ষোলো

অনিরুদ্ধ বসু

চেন্নাইয়ের লেডি ফ্লোরেন্স হাসপাতালের সামনে বিরাট গণ্ডগোল। জনতার চিৎকার। ক্ষোভের চিৎকার ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। ধীরে ধীরে মিডিয়ার ওবি ভ্যান আসতে শুরু করেছে। হাসপাতালের পিআরওরা ভিড়, মিডিয়া সামাল দিতে হিমসিম।

আজকের ব্রেকিং নিউজ। খবরটা ঠিক হলে, মিডিয়া মাইলেজটা লুটতে পারবে। এতগুলো নিউজ চ্যানেলে ‘দিনের বাণী’-র মতো ‘সেনসেশনল খবর’ সারাদিন স্ক্র্যাচড রেকর্ডের মতো বারবার বাজাতে থাকবে। ভুলে যায়, মনেরও ক্লান্তি আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুঁইফোড় জনদরদি নেতারা স্বশরীরে পাতাল ভেদ করে আবির্ভূত হবে। তারাও মাইলেজ খুঁজছে। কালকের হেড-লাইনসে নতুন রস। যুক্তি-তক্কের বন্যা। বিতর্কসভার আয়োজন করে ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাডে টু-পাইস কামিয়ে নেবে। এসএমএস পোলে বাড়তি। গণ্যমান্য রিটায়ার্ড লোকেরা পাস্ট-টাইমে কিছু কামাতে টিভিতে বসবে। পেনশনার্স ফ্রুটফুল অকুপেশন। মতামতের ফুলঝুরি। যুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে তাদের জীবনের দেখা নানান অভিধান। চিকিৎসার অব্যবস্থা নিয়ে অর্থহীন বক্তব্য। কীভাবে প্রাইভেট হাসপাতালের কর্মাশিয়াল মরণকামড় থেকে সাধারণের মুক্তি। মিডিয়ার টিআরপি বাড়বে।

নীলকান্থের বডি তখনও মর্গে। কখন ফরেনসিক এক্সপার্ট শব-ব্যবচ্ছেদ করে ডেথ সার্টিফিকেট লেখে। মর্গের দরজায় তখনও বসে শোকস্তব্ধ বাবা-মা-ভাই-বোন-আত্মীয় বন্ধুবান্ধব। জানতে, কেন নীলকান্থ এভাবে মারা গেল? সাতাশ বছরের সুস্থ সবল যুবকের এমন কী হয়েছিল, হাসপাতালের ক্র্যাস-টিমও বাঁচাতে পারল না? কী এমন হয়েছিল নীলকান্থের? তেমন কিছু না। কয়েকদিন ধরেই পেটে চিনচিন ব্যথা। ডাক্তার ওষুধও দিয়েছিল, কমেনি।

বাবা রঙ্গনাথন বললেন “আই থিঙ্ক ইউ শুড সি এ গ্যসট্রোএনটেরোলজিস্ট”

বাবার আদেশ মেনে নীলকান্থ দেখাতে গেছিল লেডি ফ্লোরেন্সের নামকরা গ্যসট্রোএনটেরোলজিস্ট ডাঃ স্বামীনাথনকে। কয়েকটা মাত্র ইনভেস্টিগেশন। বাইরেও করানো যেত।

ডাঃ স্বামীনাথন বললেন “বেটার টু বি অ্যাডমিটেড”

“হোয়াই? জাস্ট ফর এ ফিউ ইনভেস্টিগেশনস?”

“উই ক্যান চেক ইউ থররোলি। সিন্স ইউ আর হ্যাভিং দ্য প্রবলেম ফর এ হোয়াইল, ইট ইজ এসেনশিয়াল উই ক্যারি আউট এ থররো চেক আপ”

ডাঃ স্বামীনাথন জানে, যত ইনভেস্টিগেশন করাতে পারবে হাসপাতালের তত লাভ, কমিশন। হাসপাতালও খুশি। সেও। বউও। বউ-এর কাছে স্বামীর সাকসেস তার আর্থিক আমদানি।

নীলকান্থ ইতস্তত করছে দেখে বলল “উই উইলা রিলিজা ইউ ইন কপল অফ ডেস। আফটার অল, ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু পে এনিথিং। ইট উইল বি পেইড বাই দ্য ইনসিরিওরেন্স”

অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভর্তি হয়েছিল নীলকান্থ।

মেডিক্যাল ডিরেক্টরের নাভিঃশ্বাস। বারবার স্বামীনাথনকে প্রশ্ন “হাউ ডিড ইট হ্যাপেন?”

“ডোন্টঅ নো স্যার”

“ওয়াজ দেয়ার এনি প্রবলেম?”

“নাথিং স্যার”

স্বামীনাথনের মাথায় ঢুকছে না কী ভাবে নীলকান্থ মারা গেল। দেয়ার ইজ নো মেডিক্যাল রিজন হি কুড থিংক।

“হোয়াট লেড টু দ্য ক্যাটাস্ট্রফি?”

“নো ক্লু স্যার”

একটা তরতাজা জীবন্ত প্রাণ চলে গেল। কেন চলে গেল, কেউ তার কোনও ডাক্তারি ব্যাখ্যা দিতে পারছে না। মেডিক্যাল ডিরেক্টর বুঝতে পারছে না, কী জবাব দেবে। ডাক্তারি কারণ যখন নেই, পোস্ট-মর্টেমে পাঠাতেই হবে। কারণ ছাড়া ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না।

মেডিক্যাল ডিরেক্টর যখন স্বামীনাথনের সঙ্গে কথা বলছে, ঘরে ঢুকল পুলিস “মে আই?”

চেয়ারে ইঙ্গিত “প্লিজ”

কার্ড দেখাল অ্যাডিশনল কমিশনার অফ পুলিস। এসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক তদন্তে আসে ওসি। আশ্চর্য হল অ্যাডিশনল কমিশনার দিলওয়ান সিংকে দেখে। বড়সড় গণ্ডগোলের খবর পেয়ে নিজেই চলে এসেছে। ভণিতা না করেই প্রশ্ন “কুড আই সি দ্য মেডিক্যাল রেকর্ডস্?”

“সিওর” পেশেন্টের ফাইলটা এগিয়ে দিল।

“হোয়াই ওয়াজ হি অ্যাডমিটেড?”

স্বামীনাথন ইতস্তত করছে দেখে, মেডিক্যাল ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার সান্যাল বলল “ফর ইনভেস্টিগেশনস”

“হু ওয়াজ দ্য কনসালট্যান্ট ট্রিটিং হিম?”

স্বামীনাথনের দিকে ইঙ্গিত “হিম”

“কুড ইউ এক্সপ্লেন হোয়াই হি ডায়েড?”

“নো ক্লু” স্বামীনাথন নার্ভাস।

“লেট মি ক্যারি আউট সাম প্রিলিমিনারি ইনভেস্টিগেশনস। ইউ মাইন্ড?”

ব্রিগ সান্যাল সায় দিল “নট অ্যাট অল। প্লিজ গো আহেড”

“ব্রিগেডিয়ার, কুড ইউ গিভ মি ওয়ান অফ ইওর স্টাফ টু জেরক্স দ্য নোটস্”

“সিওর” সেত্রেুটারিকে বলল “প্লিজ হেল্প দেম”

সময় নষ্ট করতে চায় না। পাছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ নোটস উলটে ফেলে, আগেভাগে আন্ট্যাম্পার্ড নথি চাই। কোর্ট নিডস এভিডেন্স। দিলওয়ান সিং বেরিয়ে যেতেই ফোন “হোম সেত্রেুটারি মিঃ আয়াঙ্গার ওয়ান্টস্ টু টক”

“পুট হিম থ্রু”

ভণিতা না করেই আয়াঙ্গার বলল “দ্য মেডিক্যাল ডিরেক্টর আই প্রেসিউম?”

“ইয়েস। ব্রিগেডিয়ার সান্যাল”

“প্লিজ কোয়াপারেট উইথ মাই স্টাফ মিঃ দিলওয়ান সিং ইন ক্যারিং আউট দ্য ইনভেস্টিগেশনস”

“সিওর উইল, স্যার” ফোন কেটে দিল মিঃ আয়াঙ্গার।

ব্রিগেডিয়ারের মাথায় ঢুকছে না, হোম সেত্রেুটারি পর্যন্ত ব্যাপারটা পৌঁছল কী করে? নিশ্চয়ই বড়সড় ক্যাচ আছে।

অ্যাডমিন সিট দেখল। ফাদার্স নেমে লেখা আছে রঙ্গনাথন। এ কী চিফ সেত্রেুটারি রঙ্গানাথনের ছেলে? তাহলে তো এটা নিয়ে তুমুল শোরগোল হবে। নোটস নিয়ে সিইওর ঘরে “স্যার উই আর ইন ফর ট্রবল। দ্য বয় হু ডায়েড দিস মর্নিং সিমস দ্য সান অফ দ্য চিফ সেত্রেুটারি মিঃ রঙ্গনাথন”

“হাউ ডিড ইট হ্যাপেন?”

“হ্যাভেন্ট এ ক্লু। হি ওয়াজ মিয়ারলি অ্যাডমিটেড ফর ইনভেস্টিগেশনস”

“এনি অ্যাবনর্মালিটি?”

“ডাঃ স্বামীনাথন টেলস মি আপটু ইয়েস্টারডে নাথিং কনক্লুসিভ ওয়াজ ডিটেকটেড। অ্যাডিশনল কমিশনার ইজ হিয়ার টু ডু দ্য ইনভেস্টিগেশনস। দ্য হোম সেত্রেুটারি কল্ড মি নাউ”

সিইও ঠান্ডা মাথায় বলল “ইফ উই আর নট অ্যাট ফল্ট দেয়ার ইজ নাথিং টু ওয়ারি। ইউ ক্যারি অন। হেল্প দেম” ব্রিগেডিয়ার সান্যাল বেরিয়ে যাচ্ছিল “ডোন্ট টক টু দ্য মিডিয়া। আই উইল ডু দ্য টকিং”

এইখানেই খারাপ লাগে ব্রিগেডিয়ারের। হাসপাতালের সব কাজ করেও শেষ পাবলিসিটি সিইও রেড্ডি নিয়ে বেরিয়ে যাবে। এখানেই টেকনোক্র্যাট আর বুরোক্র্যাটের মধ্যে তফাত।

রেড্ডি সেত্রেুটারিকে মিডিয়া হ্যান্ডেলিং টিমকে ডাকতে বলল। প্রত্যেক বড় হাসপাতালে অনেকটা গুপ্ত বাহিনীর মতো মিডিয়া হ্যান্ডেলিং স্কোয়াড আছে। মাইনে দিয়ে রাখা মিডিয়ার সঙ্গে ‘দোস্তি’ রেখে কোনও ঘটনাকে নির্মূল করা বা হাসপাতালকে হাইলাইট করার জন্য। এরা খেলা জানে। মিডিয়াও এদের থেকে প্রসাদ পায়। ওরা আসতে ব্রিফ করতে বসল।

দিলওয়ান সিং যখন ওয়ার্ডে, ততক্ষণে নাইট সিস্টারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তরতাজা যুবকের মরদেহ খাটে ফ্যালফ্যাল করে সিলিঙে চেয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাইগার মর্টিস হয়ে যাবে। হোমিসাইড বলে ভাবার কোনও কারণ নেই। ওর ব্যাকগ্রাউন্ড কিছুটা জানা। চিফ সেত্রেুটারির একমাত্র ছেলে। স্যারকে জিজ্ঞেস করতে হবে মানসিক দিকগুলো। প্রেম করত? কী অ্যাম্বিশন ছিল? কোনও ডিপ্রেশনে ভুগছিল কি না? সুইসাইডেরও কোনও চিহ্ন নেই। চিফ সেত্রেুটারির ছেলে বলে কথা। কারণটা তো খুঁজে বার করতেই হবে।

“হোয়াট ডিড ইউ সি?”

ডে সিস্টার হেমা বলল “হি হ্যাড নর্মাল ডিনার আফটার দ্য ভিসিটিং আওয়ার্স। টুডে মর্নিং হি ওয়াজ সাপোসড টু হ্যাভ লিপিড প্রফাইল। উই হ্যাড সার্ভড হিম ডিনারঅ অ্যাট সেভেনঅ ইয়েস্টারডে”

“দেন?”

“হোয়েন আই কেম ইন দ্য মর্নিং অ্যাট সিক্স আই ফাউন্ডঅ হিম ডেডঅ”

“হোয়াট অ্যাবাউট নাইট সিস্টারস রাউন্ড?”

“ইউসুয়ালি উই ডু নট ডিস্টার্ব নর্মাল পেশেন্টস আনলেস দে রিং ফর সামথিং। হি ডিড নট রিং”

নাইট সিস্টার কাভেরিকে প্রশ্ন “ডিড এনিওয়ান কাম অ্যাট নাইট?”

“নো স্যার। নোবডি ইজ অ্যালাউডঅ ইন দ্য ওয়ার্ড আফটার দ্য ভিসিটিং আওয়ার্স। একসেপ্ট দ্য পেশেন্টস”

দিলওয়ানের মাথায় অন্য চিন্তা। যতক্ষণ না পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট আসবে, সেদিকে এগোনো যাবে না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিশেষ কিছু পাওয়া গেল না। মেডিক্যাল রেকর্ডের জেরক্স কপিটা নিয়ে বডি পোস্ট-মর্টেমে পাঠাতে বলে বেরিয়ে এল। একজন মেডিক্যাল এক্সপার্টকে দিয়ে এর ব্যাখ্যা জানতে হবে।

সাদা ধুতির ওপর সাদা হাফ সার্ট পরা রঙ্গনাথন ঘরে ঢুকতেই স্যালুট দিয়ে উঠে দাঁড়াল দিলওয়ান সিং। সোফায় বসতে ইঙ্গিত করল “এনি ডেভেলপমেন্ট?”

“স্যার ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড ক্যান আই আস্ক ইউ এ ফিউ রেলেভেন্ট কোয়েশ্চেনস?”

ধুতিটাকে পেঁচিয়ে রঙ্গনাথন বসল “ক্যারি অন”

সাউথ ইন্ডিয়ান স্টাইলে মাথায় আড়াআড়িভাবে চন্দনের তিলক। ব্রাহ্মণ, আয়েঙ্গার।

“টেল মি এ বিট মোর অ্যাবাউট ইওর সন”

চোখের জল মুছল “হি ওয়াজ এ ব্রিলিয়ন্ট স্টুডেন্ট। রাইট ফ্রম হিজ স্কুল ডেইজ হি নেভার স্টুড সেকেন্ড ইন লাইফ। টপার ফ্রম আইআইটি চেন্নাই। কমপ্লিটেড এমবিএ ফ্রম আইআইএম আহমেদাবাদ। হি ওয়ান্টেড টু গো টু স্টেটস। উই ডিড নট অ্যালাউ”

“হোয়াই?”

"হি ইজ আওয়ার ওনলি চাইল্ড। ইফ উই হ্যাড অ্যানাদার ইট উড হ্যাভ বিন ফাইন। বাট হিজ মাদার ওয়ান্টেড হিম টু বি বিসাইড আস”

“ওয়াজ হি ওয়ার্কিং?”

“হি ওয়াজ দ্য মার্কেটিং ডিরেক্টর অফ তিরুপতি ইনকরপোরেশন”

“হোয়াই ওয়াজ হি অ্যাডমিটেড টু হসপিট্যাল?”

“ওয়েল, হি ওয়াজ হ্যাভিং এ টামি পেইন ফর এ ফিউ মান্থস। দ্য লোকাল ডক্টর হ্যাড বিন ট্রিটিং হিম। আই আস্কড হিম টু গো অ্যান্ড সি এ স্পেশালিস্ট গ্যসট্রোএনটেরোলজিস্ট। হি ওয়েন্ট টু সি ডাঃ স্বামীনাথন অ্যাট লেডি ফ্লোরেন্স, হু অ্যাডভাইসড্ অ্যাডমিশন ফর সাম টেস্টস”

“কান্ট দে হ্যাভ বিন ডান উইদাউট অ্যাডমিশন?”

“ডোন্ট নো। আই অ্যাম নট এ ডক্টর। ... হোয়েন উইল দ্য পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট বি রেডি?”

“সুন। বাই দ্য ওয়ে ওয়াস হি সাফারিং ফ্রম ডিপ্রেশন?”

“নট টু মাই নলেজ। হি ওয়াজ হেইল অ্যান্ড হার্টি”

“এনি অ্যাফেয়ার্স?”

"নো আইডিয়া। হি ডিড নট টেল আস। হাউএভার সিন্স হি ওয়াজ ইন মার্কেটিং হি ওয়াজ ইনভলভড্ উইথ অ্যান অ্যাড ফর দ্য কোম্পানি”

“তিরুপতি ইনকরপোরেশন?”

“ইয়েস। হি ইউসড এ বেঙ্গলি গার্ল ফর দ্য অ্যাড। দিস গার্ল ইউসড টু কল হিম সামটাইম। প্রেসিউমেবলি প্রফেশনল”

“হোয়াটজ হার নেম?”

“নো আইডিয়া। আই হ্যাভ নো টাইম ফর দিস ম্যাটার্স। নাউ আই ফিল ইফ আই হ্যাড গিভেন হিম মোর টাইম, আই কুড হ্যাভ গিভেন ইউ এ লিড। আওয়ার সিএম ডিপেন্ডস সো মাচ অন মি দ্যাট আই অ্যাম ওভারপুশড”

একজন বড় সরকারি আমলা একমাত্র ছেলেকে হারানোর জন্য নিজেকে দায়ী করছে। দিলওয়ান কত নগণ্য অফিসার। চিফ সেত্রেুটারির ব্যক্তিগত জীবনে যাওয়া বাঞ্ছনীয় নয় বুঝে উঠে পড়ল।

“স্যার আই উইল ট্রাই মাই লেভেল বেস্ট, আই প্রমিস”

গাড়িতে উঠে মনে হল কে এই বাঙালি মডেল? তিরুপতি ইনকরপোরেশন থেকে এর নথি বার করতে হবে। হয়ত মৃত্যুর কারণের হদিস সেখান থেকে পাওয়া যেতে পারে। চিফ সেত্রুটারির ছেলে বলে কথা। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট আসতে বেশিদিন লাগল না।

দিলওয়ান সিং মেডিক্যাল ডিরেক্টরের ঘরে "ক্যান আই টক টু ডাঃ স্বামীনাথন প্লিজ। উইথ দ্য রেকর্ডস্"

তথাস্তু। রেকর্ড সহ স্বামীনাথন হাজির।

“ওয়াজ নীলকান্থ ডায়েবেটিক?”

“নট টু মাই নলেজ” স্বামীনাথন নোটস উল্টে ব্লাড রিপোর্ট খুঁজছিল। ওটা পেয়ে দিলওয়ানকে দিল “আই অ্যাম রাইট। দ্য রিপোর্ট শো সুগার টু বি নর্মাল”

রুমালে মাথা মুছে বলল “দেন হাউ কাম হাই ডোস অফ ইনসুলিন ওয়াজ ফাউন্ড ইন হিস ব্লাড অ্যাট পোস্ট মর্টেম?”

চমকে উঠল মেডিক্যাল ডিকেক্টর, ডাঃ স্বামীনথনও।

“ইনসুলিন!”

অবাক বিস্ময় “আই ডিডন্ট প্রেসত্রুাইব এনি ইনসুলিন। হোয়াই শুড আই? হি ওয়াজ অ্যাডমিটেড ফর ইনভেস্টিগেশনস ওনলি”

“দেন সাম ওয়ান ইন দ্য হসপিট্যাল পুসড দ্য ইনসুলিন। উই হ্যাভ টু থরলি ক্যারি আউট এ ডিটেল ইনভেস্টিগেশন অফ ইওর হসপিট্যাল। প্লিজ কনভে এ বোর্ড মিটিং ইমিডিয়েটলি ইনভলভিং ইন দ্য ফার্স্ট ইন্সট্যান্স দ্য সিইও, বোথ অফ ইউ, দ্য নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, দ্য চিফ অফ ফার্মেসি অ্যান্ড দ্য হেড অফ হসপিট্যাল সিকিউরিটি” উঠে বলল "ফ্রম দ্য পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট ইট ইজ অবভিয়াস, ইট ইজ এ কেস অফ হোমিসাইড। প্রব্যবলি দ্য কজ মাইট বি ইনসুলিন”

এর আগে জানা ছিল না ইনসুলিন দিয়ে মৃত্যু হতে পারে। এটা দিলওয়ানের পুলিস জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা।

যুগটা সত্যিই পালটে গেছে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%