ার অর অ্যাপেটাইট, অফ এ সেন্স অফ বেয়ার ফিজিক্যাল অ্যান্ড ইনস্ট্যান্টিভ ত্রেুভিং। দিস লেড হার টু অ্যাম্বিশন, ইনডিগনেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ ত্রিুয়েশন, হুইচ রেজাল্টেড ইন এ কনফ্লিক্ট উইথ হার আনথিংকিং ইম্পালস। লিডিং টু দ্য মারডার্স। দো সি ভিশনালাইজড দ্য মারডার্স ইন হার ওন স্কিলফুল মাইন্ড, সি ওয়ান্টেড টু গ্র্যামারটাইজ হার ভিশন ইন দ্য ফর্ম অফ অ্যান ইনস্টিটিউশন হুইচ আই অ্যাম টোল্ড ইজ ওপেনিং ইন চেন্নাই টুমরো। দ্য নিউ এজ ইনস্টিটিউট অফ ত্রিুয়েটিভিটি অ্যান্ড হিউম্যান পোটেনশিয়াল। দিস ইজ নাথিং বাট হার অবসেসিভ কম্পালসিভ থিংকিং, সো দ্যাট নো ফার্দার মারডার্স উইল বি কমিটেড, ওয়ান্স হার থট প্রসেস ইজ বিইং পুট ইনটু প্র্যাকটিস ইন দ্য ফর্ম অফ অ্যান ইনস্টিটিউট”
সুরেশ গুপ্তে বাধা দিল “উই হ্যাভ টু স্টপ দিস ইমিডিয়েটলি”
মধুসূদন সুরেশ গুপ্তেকে বলল “স্যার, ইউ ক্যান স্টপ অ্যান ইনস্টিটিউট, বাট ইউ কান্ট স্টপ হার থট প্রসেস। অন দ্য আদার হ্যান্ড দিস ইনস্টিটিউট মাইট স্টপ ফার্দার কিলিংস”
সুরেশ গুপ্তে বলল “উই কান্ট হ্যাভ এ মার্ডারেস ফর্মিং অ্যান ইনস্টিটিউট। ইট উইল সেন্ড রং সিগন্যালস টু দ্য সোসাইটি। ভওয়ানিশঙ্কর অ্যান্ড চতুর্বেদী হ্যাভ টু বি পুট আন্ডার স্ক্যনার টু, ফর ফার্দার ইনভেস্টিগেশনস”
মধুসূদন বসে পড়ল। যা বলার বলে দিয়েছে। যা করার ওরা করবে। ইন্দ্রাক্ষি চুপ করে ছিল। নিরুত্তাপ মুখ থেকে জ্যোতি ঠিকরে বেরচ্ছে। কোলে রাখা বাঁ হাতটা, ডান হাতের ঘড়ির বোতামে রেখে দৃঢ় স্বরে বলল “ইউ কান্ট। ইউ ক্যান অ্যারেস্ট মি, ডু হোয়াটেভার ইউ লাইক উইথ মি, বাট ইউ কান্ট স্টপ মাই ভিশন অফ দ্য ফিউচার। ... মিস্টার গুপ্তে ইফ ইউ ট্রাই টু ডু সাচ এ থিং, ইউ উইল হ্যাভ টু পে দ্য প্রাইস অফ ইন্টারফিয়ারিং উইথ মাই ভিশন অফ দ্য ফিউচার”
ইন্দ্রাক্ষির রক্তচক্ষুতে পেছনের পুলিস সজাগ। বাইরের সশস্ত্র পুলিস বাহিনী ঘরে ঢুকছে। ঘিরে ফেলেছে ইন্দ্রাক্ষিকে।
সুরেশ গুপ্তে শান্ত দৃঢ়ভাবে বলল “ইউ আর ইন আওয়ার কাস্টডি। ইউ ক্যান ড্যু নাথিং নাউ”
ইন্দ্রাক্ষি ওর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল “ইফ দ্য নিউ এজ ইনস্টিটিউট অফ ত্রিুয়েটিভিটি অ্যান্ড হিউম্যান পোটেনশিয়াল ডস নট সি দ্য ডে লাইট, মাই ফিলসফি উইল। ইভেন ইফ, আই অ্যাম ইন ইওর কাস্টডি। ইউ ওয়ান্ট টু সি? আই উইল সো ইউ” বলে ডান হাতের ঘড়ির বোতামে টান মারল। কেউ দেখেনি ওর কোলের হাত কী করছে। হেসে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল “জাস্ট দিস মোমেন্ট। এ মার্ডার হ্যাস বিন কমিটেড সামহোয়ার ইন ইন্ডিয়া। ইফ ইউ হ্যাভ অল দ্য পাওয়ার, ট্রাই টু প্রিভেন্ট ইট। আই অ্যাম সিটিং হিয়ার। আই উইল ডু নো হার্ম টু মাইসেলফ অর এনি অফ ইউ। গো অ্যাহেড। স্টপ ইট। দিস ইজ মাই চ্যালেঞ্জ”
ভাবলেশহীন সাম্রাজ্ঞীর মতো বসে। যদিও মন অট্টহাস্যে মুখরিত এই ভেবে, ওরা যাই করুক না কেন, দ্য নিউ এজকে বন্ধ করে দিলেও, ওর স্বপ্ন যে তলেতলে বহু ইচ্ছুক যুবক-যুবতীর মিলনে থেকে গেছে আগামীর সাজোয়া বাহিনী হয়ে। তুমি নামে মধুসূদন হতে পারো, তুমি তো সত্যিই অন্তর্যামী নও। ঠোঁটের কোণে এক মোনালিসার হাসি।
দেবাংশ ভার্মা বেরিয়ে গেছে সেন্ট্রাল কন্ট্রোল সেন্টারে রেড এলার্ট দিতে, গোটা দেশজুড়ে। সুরেশ গুপ্তে বিশ্বাস করতে পারছে না। ইন্দ্রাক্ষি হয়ত শেষ আস্ফালন করে নিচ্ছে। মধুসূদন ভাবছে, ওরা যাই ভাবুক, এই মহিলার পক্ষে চ্যালেঞ্জ দিয়ে করে দেখানো বড় কথা নয়।
কারণ ইন্দ্রাক্ষি যে সে নয়। অবসেসিভ কম্পালসিভ পারসোনালিটি - টাইপ আর।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।