অনিরুদ্ধ বসু
“দ্য চিফ সেত্রেুটারিস সন মার্ডার্ড ইন হসপিট্যাল!”
ইলেকট্রনিক থেকে প্রিন্ট মিডিয়া চাঞ্চল্যকর খবর পেয়ে গেছে। মন্ত্রী থেকে বিধানসভা উত্তাল। মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যেখানে স্বয়ং চিফ সেত্রেুটারির ছেলের কোনও নিরাপত্তা নেই, সেই মুখ্যমন্ত্রীর রাজত্বে আম জনতা কতটা নিরাপদ? ঘন ঘন ডাক পড়ছে লেডি ফ্লোরেন্স হাসপাতালের দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের মুখ্যমন্ত্রীর পলিটিক্যাল সেত্রেুটারির অফিসে।
এটা নিছক খুনের মামলা নয়। গোটা রাজত্বের আম জনতার নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রিসভার স্থায়িত্বের প্রশ্ন। মামলার দ্রুত কিনারা না হলে গদি নড়ে যেতে পারে, সেকথা বুঝতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।
দিলওয়ান সিংকে অন্য সব কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে শুধু এই তদন্ত নিয়ে থাকতে আদেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। কোত্থেকে শুরু করবে? সিইও মেডিক্যাল ডিরেক্টর, ডাঃ স্বামীনাথন, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, চিফ অফ ফার্মেসি, হেড অফ হসপিট্যাল সিকিউরিটি সবাই অথৈ জলে। ডিউটি নার্স, আরএমও, বেয়ারা, ডায়েটিশিয়ান, প্যাথলজি টেকটিনিশিয়ান ও ফার্মাসিস্ট - একে একে সবাইকে জেরা করছে। কেউ কিছুই জানে না।
কিন্তু কেউ তো ইনসুলিন পুশ করেছে। সে কে? ভিজিটরদের তালিকা কোথাও নথিভুক্ত থাকে না। জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনও সুরহা হয়নি। রাত পর্যন্ত হয়রানি। উত্তর দূরের কথা, কোনও সূত্র পর্যন্ত মেলেনি।
দিলওয়ান সিং হাসপাতালের অটোম্যাটিক স্লাইডিং ডোর দিয়ে বেরিয়ে গাড়িতে উঠতে যাবে, এমন সময় একটা কণ্ঠস্বর। চোস্ত ইংরেজিতে কে যেন বলছে “দিস ইজ নট এ হসপিট্যাল। ইট ইজ এ মর্গ। পিপল কাম টু ডাই হিয়ার অ্যান্ড প্রে অ্যাট দ্য অল্টার অফ গড, টিল দ্য পোস্ট-মর্টেম এক্স্যামিনেশন অফ দ্য হসপিট্যাল ইজ ফিনিসড”
কে এই লোকটি?
ফিরে তাকাল দিলওয়ান। হাসপাতালের পেসিওর অন্যদিকে এক দাড়িওয়ালা বৃদ্ধ নিজের মনে চিৎকার করে যাচ্ছে। মাঝারি গড়ন, সাদা প্যান্ট, সাদা সার্ট, হাই পাওয়ারের চশমা, চুলগুলো প্রায় সব সাদা।
ওসিকে প্রশ্ন “হু ইজ হি?”
“ডোন্ট নো স্যার। উইল ফাইন্ড আউট”
লোকটিকে গুরুত্ব না দিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েছিল দিলওয়ান সিং। কী ভেবে নেমেই ওসিকে বলল “গেট মি দ্য পিআরও অফ দ্য হসপিট্যাল”
হাসপাতালের পিআরও ভিনু আদর করে বসাল দিলওয়ানকে। অনেকদিন লেডি ফ্লোরেন্স হাসপাতালে থাকায় অতিথি অপ্যায়নে চোস্ত “স্যার হোয়াট ডু ইউ প্রেফার? টি অর কফি?”
“নাথিং। হু ইজ দিস ম্যান সাউটিং আউটসাইড দ্য হসপিট্যাল?”
“দেয়ার ইজ এ লং হিস্ট্রি টু ইট। বাই প্রফেশন হি ওয়াজ অ্যান ইঞ্জিনিয়ার। আই হ্যাভ হার্ড হি হ্যাড লিভড ইন ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড ফর এ কনসিডারেবল টাইম। হি ওয়াজ ওয়ার্কিং উইথ এ বিগ মাল্টি-ন্যশনাল কোম্পানি হিয়ার ইন চেন্নাই। হি লিভড উইথ হিজ ওয়াইফ। দে হ্যাড নো ইসুস। থ্রি ইয়ার্স ব্যাক হিজ ওয়াইফ ওয়াজ অ্যাডমিটেড টু দিস হসপিট্যাল উইথ টার্মিন্যাল প্রিভিয়াসলি আন-ডায়গনোসড ক্যান্সার। আল্টিমেটলি সি সাকামবড। হি কুডন্ট অ্যাকসেপ্ট দ্য ফ্যাক্ট দ্যাট হিজ ওয়াইফ ওয়াজ নো মোর। দেয়ার আফটার হি লস্ট মেন্টাল ব্যালেন্স। ফ্রম দেন অন হি কামস হিয়ার এভরি মর্নিং, সিটস কোয়াটলি। সামটাইমস ব্ল্যাবারিং আউট সেন্সলেস জারগন অ্যান্ড রিটার্নস হোম ইন দ্য ইভিনিং। ইনিশিয়ালি উই ট্রায়েড টু শাভ হিম অফ। বাট হি উড কাম ব্যাক এগেইন। ইন দ্য এন্ড উই রিয়েলাইজড হি ওয়াজ হার্মলেস। মে বি হি ফাইন্ডস পিস ইন দ্য ভিসিনিটি অফ দিস হসপিট্যাল। উই লেট হিম বি অ্যাস হি ইজ”
“ডস হি এভার ইন্টারফিয়ার ইন ইওর এভরিডে অ্যাকটিভিটিস?”
ভিনু সবুজ শাড়ির আঁচল ঠিক করল “নো। হি ইজ হার্মলেস। ইফ হি ফাইন্ডস সোলেস ইন বিয়িং উইদিন দ্য প্রেমিসেস অফ লেডি ফ্লোরেন্স, লেট হিম সো। উই সেলডম গিভ হিড টু হোয়াট হি সেইস”
“ডস দ্যাট এফেক্ট ইওর বিজনেস ইন এনি ওয়ে?”
“নট ইন দ্য লিস্ট। দিস ইজ টু বিগ অ্যান অর্গানাইজেশন। পিপল কাম হিয়ার বাই ইটস সিয়ার নেম। পিপল ইজিলি রিয়েলাইজ দ্যাট হি ইজ ম্যাড। দে অলসো পে লিস্ট অ্যাটেনশন”
ভিনুর ঘর থেকে বেরিয়ে ভাবছিল হঠাৎ একটা পাগলের কথায় এত গুরুত্ব দিচ্ছে কেন? হয়ত মন বলেছে - তাই। পুলিসে কাজ করে বলে সব কিছু বাজিয়ে নেয়। হোক না পাগল। বাজাতে দোষ কোথায়?
গোধূলির শেষ রশ্মি তখন উত্তপ্ত চেন্নাইয়ের মিরিয়াম বিচে রঙের ছটা ছড়িয়েছে। বিলুপ্ত দিনের মুছে যাওয়া শেষ রেখাগুলোকে ক্রমশ আঁধারের প্রলেপে মিশিয়ে দিচ্ছে। কাল আবার প্রখর দীপ্তিতে ঝলমলিয়ে উঠবে। কিছুদিনের মধ্যেই হারিয়ে যাবে আজকের আলোড়নকারি হেডলাইনস। অন্য কোনও চাঞ্চল্যকর খবর জায়গা করে নেবে একটা বাসি মৃত্যুর জায়গায়। পড়ে থাকবে বুকভরা হাহাকার নিয়ে দুই বৃদ্ধ। সর্বচ্চ গদিতে বসেও নীরব অলক্ষ্যে একাকী মনটা কেঁদে উঠবে একমাত্র সন্তান নীলকান্থের জন্য। কে মারল? কেন মারল? এসব অবান্তর প্রশ্ন নিয়ে মাঝেমধ্যে দু-কলম লেখা হবে। শূন্যতার গভীর অন্ধকারে জুড়ে থাকবে বাকি জীবনের অংশ। হারানোর ব্যথায় গ্রাস করে থাকবে তাদের জীবন। সেখানে কোনও মন্ত্রী আমলা নেই। সরকারের ক্ষমতার মারপ্যাঁচও নেই। আছে পুত্রশোকের বোঝা বুকে দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা।
মন ডাকছে তাকে। সেই অচেনা পাগলের সুরে। সেই বা কী জানে? তবুও... মন তো। মনের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারছে না। দিলওয়ান সিং পুলিসের ইউনিফর্ম ছেড়ে পুলিসের গাড়ি বিসর্জন দিয়ে, নিজের মারুতি নিয়ে ফিরে এসেছে লেডি ফ্লোরেন্স হসপিট্যালে। দেখল শিথিল পায়ে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন লোকটি গেট দিয়ে বেরিয়ে হেঁটে চলেছে বাস স্ট্যান্ডের দিকে।
কিছু দূরে গাড়িটা দাঁড় করিয়ে ওর পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল “গোয়িং হোম?”
“আই ফিল লাইক ওয়ান হু ট্রেডস্ অ্যালোন
সাম ব্যাঙ্কয়েট হল ডেসার্টেড
হুস লাইভস্ আর ফ্লেড
অ্যান্ড গারল্যন্ডস্ ডেড
অ্যান্ড অল... ডিপার্টেড”
“হু সেইড সো? আই হ্যাভেন্ট ডিপার্টেড ইয়েট?”
“ইউ উইল। সুনার অর লেটার। লাইফ ইজ জাস্ট এ বিজনেস ইকোয়েশন। অল উইল গো। লাইক জয়মতি। সি প্রমিসড সি উড নেভার লিভ। ইয়েট সি লেফট্”
“হু ওয়াজ জয়মতি?”
“মাই ওয়াইফ”
“হোয়াট হ্যাপেন্ড?”
“সি ডায়েড অ্যাট দিস হসপিট্যাল থ্রি ইয়ার্স ব্যাক”
ভিনুর কথাটা মনে পড়ল ‘থ্রি ইয়ার্স ব্যাক হিজ ওয়াইফ ওয়াজ অ্যাডমিটেড টু দিস হসপিট্যাল উইথ টার্মিন্যাল প্রিভিয়াসলি আন-ডায়গনোসড ক্যানসার। আল্টিমেটলি সি সাকামবড’ তাহলে এই লোকটি সময়জ্ঞান হারায়নি। সব কথা অর্থহীন নাও হতে পারে? তাই কী মন ফিরিয়ে এনেছে এই লোকটির কাছে?
“সরি টু হিয়ার দ্যাট। আর ইউ ইন এ রাস?”
“হোয়াট রাস? হোম ইজ জাস্ট অ্যান এপিটোম অফ মেলাঙ্কলি”
“ক্যান উই সিট ডাউন সামহোয়ার। ওয়ান্ট টু নো মোর অ্যাবাউট ইওর ওয়াইফ”
“হু উইল পে দ্য বিল?” প্রশ্নে চমকে উঠল “আই হ্যাভ নো মানি”
“ডোন্ট ওয়ারি অ্যাবাউট দ্যাট। আই উইল স্ট্যান্ড দ্য বিল। হোয়াট ডু ইউ প্রেফার? কফি অর ড্রিঙ্কস্?”
ফিরে তাকাল। কেউ তো এমন আদরে কখনও খেতে বলেনি। একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে একটা সন্দেহ। কেন যেচে খাওয়াচ্ছে? দেখাই যাক না কেন।
“উডন্ট মাইন্ড এ ড্রপ অফ হুইস্কি”
বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে উলটো দিকের গলিতে সস্তার বারে বসল। দিলওয়ান জানে দু-পেগ পেটে পড়লে ভেতরের কথা হুড়হুড় করে বেরিয়ে আসে।
ঢকঢক করে দু-পেগ একসঙ্গেই গিলে ফেলল। দিলওয়ান বেয়ারাকে ইঙ্গিত করল আরও দু পেগ দিতে। বউয়ের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে থেকে মৃত্যু - লম্বা সফরের ইতিহাস বলে চলেছে বৃদ্ধ। নিঃশব্দে শুনছে দিলওয়ান।
বিরতিতে যখন পঞ্চম পেগে চুমুক দিতে উদ্যত, দিলওয়ান বলল “হোয়াট ইজ ব্যাড অ্যাবাউট দিস হসপিট্যাল?”
“ব্যাড? এভরিথিং... হোয়াট ডু ইউ নো অ্যাবাউট দিস হসপিট্যাল? লাস্ট ইয়ার এ ইয়ং গার্ল ওয়াজ অ্যাডমিটেড উইথ বার্নস। সি ডায়েড। ইট ওয়াজ ওয়ান অফ দোস... মাদার-ইন-ল্য কিলিং দ্য ডটার ইন ল্য। নট ওনলি দে হাসড আপ দ্য মিডিয়া, বাট অলসো দে হাসড আপ দ্য পুলিস”
“হাউ আর ইউ সো সিওর?”
“আই ওভারহার্ড দ্য মিডিয়া পিআরও ট্রাইং টু নেগোশিয়েট উইথ দ্য মিডিয়া”
হয়ত কথাটা সত্যি কিংবা নয়। দিলওয়ান সিং শুনে যাচ্ছে।
“দিস ইজ এ ব্লাডি মর্গ” লোকটি নেশায় বলে চলেছে।
“বাট লট অফ পিপল রিটার্ন হোম বিইং ওয়েল ট্রিটেড?”
“দে আর ফুলস। দে স্পেন্ড মানি। ইন লিউ অফ দ্যাট দে গেট আ সেন্স অফ ওয়েল বিয়িং” অসংলগ্নতা থাকলেও দিলওয়ান তা নিয়ে ভাবছে না। শুধু শুনে যাচ্ছে।
“ওয়ান ইনসিডেন্ট, অ্যান্ড ইউ আর কনভিনসড?” উসকে দিল।
“ইট ইজ নট ওয়ান অফ ইনসিডেনট। টু ইয়ার্স বিফোর এ ইয়ং ম্যান কেম উইথ সাম হ্যান্ড ইনজিউরি। হি ডায়েড টু। দে সেইড দ্য কস ওয়াজ আননোন”
লোকটি কী সত্যি বলছে? যদি কথাগুলো সত্যি হয়, তাহলে ব্যাপারটা ভাবার। কাল নাইয়ারকে এসবের সত্যতার সন্ধানে লাগিয়ে দিতে হবে। নেশা ধরে গেছে লোকটির।
“হোয়াট ইজ ইওর নেম?”
“জয়ন্ত রাজা। আই অ্যাম হাঙ্গরি”
জয়ন্ত রাজাকে খাইয়ে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছিল। হঠাৎ দিলওয়ানের দিকে ফিরে বলল “হোয়াট ইজ ইওর নেম?”
“দিলওয়ান সিং”
“ওকে। বা... ই...”
নায়ার তদন্ত করে জানাল কথাগুলো মিথ্যে নয়। হ্যান্ড ইনজিওরি থেকে বার্ন। প্রত্যেকটা ঘটনাই ঘটেছে। সে ঘটনাগুলোর মীমাংসা আজও হয়নি। যে কারণে ও বলেছে সেটাই কী আসল, না অন্য কোনও কারণ আছে, সেটা তদন্তসাপেক্ষ। এটা বুঝতে পারছে লোকটার কথা অসংলগ্ন নয়। কথার ভেতরে অনেক সত্য লুকিয়ে। অস্বীকার করা ঠিক হবে না। আগে কী ঘটেছে, সেটা তার তদন্তের এক্তিয়ার নয়। কিন্তু এই লোকটার কথার ভিত্তি করে যদি কোনও সূত্র মেলে... দুদিন পরে ঠিক ওই সময় দিলওয়ান আবার জয়ন্ত রাজার পাশে পথিক। মন টানছে ওই লোকটির দিকে।
“ইউ আর রাইট”
“হোয়াট?” রাজা ফিরে তাকাল।
“আই গেভ ইট এ থট ফর লাস্ট টু ডেইজ। দো আদার্স মাইট থিংক ইট আদার ওয়াইজ, আই ক্যান সি সেন্স”
“এভরিওয়ান থিংকস আই অ্যাম ম্যড” হেসে উঠল জয়ন্ত রাজা।
“আই ডোন্ট থিংক সো। শ্যাল উই হ্যাভ কফি টুডে ফর এ চেঞ্জ”
“ইউ উইল পে?”
“আই উইল। লাইক দ্য লাস্ট টাইম”
দিলওয়ান নেশায় জয়ন্ত রাজার এই কাহিনির প্রেক্ষাপট শুনতে চায় না।
“হোয়াট অ্যাবাউট দ্য লাস্ট ডেথ?” দিলওয়ান কফিতে চুমুক দিল।
“আই ডোন্ট নো”
“এনিথিং আনিউসুয়াল?”
“নাথিং টু মাই নলেজ।... আই সি ফ্যামিলিয়ার ফেসেস এভরিডে। দে কাম, গেট অ্যাডমিটেড, দে গো। দ্যাট ডে আই স্য অ্যান আনফ্যামিলিয়ার ফেস এন্টারিং। ইয়ং লেডি ইন হার মিড টুয়েন্টিস। নট সিওর হু সি ওয়াজ। বাট আই রিমেম্বার সি কেম ইন এ ক্যাব। সি ফিশড আউট সাম মানি হোয়াইল দ্য ক্যাব ওয়াজ পার্কড ইন দ্য পেসিও। দ্য পার্স হ্যাড এ এয়ারলাইন ট্যাগ। প্রব্যাবলি ইন্ডিগো, ইফ আই ক্যান রিকল কারেক্টলি। হোয়াইল ট্রাইং টু পে মানি, এ স্লিপ ফেল অফ হার ব্যাগ”
“হোয়ার ইজ দ্য স্লিপ?”
“আই পিকড ইট” একটু ভরসা।
“হোয়ার ইজ ইট?”
“আই স্য অ্যান্ড থ্রু ইট” দিলওয়ান হতাশ।
“ওহ মাই গস! ডিড ইউ নোটিস হোয়াট ইট কনটেন্ড?”
“লেট মি থিংক”
জয়ন্ত রাজা মাথায় হাত বোলাতে লাগল। এক-একটা সেকেন্ড যেন এক-একটা ঘণ্টা। দিলওয়ান অধীর আগ্রহে বসে। হয়ত একটা সূত্র মিলতে পারে। জয়ন্ত রাজা মাথা চুলকে যাচ্ছে। কিছুতেই মনে করতে পারছে না। জয়মতির মৃত্যুর পর অনেক কিছু মনে রাখতে পারে না। কী হবে মনে রেখে? জয়মতি যখন নেই, বাকি পৃথিবীতে হাওয়ার শূন্যতা। কিছুক্ষণ পরে হাল ছেড়ে বলল “স্যরি কান্ট”
দিলওয়ান সিং সূত্রের সামনে এসেও হারিয়ে ফেলল। অন্তত একটা সূত্র তো মিলেছে। একটি মেয়ে ট্যক্সি করে এসেছিল। হ্যান্ডব্যাগে এয়ারলাইনের ট্যাগ, কেন?
“হোয়াই ডিড সি ক্যাচ ইওর অ্যাটেনশন?”
“সি ওয়াজ ওয়েরিং এ চেইন লকেট সিমিলার টু ওয়ান মাই ওয়াইফ জয়মতি ইউজ টু ওয়ার”
“হোয়াট কাইন্ড অফ চেইন লকেট?”
“গোল্ড ওয়ান উইথ অ্যান এম্বলেম অফ তিরুপতি। মাই ওয়াইফ বিলিভড ইন লর্ড ভেঙ্কাটেশ্বরা”
“হু ইজ সি?”
জয়ন্ত বিরক্ত “হাউ ডু আই নো? আমি অ্যাম নট পেইড টু বি দ্য সিকিউরিটি গার্ড অফ দ্য হসপিট্যাল। সি এন্টার্ড দ্য হসপিট্যাল, জাস্ট বিফোর দ্য এন্ড অফ ভিজিটিং আওয়ার্স। অ্যাট দ্য টাইম অল ওয়ার লিভিং। আই টু লেফট আফটার সি হ্যাড গন ইন”
এবার যেন একটা সূত্র পাচ্ছে। কোনও অজ্ঞাতপরিচয় যুবতী তাহলে এসেছিল। ঠিক ভিজিটিং আওয়ার শেষ হওয়ার আগে। দিনের নার্স বলছিল লিপিড প্রোফাইলের জন্য নীলকান্থকে আর্লি ডিনার দেওয়া হয়েছিল। এই মেয়েটি যদি ওই ইনসুলিন পুশ করে থাকে তো, ডিনার খাওয়ার ঠিক পরেই। কে এই মেয়েটি? কী করেই বা খুঁজে পাবে কে এই মধ্য-কুড়ির মহিলা? একমাত্র সূত্র ইন্ডিগো এয়ারলাইনস। জয়ন্ত রাজাকে বাড়িতে নামিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে জয়ন্তর কণ্ঠস্বর “ওয়েট। জাস্ট রিমেমবারড। ইট ওয়াজ এ রিসিট ফ্রম সাম ফার্মেসি ইন ব্যাঙ্গালুরু”
হঠাৎ প্রাণ খুঁজে পেল দিলওয়ান সিং। গাড়িটা ব্যাক করে বলল “আর ইউ সিওর?”
“পসিটিভ। ইট ওয়াজ অফ এ ডিসপেন্সারি ইন ব্যাঙ্গালুরু”
“ওকে। থ্যংকস্”
বাড়ি ফিরতে মাথায় বারবার ঘুরছে, কে এই ব্যাঙ্গালুরু থেকে আসা মেয়েটি? তার ইনভেস্টিগেশনের খলনায়িকা?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।